আইসম্যান অটসিকে সংরক্ষণের নতুন কৌশল খোঁজা হচ্ছে
৮ জুলাই ২০২৫
অটসিকে এখন যেভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে তার মান আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে৷
ইটালি ও অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী অটসটাল আল্পস এলাকা থেকে অটসিকে উদ্ধার করা হয়েছিল৷ মাত্র এক বছর পরই গবেষকরা অটসির ব্যবহার করা জিনিসপত্র উদ্ধার করেন: প্যান্ট, জুতা, তামার ব্লেডসহ একটি কাঠের কুঠার, সেইসঙ্গে একটি ধনুক এবং তীর৷
সেই সময় কেউ ভাবতেও পারেনি যে, পরবর্তীতে অটসি প্রাগৈতিহাসিক যুগ সম্পর্কে আমাদের ধারণা অনেকখানি বদলে দেবে৷
নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলবার্ট সিঙ্ক জানান, ‘‘এটা আমাদের সম্পূর্ণ নতুন অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছে৷ আমরা এখন অটসি সম্পর্কে অনেক কিছু জানি৷ পাঁচ হাজার ৩০০ বছরেরও বেশি সময় আগে জীবন কেমন ছিল, তার জিনগত উৎপত্তি, এমনকি সে দেখতে কেমন ছিল৷''
কিন্তু ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে অটসিকে সংরক্ষণের জন্য যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল তাতে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি৷ দক্ষিণ টিরল প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরে গিয়ে দর্শনার্থীরা একটি ছোট জানালা দিয়ে অটসিকে দেখতে পারেন৷ অটসিকে যে শীতল চেম্বারে রাখা হয়েছে সেখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা প্রায় ১০০ শতাংশ বজায় রাখা হয়৷ প্রতি দুই মাসে একবার মমিটিকে জীবাণুমুক্ত পানি দিয়ে স্প্রে করা হয়, যা তার ত্বকে বরফের একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে৷
অধ্যাপক সিঙ্ক বলেন, ‘‘কুলিং সিস্টেমটি সারা বছর ধরে ২৪ ঘণ্টা চালাতে হয়৷ তাই জ্বালানির খরচ অত্যন্ত বেশি৷ এছাড়া মমিটিকে নিয়মিত আর্দ্রতা প্রদান করতে হয়৷ এর সঙ্গে কিছু ঝুঁকি জড়িয়ে আছে৷''
সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে আলবার্ট সিঙ্ক ইটালির বলসানোতে অবস্থিত ইউরাক ইনস্টিটিউট ফর মমি স্টাডিজে কাজ করছেন৷ এই ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইউরাক৷ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তারা আন্দেজ মমি সংরক্ষণ বিষয়ে পেরুকে পরামর্শ দিয়েছে৷
মমি গবেষক মার্কো সামাদেলির সঙ্গে মিলে অটসির জন্য নতুন সংরক্ষণ পদ্ধতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন সিঙ্ক৷ তাদের লক্ষ্য সাধারণ, তবে উচ্চাকাঙ্ক্ষী: কয়েক বছরের মধ্যে অটসিকে যখন বলসানো প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হবে তখন তাকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা হবে৷
সামাদেলি জানান, ‘‘মমিটি এখন যেখানে সংরক্ষিত আছে সেখানকার পরিবেশ শতভাগ স্থিতিশীল নয়৷ এর মানে হলো মমিটি ক্রমাগত পানি হারাচ্ছে৷''
বর্তমানে অটসিকে যেখানে রাখা আছে সেটি ডিজাইন করতে সহায়তা করেছিলেন মার্কো সামাদেলি৷ তাই বর্তমান প্রকল্পটির গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন৷ এখন তিনি একটি মমিকৃত শ্যামোয়ার উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন৷ মমিকে নিরাপদে শুকানো যায় কিনা তা পরীক্ষা করতে একে মডেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে৷
প্রাণীর নমুনা রাখা আছে এমন এক বিশেষ চেম্বারের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বায়ুচাপের মতো পরিবেশগত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন গবেষকরা৷ তারা নিয়মিতভাবে প্রোটিন এবং ডিএনএর মতো জৈব অণুতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করেন৷ যদি টিস্যু স্থিতিশীল এবং শুষ্ক থাকে, তাহলে এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে৷
সামাদেলি বলেন, ‘‘মমিকে যেন ভালোভাবে দেখা যায় তার জন্য বড় শোকেস তৈরি করা যেতে পারে৷ তাহলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক সবাই মমিকে অনেকটা স্পর্শ করতে পারবে৷ এটা একটা প্যাসিভ সিস্টেম, যেটা বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়াই কাজ করে, এবং যেখানে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ সবসময় স্থিতিশীল থাকে৷''
প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পরীক্ষার পর্যায়ে আছে৷ তবে দুই বা তিন বছরের মধ্যে গবেষকরা নির্ভরযোগ্য ফল আশা করছেন৷ তাহলে হয়ত অটসিকে সংরক্ষণের নতুন এক উপায় বের করা সম্ভব হতে পারে৷
সেবাস্টিয়ান কির্শনার/জেডএইচ