1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
ধর্মভারত

আফ্রিকায় যাত্রা দুর্গার, পুজো দেবেন মাসাইরা

পায়েল সামন্ত কলকাতা
১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

দুর্গা চললেন তার বাহনের ডেরায়৷ আফ্রিকার মাসাইমারায় এবার হবে দশভুজার আরাধনা৷

Masai people will worship goddess durga in masai mara
ছবি: Payel Samanta/DW

দুর্গাকে পুজো দেবেন সেখানকার জাতিগোষ্ঠী মাসাইমারা৷ শুধু কী তাই৷ দেবী বছরভর থাকবেন সবুজে ঘেরা কেনিয়ার মাসাই গ্রামে, এমন আশা ভক্তদের৷

কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে৷ শুরু হয়েছে মণ্ডপ তৈরির কাজ৷ প্রতিমাশিল্পীরা তুমুল ব্যস্ত৷ আর তিন সপ্তাহও হাতে নেই৷ পশ্চিমবঙ্গ শুধু নয়, ভারতের অন্য রাজ্য ও বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়৷ বহির্বঙ্গে প্রবাসীরা পুজোর আয়োজন করেন৷

এবার ভারত থেকে একদল পর্যটক আফ্রিকার মাসাইমারায় গিয়ে পুজোর আয়োজন করছেন৷ মাসাইদের গ্রামে সেখানকার অধিবাসীদের কাছ থেকে পুজো নেবেন দেবী৷

আফ্রিকার অরণ্যে দুর্গা

আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার মাসাইমারা অভয়ারণ্য৷ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংরক্ষিত বনভূমি৷ ধু ধু রুক্ষ প্রান্তর আর শুষ্ক আবহাওয়া৷ মাঝেমধ্যে ঝোপঝাড়৷ এই অরণ্য পশুরাজ সিংহের বাসস্থান৷ এই সিংহ দশভুজার বাহন৷ ‘জয়বাবা ফেলুনাথ'-এ সত্যজিৎ রায়ের খুদে চরিত্র ক্যাপ্টেন স্পার্কের গল্প মনে পড়তে পারে৷ সে ফেলুদাকে বলেছিল, আফ্রিকার রাজার কাছে তাদের পরিবারের খোয়া যাওয়া প্রত্নমূর্তি আছে৷ বাড়িতে নির্মীয়মাণ প্রতিমার বাহন সিংহের মুখে রাখা ছিল মূল্যবান সামগ্রীটি৷ সেই আফ্রিকার রাজার উদ্দেশে নিজের ডেরায় পাড়ি দিয়েছেন দুর্গা৷ আজ, রোববার কলকাতা থেকে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে উড়ে গিয়েছে প্রতিমা৷

মাসাইদের ধূপ-ধুনোর ব্যবহার, কাঁসার ঘণ্টা, শাঁখ বাজানো শেখানো হবে: রাখি মিত্র

This browser does not support the audio element.

প্রতিমার কেনিয়া পাড়ি

মাসাইদের ভূমিতে দুর্গাপুজোর আয়োজনের পরিকল্পনা এক পর্যটন সংস্থার৷ তাঁর অন্যতম কর্ত্রী রাখি মিত্র সরকার একদল পর্যটককে নিয়ে মাসাইদের গ্রামে যাবেন, সেখানেই হবে দুর্গাপুজো৷ প্রতিমা তৈরি করেছেন কুমোরটুলির শিল্পী মিন্টু পাল৷ ফাইবার নয়, মাটির প্রতিমা৷ আটপৌরে সাজ৷ উচ্চতায় ২৪ ইঞ্চি, চওড়ায় ২০ ইঞ্চি৷ প্রতিমা নাইরোবি পৌঁছনোর পর সেখাকার বাঙালি সংগঠনের সদস্যরা অভ্যর্থনা জানাবেন৷ এরপর দুর্গা রওনা দেবেন মাসাইদের গ্রামের দিকে৷ শুধু বাংলা নয়, বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে অভারতীয় পর্যটকরাও যোগ দেবেন আফ্রিকার দুর্গোৎসবে৷

শঙ্করের পায়ে পায়ে

এই অভিনব ভ্রমণ যেন ‘চাঁদের পাহাড়'-এর শঙ্করের অভিযানের মতো রোমাঞ্চকর! আয়োজক রাখি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের উদ্দেশ্যে এই ভাবনা৷ পুজো বলতে যে আচার পালন করা হয়, তার সুযোগ এখানে সীমিত৷ বাঙালি সংস্কৃতির প্রদর্শনীই মূল লক্ষ্য৷'' এর আয়োজন বেশ চমকপ্রদ৷ অভয়ারণ্যের ভিতর মাসাইদের গ্রামে হবে পুজোর অনুষ্ঠান৷ কলকাতা থেকে শুধু প্রতিমা নয়, পুজোর সরঞ্জাম যতটা সম্ভব নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ ধূপ-ধুনো, কাঁসর-ঘণ্টা পৌঁছে যাচ্ছে কেনিয়ায়৷ মাসাইদের গ্রামে ১৪-১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুজোর মূল পর্ব সারা হবে৷ সেই অনুষ্ঠানের ছবি পর্যটন সংস্থা সামনে আনবে মহালয়ায়৷

মাসাইদের হাতেই পুজো

তিন পর্যটক ঋতা বসু, শিখা মজুমদার, ত্রয়ী সরকারের উপর পুজো আয়োজনের মূল ভার দিয়েছেন রাখি৷ ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যটকদের দল ফিরে এলেও তারা তিন জন থেকে যাবেন৷ বাংলা ক্যালেন্ডারে সপ্তমী-অষ্টমী-নবমী তিথিতে তারা যাবেন মাসাই গ্রামে৷ তাদের তত্ত্বাবধানে নানা সজ্জায় রঙিন, দীর্ঘদেহী মাসাইরা করবেন পুজো৷ সিংহের সঙ্গে যাঁদের বাস, তাঁদের হাতেই পুজো পাবেন সিংহবাহিনী৷ রাখি বলেন, ‘‘ধূপ-ধুনোর ব্যবহার শেখানো হবে মাসাইদের৷ প্রদীপ জ্বালাতে শেখানো হবে৷ কাঁসার-ঘণ্টা থেকে শাঁখ বাজানো, সবই শেখানোর চেষ্টা করবেন পর্যটকরা৷ এই পুজো পর্বের ভিডিও তুলে আমাকে পাঠাতে বলেছি৷’’

মাসাইদের গ্রামে আমার প্রতিমা যাচ্ছে, এর অনুভূতিই আলাদা: মিন্টু পাল

This browser does not support the audio element.

সিংহের ডেরায় সিংহবাহিনী

পুজোর পর প্রতিমা বিসর্জন দেওয়াই রীতি৷ কিন্তু মাসাইদের গ্রামে কোথায় ভাসান দেওয়া হবে? শিল্পী মিন্টু পাল বলেন, ‘‘প্রতিমা রেখে দেওয়া যাবে বছর দুয়েক৷ অবিকল এক থাকবে৷ আমাদের প্রতিমা প্রতি বছরই বিদেশে যায়৷ কোভিডের পর এবার ভাল সাড়া পেয়েছি৷ তবে মাসাইদের গ্রামে আমার প্রতিমা যাচ্ছে, এর অনুভূতিই আলাদা৷’’

অতএব প্রতিমা থাকবে সেই অচিন গ্রামে৷ সিংহের ডেরায়, কোনো ছাউনির নীচে৷ মাসাইরা বছরভর তার দেখভাল করবেন, প্রদীপ জ্বালাবেন৷ আফ্রিকার রাজাই পাহারা দেবে বাঙালির ঘরের মেয়েকে!

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ