আইপিএল-এ এখন অনলাইন গেমিং অ্যাপে বেটিং হয়। হিসেব বলছে, আইপিএল-এর বিজ্ঞাপনের বড় অর্থ আসে বেটিং অ্যাপগুলি থেকে।
বিজ্ঞাপন
২০২৩ সালের পুরুষদের যে আইপিএল সোমবার শেষ হলো, তার ব্রডকাস্টের সত্ত্ব ছিল ভায়াকম ১৮ এর হাতে। এবছরের আইপিএল-এর পুরো সিসনের জন্য তাদের মোট আয়ের লক্ষ্য ছিল তিন হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সূত্র জানাচ্ছে, এই আয়ের লক্ষ্য পূরণ করেছে ভায়াকম। উল্লেখ্য, পুরুষদেরআইপিএল-এ মোট ম্যাচের সংখ্যা ছিল ৭৪। নারীদের আইপিএল-এর মোট ম্যাচ ২০টি। এই পুরো ৯৪টি ম্যাচের জন্য চার হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিল ভায়াকম।
এবিষয়ে সরাসরি ভায়াকমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল ডয়চে ভেলে। কিন্তু তারা কোনো উত্তর দেয়নি। তবে আইপিএল-এর ব্যবসার খবর যারা রাখেন, তাদের বক্তব্য, সিসনের প্রথম অংশেই আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে ফেলেছে ভায়াকম। কিন্তু কীভাবে ছুঁলো?
আইপিএল ম্যাচের পর কোহলি-গম্ভীর ঝগড়া, শাস্তি
প্রথমে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরাট কোহলির ঝামেলা প্রকাশ্যে এসেছিল। এবার গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে মাঠেই ঝগড়া বিরাটের।
ছবি: Dibyangshu Sarkar/AFP/Getty Images
কী হয়েছে?
বেঙ্গালুরুর সঙ্গে লখনউয়ের ম্যাচ ছিল। ম্যাচে লখনউয়ের একটা করে উইকেট পড়েছে, আর বিরাটের আগ্রাসী মনোভাব তত বেশি হয়েছে। লখনউয়ের শেষ ব্যাটার নবীন উল হক আউট হওয়ার পর তো বিরাট মাঠে তার টুপি ছুঁড়ে ফেলে উল্লাস প্রকাশ করেন। লখনউ প্লেয়াররা যেখানে বসেছিলেন, সেদিকে তাকিয়ে তাদের চুপ করে থাকার ইঙ্গিত দেন। তাতে খারাপ লাগে নবীনের।
ছবি: SAJJAD HUSSAIN/AFP/Getty Images
বিরাট-গম্ভীর ঝগড়া
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর নবীন কথা বলেন বিরাটের সঙ্গে। সেখান থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত। এরপর গৌতম গম্ভীর এগিয়ে আসেন। বিরাটকে কিছু বলেন। বিরাটও জবাব দেন। দুজনের কথার সুর চড়তে থাকে। দুই পক্ষের বাকি প্লেয়াররা তাদের সরিয়ে দেন। বিরাটকে সরিয়ে নেন অধিনায়ক দুপ্লেসি। বিরাট ও গম্ভীর দুজনেই দিল্লির প্লেয়ার। কিন্তু তাদের সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয়। আগেও তাদের বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।
ছবি: SAJJAD HUSSAIN/AFP/Getty Images
সৌরভের সঙ্গে বিরোধ
এর আগে দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচের পর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরাটের বিরোধ সামনে এসেছিল। সেবারও একটি ক্যাচ নিয়ে কড়া চোখে সৌরভ দিল্লির বেঞ্চের দিকে তাকিয়েছিলেোন বিরাট। ম্যাচের শেষে হাত মেলানোর পর্ব যখন আসে, তখন বিরাটকে টপকে পরের প্লেয়ায়ের সঙ্গে হাত মেলান সৌরভ।
ছবি: privat
মাঠে বিরাটের উত্তেজনা
ক্রিকেট মাঠে বিরাটের উত্তেজনা ও আগ্রাসী মনোভাব আগেও দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। নানা ধরনের মুখভঙ্গি ও শরীরের ভাষায় তার মনোভাব ও উত্তেজনা সামনে আনেন বিরাট। অধিনায়ক থাকার সময় তো তা তুঙ্গে উঠেছিল।
ছবি: Surjeet Yadav/AFP
বিরাটের শাস্তি
আইপিএল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পর বিরাট কোহলির পুরো ম্যাচ ফি কেটে নিয়েছেন। এর আগেও দলের বোলিং রেট কম হওয়ায় বিরাটকে জরিমানা করা হয়েছিল। বিরাট তখন অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আইপিএলে এখন পয়েন্টের হিসাবে এক নম্বরে আছে গুজরাট টাইটানস। তারা আট ম্যাচ খেলে ১২ পয়েন্ট পেয়েছে। রাজস্থান, লখনউ, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, পাঞ্জাব সকলেই নয় ম্যাচ খেলে ১০ পয়েন্ট পেয়েছে। বেশি রানরেটের কারণে তৃতীয় স্থানে আছে লখনউ এবং বেঙ্গালুরু পাঁচ নম্বরে। কেকেআর আট নম্বরে ও দিল্লি একেবারে শেষে। উপরের ছবিটি গুজরাট ও দিল্লির ম্যাচের।
ছবি: Manish Swarup/AP/picture alliance
7 ছবি1 | 7
গেমিং অ্যাপের খেলা
আইপিএল-এর আয়ের অন্যতম মাধ্যম বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন থেকেই প্রায় গোটা আয়ের টাকা এবং মূলধন উপার্জিত হয়। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এবছর যে ১৬তম পুরুষদের আইপিএল অনুষ্ঠিত হলো, তার প্রথম পর্বেই অর্থাৎ, গ্রুপ পর্বেই বিজ্ঞাপনের ২০ শতাংশ অনলাইন গেমিং অ্যাপগুলি থেকে এসেছে। এই অ্যাপগুলির মাধ্যমেই অনলাইনে বেটিং করা যায়। নিজের টিম তৈরি করে টাকা জেতার মাধ্যম এই গেমিং অ্যাপগুলি। খেলোয়াড় থেকে প্রশাসক-- সকলেই এই গেমিং অ্যাপগুলির বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত।
অনলাইন গেমিং অ্যাপের প্রভাব নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে, ফাইনাল পর্বে এই অর্থের পরিমাণ আরো খানিকটা বেড়েছে বলেই তাদের ধারণা। যদিও এবিষয়ে সার্বিক রিপোর্ট এখনো তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। তবে তাদের ধারণা, শেষপর্যন্ত মোট বিজ্ঞাপনের ৩০ শতাংশ কেবলমাত্র অন লাইন গেমিং অ্যাপ থেকে এলেও আশ্চর্য হওয়ার কোনো কারণ নেই।
লক্ষণীয়, গত বছরের চেয়ে এই সংখ্যাটা এবার বেশ কয়েকগুণ বেড়েছে। অনলাইন গেমিং অ্যাপগুলি এভাবে রমরমিয়ে চললে আগামী বছর এই সংখ্যাটি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইপিএল: পরপর তিন ম্যাচে শেষ বলে ফয়সালা
জমে উঠেছে আইপিএল। পরপর তিনদিন শেষ বলে ম্যাচের ফয়সালা হলো। কে জিতবে বা হারবে, তা আগে থেকে বলা যাচ্ছে না।
ছবি: R. Parthibhan/AP Photo/picture alliance
ধোনি পারলেন না
চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি পারলেন না। ১৭ বলে ৩২ রান করেও তিনি দলকে জেতাতে ব্যর্থ। শেষ ওভারে চেন্নাইয়ের জেতার জন্য দরকার ছিল ২১ রান। ব্যাট করছিলেন ধোনি ও জাদেজা। জিততে গেলে শেষ বলে ছয় মারার দরকার ছিল। ধোনি পারেননি। তার আগে বেশ কয়েকটা ছয় মারলেও তার দুইশতম ম্যাচে শেষ বলে ছয় মারতে ব্যর্থ ধোনি।
ছবি: Ajit Solanki/AP Photo/picture alliance
সন্দীপ শর্মার শেষ ওভার
রাজস্থানের বোলার সন্দীপ শর্মার শেষ ওভারে বল করেন। শেষ দুইটি বল সন্দীপ ওয়াইড ইয়র্কার দেন। তাতে চার বা ছয় মারতে পারেননি ধোনি ও জাদেজা।
ছবি: R. Parthibhan/AP Photo/picture alliance
শেষ বলে ফয়সালা
এই নিয়ে পরপর তিনটি ম্যাচের ফয়সালা হলো শেষ বলে। গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে শেষ ওভারে শেষ পাঁচ বলে ছয় মেরে টিমকে জিতিয়েছিলেন রিঙ্কু সিং। শেষ বল পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছিল না কে জিতবে, কলকাতা না গুজরাট? উত্তেজনায় কাঁপছিল ইডেন গার্ডেনস। সেই ম্যাচ জিতিয়েছিলেন রিঙ্কু। মুম্বই ও দিল্লির ম্যাচেও শেষ বলে ফয়সালা হয়েছে। রাজস্থান রয়্যালস ও চেন্নাইয়ের ম্যাচও শেষ বল পর্যন্ত গড়ালো। ছবিতে রাজস্থানের বোলার জাম্পা।
ছবি: R. Parthibhan/AP Photo/picture alliance
নায়ক রিঙ্কু
কলকাতা ও গুজরাট ম্যাচের নায়ক হয়ে যান রিঙ্কু। উত্তরপ্রদেশের অত্যন্ত গরিব পরিবারের সন্তান এই রিঙ্কু শেষ পাঁচ বলে পাঁচটি ছয় মেরে রাতারাতি নায়ক হয়ে গেছেন। তাকে নিয়ে এখন লেখালেখির শেষ নেই।
ছবি: Bikas Das/AP/picture alliance
মুম্বই জিতলো শেষ বলে
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে মুম্বই ইন্ডিয়ানসও শেষ বলে জিতেছে। আইপিএলের একেবারে শেষে থাকা এই দুই দলের খেলাতেও প্রবল উত্তেজনা ছিল। শেষ বলে ফয়সালা সেই উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেয়।
ছবি: Manish Swarup/AP Photo/picture alliance
মুস্তাফিজুর খেললেন
দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেললেন মুস্তাফিজুর। চার ওভার বল করে ৩৮ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন তিনি। মুস্তাফিজুরই প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার, যিনি ২০২৩-এর আইপিএলে মঠে নামলেন। লিটন দাসও কলকাতার হয়ে খেলতে ভারতে চলে এসেছেন।
ছবি: Manish Swarup/AP Photo/picture alliance
রাজস্থান-চেন্নাই খেলাতেও
রাজস্থান রয়্যালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের খেলাও ছিল চরম উত্তেজনায় ভরা। কখনো মনে হয়েছে, রাজস্থান জিতবে। কখনো মনে হয়েছে চেন্নাই। টসে জিতে রাজস্থানকে ব্যাট করতে পাঠান ধোনি। ২০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান করে রাজস্থান। চেন্নাই ২০ ওভারে ছয় উিকেট হারিয়ে ১৭২ রান করে। ছবিতে চেন্নাইয়ের রবীন্দ্র জাদেজা ছয় মারছেন।
ছবি: R. Parthibhan/AP Photo/picture alliance
এক নম্বরে রাজস্থান
চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে জয়ের পর আইপিএলের পয়েন্টস তালিকায় এক নম্বরে এখন রাজস্থান। তারা ও লখনউ চারটি ম্যাচ খেলে ছয় পয়েন্ট পেয়েছে। কিন্তু রানের গড়ে এগিয়ে রাজস্থান। কলকাতা তিন নম্বরে। গতবারের চ্য়াম্পিয়ন গুজরাট চার নম্বরে।
ছবি: R. Parthibhan/AP Photo/picture alliance
একটাও ম্যাচ জেতেনি দিল্লি
দিল্লি ক্যাপিটালস চারটি ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই হেরেছে। একটাও জেতেনি। দলের সঙ্গে রিকি পন্টিং, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আছেন, তাও কেন হারছে দিল্লি? মঙ্গলবার ম্যাচের পর পন্টিং ও সৌরভ একান্তে কিছুক্ষণ আলোচনা করেছেন।
ছবি: Manish Swarup/AP Photo/picture alliance
উত্তেজনায় ভরপুর
২০২৩ সালের আইপিএল জমে গেছে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচে উত্তেজনা থাকছে। ২১২ রান করেও হারতে হয়েছে দিল্লিকে। একেক ম্যাচে একেকজন প্লেয়ার অসাধারণ পারফর্ম করছেন। একটি ম্যাচে না জিতলেও দিল্লির অধিনায়ক ওয়ার্নার সবচেয়ে বেশি রান করেছেন।
ছবি: Ajit Solanki/AP/picture alliance
10 ছবি1 | 10
বিজ্ঞাপনের নিরিখে অনলাইন গেমিং অ্যাপের পিছনেই আছে পানমশলা। বস্তুত, ট্যাম স্পোর্টস আইপিএল-এর প্রথম অংশের বিজ্ঞাপন নিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। তাতেই এই বিষয়গুলি আরো বেশি স্পষ্ট হয়েছে। অথচ গত বছরেও আইপিএল-এর বিজ্ঞাপনের চরিত্র আলাদা ছিল। সেবার বিজ্ঞাপনের তালিকায় প্রথম সারিতে ছিল ই-শিক্ষা, ই-শপিং এবং ই-ওয়ালেটের মতো সংস্থাগুলি। এবছর রাতারাতি সে জায়গায় চলে এসেছে অনলাইন গেমিং অ্যাপ।
গেমিং অ্যাপের লাভ
পুলিশের এক সূত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে, আইপিএল-এর গ্রুপ পর্বেই প্রতি ম্যাচে তিন থেকে সাড়ে তিনহাজার টাকার বেটিং হয়েছে বলে তাদের কাছে খবর আছে। ফাইনাল পর্বে এই অর্থ আরো দেড় গুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে তাদের ধারণা। তবে ফাইনাল পর্বের অংক এখনো তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। এই অর্থের সিংহভাগ অনলাইন গেমিং অ্যাপগুলির মাধ্যমে ঘুরেছে। তার বাইরেও বেআইনি অনলাইন বেটিংচক্রও কাজ করেছে। একটি ম্যাচে তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন হলে তা থেকে মোট লাভ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে সেই টাকাই বিজ্ঞাপনে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। এ কারণেই অনলাইন অ্যাপের বিজ্ঞাপনের পরিমাণ এতটা বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন তারা।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় বোর্ডের সভাপতি থাকাকালীন প্রথম অনলাইন গেমিংয়ের ফ্লাডগেট খুলে দেওয়া হয়। বিদেশি গেমিং সংস্থাগুলিকে আইপিএল-এ ঢুকতে দেওয়া হয়। তারসঙ্গে অনলাইন গেমের সঙ্গে যুক্ত দেশি সংস্থাগুলিও তাতে যোগ দেয়। আইপিএল-এর অকশনেই এর সরাসরি প্রভাব দেখা গেছিল সে সময়। আগে যেখানে একটি টিমের অকশনে খুব বেশি হলে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হতো, সেখানে গেমিংয়েরফ্লাডগেট খুলে যাওয়ার পর একটি টিমের মূল্য আট হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। আইপিএল-এর মোট বাজেট গত কয়েক বছরে কয়েকগুণ বেড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন।
এবছরের আইপিএলের সর্বশেষ হিসেব এখনো সামনে আসেনি। তবে প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, আগের সমস্ত আইপিএল-কে অন্তত অর্থকড়ির দিক থেকে ছাপিয়ে গেছে এবারের আয়োজন।