1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

এইচএসসি হবে, পিএসসি-জেএসসি নাও হতে পারে

১৯ আগস্ট ২০২০

প্রতি বছর এপ্রিলে বাংলাদেশে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (এইচএসসি) অনুষ্ঠিত হয়৷ এবার করোনার কারণে সেটা হয়নি৷ ওই পরীক্ষা কবে হবে তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি মন্ত্রণালয়৷ তবে এইচএসসি পরীক্ষা যে হবে তা নিশ্চিত৷

ফাইল ছবিছবি: picture-alliance/landov

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিএসসি) না নেয়ার পক্ষে মতামত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন৷ জেএসসি পরীক্ষার ব্যাপারেও একই ধরনের মতামত পাঠানো হচ্ছে৷ আর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কীভাবে নেয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে৷

এদিকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করোনার কারণে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে৷ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো না হলেও নানা ধরনের কথা চলছে৷ এই সব বিষয় নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে সরকারের নানা পর্যায় থেকে অনুমান নির্ভর কথা বলায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হচ্ছে৷

বাংলাদেশে মাধ্যমিক পরীক্ষা (এসএসসি) করোনা হানা দেয়ার আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ এর ফলও প্রকাশ হয়েছে৷ কিন্তু এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় জেএসসি (জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষা) এবং এইচএসসি পরীক্ষা আটকে গেছে৷ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেপ্টেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে৷ তবে তা এখনো চূড়ান্ত নয়৷ সেটা সম্ভব হলে নভেম্বরে  এইচএসসি পরীক্ষা হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে৷  তবে তাও নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর ৷ গত ১২ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে৷ সেই সব পরামর্শ নিয়ে কাজ হচ্ছে৷ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি৷ কোনো পরীক্ষার তারিখও নির্ধারণ হয়নি৷ কোভিড নাইনটিনের মহামারিকে বিবেচনায় নিয়ে জেএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিকল্প নিয়েই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভাবছে৷ এই বিষয়ে এখনও কোনো  সিদ্ধান্ত হয়নি৷ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে৷

পিএসসি পরীক্ষা না নেয়ার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতামত পাঠিয়েছি: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব

This browser does not support the audio element.

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং পরীক্ষার নানা তারিখ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তা নিয়ে বিভ্রান্তি এবং উদ্বেগের মধ্যে আছেন অভিভাবকেরা৷ তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না আসলে কি সিদ্ধান্ত হচ্ছে৷ এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও এ নিয়ে মানসিক চাপে আছেন৷

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন জানান, ‘‘সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকে কথা বলেছেন৷ সেখানে মূখ্য সচিব ছিলেন এবং আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনজন সচিব ছিলাম৷ সেখানে নেয়া সিদ্ধান্তের আলোকেই আমি পিএসসি পরীক্ষা না নেয়ার পক্ষে আজ (বুধবার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতামত পাঠিয়েছি ৷ আর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা না নেয়ার জন্যও মতামত পাঠানো হচেছ৷ তবে এইচএসসি পরীক্ষা হবে৷ সেটা দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে নেয়া যায় তার সারসংক্ষেপ তৈরি হচ্ছে৷ পরীক্ষার কেন্দ্র বাড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হবে৷ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এনিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হবে৷’’ পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা না হলেও স্কুলগুলো খোলার পর নিজেরা সমাপনী পরীক্ষা নিতে পারবে৷

ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হোসেন জানান, ‘‘মন্ত্রণালয় স্কুল খোলা বা পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে৷ তবে এবিষয়ে আমাদের কাছে কোনো মতামত চায়নি৷ আমরা নিজেরাও কোনো মতামত দেইনি৷’’ এখন যা পরিস্থিতি তাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং পরীক্ষা নেয়া কতটুকু যৌক্তিক জানতে চাইলে তিনি নিজের কোনো মতামত না দিয়ে বলেন, ‘‘অভিভাবকদের সাথে কথা বলে দেখব৷’’

কোনোভাবেই আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন খোলার পক্ষে নই: অভিভাবক ফোরামের সভাপতি

This browser does not support the audio element.

রাজশাহীর পুঠিয়া এলাকার ইকবালুল বাশার খানের দুই সন্তানের একজন জেএসসি এবং আরেকজন এইএসসি পরীক্ষার্থী৷ তিনি বলেন, ‘‘যদি সামাজিক দূরত্ব মেনে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা সরকার নিতে পারে তাহলে পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে৷ কিন্তু সেটার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে তা আগে প্রকাশ করা উচিত৷ আর এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া ঠিক হবে না৷’’

অভিভাবকদের অনেকেই বলছেন, এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও তারা সন্তানদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে পাঠাবেন না৷

অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘‘করোনার সংক্রমণ এখনও কমেনি৷ তাই কোনোভাবেই আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন খোলার পক্ষে নয়৷ বিশেষ করে যারা শিশু তারা তো সামাজিক দূরত্বই বোঝে না৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি৷’’

তবে তিনি মনে করেন করোনা সংক্রমণ কমে এলে নভেম্বরের দিকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে৷ আর পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা নেয়ার দরকার নাই৷ তার কথা, ‘‘আমাদের সন্তানরা না বাঁচলে পরীক্ষা দিয়ে কী হবে?’’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘এখন মূলত টিউশন ফি আদায়ের জন্যই শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের একটি গ্রুপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পাঁয়তারা করছে৷’’

১৫ মের ছবিঘরটি দেখুন...

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

বাংলাদেশ