সোমবার অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই প্রশাসনিক নির্দেশ বা একজিকিউটিভ অর্ডারটি সই করেছেন। বলা হয়েছে, পৃথিবীর যে কোনো দেশ থেকে অ্যামেরিকায় ইস্পাত বা অ্যালুমিনিয়াম বিক্রি করলে ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক দিতে হবে। বস্তুত, নির্বাচনি প্রচারের সময়েই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে তিনি একাজ করবেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য, অ্যামেরিকা থেকে এই দুই পণ্য বিদেশে গেলে রপ্তানি শুল্ক দিতে হয়। সে কারণে তিনিও ওই একই শুল্ক ধার্ষ করবেন।
গাড়ির যন্ত্রাংশ, ওষুধ এবং কম্পিউটার চিপের উপরেও একইরকম শুল্ক ধার্ষ করা হতে পারে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের পদক্ষেপে প্রতিক্রিয়া
জার্মানিতে অন্যতম স্টিল উৎপাদন সংস্থা থাইসেনক্রুপ সোমবার জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তাদের ব্যবসায় খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। তাদের কথায়, ''আমাদের মূল বাজার ইউরোপ, ফলে ট্রাম্পের এই ঘোষণা খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না।'' তাদের বক্তব্য, অ্যামেরিকায় যে ইস্পাত ব্যবহার হয়, তার অধিকাংশই অ্যামেরিকার বিভিন্ন সংস্থা তৈরি করে। ফলে ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে বিশ্ব বাজারে খুব বেশি প্রভাব পড়ার কথা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তার অগ্রাধিকার পরিবর্তন হচ্ছে
ইউএসএআইডির বেশ কয়েকটি কর্মসূচি বাতিল ও সহায়তার পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী মার্কিনি বৈদেশিক সহায়তা নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে৷
ছবি: Celal Gunes/AA/picture alliance
উন্নয়নমূলক উদ্যোগের ব্যাঘাত
নীতি পরিবর্তনের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক পরিণতিগুলির মধ্যে একটি ছিল জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিকাঠামোর মতো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলির ব্যাঘাত৷ ইউএসএআইডির কর্মসূচিগুলি প্রায়ই সীমিত সরকারি সম্পদ, প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলির অর্থায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নমূলক উদ্যোগের অঞ্চলগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল৷
ছবি: J. Scott Applewhite/AP/picture alliance
রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব
সরাসরি উন্নয়নের প্রভাব ছাড়াও ইউএসএআইডির কর্মসূচি বাতিলের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণ রয়েছে৷ এই উদ্যোগগুলি স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সমর্থন এবং মূল অঞ্চলগুলিতে অ্যামেরিকান ‘সফট পাওয়ার’ সম্প্রসারণে অবদান রেখেছে৷ এই পরিবর্তন কেবল আঞ্চলিক শক্তির গতিশীলতাকে পরিবর্তনই করবে না, বিভিন্ন অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে৷
ছবি: CENTCOM/AFP
মানবিক সহায়তা হুমকির মুখে
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সংঘাত ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি পরিষেবার মতো সংকটে সাড়া দিয়ে ইউএসএআইডি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা প্রদানে অগ্রগামী ছিল৷ তাদের চলমান কর্মসূচিগুলি বাতিল করা বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে তাদের প্রয়োজনের সময়ে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে৷ সহায়তার পরিমাণ কমার অর্থ হলো সম্পদের ধীর গতি এবং ক্রান্তিকালীন সময়ে দুর্বল হয়ে যাওয়া৷
ছবি: Ben Curtis/AP/picture alliance
উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য অর্থনৈতিক প্রভাব
ইউএসএআইডির উদ্যোগগুলি পরিকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে সহায়ক ছিল৷ তবে কর্মসূচিগুলি বাতিলের কারণে কয়েক দশক ধরে চলমান বিনিয়োগ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির অগ্রগতি হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে৷ অনেক অঞ্চলে, এই পরিবর্তন অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার পাশপাশি দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা ও দারিদ্র্য বৃদ্ধির দিকে সম্ভাবনা তৈরি করবে৷
ছবি: HOSHANG HASHIMI/AFP/Getty Images
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনায় বিপত্তি
সহায়তা বাতিলকরণের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক উন্নয়নশীল দেশ তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অংশীদারদের অংশগ্রহণ নতুনভাবে সাজানোর কথা ভাবছে৷ এই পুনর্বিন্যাস সময়ের সাথে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল হবে৷ কিন্তু পরিবর্তনের জন্য কতটুকু সময় প্রয়োজন হবে তা নিশ্চিত না৷ মুক্ত বাণিজ্যের বৈশ্বিক বাজারে একটি জাতির অগ্রাধিকারের পরিবর্তন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে৷
ছবি: Tom Williams/IMAGO
5 ছবি1 | 5
বস্তুত, ইউরোপীয় ইউনিয়নও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মেনে নিয়েছে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, এবিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই।
এদিনই অ্যামেরিকার একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল ইউরোপ রওনা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের আলোচনা হওয়ার কথা। যার মধ্যে অন্যতম আলোচনার বিষয় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। তবে ওই বৈঠকে ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদল
সোমবার গুগল জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে গুগল ম্যাপে মেক্সিকো উপসাগর বা গালফ অফ মেক্সিকোর নাম বদল করা হয়েছে। অ্যামেরিকায় গুগল ম্যাপ খুললে গালফ অফ অ্যামেরিকা দেখা যাবে। মেক্সিকোতে ম্যাপ খুললে অবশ্য গালফ অ্ফ মেক্সিকোই দেখা যাবে। পৃথিবীর অন্য যে কোনো প্রান্তে ম্যাপ খুললে গালফ অফ মেক্সিকো লেখা থাকবে, পাশে ব্র্যাকেটে অ্যামেরিকা উপসাগর লেখা থাকবে। অ্যাপেল ম্যাপে অবশ্য এখনো মেক্সিকো উপসাগরের নামের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।