গ্রিসের এথেন্স ইউরোপের একমাত্র রাজধানী যেখানে এখনও কোনো অফিসিয়াল মসজিদ নেই৷ তবে হেমন্তের শেষে একটি মসজিদ উদ্বোধনের কথা রয়েছে৷
বিজ্ঞাপন
কিন্তু সম্প্রতি তুরস্কে আয়া সোফিয়াকে জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তরের ঘটনায় এথেন্সের মসজিদ উদ্বোধন আরো পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সেখানকার মুসলমানরা৷ ‘‘এই ঘটনার পর আমার মনে হচ্ছে গত দশ বছর ধরে আমরা যে মসজিদের জন্য অপেক্ষা করছি সেটা চালু করা আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে,'' বলেন ইমাম আতা-উল নাসের৷ তিনি এথেন্সের একটি অস্থায়ী মসজিদের ইমাম৷
২০০৭ সালে এথেন্সে অফিসিয়াল মসজিদ তৈরির পরিকল্পনা করা হলে অর্থোডক্স চার্চ ও বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী এর বিরোধিতা করেছিল৷
অবশেষে ২০১৬ সালে গ্রিসের সংসদ মসজিদের পরিকল্পনা অনুমোদন করে৷ এরপর নির্মাণকাজ শেষে গতবছর সেপ্টেম্বরে সেখানে প্রথম নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল৷
মিনারহীন এই অফিসিয়াল মসজিদে প্রায় সাড়ে তিনশ জন নামাজ পড়তে পারবেন৷
গ্রিসের শিক্ষা ও ধর্ম মন্ত্রণালয় গতবছর জুনে জানিয়েছিল, সরকারের নিয়োগ দেয়া একটি পরিষদ মসজিদ পরিচালনা করবে, ইমাম নিয়োগ দেবে৷ খুতবা দেয়া যাবে শুধুমাত্র গ্রিক ভাষায়৷ তবে নামাজ পড়া যাবে আরবি ভাষায়৷
এথেন্সের মুসলমানরা বর্তমানে অ্যাপার্টমেন্ট ও বেসমেন্টকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করছেন৷ এজন্য সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়৷
অফিসিয়াল মসজিদটি এথেন্সের উত্তরপূর্বে অবস্থিত, যা শহর থেকে একটু দূরে৷ তবে সেখানে অনেক মুসলিম শরণার্থী থাকেন৷
ইমাম আতা-উল নাসের বলছেন, এথেন্সের কেন্দ্রে অবস্থিত অটোমান সাম্রাজ্যের একটি মসজিদকে, যেটি এখন মিউজিয়াম, মুসলমানদের নামাজের জায়গা হিসেবে দেয়া যেত৷ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যিপ এর্দোয়ান বিভিন্ন সময় গ্রিসের নেতাদের প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছিলেন৷ কিন্তু কয়েক শতাব্দী ধরে অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকায় গ্রিসে এখনও তুর্কিবিরোধী মনোভাব বেশ শক্ত৷ ‘‘গ্রিকদের হৃদয়ে এখনও মুসলমানদের তুর্কি দখলদারীদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়,'' বলেন ইমাম আতা-উল নাসের৷
ষষ্ঠ শতাব্দীতে নির্মিত আয়া সোফিয়াকে ১৪৫৩ সালে মসজিদে রূপান্তরিত করেছিল অটোমানরা৷ এরপর ১৯৩৪ সালে কামাল আতাতুর্ক ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কের প্রতীক হিসেবে আয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে পরিণত করেন৷
জেডএইচ/এসিবি (এএফপি)
জার্মানির সবচেয়ে বড় মসজিদ
জার্মানির সবচেয়ে বড় মসজিদটির নির্মান কাজ শুরু হয় ২০০৯ সালে, কোলনে৷ ২০১৭ সালে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে৷ ইতোমধ্যে বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এই মসজিদ নিয়ে৷
ছবি: picture-alliance/dpa/M. Becker
ইউরোপের অন্যতম বড় মসজিদ
কোলনের কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে পরিচিত এই মসজিদটি ইউরোপের অন্যতম বড় এবং জার্মানির সবচেয়ে বড় মসজিদ৷ এটির আয়তন ৪৫০০ বর্গমিটার৷ এতে একসঙ্গে দুই থেকে চার হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে৷ জার্মানিতে তুর্কি মুসলিমদের সংগঠন ডিটিব মসজিদটি নির্মাণ করেছে৷ নামাজের পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সংলাপ, খেলাধুলা আয়োজনের ব্যবস্থা এবং দোকান ও লাইব্রেরি রয়েছে৷
ছবি: picture-alliance/dpa/O. Berg
ভিন্ন ডিজাইনের মসজিদ
‘নন-অটোমান’ ডিজাইন অনুসরন করে মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে৷ এতে কংক্রিট এবং কাঁচের দেয়াল ও গম্বুজ রয়েছে৷ দু’টি মিনারতের উচ্চতা ৫৫ মিটার করে৷ আর মসজিদের ভেতরে দেয়ালে বিভিন্ন ক্যালিগ্রাফি রয়েছে৷
ছবি: Picture alliance/dpa/M. Becker
দীর্ঘদিনের স্বপ্ন
কোলনে বসবাসরত তুর্কিরা দীর্ঘদিন ধরেই এমন এক মসজিদের স্বপ্ন দেখছিলেন৷ তবে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরুর পর নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়৷ এমনকি ২০১১ সালে বিপুল প্রতিবাদের মুখে এটির নির্মাণকাজ কিছুদিনের জন্য মন্থরও করা হয়৷ অভিবাসীবিরোধী চক্র এটি নির্মাণের বিরোধিতা করে৷ তবে পত্রিকার এক জরিপে দেখা যায়, শহরের ৬৩ শতাংশ বাসিন্দা এটি তৈরির পক্ষে৷
ছবি: picture-alliance/dpa
চোখে পড়ার মতো স্থাপনা
জার্মানিতে প্রায় পাঁচ মিলিয়নের মতো মুসলমান বাস করেন৷ তাঁদের একটি বড় অংশই তুর্কি বংশোদ্ভূত৷ কোলনে বসবাসরত সোয়া লাখ মুসলমানের জন্য সত্তরটির মতো মসজিদ রয়েছে৷ অধিকাংশ মসজিদই এমন জায়গায় তৈরি যা সচরাচর চোখে পড়েনা৷ তবে এই মসজিদটি ব্যতিক্রম৷
ছবি: Picture alliance/dpa/O. Berg
খরচ কম নয়
মসজিদটি তৈরিতে কমপক্ষে সতের মিলিয়ন ইউরো খরচ হয়েছে৷ তবে এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে৷ এই অর্থের অধিকাংশই দিয়েছে ডিটিব৷ কিছু অর্থ সংগ্রহে সহযোগিতা করেছে একটি গির্জা৷
ছবি: picture alliance/dpa/Geisler
পল ব্যোম, স্থপতি
কোলন কেন্দ্রীয় মসজিদটির নকশা করেছেন পল ব্যোম৷ তিনি এবং তাঁর বাবা মূলত গির্জার ডিজাইন করার জন্য বিখ্যাত৷ তবে সমজিদটি তৈরির মাধ্যমে তিনি তাঁর দক্ষতাকে অন্যস্তরে নিয়ে গেছেন৷
ছবি: AP
প্রার্থনার এক স্বচ্ছ ঘর
‘উন্মুক্ত’ এবং ‘উজ্জ্বল’৷ মসজিদটির ডিজাইন সম্পর্কে এই দুটো শব্দই উচ্চারণ করেছেন ব্যোম৷ মসজিদটির মধ্যে প্রাকৃতিক আলো নিশ্চিত করতে দেয়ালে প্রচুর কাঁচ ব্যবহার করা হয়েছে৷ আর মসজিদটি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্যও উন্মুক্ত৷ যেকেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারেন৷
ছবি: Lichtblick Film GmbH/Raphael Beinder
জার্মান স্টাইলে তৈরি মসজিদ
কোলনের মানুষ মসজিদটিকে স্থানীয় ভাষায় বলেন, ‘ক্যোলশ ম্যুশি’৷ আর মসজিদটির ডিজাইনেও জার্মান ছোঁয়া রয়েছে৷ প্রচলিত তুর্কি মসজিদগুলো যেরকম, এই মসজিদটি মোটেও সেরকম নয়৷
ছবি: picture alliance / dpa
কিছু শর্ত
কোলন কর্তৃপক্ষ মসজিদটি নির্মাণের অনুমতি দেয়ার পাশাপাশি কিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছে৷ এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সেখানে জার্মান ভাষা শিক্ষার আয়োজন থাকতে হবে৷ পাশাপাশি ইমামকে জার্মান ভাষায় দক্ষ হতে হবে৷ আর খুতবা দিতে হবে এমন ভাষায়, যা নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা বুঝতে পারেন৷ মোটের উপর, প্রার্থনায় অংশ নিতে আসা পুরুষ এবং নারীদের সমান মর্যাদা দিতে হবে৷