কয়লা কেলেঙ্কারি
২২ আগস্ট ২০১২
কয়লা ব্লক বন্টনে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা চেয়েছে৷ কারণ সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ছিল কয়লা মন্ত্রক৷ ইস্তফা না দিলে সংসদ চলতে দেয়া হবে না, হুমকি বিজেপি'র৷ আজও তাই সংসদের কাজকর্ম অচল৷ দেখা দিয়েছে সংসদীয় ব্যবস্থাপনায় অচলাবস্থা৷ টু-জি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারিতেও টেলিকম মন্ত্রী এ. রাজাকে বাঁচানো যায়নি৷ শেষ পর্যন্ত তাঁকে ইস্তফা দিতেই হয়৷ তা প্রধানমন্ত্রীর সামনে বিকল্প কী?
রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন প্রশ্ন৷ কিভাবে পরিস্থিতি সামলাবে কংগ্রেস জোট সরকার৷ আদৌ সামলাতে পারবে কিনা৷ প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার দাবি কতটা যৌক্তিক?
এ বিষয়ে ডয়চে ভেলের কাছে মতামত জানালেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক উদয়ন বন্দোপাধ্যায়৷ বললেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনমোহন সিং'এর অনেক আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল৷ টু-জি স্পেকট্রাম থেকে শুরু করে উনি এমনভাবে চলছেন, মনে হয় ওনার লিডারশিপ দুর্বল৷ জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী অথচ শরিক দলের মধ্যে সমন্বয় নেই৷ কোনো নীতি সঠিকভাবে প্রণয়ন করতে পারছেন না, যেটাকে বলা হচ্ছে ‘পলিসি প্যারালাইসিস'৷ প্রধানমন্ত্রীর লিডারশিপ না থাকলে সংসদীয় ব্যবস্থা চলতে পারেনা৷ তাই তাঁর পদত্যাগ করা যৌক্তিক৷ বিজেপি বা বিরোধী পক্ষ চাইছে বলে নয়, মনমোহন সিং নেতৃত্ব দিতে পারছেন না বলে৷''
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি'র ভূমিকা প্রসঙ্গে অধ্যাপক বন্দোপাধ্যায়ের মত: দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি'র উচিত দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা উন্মোচিত করতে বিতর্ক সেদিকে কেন্দ্রীভূত করা৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের করণীয় কী? প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং নতুন নির্বাচন৷ তবে কংগ্রেস সেটা করবে বলে মনে হয়না, বলেন অধ্যাপক বন্দোপাধ্যায়৷
প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা কী আসন্ন? সংসদীয় ব্যবস্থায় যতক্ষণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে ততক্ষণ সরকার পড়ে যাবার প্রশ্ন নেই৷ কিন্তু একটা ব্যর্থ সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টিকে থাকলে, নির্বাচনে জনতাকে তার উত্তর দিতেই হবে৷
প্রতিবেদন: অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুন দিল্লি
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ