1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা

হারুন উর রশীদ স্বপন ঢাকা
৭ জুলাই ২০১৭

টিআইবি মনে করে, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা এবং জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা স্বাধীন মত প্রকাশের অন্তরায়৷ তাই ৫৭ ধারা বাতিল ও অনলাইন নীতিমালা সবার মতামতের ভিত্তিতে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে তারা৷

Symbolbild PC Nerd
ছবি: picture-alliance/dpa/C. Jaspersen

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ৫৭(১) উপধারা, ৮০ ও ৮৬ ধারা এবং জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪-এর ৫ (১.৩), ৫ (১.৫) ও ৫ (১.৯) বিতর্কিত ধারাগুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অনলাইন গণমাধ্যমসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকেও তা মেনে চলতে হবে, যা গণমাধ্যমের সুষ্ঠু বিকাশের অন্তরায় এবং সংবিধান স্বীকৃত চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার পরিপন্থি৷'

নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় নীতিমালা প্রস্তাবিত কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত করার যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, তা গণমাধ্যমের স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার বাধাগ্রস্ত করতে পারে৷

এ নীতিমালায় অনলাইন গণমাধ্যমকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়৷ বাংলাদেশে নিবন্ধিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন গণমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা এবং এর মাধ্যমে এ সব সংস্থাকে গণমাধ্যম নীতিমালার আওতাভুক্ত করা অযৌক্তিক৷

ইফতেখারুজ্জামান

This browser does not support the audio element.

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালাটি যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্টরা যে মতামত ও সুপারিশ করেছে – তা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি৷ ফলে অনলাইন গণমাধ্যমসহ অন্যান্য গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ক্ষেত্রবিশেষে বাধাগ্রস্ত হতে পারে৷

তাই টিআইবি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট খাতে যোগ্যতাসম্পন্ন, গ্রহণযোগ্য ও দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে৷ পাশাপাশি ভয়ভীতি ও পক্ষপাতহীনভাবে যেন সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করতে পারে, তাও নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে৷

এ বিষয়ে টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সর্বজন ও সংবিধান স্বীকৃত মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি৷ সেটা অনলাইন নীতিমালার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে৷ এই নীতিমালা করার সময় নাগরিকদের মতামত নেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু সেই মতামতের প্রতিফলন নীতিমালায় নাই৷''

তিনি বলেনন, ‘‘অনলাইন গণমাধ্যম কী, তা নীতিমালায় স্পষ্ট নয়৷  যার কারণে বাংলাদেশের যে কোনো অনলাইনকেও এই নীতিমালার আওতায় আনা যাবে, যা কেনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটও এই নীতিমালার আওতায় এসে যাবে৷ এছাড়া অনেক সংজ্ঞা এবং শব্দও পরিষ্কার করা নাই৷ এই অস্বচ্ছতাই অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দেয়৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘অনলাইন গণমাধ্যমকে কমিশনের কাছ থেকে তাদের সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার যে বিধান রাখা হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য৷ এটা কণ্ঠরোধের একটি কৌশল৷ সম্পাদকীয় নীতিমালা প্রতিষ্ঠান ঠিক করবে৷ এটা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়ার কোনো বিষয় নয়৷ চাপিয়ে দিলে কোনো ভালো ফলও আসবে না৷ এটা বাকস্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘সাধারণভাবে সংবাদমাধ্যমের জন্য গাইড লাইন ও আচরণ বিধি থাকে, যা তারা অনুরণন করেন৷ এর বাইরে কোনো বাধ্যবাধকতার মধ্যে যায় না৷''

ইফতেখারুজ্জামানের কথায়, ‘‘এখনো সময় আছে জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা-২০১৭ কার্যকর না করে, বরং অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নীতিমালা করা, যাতে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়৷''

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ