1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
দুর্নীতিভারত

তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে ইডি তল্লাশি, ফোন নর্দমায়, গ্রেপ্তার

২৫ আগস্ট ২০২৫

এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটেছে তৃণমূলের মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার সঙ্গে।

জীবনকৃষ্ণের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ ইডি কর্মকর্তারা।
জীবনকৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করলো ইডি। এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়। ছবি: Subhajit Das/DW

বলা যেতে পারে, দুই বছর আগের ঘটনার অ্যাকশন রিপ্লে হলো। মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল কংগ্রস বিধায়ক জীবনকৃ্ষ্ণ সাহার বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তল্লাশি করতে গেলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির কর্মকর্তারা। তাদের দেখেই ফোন ছুঁড়ে ফেলে দিলেন বিধায়ক। পালাতে গেলেন।  তাকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির দায়ে এবার ইডি গ্রেপ্তার করেছে। 

দুই বছর আগে একই কাজ করেছিলেন জীবনকৃষ্ণ। তবে সেবার তল্লাশি করতে গিয়েছিলেন সিবিআই কর্মকর্তারা। তাদের দেখে সেলফোন পুকুরে পড়েছিল। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এবার তিনি পালাতে গিয়ে ইডি কর্মকর্তাদের দেখে ফোন নর্দমায় ফেলে দেন। সেখান থেকে ফোন উদ্ধার করেন ইডির কর্মকর্তারা। 

এবার জীবনকৃষ্ণ বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়েছিলেন। সেটাও পারেননি। তিনি দেওয়াল টপকে বাড়ির পিছনে জঙ্গলের পথে পালাবার তালে ছিলেন। ইডির কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় বূাহিনীর জওয়ানরা সেদিকেও ছিলেন।  কেন্দ্রীয় বাহিনীর তিনজন জওয়ান তাকে ধরে নিয়ে আসেন। তার আগে পড়ে গিয়ে তিনি কাদায় মাখামাখি হন।  এরপর গত ৯০ দিন ধরে তার ফোনের কল ডিটেইলস ধরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সূত্র জানাচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি ঠিকঠাক জবাব দিতে পারেননি। পাঁচ গণ্টা জেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

 গ্রেপ্তার করে তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তাকে এবার সিজিও কমপ্লেক্সে জেরা করা হতে পারে। 

কী হয়েছিল?

সোমবার সকালে জীবনকৃষ্ণের মুর্শিদাবাদের বাড়িতে খুব সকালে পৌঁছে যান ইডির কর্মকর্তারা। তার কান্দির বাড়িসহ পাঁচটি জায়গায় ইডি তল্লাশি চালায়। তার পিসি ও শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চলে। 

সোমবার কাকভোরে ইডি কর্মকর্তারা জীবনকৃষ্ণের বাড়িতে যান। ছবি: Subhajit Das/DW

ইডি-র কর্মকর্তারা ফোনের পাসওয়ার্ড চান। সেটাও প্রথমে দিতে চাননি বিধায়ক। 

মুর্শিদাবাদে জীবনকৃষ্ণের বাড়ির পাশাপাশি ইডির কর্মকর্তারা রঘুনাথগঞ্জে তৃণমূল বিধায়কের শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি করেন। আন্দি মহিষ গ্রামের এক বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মীর বাড়িতেও তল্লাশি করা হয়। এছাড়া বীরভূমের সাঁইথিয়ায় তৃণমূল কাউন্সিলর মায়া সাহার বাড়িতে সোমবার সকাল থেকে তল্লাশি চলে। মায়া হলেন জীবনকৃষ্ণের পিসি।

বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণকে এর আগে ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। পরে তিনি জামিন পান। এবার তাকে ইডি গ্রেপ্তার করেছে। 

পুরুলিয়ায় ইডির একটি দল এসএসসি দুর্নীতিতে জেলবন্দি প্রসন্ন রায়ের বাড়িতে তল্লাশি করেছে। 

ইডি সূত্র জানাচ্ছে, দুর্নীতির টাকা যেমন ক্যাশে এসেছে, তেমনই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও এসেছে। এ সবই তার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। 

কী বলছে তৃণমূল, বিজেপি?

তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেছেন, ''নাটকের স্ক্রিপ্টটা কে লিখেছেন জানা নেই, যিনি লিখেছেন তাকে দুর্বল স্ক্রিপ্ট রাইটারের পুরস্কার দেয়া যেতে পারে। ভোট এলেই সিবিআই ও ইডি এভাবে সক্রিয় হন। এই ঘটনা আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, ভোট আসছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনি সিবিআই হেফাজতে ছিলেন। এক বছর তো তাকে জেরা করা হয়েছে। তারপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে জামিন পান। এই ঘটনা আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, ভোট এলে এটাই হবে।''

জীবনকৃষ্ণের পিসি মায়া সাহা বলেছেন, ''ইডির আধিকারিকরা এসেছিলেন। কিছু নথি নিয়ে গেছেন। ২৮ তারিখ আমাকে যেতে বলেছে। ওরা খুব ভালো ব্যবহার করেছেন।''

বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ''এর আগেও সকলে দেখেছেন, জীবনকৃষ্ণকে সিবিআই যখন ধরতে যায়, তখন তিনি পুকুরে ফোন ফেলে দেন। আমি সেই পুকুর দেখতে গেছিলাম। পুলিশ দেখতে দেয়নি। সাইকলজিতে বলে, একই ধরনের অপরাধমূলক আচরণ তারা বারবার করে। জীবনকৃষ্ণও করেছেন। ভোট আসছে বলে যদি কাউকে ধরতে হয় তো বড় মাথাকে ধরব, চুনোপুঁটিকে ধরে কী হবে?''

জিএইচ/এসজি

 

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ