জার্মানি থেকে আরো সেনা প্রত্যাহার হবে, জানালেন ট্রাম্প
৩ মে ২০২৬
ফ্লোরিডায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমরা সংখ্যাটা অনেক কমিয়ে আনবো এবং তা পাঁচ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি৷’’
ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সমালোচনা করে সম্প্রতি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের দেয়া এক বক্তব্যের পরই ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে দেশটি থেকে সেনা কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান৷ বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ৷
জার্মানির প্রতিক্রিয়া
এদিকে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস শনিবার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আংশিক সেনা প্রত্যাহার প্রত্যাশিতই ছিল৷ ইউরোপকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷
তিনি আরও বলেন, নিজের সশস্ত্র বাহিনী সম্প্রসারণ, সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং আরও অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে "জার্মানি সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে৷''
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সংখ্যা কমানোর ব্যাপারে বার্লিন ‘প্রস্তুত' রয়েছে৷
তবে জার্মানিতে অবস্থিত বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এর বাইরে থাকবে বলে জোর দিয়ে উল্লেখ করেন তিনি৷
জার্মানিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির গুরুত্ব
পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহার করলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধক্ষমতার ওপর এর তেমন প্রভাব পড়বে না বলে বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা৷ তবে মিত্র দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের দিক থেকে তা ভিন্ন বার্তা দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন৷
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জার্মানিতে সেনা সংখ্যা কমানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন৷ এই সিদ্ধান্তে কোন কোন ঘাঁটি বা কার্যক্রমের ওপর প্রভাব পড়বে, তা এখনও জানা যায়নি৷
কয়েক দশক থেকে ইউরোপে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে৷ ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধেও মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে জার্মানি৷
জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি স্থাপনা রয়েছে৷ এর মধ্যে স্টুটগার্টে ইউএস-ইউরোপীয় কমান্ড, লান্ডস্টুহলে চিকিৎসা কেন্দ্র এবং রামস্টাইনে বিমানঘাঁটি উল্লেখযোগ্য। দেশটিতে মার্কিন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন রয়েছে৷
এফএস/টিএম