ইউরোভিশন সং কন্টেস্টে যুক্ত হচ্ছে এশিয়া, থাকছে বাংলাদেশও
৩১ মার্চ ২০২৬
সংগীতের সবচেয়ে বড় লাইভ প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত ইউরোভিশনে এ বছর যুক্ত হচ্ছে এশিয়া৷ বছরের শেষ দিকে ব্যাংককে হতে চলেছে ইউরোভিশনের প্রথম এশীয় সংস্করণ৷
‘ইউরোভিশন সং কনটেস্ট এশিয়া ২০২৬'-এ এশিয়ার অন্তত ১০টি দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণ ইতিমধ্যে নিশ্চিত৷ সেই তালিকায় স্বাগতিক থাইল্যান্ডের সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন্স, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, নেপাল এবং ভুটানের শিল্পীরাও৷ছবি: EBU
বিজ্ঞাপন
‘ইউরোভিশন সং কনটেস্ট এশিয়া ২০২৬'-এ এশিয়ার অন্তত ১০টি দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণ ইতিমধ্যে নিশ্চিত৷ সেই তালিকায় স্বাগতিক থাইল্যান্ডের সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন্স, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, নেপাল এবং ভুটানের শিল্পীরাও৷ প্রতিযোগিতার ফাইনাল হবে নভেম্বরে৷ তার আগে আরো অনেক দেশের শিল্পীরা যোগ দিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে৷
প্রতিযোগিতার পরিচালক মার্টিন গ্রিন আজ মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘ইউরোভিশনসং কনটেস্টের ৭০তম বার্ষিকী উদযাপনের এই মুহূর্তে, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং প্রতিভায় সমৃদ্ধ অঞ্চল এশিয়ার সঙ্গে এই নতুন অধ্যায়ের সূচনাটা বিশেষভাবে অর্থবহ মনে হচ্ছে৷''
প্রথম এশিয়া সংস্করণের আয়োজক হিসেবে থাইল্যান্ডকে বেছে নেয়ার পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে সে দেশের পর্যটন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি চুইট সিরিভাজ্জাকুল বলেন, এমন আয়োজনের জন্য ব্যাংকক উপযুক্ত শহর, কারণ, এ শহর ‘‘এমন এক জায়গা যেখানে সবসময় বিভিন্ন সংস্কৃতি একত্রিত হয়, যেখানে বাতাসে সংগীতের সুর ভেসে বেড়ায় এবং যেখানে উদযাপন প্রাত্যহিক জীবনের অংশ৷''
ইউরোভিশন নিয়ে যে সাতটি তথ্য আপনি জানেন না
ইউরোভিশনের কথা শুনলেই জনপ্রিয় গান আর চোখ ধাঁধানো মঞ্চের কথা মনে হতে পারে আপনার৷ তবে এর বাইরেও অনেক ব্যাপার আছে যা আপনাকে বিস্মিত করতে পারে৷ চলুন জানা যাক সেগুলো৷
ছবি: picture-alliance/dpa
কনচিটা ‘ভুয়র্স্ট’ বলে কিছু নেই
ইউরোভিশন বেশ কয়েকজন তারকার জন্ম দিয়েছে৷ এদের অনেকে জগতজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন, কেউবা হয়েছেন কুখ্যাত৷ কনচিটা ভুয়র্স্ট বা টোমাস নয়ভিয়র্ট তাঁদেরই একজন৷ ‘ভুয়র্স্ট’ শব্দটি জার্মান, যার অর্থ সসেজ৷ মজাটা হচ্ছে শিল্পী হিসেবে কনচিটা ভুয়র্স্ট বিখ্যাত হলেও বাস্তবে এই নামে কোন সসেজ নেই৷
ছবি: picture-alliance/dpa
সবচেয়ে রঙিন পোশাক জয়ী হয় (মাঝেমাঝে)
ইউরোভিশনে সচরাচর সবচেয়ে রঙিন পোশাক পরিহিত প্রতিযোগী জয়লাভ করেন৷ তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও আছে৷ ২০১৩ সালে ইউরোভিশন জয় করা ডেনমার্কের এমিলি ডি ফরেস্ট ‘হোয়াইট এলফ’ সেজেছিলেন৷ আর তাতে তাঁর জয়যাত্রা থেমে যায়নি৷
ছবি: picture-alliance/dpa
পশু নিষিদ্ধ
একথা স্বীকার করতে অসুবিধা নেই যে ইউরোভিশনে অংশ নেয়া অনেক প্রতিযোগীকে দেখলে মনে হয় তারা বুঝি অন্য কোনো দুনিয়ার বাসিন্দা৷ তবে যে বেশভূষাই তাঁরা ধারণ করুন না কেন, তা ইউরোভিশনের নিয়মনীতির সঙ্গে মানানসই হতে হয়৷ আর সে সব নিয়মের একটি হচ্ছে, পশুরা নিষিদ্ধ৷
ছবি: picture-alliance/epa/Ho Dennis O'Farrell
টেক্সটই আসল
ইউরোভিশনে বহুসংস্কৃতির মিলন ঘটে বটে, তবে প্রতিযোগীদের গান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা রয়েছে৷ অর্থাৎ যে যে দেশের তিনি সেদেশের ভাষায় গাইবেন, এমন কোনো নিয়ম নেই৷ বরং অনেক শিল্পী ইংরেজি ভাষাকে বেছে নেন যাতে করে সবচেয়ে বেশি মানুষ গানটির অর্থ বুঝে নেন৷ এক্ষেত্রে গানের টেক্সট বা কথাই বেশি গুরুত্ব পায়৷
ছবি: picture-alliance/dpa
স্টেজে অপ্রত্যাশিত অতিথি
ইউরোভিশনের লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালে দর্শকদের কেউ কেউ হঠাৎ মঞ্চে উঠে পড়ার চেষ্টা করেন৷ অনেকক্ষেত্রে তারা সফলও হন৷ কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীরা ছাড়া কেউ বিষয়টি তেমন একটা গুরুত্ব সহকারে নেয়না৷ ছবিতে ২০১০ সালে হঠাৎ মঞ্চে উঠে পড়া জিমি জাম্পকেও দেখা যাচ্ছে৷
ছবি: Lauten/AFP/Getty Images
আমরা ইউরোপ!
ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতাকে ইউরোপীয় মনে হতে পারে, আসলে কিন্তু বিষয়টা সেরকম নয়৷ ইউরোপীয় ব্রডকাস্টিং ইউনিয়নের সকল সদস্য রাষ্ট্র এতে অংশ নিতে পারে৷ আর তারমধ্যে ইসরায়েলও আছে৷ এছাড়া এই নিয়মে আলজেরিয়া, টিউনিশিয়া, লিবিয়া এমনকি ভ্যাটিকান সিটিসহ কয়েকটি দেশও চাইলে প্রতিযোগী পাঠাতে পারে৷ যদিও তারা পাঠায় না৷
ছবি: Daniel Chechik
অনুষ্ঠান শেষ মানেই শেষ নয়
ইউরোভিশনের মূল অনুষ্ঠানে বিজয়ীকে মুকুট পরানোর মাধ্যমেই কিন্তু ইউরোভিশনের পর্বটি শেষ হয়ে যায়না৷ বরং এই নিয়ে ইউরোভিশন ভক্তদের মধ্যে আলোচনা চলে সারা বছরই৷ তারা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন পার্টির আয়োজন করে৷
ছবি: picture-alliance/dpa
7 ছবি1 | 7
ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন পরিচালিত ইউরোভিশনের মূল গালা অনুষ্ঠান প্রতি বছর ১০ কোটিরও বেশি দর্শক উপভোগ করেন৷ এ বছরের মূল প্রতিযোগিতা আগামী মে মাসে ভিয়েনায় হওয়ার কথা৷ সেখানে অংশ নেবেন ৩৫টি দেশের শিল্পী৷
ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্লোভেনিয়া এবং স্পেন এবার ইউরোভিশন সং কন্টেস্ট বর্জন করছে৷ সবসময় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করা হলেও সংগীতবিষয়ক প্রতিযোগিতার আসর ইউরোভিশনে অনেকবার বিশ্বের চলমান ঘটনার প্রভাব পড়েছে৷ ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা চালানোয় রাশিয়াকে বহিষ্কার করা হয়৷
গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের ধাক্কাও লেগেছে ইউরোভিশনে৷ অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে হয়েছে তুমুল বিক্ষোভ৷ গত বছর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া দুবার সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়েছে৷ তাই এবার ব্যাংককেও উত্তেজনা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের৷