পেরুর রাজধানী লিমায় আলোচনায় বসেছেন ১৯০টিরও বেশি দেশের কর্মকর্তা৷ তাঁদের লক্ষ্য, কার্বন নির্গমন কমাতে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অঙ্গীকার আদায় করা৷ সোমবার শুরু হওয়া সম্মেলন চলবে ১২ তারিখ পর্যন্ত৷
প্যারিসে সম্মেলনটি শুরু হবে আগামী বছরের ৩০শে নভেম্বর৷ চলবে ১১ই নভেম্বর পর্যন্ত৷ ঐ সম্মেলনে যাওয়ার আগে আগামী বছরের শুরুর দিকেই যেন দেশগুলো নির্গমন কমাতে তাদের অঙ্গীকার ঘোষণা করে তাহলে একের সঙ্গে অন্যের তুলনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন লিমা সম্মেলনে অংশ নেয়া কর্মকর্তারা৷
বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে নানাভাবে৷ কৃষিও রয়েছে এর মধ্যে৷ তবে আশার কথা, এই প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম কিছু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা৷
ছবি: FARJANA K. GODHULY/AFP/Getty Imagesবাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে নানাভাবে৷ কৃষিক্ষেত্রও এর মধ্যে রয়েছে৷ তবে আশার কথা, এই প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম কিছু ধানের জাত উদ্ভাবনের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, ব্রি-র মহাপরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস৷
ছবি: N.Nanu/AFP/Getty Imagesউপকূলীয় অঞ্চলে যেখানে জমিতে লবণের পরিমাণ বেশি সেখানে রোপা আমন মৌসুমে ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১, ব্রি ধান৫৩ ও ব্রি ধান৫৪ – এই চারটি জাত বেশ কার্যকর৷
ছবি: picture-alliance/dpaলবণাক্ত পরিবেশে জন্মানোর জন্য বোরো ধানের জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান৪৭ এবং ব্রি ধান৬১৷
ছবি: CC/Rishwanth Jayarajখরা মোকাবিলায় সক্ষম দুটো উন্নত জাত হলো ব্রি ধান৫৬ এবং ব্রি ধান৫৭ – দুটোই রোপা আমন ধানের জাত৷ ‘‘আরও কিছু নতুন জাত আমাদের হাতে আছে যেগুলো খরায় আরও ভালো করবে,’’ জানিয়েছেন ব্রি মহাপরিচালক৷
ছবি: APড. বিশ্বাস বলেন, রোপা আমন মৌসুমে আরেকটি পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন ধান লাগানোর পরে দেখা যায় যে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে হঠাৎ করেই পানির নীচে ডুবে যায়৷ ‘‘এই অবস্থা প্রায় সপ্তাহখানেক বা তারও বেশি সময় ধরে থাকে৷ এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রয়েছে ব্রি ধান৫১ ও ব্রি ধান৫২৷’’
ছবি: N.Nanu/AFP/Getty Imagesএই পরিস্থিতির জন্য এখনো কোনো ভালো জাত নেই৷ তবে ব্রি মহাপরিচালক বলেছেন, ‘‘গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে চলছে এবং আমরা আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে এমন ধানের জাত আমরা হাতে পেয়ে যাব৷’’
ছবি: DW/P. Mani Tewariসরকারের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে কৃষকদের ব্রি উদ্ভাবিত এসব জাত সম্পর্কে জানানো হয়৷
ছবি: FARJANA K. GODHULY/AFP/Getty Images
পাঁচ বছর আগে ডেনমার্কের কোপেনহাগেনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে একটি জলবায়ু চুক্তির আশায় ছিলেন বিশ্ববাসী৷ সেজন্য অনেক দৌড়ঝাঁপও করা হয়েছিল৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব হয়নি৷ এবার প্যারিসে সেই আশা পূরণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ কারণ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্বন নির্গমন কমাতে বেশ বড় অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে৷ বিশ্বের অন্যতম বড় নির্গমনকারী দেশ হওয়ায় তাদের অঙ্গীকার চুক্তি পেতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷ যদিও এখনো ভারত, জাপান, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর কাছ থেকে অঙ্গীকারের কথা শোনা যায়নি৷
জলবায়ু বিষয়ক ইইউ-র একজন কর্মকর্তা এলিনা বার্ড্রাম মনে করেন, ‘‘এটা (যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইইউ-র অঙ্গীকার) বাকি বিশ্বকে যত শিগগির সম্ভব তাদের অঙ্গীকার ঘোষণা করতে উৎসাহিত করবে৷''
লিমা সম্মেলনের আয়োজক দেশ পেরুর প্রেসিডেন্ট ওলান্তা উমালা বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়তে একটি বড় জোট গড়াটা খুব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷''
জলবায়ু চুক্তির মূল লক্ষ্য হবে বৈশ্বিক উষ্ণতা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নিয়ে আসা – যেমনটা ছিল পূর্ব-শিল্পায়ন যুগে৷
জেডএইচ/এসবি (এপি)