ভূমধ্যসাগরের তীরে পাওয়া সিরিয়ার তিন বছরের শিশু আয়লান কুর্দির লাশের ছবি কাঁপিয়ে দিয়েছিল সারাবিশ্ব৷
ছবি: Imago Images/Spot on Mallorca
বিজ্ঞাপন
জার্মানির একটি উদ্ধারকারী জাহাজের নামকরণ করা হয়েছে আয়লানের নামে৷ তার বাবা এখন যোগ দিতে চান সেই জাহাজে৷
ইটালির দৈনিক লা রিপাবলিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের আগ্রহের কথা জানান ৪৫ বছর বয়সি আবদুল্লাহ কুর্দি৷ ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধারকারী জার্মান স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সি-আই-এর কাজে সহযোগিতা করতে চান তিনি৷
সাক্ষাৎকারে আব্দুল্লাহ কুর্দি জানান, তিনি আবার বিয়ে করেছেন এবং বাবা হতে চলেছেন৷ ‘‘আমার সন্তানের জন্মের পরপরই আমি সেই জাহাজে গিয়ে অভিবাসীদের উদ্ধারকাজে যোগ দেবো,'' বলেন তিনি৷ ‘‘আমি তাদের সেই সাহায্যটুকু করতে চাই, যা আমি পাইনি৷''
২০১৫ সালে তুরস্কের বোদ্রুম থেকে সাগরপথে গ্রিসের দ্বীপ কসে যাওয়ার সময় দুই সন্তানসহ কুর্দির স্ত্রী মারা যান৷
সি-আই আব্দুল্লাহ কুর্দির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে৷ সংস্থাটির মুখপাত্র গর্ডেন ইজলার বলেন, ‘‘এই পরিবারটির সঙ্গে আমাদের আবেগের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে৷'' তিনি যোগ করেন, ‘‘যদি আবদুল্লাহ আমাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক সব যোগ্যতা পূরণ করে তাহলে আমরা অবশ্যই তাঁকে আমাদের সঙ্গী করে নেবো৷ তিনি তখন আমাদের ক্রুদের একজন হবেন এবং কাজ করবেন৷''
আয়লান কুর্দি জাহাজটি এখন স্পেনের বুরিনা বন্দরে অলস বসে আছে৷ কারণ, উদ্ধারকাজ চালাবার মতো অর্থ তাদের নেই৷ তবে ১২ অক্টোবর থেকে আবার উদ্ধারকাজ শুরু করতে চায় তারা৷
আবদুল্লাহ কুর্দি এখন ইরাকের এরবিলে থাকেন৷ সেখানে একটি শরণার্থী ক্যাম্পে শিশুদের সাহায্য করেন তিনি৷
জেডএ/এসিবি (রয়টার্স, এপি, এএফপি, ডিপিএ)
আয়লান এবং আয়লানকে নিয়ে ছবি...
আয়লান কুর্দি৷ সিরিয়ার সেই শিশু, যার মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা নিথর দেহ ‘মানবাধিকার’, ‘মানবতা’-কে এখনো কটাক্ষ করে৷ এখনো তাকে স্মারণ করে সবাই৷ তার ছবি আঁকা হয়৷ অধিকার আদায়ের লড়াইয়েও ফিরে ফিরে আসে আয়লান কুর্দি৷
ছবি: Reuters/Y. Herman
মা ও সন্তান
রেহান কুর্দির কোলে তাঁর ছোট ছেলে আয়লান৷ কোবানির একটি বাড়িতে এখনো আছে এই ছবি, তবে ছবির দু’জন মানুষ আর নেই৷ সিরিয়া থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথেই ফুরিয়েছে তাদের জীবন চলার পথ৷ এ খবর সারা বিশ্বকে জানিয়েছিল অন্য একটি ছবি৷
ছবি: Getty Images/Courtesy of Kurdi family
এ ছবি এখনো কাঁদায়
একটি ছবি হঠাৎ বদলে দিলো ইউরোপে অভিবাসী হতে আগ্রহীদের ভাগ্য৷ আয়লান কুর্দির এই ছবি৷ তুরস্কের উপকুলে এভাবেই পড়ে ছিল ৩ বছরের শিশুটির নিথর দেহ৷ মা-বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে আয়লানও কোবানির বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল নিরাপদ জীবনের খোঁজে৷ এভাবে চিরবিদায় নিতে হয় তাকে!
ছবি: picture-alliance/AP Photo/DHA
আয়লান জাগিয়ে গেল
আয়লানের ওই ছবি নাড়িয়ে দেয় বিশ্ববিবেক৷ ইউরোপে আসার পথে যেখানে হাজারো মানুষ শত বাধার মুখে এক সময় হার মানতো, প্রাণ দিতো, সেখানে ধীরে ধীরে অনেকটাই খুলে গেল ইউরোপের দ্বার৷ অভিবাসন প্রত্যাশীরা অবাধে আসতে শুরু করল মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা থেকে৷
ছবি: Reuters/H. P. Bader
যেভাবে বিদায় জানালো জন্মভূমি
দুই সন্তান আর স্ত্রী-কে হারিয়ে নিরাপদ জীবনের প্রতি আগ্রহহারিয়ে ফেলেন আয়লানের বাবা আব্দুল্লাহ কুর্দি৷ তাই গ্রিস হয়ে ইউরোপের উন্নত কোনো দেশে নতুন করে জীবন শুরু করার ইচ্ছে জলাঞ্জলি দিয়ে ফিরে যান সিরিয়ায়৷ তাঁর কোবানির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃতদেহ৷ জানাযা শেষে ওই শহরেই সমাধিস্থ করা হয় তাদের৷
ছবি: Getty Images/AFP/Stringer
কান্না আর আহাজারি
আব্দুল্লাহ কুর্দি তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলে কান্নার রোল উঠেছিল কোবানিতে৷ আয়লানদের জন্য কোবানি এখনো কাঁদে৷
ছবি: Reuters/R. Said
আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক...
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক৷ ইউরোপে যেখানেই অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ, সেখানেই থাকে আয়লানের ছবি৷ অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের এই ছবিটি প্যারিসের৷
ছবি: Reuters/P. Wojazer
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরেও আয়লান
ছবির এই নারী আয়লানের আত্মীয়া, নাম ফাতিমা কুর্দি৷ সোমবার ব্রাসেলসে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে ছিলেন তিনি৷ ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসন আইনের সমন্বয়ের দাবিতে আয়োজিত সেই সমাবেশেও ছিল আয়লানের ছবি৷ তবে সেই ছবি নয়, সেই ছবির আদলে হাতে আঁকা একটি ছবি দেখা যায় দেয়ালে৷ সেই ছবির পাশেই দাঁড়িয়ে ফাতিমা কুর্দি৷