1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

সাবমেরিন বাংলাদেশকে কী দেবে?

১৩ মার্চ ২০১৭

নৌ-বাহিনীর দু'টি সামমেরিনের নাম ‘নবযাত্রা' এবং ‘জয়যাত্রা'৷ চীন থেকে আনা এই সাবমেরিন দু'টি তৈরি হয় ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘‘এগুলো বাংলাদেশের কৌশলগত শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে৷''

Verdacht auf Korruption bei deutschen Rüstungsfirmen
ছবি: picture-alliance/dpa

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার সাবমেরিন দু'টির কমিশনিং করেন চট্টগ্রামের নৌ-জেটিতে৷ সাবমেরিন কেনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘আমরা কারো সঙ্গে কখনো কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাই না৷ কিন্তু কেউ যদি আক্রমণ করে, তাহলে যেন তার সমুচিত জবাব দিতে পারি, সে প্রস্তুতি আমাদের থাকবে৷ সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা যা যা করণীয় তা করে যাচ্ছি৷'' শুধু তাই নয়, নৌ-বাহিনীকে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি কার্যকর ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷

বাংলাদেশের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা বাসস এবং আইএসপিআর থেকে এই সাবমেরিন দু'টির ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে৷ ৭৬ মিটার লম্বা সাবমেরিন দু'টির প্রতিটির ওজন এক হাজার ৬০৯ টন৷ এছাড়া এদের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৭ নটিক্যাল মাইল৷

আব্দুর রশিদ

This browser does not support the audio element.

আইএসপিআর থেকে জানানো হয়, ‘‘চীন থেকে কেনা ০৩৫ জি ক্লাসের এ দু'টি সাবমেরিনে আছে নানা সুবিধা৷ শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনে আক্রমণ করার সক্ষমতা রয়েছে টর্পেডো ও মাইনে সুসজ্জিত এই সাবমেরিনগুলোর৷ ডিজেল ইলেক্ট্রিক সাবমেরিন দু'টির প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৭৬ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৬ মিটার৷ নৌ-বাহিনীতে এগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত সাগর এলাকা নিরবচ্ছিন্নভাবে পাহারা দেওয়া ও আঘাত করার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে৷''

এই সাবমেরিন দু'টি চীন থেকে গত ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে আসে৷ এর আগে ১৪ নভেম্বর সাবমেরিন দু'টি হস্তান্তরের আগে চীন ও বাংলাদেশের নৌ-বাহিনীর অফিসার ও নাবিকদের যৌথ তত্ত্বাবধানে বাস্তব প্রশিক্ষণ ও ‘সি ট্রায়াল' সফলভাবে সম্পন্ন করে বলে জানায় আইএসপিআর৷ এই সাবমেরিন দু'টি কিনতে ২০১৪ সালে ২০৬ কোটি ডলারে চীনের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ৷

এ অঞ্চলে মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের কোনো সাবমেরিন নেই৷ তবে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইরান ও ইন্দোনেশিয়ার আছে৷ নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কার আছে, কার নাই এটা মুখ্য নয়৷ তাছাড়া বাংলাদেশ কারুর সঙ্গে যুদ্ধের মানসিকতা নিয়েও সাবমেরিন কেনেনি৷ বাংলাদেশ চায় তার নৌ-সীমা নিরাপদ রাখতে৷ আর এটা সত্য যে, সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী ত্রিমাত্রিকতার দিকে যাত্রা শুরু করলো৷''

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের এখন যা সমুদ্রসীমা এবং সমুদ্র সম্পদ, তার পাহারায় সাবমেরিনের প্রয়োজন আছে৷ শত্রু এবং জরদস্যুরা যখন জানবে বাংলাদেশের সাবমেরিন সক্ষমতা সম্পর্কে তখন তারা অনেক কিছু থেকেই নিবৃত হবে৷''

Mostafizur Rahman - MP3-Stereo

This browser does not support the audio element.

চীন থেকে আনা এই সাবমেরিন পুরনো – এমন সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এটা ঠিক যে এই দু'টি সাবমেরিন নব্বইয়ের দশকে বানানো হয়েছে৷ কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এগুলো পুরনো৷ কারণ এই সাবমেরিন দু'টো নবায়ন করা হয়েছে, নতুন শক্তি দেয়া হয়েছে৷''

রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এগুলো কনভেনশনাল সাবমেরিন এবং এই সাবমেরিনের ফলে বাংলাদেশ কৌশলগত সুবিধা পাবে৷ এছাড়া এই সাবমেরিনগুলোকে পুরনো বলার সুযোগ নেই৷ কারণ এর চেয়ে আরো আগের সাবমেরিন এখনও ব্যবহার হচ্ছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘সাবমেরিনের সুবিধা হলো একে চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব একটি কাজ৷ সে কারণে এগুলো একটি ‘ডিটারেন্স' হিসেবে কাজ করে৷ তাই জলসীমার নিরাপত্তায় এখন বাংলাদেশ অবশ্যই কৌশলগত সুবিধা পাবে৷''

 

বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য সাবমেরিন বিলাসিতা কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এটা রাজনৈতিক প্রশ্ন৷ এর জবাব আমি দেবো না৷ তবে একটা উদাহরণ দেই৷ সিঙ্গাপুরের মতো দেশ এখন সাবমেরিন অপারেট করে৷ ফলে মালয়েশিয়া এখন সিঙ্গাপুরকে সমীহ করে চলে৷''

তিনি আরো জানান, ‘‘কনভেনশনাল সাবমেরিন তৈরিতে জার্মানির দক্ষতা আছে৷ বাংলাদেশ চাইলে ভবিষ্যতে সেখান থেকেও এ ধরনের সাবমেরিন নিতে পারে৷''

প্রসঙ্গত, সামরিক সরঞ্জাম কেনায় বাংলাদেশ এখন চীনের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল৷ এর আগে ২০১৪ সালে চীন থেকে ‘আলী হায়দার' ও ‘আবু বকর'  নামে দু'টি যুদ্ধ জাহাজ কেনে বাংলাদেশ৷ ‘জিয়াংহু-৩' ক্লাসের মিসাইল ফ্রিগেট দু'টি দৈর্ঘ্যে ১০৩.২২ মিটার এবং প্রস্থে ১০.৮৩ মিটার৷ জাহাজ দু'টি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম৷ শুধু তাই নয়, আধুনিক ক্ষমতাসম্পন্ন ওই দু'টি যুদ্ধ জাহাজ বিমান বিধ্বংসী কামান, জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল এবং সমুদ্র তলদেশে সাবমেরিনের অবস্থান শনাক্তকরাসহ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ