1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

নতুন বছরের চাওয়া

আনিয়া ফ্যানলে/আরবি২৬ ডিসেম্বর ২০১৩

প্রতি বছর একই ব্যাপার৷ বড়দিন ও নববর্ষের মাঝামাঝি কয়টা দিন জার্মানরা নতুন বছর কীভাবে কাটানো যায়, কোন কোন ভাল কাজ করা যায়, তা নিয়ে মাথা ঘামায়৷ তবে অনেকের পক্ষে সেই ইচ্ছা পূরণ সম্ভব হয় না৷

Deutschland Silvester Symbolbild Prost Neujahr
ছবি: picture-alliance/dpa

৪০ শতাংশ জার্মান বছরের শেষ প্রান্তে এসে পরের বছরের জন্য একটা পরিকল্পনা করতে চান৷ এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে স্ট্রেস বা চাপ কমানো৷ পরের স্থানে আছে পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও খেলাধুলা৷ ২০১৩ সালের সমাপ্তি লগ্নে জার্মানদের আগামী বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এই তথ্য জানায় ‘ফোরসা ইন্সটিটিউট'৷

বিভিন্ন বিষয়ে জরিপ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি৷ স্বাস্থ্য বিমা প্রতিষ্ঠান ডিএকে-এর উদ্যোগে ২০০৬ সাল থেকে এই ধরনের সমীক্ষা চালানো হচ্ছে৷ এবার তিন হাজারের বেশি নারী ও পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে৷

নতুন করে যাত্রা

নতুন বছর অনেকের জন্য নতুন করে যাত্রা শুরু করা, বলে মনে করেন বখুমের মনস্তত্ত্ববিদ ইউর্গেন মারগ্রাফ৷ এর পেছনে রয়েছে তিনটি মনস্তাত্ত্বিক দিক৷ নতুন বছরের পরিকল্পনা হলো জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা৷ ‘‘আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই৷ কারণ আমরা জানি, যে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা আমাদের ক্ষতি করে না৷''

কোলনের রাইনগোল্ড মার্কেট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের শ্টেফান গ্রুনেভাল্ডও একই ধারণা পোষণ করেন৷ ভাল কিছু করার পরিকল্পনা আমাদের দিক নির্দেশনা দেয়৷ ‘‘আমি কেমন হতে পারি, তার একটা ছবি মনে আঁকা হয়৷''

দ্বিতীয় একটা দিক হলো অবাস্তব আশাবাদ: ‘‘আমরা আসলে যা পারি তার চেয়ে বেশি পারবো বলে মনে করি,'' ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন মনস্তাত্ত্বিক মারগ্রাফ৷ নতুন বছরের আশা-আকাঙ্খায় আমরা মনে করি, ‘‘আমরা যদি চাই, তাহলেই কিছু করতে পারি৷''

অন্তরে চলে লড়াই

এর ফলে মানুষের অন্তরে একটা লড়াই শুরু হয়ে যায়, বলেন মনস্তাত্ত্বিক গ্রুনেভাল্ড৷ কেউ যদি ধূমপান ছেড়ে দেওয়া বা খেলাধুলা বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে, তাহলে অনবরত নিকোটিনের আসক্তি বা মনের ভেতরের ‘দানবটার' বিরুদ্ধে লড়াই করে যেতে হয়৷

যারা নতুন বছরে কিছু করার অঙ্গীকার করেন, তাদের মধ্যে মাত্র অর্ধেক তিন মাসের বেশি সেটা করে যেতে পারেন৷ এই তথ্য জানা যায় ফোরসা ইন্সটিটিউটের সমীক্ষা থেকে৷

আত্মপ্রতারণা

মারগ্রাফ মনে করেন অবাস্তব আশাবাদ থেকেই এই ব্যর্থতা আসে৷ বিশেষজ্ঞ গ্র্যুনেভাল্ড বিষয়টিকে ‘আত্মপ্রতারণা' বলে মনে করেন৷

তাঁর ভাষায়, ‘‘যেহেতু আমরা আগে থেকেই জানি যে, এই সংকল্প আমরা বাস্তবায়িত করতে পারব না৷''

নতুন বছরের আশা আকাঙ্খা বাস্তবায়িত করার ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দেন এই দুই মনস্তাত্ত্বিক৷ মারগ্রাফ বলেন, ‘‘এক্ষেত্রে আংশিক পদক্ষেপ কাজে লাগতে পারে৷ বেশি স্পোর্টস করার মানে এই নয় যে ১ জানুয়ারি থেকেই ১০ কিলোমিটার দৌড়াতে হবে৷ তার চেয়ে ধীরে ধীরে ট্রেনিং দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে৷''

৪০ শতাংশ জার্মান বছরের শেষ প্রান্তে এসে পরের বছরের জন্য একটা পরিকল্পনা করতে চানছবি: picture-alliance/dpa

গ্র্যুনেভাল্ড মনে করেন এব্যাপারে মাঝামাঝি একটা লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা উচিত৷ এছাড়া একেবারে অবাস্তব কোনো পরিকল্পনা নেওয়াই ঠিক নয়৷

মনস্তাত্ত্বিকরাও মাথা ঘামান

গ্র্যুনেভাল্ড নিজেও বড়দিন ও নববর্ষের মাঝখানে কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করেন, সামনের বছরের কিছু পরিকল্পনা ক্যালেন্ডারে লিখে রাখার জন্য৷ ২০১২ তে একটা বই লেখার কথা ভেবেছিলেন তিনি৷ ‘‘এই কাজটা করতে পেরেছি,'' বলেন এই মনস্তত্ত্ববিদ৷ তবে তাঁর ইন্সটিটিউটে কিছু পরিবর্তন আনার চিন্তাটা বাস্তবায়িত হয়নি৷

ইউর্গেন মারগ্রাফও প্রতি বছরই কিছু না কিছু করার কথা চিন্তা করেন৷ তবে তা একেবারে ১ জানুয়ারি থেকেই নয়৷ জন্মদিন থেকে৷

অনলাইনের একটি পত্রিকা জার্মানদের নতুন বছরের এই উদ্দীপনা সম্পর্কে কৌতুক করে লিখেছে: ‘২০১৪ সালের ১০টি সর্বোত্তম অঙ্গীকার': অর্থহীন জিনিসের জন্য অর্থব্যয় না করা৷ শুধুমাত্র অপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য ব্যয় করা৷ কিংবা সপ্তাহে একদিন ফিটনেস স্টুডিওতে গিয়ে দেখা ওটি এখনও টিকে আছে কিনা৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ