1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

কোলনের কেন্দ্রীয় মসজিদ

স্টেফান ডেগে / আরবি৩১ ডিসেম্বর ২০১৩

কোলনের এহরেনফেল্ড অঞ্চলে জাঁকজমকপূর্ণ এক মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বছর পাঁচেক আগে৷ উদ্বোধন করার কথা ছিল অনেক আগেই৷ কিন্তু রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার কারণে কাজটি শেষ হতে দেরি হচ্ছে৷

Zentralmoschee Köln Ehrenfeld
ছবি: DW/S. Dege

ইট, ইস্পাত, কাচ ও কাঠের তৈরি বিশাল স্থাপনাটি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ইতিমধ্যেই৷ আশা করা হচ্ছে অচিরেই এর কাজ শেষ হবে৷ কোলনের এহরেনফেল্ডে বহু মুসলিম ধর্মাবলম্বীর বাস৷ তাঁদের জন্য এই মসজিদটি শুধু উপাসনালয়ই নয়, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও বটে৷ এখানে নামাজের ঘর তো থাকছেই৷ এছাড়া থাকছে একটি গ্রন্থাগার, অফিস, বাজার ও দোকানপাট৷

নারী, পুরুষ, তরুণ, বৃদ্ধ – সব বয়সি মানুষের জন্যই কিছু না কিছু রয়েছে এখানেছবি: DW/S. Dege

নানা ধর্ম বর্ণের মিলন কেন্দ্র

এই স্থাপনাটির দায়িত্বে রয়েছে টার্কিশ-ইসলামিক ইউনিয়ন ফর রিলিজিয়াস অ্যাফায়ার্স বা ডিআইটিআইবি৷ আশা করা হচ্ছে, নানা ধর্ম বর্ণের মানুষের মিলন কেন্দ্র হবে মসজিদটি৷ জার্মানি ও অভিবাসীদের ভাবের আদান-প্রদানের জায়গা হবে৷ বলেন ডিআইটিআইবি-র বেকির আলবোগা৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘স্থাপনাটিকে খুঁটিয়ে দেখলে চোখে পড়বে৷ নারী, পুরুষ, তরুণ, বৃদ্ধ – সব বয়সি মানুষের জন্যই কিছু না কিছু রয়েছে এখানে৷ কেউ যদি নামাজ পড়তে চান কিংবা জার্মানির মুসলমানদের সম্পর্কে জানতে চান, তাঁদের জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা৷ কেউ হয়ত অপূর্ব সুন্দর নামাজের ঘরটি শুধুই দেখতে আসতে পারেন৷ আর যাঁরা কেনাকাটা করতে চান, চা পান বা গল্পগুজব করতে আগ্রহী তাঁদের জন্যও রয়েছে সুব্যবস্থা৷ অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশন নিয়ে একটি প্রদর্শনীও থাকবে এখানে৷ এক কথায় বৈচিত্র্যময় এক স্থাপনা হবে এটি৷''

দর্শকরা এখনও দেখতে আসতে পারেন ভবনটি৷ তবে নির্মাণকাজ একেবারে শেষ হয়নি বলে সেখানে ঢুকতে চাইলে হেলমেট পরে নিতে হয়৷

সবাই আমন্ত্রিত

এই প্রসঙ্গে আইডিন বলেন, ‘‘এখন কনফারেন্স হলের বাকি কাজটা শেষ হচ্ছে৷ মাঝে মাঝে আমরা এটা ব্যবহারও করি৷ রোজার সময় আমরা অতিথিদের দাওয়াত করেছি৷ সবাই একসাথে ইফতার করেছি৷ প্রতিবেশীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এখানে৷ এখন এটিকে ‘ওপেন ডে'-এর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে৷ এই হলটিতে অতিথিদের সম্বর্ধনা জানানো হবে৷''

এই মসজিদে কোরান ও ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডও চালানো হবে এর মধ্যে রয়েছে বয়োবৃদ্ধদের ও পরিবারকে সহায়তা ও পরামর্শ দান, টেলিফোনে সামাজিক পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদি৷ এক কথায় ধর্মীয় ও সামাজিক পরিষেবা পাশাপাশি চলবে৷

এই প্রসঙ্গে আলবোগা বলেন, ‘‘সবার জন্য উন্মুক্ত মসজিদটি একটা বার্তাও বহন করে: আমি জার্মানিতে বাস করি৷ জার্মান মুসলমান৷ আমি খোলা মনের৷ আশা করি এই সমাজও আমার সঙ্গে খোলাখুলি আচরণ করবে৷ এছাড়া রাজনীতিবিদ, ইহুদি, ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কাছ থেকেও আমরা উদার আচরণ আশা করি৷ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়৷ মুসলিমরা এখানে ৫০ বছর ধরে বসবাস করছে, তারা যে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে থিতু হবে তা তো স্বাভাবিক ব্যাপার৷''

সংকোচ দূর হবে

দোকানপাট ও কেনা-বেঁচার ব্যবস্থা রাখায় মানুষের মন থেকে সংকোচ দূর হবে৷ অনেকে হয়ত ভাবতে পারে, আমি মসজিদে যেতে চাই কিন্তু ভেতরে যেতে ভরসা পাই না৷ বিপনি বিতানে গেলে মানুষের জড়তা ভেঙে যাবে৷

এই প্রসঙ্গে আইসে আইডিন জানান, ‘‘দোকানের আয় থেকে কিছু খরচও উঠে আসবে৷ নির্মাণ কাজ ছাড়াও পানি, বিদ্যুৎ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এসব বাবদও তো খরচ আছে৷ মুসলিম কম্যুনিটি সরকারি অর্থ পায় না, নির্মাণ কাজ, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষেবা ইত্যাদি বাবদ ব্যয় নিজেদেরই বহন করতে হয়৷''

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ