চীনকে ঠেকাতে তহবিল গঠনের ঘোষণা জি৭-এ। ৬০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল তৈরি করা হবে।
জার্মানিতে জি৭ শীর্ষবৈঠক। ছবি: Jonathan Ernst/REUTERS
বিজ্ঞাপন
এই অর্থ দিয়ে কম আয়ের দেশগুলিতে এমন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা যে কোনো আবহাওয়া সহ্য করে টিকে থাকতে পারবে।
রোববার জার্মানিতে গ্রুপ অফ সেভেন (জি৭) দেশের শীর্ষ নেতারা আলোচনায় বসেন। ৬০ হাজার কোটি ডলারের পরিকাঠামো তহবিলই ছিল সেখানে প্রথম ঘোষণা। চীন ইতিমধ্যে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) নিয়েছে। তারই মোকাবিলায় জি৭ এই প্রকল্প হাতে নিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানিয়েছেন, ''এই বিনিয়োগের ফলে সকলে লাভবান হবেন। অ্যামেরিকার মানুষও লাভবান হবেন। সার্বিকভাবে আমাদের অর্থনীতি লাভবান হবে।''
বেজিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা এই বিআরআই চাপিয়ে দিয়ে কম আয়ের দেশগুলিকে ঋণজালে আবদ্ধ করছে। এর ফলে চীনের লাভ হচ্ছে। কারণ, তারা এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে বাণিজ্য বিস্তার করতে পারছে।
জি৭ বৈঠকে যোগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। ছবি: Lukas Barth/AP/picture alliance
নতুন জি৭ তহবিল থেকে অ্যাঙ্গোলায় ২০০ কোটি ডলার দিয়ে সোলার ফার্ম গড়ে তোলা হবে, ৩২ কোটি ডলার দিয়ে আইভরি কোস্টে হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় চার কোটি ডলার দিয়ে আঞ্চলিক স্তরে বিকল্প শক্তি বাণিজ্যকে উৎসাহ দেয়া হবে।
বাইডেন-শলৎস বৈঠক
আলপাইন অঞ্চলের এলমাউ দুর্গে বৈঠকের প্রথম দিনেই জার্মান চ্যান্সেলর শলৎস ভাষণ দেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পরিকাঠামোগত পরিকল্পনা খুব জরুরি। জার্মান চ্যান্সেলর জানিয়েছেন, রাশিয়া এখন শক্তিকে (তেল-গ্যাস-কয়লা)একটা অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে। তাদের মোকাবিলায় এই পরিকল্পনা নেয়া দরকার ছিল।
রূপকথার দুর্গে জি সেভেন সম্মেলন
২৬ জুন দ্বিতীয়বারের মতো জি সেভেন শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন হচ্ছে দক্ষিণ জার্মানির আলপাইন অঞ্চলে এলমাউ দুর্গে৷ পাঁচ তারকা এই দু্র্গের বিশেষত্ব কী? চলুন জানা যাক৷
ছবি: Marco Müller/DW
দুর্দান্ত এক অবস্থান
এমন এক স্থানে এই দুর্গের অবস্থান, এখানে বারবার ফিরে আসা যায়৷ শ্লোস এলমাউ বা এলমাউ দুর্গ জার্মানি-অস্ট্রিয়া সীমান্তে মিউনিখ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত৷ আল্পস অঞ্চলের সবচেয়ে সুন্দর এলাকাগুলোর একটি এটি৷ প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থানের কারণে যারা নীরবতা খোঁজেন, তাদের জন্য এই দুর্গ একটি চমৎকার স্থান৷
ছবি: Marco Müller/DW
রোদ না থাকলেও চমৎকার
যখন সূর্যালোক থাকে না, তখনও এই দুর্গের চারপাশ উজ্জ্বল রঙে আচ্ছাদিত থাকে৷ বিস্তৃত এই এলাকায় সর্বত্রই সানবেডে ছাতার নীচে শুয়ে প্রকৃতি উপ৷ভোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে৷ মূল ভবনটির নাম দেয়া হয়েছে হাইডঅ্যাওয়ে, অর্থাৎ নিরালা৷ কিন্তু নীরবতা খুঁজে নেয়ার মতো অনেক জায়গাই পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে৷
ছবি: Marco Müller/DW
ভিড়ের ভয় নেই
দ্য হাইডঅ্যাওয়ে নামটা বেশ যুৎসই হয়েছে৷ হোটেলটির মাত্র ৩৫ শতাংশ জায়গা ভাড়া দেয়া হয়৷ এত বড় হোটেলে এত কম জায়গা ভাড়া দেয়ার ঘটনা বেশ বিরল৷ হোটেলের বেশিরভাগ জায়গাই পাবলিক প্লেস৷ অর্থাৎ থাকার জায়গা শতভাগ বুকিং থাকলেও কখনই অতিরিক্ত ভিড় হওয়ার আশঙ্কা নেই৷ পাবলিক স্পেসের মধ্যে রয়েছে লাউঞ্জ, লাইব্রেরি, বইয়ের দোকান, পোশাকের দোকান এবং আরো নানা কিছু৷
ছবি: Marco Müller/DW
সংগীতের বিনিময়ে হোটেলবাস
শ্লোস এলমাউ এর একটি কনসার্ট হলও রয়েছে, যেখানে সঙ্গীতশিল্পীরা বছরে দুইশটিরও বেশি কনসার্ট আয়োজন করেন৷ ফলে সংখ্যার দিক দিয়ে জার্মানির সবচেয়ে বড় কনসার্ট আয়োজকদের মধ্যে একটি এই হোটেল৷ মজার ব্যাপার হলো, যেসব সংগীতশিল্পী এখানে পারফর্ম করেন, তাদের কোনো সম্মানি দেয়া হয় না৷ বরং সংগীত পরিবেশনের বিনিময়ে তারা বিনামূল্যে হোটেলটিতে থাকতে পারেন৷ অতিথিরাও বিনামূল্যেই এসব কনসার্ট উপভোগ করেত পারেন৷
ছবি: Marco Müller/DW
কাঠের বেঞ্চে ইতিহাস
এর আগে ২০১৫ সালে এই দুর্গ হোটেলে জি সেভেন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়৷ তখন এই ছবিটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে পড়ে৷ তৎকালীন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল কিছু একটা বোঝাচ্ছেন এবং একটি কাঠের বেঞ্চে বসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা খুব মনোযোগ দিয়ে তা শুনছেন৷ এরপর থেকে হোটেলের সামনের এই বেঞ্চটি ফটোশ্যুটের এক জনপ্রিয় স্থান হয়ে উঠেছে৷
ছবি: Reuters/M. Kappeler
সবখানেই হাতি
শ্লোস এলমাউয়ে সব জায়গাতেই হাতির উপস্থিতি৷ কাপড় থেকে শুরু করে সবকিছুতেই হাতি আর হাতি৷ এর পেছনে রয়েছে মজার এক গল্প৷ ভারতে থাকার সময় হোটেলের মালিক ডিটমার ম্যুলার-এলমাউ একটি দোকানের কোনে হাতির ছবি আঁকা একটি কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন৷ ভারতীয় সংস্কৃতিতে হাতি সুবিচার এবং স্মৃতিশক্তির প্রতীক, এটা তিনি জানতেন৷ পরে হোটেলের প্রতীক হিসাবেও তিনি হাতিকেই গ্রহণ করেন৷
ছবি: Marco Müller/DW
এত ছোট টেবিল কেন?
এলমাউ দুর্গ হোটেলে প্রত্যেকের পছন্দ অনুযায়ী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ মোট নয়টি রেস্টুরেন্ট রয়েছে হোটেলে৷ এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো মিকেলিন স্টারড লুচে দি’ওরো, যার প্রধান শেফ ক্রিস্টোফ রাইনার৷ ১২ পদের খাবার নিয়ে এই আয়োজন করা হয়৷ প্রতিটি টেবিলের পাশে ছোট একটি টেবিল রয়েছে৷ এসব টেবিলে কে বসে? আপনার ব্যাগ৷
ছবি: Marco Müller/DW
স্পা এর সুযোগ অফুরন্ত
এই গম্বুজাকৃতির কক্ষ দেখে স্পার্টান মনে হলেও এই ওরিয়েন্টাল হাম্মাম আসলে বেশ আধুনিক৷ ৫০০ বর্গমিটার ক্ষেত্রফলের স্পায়ের মূল কক্ষ এটি৷ এছাড়া চারটি চিকিৎসাকক্ষ, তিনটি গম্বুজাকৃতি কক্ষ, দুটো বাষ্পীয় স্নানাগার, একটি ওরিয়েন্টাল টি লাউঞ্জ এবং একটি মাসাজ চিকিৎসাকেন্দ্রও রয়েছে৷ জি সেভেন সম্মেলনে বৈশ্বিক রাজনীতির চাপের মধ্যে এখানে একটু নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পেতেই পারেন বিশ্বনেতারা৷
ছবি: Marco Müller/DW
হোটেলের মধ্যে হোটেল
২০১৫ সালে জি সেভেন সম্মেলনের জন্য হোটেলের মধ্যে দ্য রিট্রিট নামে আরেকটি হোটেল চালু করে শ্লোস এলমাউ৷ দ্য হাইডঅ্যাওয়ে থেকে ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত এটি৷ এতে রয়েছে ৪৭টি সুইট৷ বিশ্ব নেতারা এখানে অন্য অতিথিদের চেয়ে আলাদা থেকে নিজেদের মতো সময় কাটাতে পারেন৷ জি সেভেনে কিছু সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের সহযোগীরা দ্য রিট্রিটে কক্ষ বরাদ্দ পান৷ বাকিদের অবশ্য দ্য হাইডঅ্যাওয়েতেই থাকতে হয়৷
ছবি: Marco Müller/DW
এমন দৃশ্য থাকতে টিভির দরকার কী!
প্রতিটি বেডরুমের তিন পাশেই মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত কাঁচের দরজা৷ ফলে যেকোনো রুম থেকেই ভেটারশ্টাইন পর্বত এবং উপত্যকার দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য উপভোগ করা যায়৷ এমন কক্ষে বাস করলে কি টিভির প্রয়োজন হয়? অবশ্য তারপরও সব কক্ষেই একটি করে টিভি রয়েছে৷ সম্মেলনের জন্য বরাদ্দ প্রতিটি কক্ষে একটি লিভিং রুম, একটি বাড়তি ছোট রুম এবং হলওয়ে রয়েছে৷
ছবি: Marco Müller/DW
10 ছবি1 | 10
শলৎস ও বাইডেন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছেন। সেখানে প্রতিরক্ষাবাজেট বাড়াবার জন্য বাইডেন শলৎসের প্রশংসা করেছেন। বাইডেন বলেছেন, জার্মানি হলো অ্যামেরিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও শরিক দেশ। বাইডেন জানিয়েছেন, জি৭ ও ন্যাটো দেশগুলি যেন এক হয়ে রাশিয়ার মোকাবিলা করে।
জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের আগে যুক্তরাজ্য ঘোষণা করে, অ্যামেরিকা, জাপান, ক্যানাডা ও যুক্তরাজ্য রাশিয়া থেকে সোনা আমদানি নিষিদ্ধ করছে। এর ফলে রাশিয়ার উপর আরো চাপ তৈরি করা যাবে বলে যুক্তরাজ্য মনে করছে। এর ফলে পুটিন সরাসরি ধাক্কা খাবেন বলে তারা মনে করছে। অ্যামিরাকা জানিয়েছে, মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জি৭ বৈঠকে এই নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করা হবে।