1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

তালেবান বিদায়ের এক দশক পর আফগানিস্তান

৭ অক্টোবর ২০১১

প্রায় এক দশক আগে পশ্চিমা জোটের হামলার ফলে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল৷ কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্র পায় নি সাধারণ মানুষ৷

FILE - In this Thursday, Sept. 22, 2011 file photo, Afghan President Hamid Karzai reacts during a press conference honoring former Afghan President Burhanuddin Rabbani who was killed two days before in Kabul, Afghanistan. Afghan President Hamid Karzai, who for years pushed for reconciliation with the Taliban, now says attempts to negotiate with the insurgent movement are futile and efforts at dialogue should focus instead on neighboring Pakistan. The Afghan leader explained in a videotaped speech released by his office Saturday Oct. 1, 2011 that he changed his views after a suicide bomber, claiming to be a peace emissary from the insurgents, killed former Afghan President Burhanuddin Rabbani at his home on Sept. 20. Rabbani was leading Karzai's effort to broker peace with the Taliban. (AP Photo/Kamran Jebreili, File) Montage:Zeeb
পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি আস্থা কি কমে গেছে আফগানিস্তানে?ছবি: AP/DW-Montage

রাতের অন্ধকারে অদ্ভুত শব্দ শোনা যায়৷ তালেবান দুর্গ কান্দাহারের মানুষ এর আগে আকাশ থেকে এমন শব্দ শুনেনি৷ মার্কিন বিমান বাহিনীর বি টোয়েন্টিটু বোমারু বিমান আকাশ থেকে তালেবান ও আল কায়েদার ঘাঁটির উপর বোমা ফেলছে৷ আন্তর্জাতিক বাহিনীর অভিযান যখন শুরু হয়েছিল, সেসময়ের কথা হাবিবুর রহমানের স্পষ্ট মনে আছে৷ তখন তার বয়স ১৫৷ হাবিবুর বললেন, ‘‘তালেবানের দ্রুত পতন ঘটলো৷ আমরা জানতাম না, এর পরে কী হবে৷ মানুষের মনে ভয় ছিল, আবার আগের ওয়ারলর্ড বা গোষ্ঠীপতিরা ফিরে এসে গৃহযুদ্ধ শুরু করে দেবে৷ তবে মনে এই আশাও ছিল, যে হয়তো বা পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হবে৷''

তখন অ্যামেরিকা যে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছিল, তার ফলে মানুষের মনে সত্যি বেশ আশা জন্মেছিল৷ আফগানিস্তানের বেশিরভাগ মানুষের মনে তখন অ্যামেরিকা সম্পর্কে বিশেষ ধারণা ছিল না৷ ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, এই যুদ্ধ মোটেই আফগান জনগণের বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে না – আল-কায়েদা ও তাদের সহযোগী তালেবানকে শায়েস্তা করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে৷  তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের সরকারকে হটিয়ে এক গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে৷ আফগানিস্তানের পুনর্গঠনের মাধ্যমে মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে৷ প্রায় দুই দশক ধরে চলে আসা যুদ্ধ ও গৃহযুদ্ধের ফলে মানুষের তখন কাহিল অবস্থা৷ তারা এই সব প্রতিশ্রুতি শুনে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েছিল৷ পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি আস্থাও ছিল অটুট৷ অনেক জায়গায় মানুষের মনে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ছিল৷ সেসময়ে কাবুল শহরের পরিবেশের কথা বলছিলেন এক শহরবাসী৷ তার কথায়, ‘‘রাতারাতি তালেবান শহর ছেড়ে পালিয়ে গেল৷ পরদিন দেখা গেল তারা সবাই উধাও৷ তখন যেন বাঁধ ভেঙে গেল৷ দলে দলে মানুষ ছুটলো নাপিতের কাছে৷ তালেবানের ফরমান মেনে যে দাড়ি রাখতে হয়েছিল, তা কেটে ফেলার জন্য তারা অধৈর্য হয়ে উঠছিল৷ এমনকি পথেঘাটে দাঁড়িয়ে মানুষকে দাড়ি-গোঁফ কাটতেও দেখেছি৷ সেদিন আনন্দের জোয়ারে মানুষ ভেসে গিয়েছিল৷''

আফগানিস্তানে তালেবান গোষ্ঠীর একাংশছবি: picture alliance/dpa

তালেবান শাসনের সময় মানুষের জীবনযাত্রার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম চালু ছিল৷ পুরষদের জন্য লম্বা দাড়ি রাখা ছিল বাধ্যতামূলক৷ নারীদের কাজের অনুমতি ছিল না৷ মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষেধ ছিল৷ একমাত্র বোরখা পরে বাইরে যেতে পারতো নারীরা, তাও আবার পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্য সঙ্গে থাকলে৷ গান শোনা, ঘুড়ি ওড়ানো বা বল খেলা – এসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল৷ এমনকি পছন্দমতো জামাকাপড় পরারও উপায় ছিল না৷ কাবুলের আরেক অধিবাসী বললেন, ‘‘আমার একটা চামড়ার জ্যাকেট ছিল৷ একদিন এক তালিবের পাশ দিয়ে যাচ্ছি৷ সে চেঁচামেচি করে আমার জ্যাকেট খুলে নিয়ে টুকরো-টুকরো করে কেটে ফেললো৷ সে আমাকে গালি দিয়ে বললো, এই জ্যাকেট নাকি শুয়োরের চামড়া দিয়ে তৈরি হয়েছে৷ অতএব এক মুসলিমের পক্ষে এমন পোশাক পরা হারাম৷''

একমাত্র বোরখা পরে বাইরে যেতে পারতো নারীরা, তাও আবার কোনো পুরুষ সঙ্গে থাকলেছবি: AP

প্রায় দুই দশকের কঠিন পরিস্থিতির ফলে দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে মানুষের মুখে এমন অসংখ্য কাহিনী শোনা যায়৷ মার্কিন জোটের অভিযান শুরু হওয়ার পর অনেকের মনে হয়েছিল, এবার হয়তো সুদিন আসছে৷ সত্যি এক গণতান্ত্রিক সংবিধান কার্যকর হলো৷ দেশের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হলো৷ পশ্চিমা বিশ্ব যে নেতাকে নিযুক্ত করেছিল, সেই হামিদ কার্জাই ২০০৪ সালে বিপুল ভোটে জিতে গণতান্ত্রিক বৈধতা পেলেন৷ কিন্তু তার পরেও কাবুলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির বদলে আরও অবনতি হতে লাগলো৷ তালেবান আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলো৷ গোটা দেশে শান্তির সম্ভাবনা আবার দূরে সরে যেতে লাগলো৷

আল-কায়েদা ও সহযোগী তালেবানকে শায়েস্তা করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছিল...ছবি: picture-alliance/dpa

প্রায় দেড় লক্ষ সৈন্য নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলি একযোগে লড়াই করেও তালেবানকে কেন হারাতে পারছে না, এই বিষয়টি আফগানিস্তানের মানুষের কাছে এখনো এক হেঁয়ালির মতো৷ তাছাড়া পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সুফলও হাতে গোনা মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে৷ তারা ধনী হয়ে উঠেছে, বাকিরা যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গেছে৷ জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী আফগানিস্তানে ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এখনো দুবেলা ঠিকমতো খেতে পায় না৷ দেশে যে কোটি কোটি ডলার ঢালা হচ্ছে, তার ছিটেফোঁটাও তাদের কাছে পৌঁছয় না৷ এক দশক আগে তালেবানের প্রস্থানের পর মানুষের মনে যে আশা জেগেছিল, তা এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে৷ ২০১৪ সালে বিদেশি সৈন্যদের প্রস্থানের পর তালেবান আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে – অনেকের মনে এই ভয়ও রয়েছে৷ ইতিমধ্যে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি আস্থাও এত কমে গেছে, যে তাদের কোনো প্রতিশ্রুতিতে আর কান দিচ্ছে না মানুষ৷

প্রতিবেদন: রতবিল শামেল / সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ