1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

দোকান খোলার আগে সব ব্যবস্থা নেবেন তো?

৫ মে ২০২০

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঈদের আগে কেনাকাটার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ মানুষ যেন তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন এবং অর্থনীতির চাকা সচল থাকে তাই এই ব্যবস্থা৷

ছবি: DW/H. U. R. Swapan

বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে৷ সামাজিক গণমাধ্যমে অনেকেই সমালোচনা করেছেন৷ বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ আমলে নিলে এ ধরনের উদ্যোগ আত্মঘাতী বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে৷ চলুন দেখা যাক, কেন এই সিদ্ধান্ত? ঈদকে ঘিরে কী সেই অর্থনীতি যা করোনার আঘাতও পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছে না?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদের গত বছর ঈদের অর্থনীতি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে একটি লেখা লিখেছিলেন৷ সেখানে তিনি বলেছেন, মুদি থেকে কাপড় মিলিয়ে সারা দেশে প্রায় ২৫ লাখ দোকান রয়েছে৷ সেখানে বছরের অন্য মাসের চেয়ে রোযার মাসে বিক্রি বাড়ে প্রায় তিনগুণ, যার পরিমাণ ২ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা৷ এছাড়া গত বছর মে মাসে ছিল রেকর্ড প্রায় ১৭৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স৷ চাকরিজীবীরা বোনাস পেয়েছিলেন ১২ হাজার কোটি টাকা, যা এবারও পাবেন৷ গত বছর রমজানে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল এটিএম বুথ থেকে৷ চাপ সামলাতে অতিরিক্ত ২৫ হাজার কোটি টাকার নোট ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংককে৷ 

এফবিসিসিআইয়ের বরাত দিয়ে ড. মজিদ আরো লেখেন, ‘‘পোশাক ও অন্য পরিধেয় খাতে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি, জুতা-কসমেটিকস তিন হাজার কোটি, ভোগ্যপণ্য সাত হাজার কোটি, জাকাত-ফিতরা ও দান-খয়রাত ৩৮ হাজার কোটি, যাতায়াত বা যোগাযোগ খাতে ১০ হাজার কোটি, সোনা-ডায়মন্ড পাঁচ হাজার কোটি, ভ্রমণ খাতে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি, ইলেকট্রনিকস চার হাজার কোটি, স্থায়ী সম্পদ ক্রয় এক হাজার কোটি, পবিত্র ওমরাহ পালন তিন হাজার কোটি ও আইন-শৃঙ্খলাসহ অন্যান্য খাতে লেনদেন হয় এক হাজার কোটি টাকা৷’’

এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে ফার্নিচার, আবাসন, গাড়ি এসবের বেচাবিক্রি বাড়ে৷ বিত্তশালীরা শুধু যাকাতই দেন প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার৷ এছাড়া রয়েছে পর্যটনসহ ভ্রমণ নির্ভর আয়৷

সব মিলিয়ে এ এক বিরাট যজ্ঞ৷ এবার বিশেষ এই পরিস্থিতিতে যার পুরোটাই বন্ধ হবার দশা৷ রপ্তানি নির্ভর শিল্পগুলো যেহেতু কার্যত কর্মহীন, তাই অভ্যন্তরীণ বাজারেই এখন অর্থনীতি নির্ভরশীল৷ আর রোযার ঈদ হলো সেই অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ঘটনা৷ এই উপলক্ষটাই হয়ত কাজে লাগাতে চাইছে সরকার৷ এই চাওয়ায় খুব গলদ দেখছি না৷

যুবায়ের আহমেদ, ডয়চে ভেলে

তবে সমস্যা অন্য জায়গায়৷ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দোকানপাট খোলা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে৷ প্রশ্ন হলো, মানুষ কি তা মেনে চলবেন? বা কর্তৃপক্ষ তা কি তা মানাতে পারবেন?

গেল দেড়-দুই মাসের অভিজ্ঞতা তো তা বলে না৷ মানুষ গ্রামের বাড়িতে যাবেন কি যাবেন না, গেলে কেমন নিয়ম মেনে যাবেন, তাদের পরিবহণের বিশেষ ব্যবস্থা না করে সরকারি ছুটি দিয়ে দেয়া, গার্মেন্টস কর্মীদের নিয়ে পিংপং বল খেলা, এগুলো আসলে সমন্বয়হীনতার উদাহরণ৷ একমাত্র বোরো ধান কাটতে শ্রমিকদের হাওড় অঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সমন্বয় দেখা গেছে৷

কেমন করে দোকানপাট খোলা থাকবে, সেখানে মানুষ কেমন করে যাবেন, কী নিয়ম অনুসরণ করবেন, এসব নিয়ে নিশ্চয়ই সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা থাকবে৷ কিন্তু নির্দেশনাই শুধু নয়, সেগুলো লোকজন মানছেন কি না সে নজরদারি কি থাকবে? নজরদারির দায়িত্ব কেমন করে ভাগ হবে? বাংলাদেশে যেহেতু লোকসংখ্যা বেশি, তাই পুরো বিষয়টি বাস্তবায়নে সরকারি বাহিনী, মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও দোকান মালিক সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে৷

২৪ এপ্রিলের ছবিঘরটি দেখুন...

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ