1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

আমলাতন্ত্রের ইশতেহার ও ‘উজিরে খামাখা’

২১ এপ্রিল ২০২০

২০ এপ্রিল সরকারের একটি অফিস আদেশ শুরু হয়েছে এই বলে, ‘‘COVID 19 প্রতিরোধে ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা পর্যায়ে চলমান ত্রাণ কার্যক্রম সুসমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণকে জেলাওয়ারি দায়িত্ব প্রদান করা হলো৷’’

Bangladesch Dhaka Verteilung von Hilfsgütern
ছবি: DW/Harun Ur Rashid Swapan

অফিস আদেশটিতে বর্ণিত কর্মকর্তারা হলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সিনিয়র সচিবগণ৷

ওইখানে সমন্বয়ের সঙ্গে ‘সু’ যোগ করা হয়েছে, বোধহয় উপসর্গই হবে, কিন্তু সমন্বয়ের আগে পরে সু-এর ব্যবহার আমি এই প্রথম দেখলাম৷

এই অফিস আদেশটি একাধিক কারণে তাৎপর্যপূর্ণ৷ তবে বিস্তারে না গিয়ে বলি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই আদেশটি বোধহয় দেশে আমলাতন্ত্রে প্রবেশের ছোট ও পরীক্ষামূলক ঘোষণা৷ এই পরীক্ষা সফল হলে দেশের এমপি ও মন্ত্রীদের একটাই পরিচয় হবে আর তা হলো ‘উজিরে খামাখা’৷ 

অফিস আদেশটি একাধিক কারণে তাৎপর্যপূর্ণ৷ছবি: Bangladesh Government

খেয়াল করলে যে কেউই দেখবেন, মন্ত্রীদের কর্মহীনতা এর মধ্যে অনেকটাই প্রমাণিত৷ দেশের সব বিষয়ে মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কথাই বলেন আর অপেক্ষা করেন৷ একজন চোরকে ধরা হবে কিনা সে নির্দেশও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আসে বলে গর্বভরে জানান স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ প্রতি মন্ত্রণালয় ধরে ধরে এর ব্যাখ্যা না দিলেও চলে৷ 

অনেকদিন থেকেই দেশে এমন একটি অবস্থা হয়েছে যে, কোনো মন্ত্রী, মানে যিনি মন্ত্রণা বা উপদেশ দেন বা দেবেন এরকম কথা শোনা যায় না৷ সকল দায়ও যেমন দিনশেষে শেখ হাসিনার, সকল প্রশংসার উৎস আর লক্ষ্যও তিনি৷ তাই তার দেওয়া দায়িত্বগুলো পালন করার জন্য তার তো আমলাই দরকার, মন্ত্রীরাও একেকজন আমলা বৈ তো নয়৷ 

ইদানীং এই ব্যাপারে আর রাখঢাকও নেই যে, প্রধানমন্ত্রী তার পারিষদদের মধ্যে আমলাদের উপরই নির্ভর করেন বেশি৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে মনে আছে? তিনি বলেছিলন, করোনা প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির তিনি চেয়ারম্যান হলেও তাকে কিছু জানানো হয় না৷ ওই কমিটিও একটি আমলা-নির্ভর কমিটি, নিজের ভাষাতেই গুরুত্বহীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কোনো মন্ত্রী এমপি বা রাজনীতিবিদ সেই কমিটিতে ছিলেন না৷ 

আর এমপি ও মন্ত্রীরা জনগণের কথা বলার কথা, কারণ, জনগণ তাকে নির্বাচিত করে৷ কিন্তু আমরা একজন মন্ত্রী বা এমপিও পাই না যিনি শুধু আওয়ামী লীগ সভাপতির হাতকে শক্তিশালী করার জন্য ভোট চান না৷ তাই সব এমপি বা মন্ত্রী জানেন, দিনের শেষে শেখ হাসিনাই তাকে মন্ত্রী বা এমপি বানান, জনগণ নয়৷  

ছবি: DW/P. Böll

ত্রাণ সমন্বয়, থুড়ি সুসমন্বয়ের কথায় ফিরে আসি৷ টানা ১১ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ৷ শীর্ষমহলের সুনজরের কারণে আজ কারো গাড়িতে পতাকা আর কেউ এখন দাওয়ায় বসে ‘অতীত দিনের স্মৃতি' মনে করেন৷ সে যাক, আওয়ামী লীগের মধ্যে তাই ক্ষমতায়, ক্ষমতার বলয়ে বা ক্ষমতার বাইরে থাকা একে অপরের শত্রু জ্ঞান করা জন বা গোষ্ঠী রয়েছে৷ জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন পর্যায়ে তারা ক্ষমতাবানও বটে৷ তারা জানেন, জনগণ হয়তো তাদের ক্ষমতায় আনতে পারেন না, কিন্তু জনগণের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার না করা গেলে কেন্দ্রের কেউ বা কেউকেটারা দাম দেবে না৷ তাই আধিপত্য বিস্তার গুরুত্বপূর্ণ৷

রাজনীতিবিদদের এই অসামান্য হেলাফেলার সময়েও তাই আমরা পোস্টারে পোস্টারে চারদিক ছেয়ে যেতে দেখি, দেখি আওয়ামী লীগের নেতাদেরও বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট চাইতে৷ এই আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমেই সরকারের ঠিকাদারি পাওয়া সম্ভব হয়, কাঁচা টাকা পায়ে হেঁটে বাড়ি চলে আসে৷ নেতারা ভাবেন, তিনি যে গুরুত্বপূর্ণ, একথা তাকেই প্রমাণ করতে হবে, তা ভয় দেখিয়ে হোক বা বৈধ-অবৈধ বিত্ত দিয়ে৷ তারপর একে-ওকে ছোট-মাঝারি গ্রহ বা উপগ্রহ ধরে উপস্থাপিত হতে হবে ক্ষমতাবলয়ের কেন্দ্রের সামনে৷ নীতি বা আদর্শের সঙ্গে এই যাত্রার বা পালার কোনো সম্পর্ক নেই৷ এটা কিন্তু সবাই জানেন আর মানেন আর তাই কিছুদিন পরপর আমরা হাইব্রিড, কাউয়া, অনুপ্রবেশকারী এসব অসাধারণ শব্দ শুনতে পাই৷  

স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারের একটি বড় হাতিয়ার হলো ত্রাণ৷ দেশে গরিব মানুষ বেশি, তাই ত্রাণসামগ্রী দিয়ে হাতে রাখার সুযোগও বেশি৷ তাই রাজনীতিবদদের ত্রাণের দায়িত্ব দিলে চুরি করে মাটির নীচ, খাটের তল ভরিয়ে ফেলতে এত দেখা যায় আমার এক বন্ধু প্রস্তাব করেন যে, ত্রাণের নাম দেওয়া হোক চুরি৷ তাই একথা বলাই যায়, কারা ত্রাণ পাবে এই তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা এমপিকে করতে দিলে স্বজনতোষণের এক পাপী অধ্যায় রচিত হতে পারতো৷ আর তার সঙ্গে যোগ হতো অন্তর্কোন্দল আর বিভাজন৷ 

তাই বলে আমলারা কি ভালো আর দক্ষ? তা হয়তো না, কিন্তু তাদের অন্তত জনগণের সামনে যাওয়ার অভিনয়টুকু করতে হয় না৷ প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করে নির্বাহী ক্ষমতাবলেই তারা গুরুত্বপূর্ণ৷ তাই এ আশা প্রধানমন্ত্রী করতেই পারেন যে, আমলারা ত্রাণের সমন্বয় ভালো করবেন৷

তাই  নিরাপদ রাস্তায় হেঁটেছেন শেখ হাসিনা৷ মন্ত্রীদের হয়তো বলেছেন, ঘরে থাকো, বেশি করে হাত ধোও৷   

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ