লাইভ টিভি

জঙ্গিবাদবিরোধী ফতোয়া: ঢাকায় আসছেন মদিনার ইমাম!

20.06.2016

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে মদিনা মসজিদের ইমামকে নভেম্বর মাসে ঢাকায় আনার চেষ্টা হচ্ছে৷ জানিয়েছেন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লাখো আলেমের ফতোয়া প্রকাশকারী শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ৷

শনিবার ঢাকায় এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫০ ইসলামি চিন্তাবিদ – আলেম এবং মুফতির ফতোয়া প্রকাশ করা হয়৷ এই ফতোয়ায় ৯ হাজার ২০ জন নারী আলেমও স্বাক্ষর করেন৷ শুধু তাই নয়, মসদিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক থেকে শুরু করে হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও এই ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছেন৷ ১০টি প্রশ্নের উত্তরে যে জবাব পাওয়া গেছে, তাই হলো এঁদের ফতোয়া৷

ফতোয়ার উদ্যোক্তা বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার প্রধান এবং শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, ‘‘ফতোয়ায় জঙ্গিবাদ, আত্মঘাতী হামলা এবং ইসলামের নামে মানুষ হত্যাকে হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে৷ ইসলামে জঙ্গি এবং উগ্রবাদের কোনো ঠাঁই নাই৷ যারা এটা করেন, তারা ইসলামের কেউ নন৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘যারা মনে করছেন জঙ্গিবাদের মাধ্যমে জান্নাতে যাবেন, তারা ভুল করছেন৷ জান্নাতে তাদের ঠাঁই হবে না৷ বরং এই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতে গিয়ে যদি কেউ মারা যান, তাহলে তিনি শহিদের মর্যাদা পাবেন৷''

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা এখন সারাদেশে এই ফতোয়ার মূল কথা ছড়িয়ে দিতে চায়৷ বাংলাদেশ সরকার ছাড়াও ফতোয়ার ইংরেজি অনুবাদ জাতিসংঘ এবং ওআইসিতে পাঠানো হবে৷ এছাড়া সারাদেশে ইমামদের মাধ্যমে মসজিদে এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ফতোয়ার কথা জানানো হবে৷ এ জন্য ফতোয়ার সংক্ষিপ্ত বই এবং লিফলেট ছাপানোর পরিকল্পনাও হয়েছে৷ একই সঙ্গে বছরব্যপী ওয়াজ ও সমাবেশের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলোমদের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরা হবে৷

মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদ জানান, ‘‘আগামী নভেম্বরে ঢাকায় একটি বড় ধরনের ইসলামি সমাবেশ করার পরিকল্পনা আছে আমাদের৷ ঐ সমাবেশে আমরা মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র মসজিদ মদিনা মসজিদের ইমামকে আনার পরিকল্পনা করছি৷ আমরা এরইমধ্যে তাঁর সঙ্গে কথাও বলেছি৷ তিনি আসতে সম্মত আছেন৷ তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে দাওয়াত দিতে হবে, যেহেতু তিনি সেখানে সরকারি পদে আছেন৷ আমরা আশা করছি, সরকারের পক্ষ থেকে দাওয়াত পাঠাতে পারবো৷''

তাঁর কথায়, ‘‘মদিনা মসজিদের ইমাম ঢাকায় আসলে তিনি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান তুলে ধরবেন৷ বলা বাহুল্য, এতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হবে৷''

জঙ্গি তৎপরতায় মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
অভিযোগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে

২০১৩ সালে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বা এনএসইউ-এর পাঁচ ছাত্র৷ তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়৷ এরা সকলেই ছিল আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্য৷

জঙ্গি তৎপরতায় মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের মগজ ধোলাই

ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের ভুলিয়েভালিয়ে দলে নিচ্ছে জঙ্গিরা, এমন ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে৷ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিতরা তাই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের জন্য আগামীতে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করার কথাও ভাবছেন৷

জঙ্গি তৎপরতায় মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
আছে বুয়েটের শিক্ষার্থীরাও

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট-এর ছাত্র মোহাম্মদ নুরউদ্দনি এবং আবু বারাকাত মোহাম্মদ রফকিুল হাসান হাসানকে বুয়েট থেকে বহিষ্কার করে পুলিশে দেয়া হয় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে৷

জঙ্গি তৎপরতায় মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
হিযবুত তাহরীরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের প্রধান মহিউদ্দিন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববদ্যিালয়ের আইবিএ-র শিক্ষক ছিলেন৷

জঙ্গি তৎপরতায় মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও রয়েছে

কওমি মাদ্রাসাগুলোকে জঙ্গিবাদের কারখানা বলা হতে একসময়৷ সেই বাস্তবতা মুছে যায়নি৷ ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক দু’জন নিজেদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী দাবি করেছেন৷

জঙ্গি তৎপরতায় মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
সতর্ক পুলিশ

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবং জঙ্গি বিষয়ক বিশেষ সেলের সদস্য সানোয়ার হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের একাংশ এখন জঙ্গি তৎপরতার দিকে ঝুঁকছে৷ আর যারা অপারেশনে অংশ নিচ্ছে, তারাও বয়সে তরুণ এবং ছাত্র৷''

1
| 6

জঙ্গিবাদবিরোধী এই প্রচারণার অর্থ কোথা থেকে আসবে জানতে চাইলে শোলাকিয়ার এই ইমাম বলেন, ‘‘আমরা সম্পদশালীদের কাছে অর্থ সহায়তার আহ্বান জানিয়েছি৷ আমরা মনে করি, এই কাজে অংশ নেয়া সওয়াবের৷ এছাড়া আমরা সরকারের কাছেও অর্থ সহায়তা চাইবো৷ আশা করি, সরকারের সহায়তা পাবো আমরা৷''

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪৬টি হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা৷ এতে নিহত হয়েছেন মোট ৪৮ জন৷ এঁদের মধ্যে দু'জন পুলিশ সদস্য এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীও আছেন৷ এছাড়া গত তিন মাসে হত্যা করা হয়েছে ১১ জনকে৷ এইসব হামলার অনেকগুলোরই দায় স্বীকার করেছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস এবং আল-কায়েদার ভারতীয় উপ-মহাদেশের কথিত বাংলাদেশ শাখা আনসার আল-ইসলাম৷ সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বাংলাদেশে আইএস-এর উপস্থিতি এখনও অস্বীকার করা হচ্ছে৷

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদের কথায়, ‘‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ইসলামের দৃষ্টি মহাপাপ৷’’ এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই৷ তাই লিখুন নীচের ঘরে৷

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার শিকার যারা
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্লগার খুন

একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খুন হন ব্লগার এবং লেখক অভিজিৎ রায়৷ কমপক্ষে দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে৷ এসময় তাঁর স্ত্রী বন্যা আহমেদও গুরুতর আহত হন৷ বাংলাদেশি মার্কিন এই দুই নাগরিককে হত্যার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি গোষ্ঠী ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’৷ পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে৷

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার শিকার যারা
বাড়ির সামনে খুন

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে হত্যা করা হয় ঢাকায়, গত ৩০ মার্চ৷ তিন দুর্বৃত্ত মাংস কাটার চাপাতি দিতে তাঁকে কোপায়৷ সেসেময় কয়েকজন হিজরে সন্দেহভাজন দুই খুনিকে ধরে ফেলে, তৃতীয়জন পালিয়ে যায়৷ আটকরা জানায়, তারা মাদ্রাসার ছাত্র ছিল এবং বাবুকে হত্যার নির্দেশ পেয়েছিল৷ কে বা কারা এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছে জানা যায়নি৷ বাবু ফেসবুকে ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে লিখতেন৷

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার শিকার যারা
সিলেটে আক্রান্ত মুক্তমনা ব্লগার

শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরে ব্লগার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে৷ গত ১২ মে সিলেটে নিজের বাসার কাছে খুন হন নাস্তিক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস৷ ভারত উপমহাদেশের আল-কায়েদা, যাদের সঙ্গে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’-এর সম্পর্ক আছে ধারণা করা হয়, এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে৷ দাস ডয়চে ভেলের দ্য বব্স জয়ী মুক্তমনা ব্লগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন৷

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার শিকার যারা
বাড়ির মধ্যে জবাই

ব্লগার নিলয় চট্টোপাধ্যায়কে, যিনি নিলয় নীল নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন, হত্যা করা হয় ঢাকায় তাঁর বাড়ির মধ্যে৷ একদল যুবক বাড়ি ভাড়ার আগ্রহ প্রকাশ করে ৮ আগস্ট তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে এবং তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে৷ নিজের উপর হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলেন নিলয়৷ কিন্তু পুলিশ তাঁকে সহায়তা করেনি৷ ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে, তবে তার সত্যতা যাচাই করা যায়নি৷

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার শিকার যারা
জগিংয়ের সময় গুলিতে খুন বিদেশি

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে জগিং করার সময় ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় খুন হন ইটালীয় এনজিও কর্মী সিজার তাবেলা৷ তাঁকে পেছন থেকে পরপর তিনবার গুলি করে দুর্বৃত্তরা৷ জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে জিহাদিদের অনলাইন কর্মকাণ্ডের দিকে নজর রাখা একটি সংস্থা৷ তবে বাংলাদেশে সরকার এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে ‘এক বড় ভাইয়ের’ তাঁকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা৷

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার শিকার যারা
রংপুরে নিহত এক জাপানি

গত ৩ অক্টোবর রংপুরে খুন হন জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও৷ মুখোশধারী খুনিরা তাঁকে গুলি করার পর মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়৷ ইসলামিক স্টেট এই হত্যাকাণ্ডেরও দায় স্বীকার করেছে, তবে সরকার তা অস্বীকার করেছে৷ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন না যে তাঁর দেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীটির উপস্থিতি রয়েছে৷

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার শিকার যারা
হোসনি দালানে বিস্ফোরণ, নিহত ১

গত ২৪ অক্টোবর ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হোসনি দালানে শিয়া মুসলমানদের আশুরার প্রস্তুতির সময় বিস্ফোরণে এক কিশোর নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হন৷ বাংলাদেশে এর আগে কখনো শিয়াদের উপর এরকম হামলায় হয়নি৷ এই হামলারও দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট, তবে সরকার সে দাবি নাকোচ করে দিয়ে হামলাকারীরা সম্ভবত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি গোষ্ঠী জেএমবি-র সদস্য৷ সন্দেহভাজনদের একজন ইতোমধ্যে ক্রসফায়ারে মারা গেছে৷

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার শিকার যারা
ঢাকায় প্রকাশক খুন

গত ৩১ অক্টোবর ঢাকায় দু’টি স্থানে কাছাকাছি সময়ে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়৷ এতে খুন হন এক ‘সেক্যুলার’ প্রকাশক এবং গুরুতর আহত হন আরেক প্রকাশক ও দুই ব্লগার৷ নিহত প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনের সঙ্গে ঢাকায় খুন হওয়া ব্লগার অভিজিৎ রায়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল৷ জঙ্গি গোষ্ঠী ‘আনসার-আল-ইসলাম’ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে৷

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার শিকার যারা
প্রার্থনারত শিয়াদের গুলি, নিহত ১

গত ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশের বগুড়ায় অবস্থিত একটি শিয়া মসজিদের ভেতরে ঢুকে প্রার্থনারতদের উপর গুলি চালায় কমপক্ষে পাঁচ দুর্বৃত্ত৷ এতে মসজিদের মুয়াজ্জিন নিহত হন এবং অপর তিন ব্যক্তি আহত হন৷ তথকথিত ইসলামিক স্টেট-এর সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা দাবি করা স্থানীয় একটি গোষ্ঠী হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে৷

1
| 9