জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বক্তৃতা করবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান হামলা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ সভার বৈঠক। সোমবারই বিশ্ব নেতারা নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসের বক্তৃতা দিয়ে শুরু হবে জাতিসংঘের অধিবেশন। এছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, জার্মান চ্যান্সেলর ওলফ শলৎস বক্তৃতা করবেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সেখানে ভাষণ দেবেন। সোমবারই তিনি নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন।
বুধবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা জেলেনস্কির। দুই দেশের কূটনৈতিক মহলই এ কথা জানিয়েছে। সাধারণ সভার বৈঠকের মধ্যেই এই সাইড লাইন বৈঠক হওয়ার কথা। এই প্রথম ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হবে জেলেনস্কির। বস্তুত, ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জন্য শান্তিপ্রস্তাবের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি নিরপেক্ষ দেশগুলির কাছে। একদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলির বিরুদ্ধে তার বক্তব্য ছিল, ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
ইউক্রেনে আতঙ্কের নগরীতে সুরের মূর্ছনা
যুদ্ধ চলছে একদিকে, অন্যদিকে রাতের আঁধারে মোমবাতি জ্বালিয়েও ধ্রুপদী সংগীতের সুরে বাঁচার আনন্দ নিচ্ছেন অসংখ্য মানুষ৷ লভিভে প্রায় প্রতিদিনের এমন এক আয়োজনের কথা জানুন ছবিঘরে...
ছবি: Alina Smutko/REUTERS
আকাশে যুদ্ধবিমান, নীচে কনসার্ট
ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভের আকাশে যখন যুদ্ধবিমান আতঙ্ক ছড়ায়, তখনো অর্গান হলে থাকে সুরপাগল মানুষদের ভিড়৷ মগ্ন হয়ে লুহানস্ক ফিলহার্মোনিক অর্কেস্ট্রার পারফর্ম্যান্স উপভোগ করেন তারা৷ অনেক সময় মোমের আলোয় চলে কনসার্ট৷ শ্রোতারা মোমের আলোয় এতটাই অভ্যস্ত যে মাঝে মাঝে যুদ্ধবিমান ফিরে গেলে, কিংবা বিদ্যুৎ ফিরে এলেও আলো জ্বালাতে চান না তারা৷
ছবি: Alina Smutko/REUTERS
কম আয়, অনেক বেশি আনন্দ
যুদ্ধপরিস্থিতিতে কনসার্ট আয়োজনে প্রতিকূলতা অনেক৷ মৃত্যুঝুঁকি তো থাকেই, কনসার্ট আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত টাকাও জোটে না৷ অথচ ঝুঁকি নিয়ে সংগীত উপভোগ করতে আসা অনেকেই চান দীর্ঘক্ষণ চলুক কনসার্ট, আবার কবে আসা হবে, আদৌ সে সুযোগ আর হবে কিনা তার তো ঠিক নেই!
ছবি: Alina Smutko/REUTERS
আনন্দটাই বড় বিষয়
লুহানস্ক ফিলহার্মোনিক অর্কেস্ট্রার কো-ডিরেক্টর টারাস ডেমকো মনে করেন যুদ্ধের সময় মানুষকে সামান্য আনন্দে রাখাও অনেক বড় ব্যাপার৷ রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘‘রাশিয়া একটানা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে৷ এ অবস্থায় মানুষকে তো আমাদের সহায়তা করতে হবে৷ প্রতিদিন কয়েক মিনিটের জন্যও যদি তাদের মনে একটু শান্তি দেয়া যায় তা-ও তো অনেক!’’
ছবি: Alina Smutko/REUTERS
যুদ্ধের পর যুদ্ধ
১৯১৫ সাল পর্যন্ত লুহানস্কে পারফর্ম করেছে লুহানস্ক ফিলহার্মোনিক৷ রুশ-সমর্থিত ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীরা’ লুহানস্ক দখল করে নেয়ার পর ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট শহর সিভিয়েদনেৎস্কে চলে যায় তারা৷ গত বছর রুশ হামলায় সিভিয়েরদনেৎস্কও বিদ্ধস্ত হয়৷ তখন বাধ্য হয়েই লভিভে চলে আসে লুহান্স্ক ফিলহার্মোনিক৷
ছবি: Alina Smutko/REUTERS
‘সংগীত আত্মবিশ্বাস জোগায়’
লভিভে কনসার্ট করতে পেরে লুহানস্ক ফিলহার্মোনিক অর্কেস্ট্রার পরিচালক ইগর শাপোভালভ খুব খুশি৷তিনি মনে করেন কনসার্ট আয়োজন করে যুদ্ধের কারণে বিপর্যস্ত অনেক মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছেন, কারণ, ‘‘প্রাচীন কাল থেকে সংগীত মানুষকে নানাভাবে শক্তি জুগিয়ে আসছে৷ সংগীত অনেক মানুষকে আত্মবিশ্বাস জোগায়, অনেকের কাছে আবার সংগীত মানসিক দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার উপায়৷’’
ছবি: Alina Smutko/REUTERS
হামলা হলে কনসার্ট বন্ধ
লভিভে রাশিয়ার বড় ধরনের হামলা খুব কম হয়েছে৷ তাই এখন কনসার্ট হচ্ছে প্রায় নিয়মিত৷ জুলাই মাসে রাশিয়ার এক হামলায় ১০ জন মারা যায়৷ ওই সময় বাধ্য হয়ে কনসার্ট বন্ধ রেখেছিল লুহানস্ক ফিলহার্মোনিক৷
ছবি: Alina Smutko/REUTERS
6 ছবি1 | 6
এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ার মিসাইল খারকিভের বাণিজ্য অঞ্চলে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। টেলিগ্রামে মিসাইল আক্রমণের কথা জানিয়েছেন খারকিভের মেয়র। তবে হতাহতের কোনো খবর তিনি দেননি। রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ। যুদ্ধের শুরু থেকেই এই শহর বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বসবাস করেন সেখানে।
এদিকে মঙ্গলবার ইউক্রেনও পাল্টা আক্রমণের কথা জানিয়েছে। বাখমুতে রাশিয়ার ফ্রন্টলাইন ভেঙে তারা ঢুকে গেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের ওই ফ্রন্টের কম্যান্ডার। বস্তুত, গত সপ্তাহান্তেও ইউক্রেন রাশিয়ার হাত থেকে দুইটি গ্রাম দখল করেছিল বলে ইউক্রেনের তরফে জানানো হয়েছিল। তারপর থেকে রাশিয়া একের পর এক মিসাইল হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ।