ইউরোপের দেশ জার্মানিতে ব্যক্তি পর্যায়ে ফায়ারওয়ার্কস বা আতশবাজি পোড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আবেদন করেছেন ২৭ হাজারের বেশি জার্মান৷ এক অনলাইন পিটিশনের মাধ্যমে এই আবেদন জানান তারা৷ নতুন বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে আতশবাজি দুর্ঘটনায় হতাহতের পর এমন আবেদন জানান তারা৷
জার্মানির পুলিশ ইউনিয়ন অনলাইন পিটিশনটির আয়োজন করে৷
চলতি বছরের শুরুর রাতে আতশবাজি পোড়ানোর সময় দুর্ঘটনায় সারাদেশে অনেকে আহত এবং অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন৷
বেশ কিছু শহরে জরুরি সহায়তাকারী দলের উপর পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে৷ অবশ্য বিষয়টি যে এবারই প্রথম ঘটেছে এমন নয়৷ পাথরের নিক্ষেপের ঘটনায় রাজধানী বার্লিনের এক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন৷ আহতের মাত্রা এমন ছিল যে, তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়৷
রাজনীতিবিদদের দ্বীমত
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শুক্রবার ফায়ার ফাইটার্সদের সাথে আলাপকালে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেন, বিষয়টি পরিস্কার যে, নতুন নিয়ম দরকার৷
তিনি বলেন, ‘‘উদযাপনের জন্য কোন ধরনের আড়ম্বর করা যেতে পারে সে বিষয়ে আমাদের পরিস্কার নিয়ম থাকতে হবে এবং যারা নিয়ম মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এটিই সঠিক পথ৷’’
মহাকালের আবর্তে হারিয়েছে ২০২৩, নতুন প্রত্যয় নিয়ে শুরু হলো খ্রিস্টীয় বছর ২০২৪৷ নতুন যাত্রা মানে নতুন সম্ভাবনা৷ তাই পুরোনো দিনের জীর্ণতা ভুলে নতুন বছরকে বরণ করে নিল বিশ্ববাসী৷ রাত ১২টা ১ মিনিটে পৃথিবী হাসলো আলোর উৎসবে৷
ছবি: Abdul Goni/DW৭ জানুয়ারি ভোট৷ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ ভোটযুদ্ধে থাকা দলগুলো সাধারণ মানুষকে কাছে টানতে পার করছে ব্যস্ত সময়৷ বিএনপিসহ ভোট বর্জনের ডাক দেয়া দলগুলো আন্দোলনের ছক কষছে৷ বাজারে নিত্যপণ্যের দামে আগুন৷ তবুও এসেছে নতুন বছর৷ নতুন বছরের নতুন উষা জীর্ণতা ভুলিয়ে নতুন উদ্দীপনায় বাঁচতে শেখাবে সবাইকে- এমন প্রত্যাশা সব মানুষের৷
ছবি: Abdul Goni/DWজার্মানির মূল্যস্ফীতি ২০২২ সালে সাত দশমিক নয় শতাংশ থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বেরে তিন দশমিক দুই শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন৷ এরপরও ইউরোপের গড় মূল্যস্ফীতি দুই দশমিক চার শতাংশের চেয়ে এই হার বেশি৷ বৈশ্বিক অস্থিরতা ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জার্মানি ঠিকই এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন দেশটির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস৷ছবিতে রাজধানী বার্লিনের ল্যান্ডমার্ক ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের সামনে বর্ষণবরণ৷
ছবি: John MacDougall/AFPআতশবাজির বর্ণচ্ছ্বটায় বর্ষবরণের আয়োজন নিয়ে ভাবতে গেলেই চোখে ভাসে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির অপেরা হাউস আর হারবার ব্রিজের কথা৷ ব্যতিক্রম হয়নি এবারও৷ বর্ণিল আলোকচ্ছ্বটায় পুরোনো দিনকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াবাসী৷ আলোকের ঝর্ণাধারায় যেন ধুয়ে গেছে পুরানো দিনের সব বিষাদ৷
ছবি: Dan Himbrechts/AAP/dpa/picture alliance‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত অলিম্পিক গেমসের এবারের আয়োজক দেশ ফ্রান্স৷ তাই বর্ষবরণের আয়োজনেও লেগেছে সেই ছোঁয়া৷ আর্ক দি ট্রিয়ম্পে আলোর মূর্ছনায় সে কথাই জানান দিচ্ছে শিল্প-সাহিত্যের নগরী প্যারিস৷
ছবি: Benoit Tessier/REUTERSবর্ষবরণের ক্ষণ গণনা শুরু হবার আগেই হাজারো মানুষ সমবেত হয় অ্যামেরিকার নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে৷ ঘড়ির কাঁটা ঠিক জায়গায় আসতেই ফেটে যায় অনেক উঁচুতে রাখা আলোকিত বলটি৷ আর নতুনের বার্তা নিয়ে রঙিন সব কাগজ ছড়িয়ে পড়ে সবখানে৷ একে অপরকে আলিঙ্গন করে মানুষ বরণ করে নেয় নতুন বছরকে৷
ছবি: Andrew Kelly/REUTERSবৈশ্বিক মন্দার ধাক্কাটা ঝাঁকুনি দিয়েছে যুক্তরাজ্যকে৷ এ বছর সেখানেও নির্বাচন৷ অনিয়মিত অভিবাসনসহ নানা ইস্যুতে চাপে আছে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সরকার৷ কিন্তু সব ভুলে লন্ডনবাসী মেতেছিলেন আনন্দ উৎসবে৷ টেমস পাড়ের লন্ডন আইয়ের আলোর ঝলকানিতে বিমোহিত হয়েছেন হাজারো মানুষ৷
ছবি: Victoria Jones/PA Wire/dpa/picture allianceভেদাভেদ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে মানুষ মিলেছে নতুনের আগমন ধ্বনিতে৷ বর্ষবরণের আয়োজনে তাই উদ্বেল তারুণ্য৷ ভারতের বাণিজ্যিক শহর মুম্বাইয়ে প্রাণের উচ্ছ্বাস৷
ছবি: Francis Mascarenhas/REUTERSভূমিকম্পের ক্ষত ভুলে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর বাসিন্দারা৷ দেশটির আদিবাসী গুরাং সম্প্রদায়ের মানুষেরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর নাচের মধ্য দিয়ে আগমন জানিয়েছে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দকে৷
ছবি: Sunil Sharma/ZUMA/IMAGOঅর্থনৈতিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়েছিল যে শ্রীলঙ্কা নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছিল৷ সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশটি৷ আর সেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় দেখা গেছে বর্ষবরণের আয়োজনেও৷ গোটা কলম্বো সেজেছিল আলোর ফোয়ারায়৷
ছবি: Thilina Kaluthotage/NurPhoto/picture allianceরাজধানী জাকার্তায় বানানো হয়েছে সুউচ্চ মোনাস টাওয়ার৷ এটি ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় স্মৃতিসৌধ৷ নতুন বছরকে সামনে রেখে শুধু মোনাস টাওয়ার নয়, গোটা জাকার্তা হেসে উঠেছিল আলোর উৎসবে৷
ছবি: Yasuyoshi Chiba/AFP/Getty Imagesদক্ষিণ অ্যামেরিকার দেশ ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেইরোর কোপাকাবানা বিচ রূপ নিয়েছিল আলোর ঝর্ণাধারায়৷ আলোয় আলো ভরে উঠেছিল পুরো ভূবন৷ সেই মোহনীয়তা উপভোগের মধ্য দিয়ে মানুষ গাইলো নববর্ষের গান, নতুন সূচনার গান৷
ছবি: Bruna Prado/AP/picture alliance অর্থনীতি, বেকারত্ব, অভিবাসনসহ নানা চাপের মধ্যে থাকা সেনেগালেও নতুন বছরকে বরণ করা হয়েছে উৎসবমুখরতার মধ্য দিয়ে৷ দেশটির রাজধানী ডাকার থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরের লোম্পুল মরুভূমিতে ছিল বর্ষবরণের আয়োজন৷ চার পাশে আগুন জ্বালিয়ে নতুন দিনকে বরণ করে নেন তারা৷ এ আয়োজনে সেনেগালের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও লোকসংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয় সংগীত গোষ্ঠী এনগুয়েউল রিদমে এবং ফরাসি সংগঠন টেম্বর ফ্যানফেয়ার৷
ছবি: Cem Ozdel/Anadolu/picture alliance এদিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয় এমন কোনো নিয়মের বিপক্ষে মত সাবেক বিচারমন্ত্রী মারকো বুশমানের৷ তিনি বলেন, ‘‘পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা যথাযথ হবে না কারণ এটি সামগ্রিক পর্যায়ের শাস্তি হয়ে উঠবে৷''
রাজধানী বার্লিনের মেয়র কাই ভেঙ্গার বৃহস্পতিবার বলেন, এ বিষয়ে নতুন নিয়ম প্রয়োজন৷
তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করেন৷
তিনি বলেন, ‘‘বার্লিনের বেশিরভাগ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নতুন বছর উদযাপন করেছে৷ আমরা কেন তাদেরকে এবং তাদের পরিবারকে নতুন বছরের আনন্দময় ঐতিহ্যবাহী ফায়ারওয়ার্কস থেকে বিরত রাখব?’’
পুলিশের সমর্থন
নতুন বছরের আগেই জার্মানির পুলিশ ইউনিয়ন জিডিপি এবং জার্মান মেডিকেল ইউনিয়ন ব্যক্তিগত পর্যায়ের ফায়ারওয়ার্কস আয়োজনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানায়৷
অনলাইন পিটিশনটি শুরু করা পুলিশ ইউনিয়নের যুক্তি, পুলিশ এবং জরুরি সহায়তাকারীদের উপর সহিংসতা ঠেকাতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন৷ সেইসাথে ব্যক্তি পর্যায়ে না করে এমন আয়োজন শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার জন্যও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে মত তাদের৷
ইউনিয়ন পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘‘সর্বশেষ আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্যতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে৷
আরআর/এআই (ডিপিএ, ডিডাব্লিউ সূত্রসমুহ)