সোমবার ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস শোয়াব সংস্থার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
একটি বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, "আমি ৮৮ বছরে পা দিয়েছি। আমি স্থির করেছি চেয়ারম্যানের পদ থেকে এবং বোর্ড অফ ট্রাস্টিসের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেব।"
প্রতিবছর স্যুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিলাসবহুল স্কি রিসর্টে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাজনৈতিক এবং অর্থনীতিবিদদের নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক সভা হয়।
শোয়াবের অবসরের পর ভাইস চেয়ারম্যান পিটার ব্রবেক-লেটমাটে অন্তর্বর্তী চেয়ারের পদে নিযুক্ত থাকবেন। ২০ এপ্রিলের সভায় শোয়াবের ইস্তফা গ্রহণের পর থেকেই এই পদের প্রার্থী খোঁজা শুরু হয়ে গেছে।
বিশ্বায়নের প্রধান মুখ দাভোস
১৯৭১-এ ডাব্লিউইএফ প্রতিষ্ঠা করেন শোয়াব। উদ্দেশ্য ছিল, নীতিনির্ধারক এবং কর্পোরেটের মাথাদের নিয়ে বিশ্বের জটিল সমস্যার সমাধান করা। সেই বছরেই প্রথম শীর্ষবৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের তাবড় তাবড় শিল্পপতি, অর্থনীতিবিদ এবং শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন সেই সভায়।
এলিট হওয়ার কারণে বিগত এক দশকে দাভোসের এই শীর্ষবৈঠক দক্ষিণপন্থি এবং বামপন্থি দুই মহলের থেকেই সমালোচিত হয়। অভিযোগ ওঠে, সাধারণ মানুষ এবং তাদের সাধারণ জীবনের সঙ্গে ডাব্লিউইএফ-এর প্রতিনিধিদের কোনো সংযোগ নেই। শোয়াবকেও সাম্প্রতিককালে একাধিকবার ষড়যন্ত্র তত্ত্বের শিকার হতে হয়েছে। তার মধ্যে ২০১৬-তে ডাব্লিউইএফ-এ প্রকাশিত একটি বক্তব্য, "আপনার কিছুই থাকবে না এবং আপনি সুখী হবেন," ভাইরাল হয়।
শেষ হলো সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন৷ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতা ও ব্যবসায়ীরা৷ তুলে ধরেছেন পরিকল্পনা৷ তারই এক ঝলক ছবিতে...
ছবি: picture-alliance/dpa/Keystone/G. Ehrenzellerদাভোস সম্মেলনে বৈশ্বিক আপোশের ডাক দিলেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ তিনি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাগাভাগি বা বাদানুবাদের বিষয়ে পশ্চিমকে আপোশকামী হওয়ার আহ্বান জানান৷
ছবি: Reuters/A. Wiegmannঅচলাবস্থা চলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত হননি৷ প্রতিনিধি পাঠানোর কথা থাকলেও পরে তা-ও পাঠাননি৷ সম্মেলনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি৷
ছবি: Reuters/A. Wiegmannব্রেক্সিট সংকটের কারণে টেরেসা মে-ও অংশ নেননি দাভোস সম্মেলনে৷ তবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ রাজপুত্র ডিউক অব ক্যাম্ব্রিজ প্রিন্স উইলিয়াম৷ তিনি তিনটি সেশন সঞ্চালনাও করেন৷
ছবি: Reuters/A. Wiegmannবরাবরের মতো দাভোস সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষুব্ধ জনতার উপস্থিতি ছিল৷ তাঁরা বৈশ্বিক মন্দা, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ুসহ নানা বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ চার দিনের এই সম্মেলনের বাইরে বরফের মধ্যে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন অনেক সংগঠনের কর্মীরা৷
ছবি: Reuters/A. Wiegmannদাভোস সম্মেলনে কর্মী নিয়োগের গোপন সূত্র প্রসঙ্গে বললেন সফল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আলীবাবার প্রধান জ্যাক মা৷ তিনি বলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে যাঁরা শীর্ষ কর্মকর্তা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন, এমন কর্মীই নিয়োগ দেন তিনি৷ এটি তাঁর ব্যবসায়িক কৌশল৷
ছবি: Reuters/A. Wiegmannএবারের দাভোস বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলন শুরুই হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সতর্কবার্তা দিয়ে৷ ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনা ও ‘নো ব্রেক্সিট ডিল’কে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে আইএমএফ৷ এমনকি বিশ্বের সব দেশে চলমান অস্থিরতাও উল্লেখিত হয় আইএমএফ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন ল্যাগার্ডের বক্তব্যে৷
ছবি: Reuters/A. Wiegmannদাভোস সম্মেলনের আগে দাতব্য সংস্থা অক্সফাম প্রকাশিত এক প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন মাইক্রোসফটের বিল গেটস, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মার্ক সাকারবার্গ৷ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের অর্ধেক গরিবের সম্পদের সমান সম্পদ আছে মাত্র ২৬ জন ধনীর হাতে৷ তবে নিজের সম্পত্তি নিয়ে নয়, বিশ্বের পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কথা বলেন বিল গেটস৷
ছবি: Reuters/A. Wiegmann অনেকের মতে, ২০৩০-এর পৃথিবীর বর্ননা দিতে দিয়েই একথা বলেছেন তিনি। বাস্তবে যদিও এমন কোনো কথা তিনি লেখেননি বা বলেননি। ডেনমার্কের রাজনীতিবিদ ইডা ওয়কেন সম্ভাব্য ভবিষ্যতের উপর একটি প্রবন্ধে একথা লিখেছিলেন। তবে এর পরে অনেকেই দাবি করেন ব্যক্তিগত মালিকানা ধ্বংস করে ডাব্লিউইএফ একটি ডিস্টোপিয়ান ভবিষ্যৎ তৈরি করতে চাইছে।
এসসি/জিএইচ(এপি, এএফপি, রয়টার্স)