1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের হোটেলে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ঘটনার প্রভাব পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে৷ এখানকার হোটেল মালিকেরা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন৷

শিলিগুড়ির রাস্তায় হাঁটছেন সাধারণ মানুষেরা৷
শুধু শিলিগুড়ি নয়, উত্তরবঙ্গের মালদা এবং কোচবিহার জেলার হোটেল মালিক সংগঠনগুলোও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটছেন৷ অনেক হোটেলের সামনে ইতিমধ্যেই 'বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ' লেখা পোস্টার সাঁটানো হয়েছে৷ছবি: Diptendu Dutta/NurPhoto/picture alliance

বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিয়মিত আসছেন চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজনে৷ এর সঙ্গে আছেন পর্যটকেরাও৷ তাদের ভারতে এসে থাকার ঠাঁই পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে৷

দরজা বন্ধের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং ভারতীয় জাতীয় পতাকার অবমাননার মতো ঘটনার প্রতিবাদে একে একে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, মালদা, কোচবিহারের হোটেল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশিদের হোটেল ভাড়া না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

শুরুতে গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ সংগঠনের আওতায় থাকা প্রায় ১৮০টি হোটেলে বাংলাদেশি নাগরিকদের রুম ভাড়া দেওয়া বন্ধ থাকবে৷

এই সংগঠনের পক্ষ থেকে উজ্জ্বল ঘোষ ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘শিলিগুড়ির হোটেল মালিকেরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, বাংলাদেশের কোনো পর্যটককে হোটেলে জায়গা দেওয়া হবে না৷ ওখানকার কিছু নেতা এবং নাগরিকদের দ্বারা ভারতীয় পতাকার অবমাননা করার প্রতিবাদেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ আগে মানবিকতার খাতিরে মেডিকেল ভিসা এবং স্টুডেন্ট ভিসা থাকা ব্যক্তিদের জন্য কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু ভারত সরকার বর্তমানে বাংলাদেশে সব ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় এবং নতুন ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখায়, আমরাও সেই বিশেষ ছাড় বা রিল্যাক্সেশন তুলে নিয়েছি৷ এখন বাংলাদেশি নাগরিকেরা শিলিগুড়ির কোনো হোটেলে জায়গা পাবেন না৷''

কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

হোটেল মালিকদের দাবি, বাংলাদেশে যে ঘটনাপ্রবাহ চলছে, তার প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ৷ উজ্জ্বল বলেন, ‘‘ব্যবসার ক্ষতি হলেও আমরা পিছপা হব না৷ বাংলাদেশের কয়েকজন নেতা আমাদের শিলিগুড়ি করিডোর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের 'সেভেন সিস্টার্স' নিয়ে যে ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য ও হুমকি দিচ্ছেন, তা আমাদের শহর ও দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের৷ আমাদের প্রথম দায়বদ্ধতা দেশ ও রাজ্যের প্রতি, ব্যবসার প্রতি নয়৷''

‘বাংলাদেশের কোনো পর্যটককে হোটেলে জায়গা দেওয়া হবে না’

This browser does not support the audio element.

এখন হোটেলের দরজা বন্ধ হয়েছে, ভবিষ্যতে বয়কটের পরিধি আরো বড় হওয়ারও শঙ্কা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে৷

উজ্জ্বল বলেন, "শুধু হোটেল মালিকেরা নন, শিলিগুড়ির সাধারণ ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও একই সেন্টিমেন্ট কাজ করছে। স্থানীয় বাজারগুলোতেও ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে পণ্য বিক্রি না করার কথা বলছেন৷''

শুধু শিলিগুড়ি নয়, উত্তরবঙ্গের মালদা এবং কোচবিহার জেলার হোটেল মালিক সংগঠনগুলোও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটছেন৷ অনেক হোটেলের সামনে ইতিমধ্যেই 'বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ' লেখা পোস্টার সাঁটানো হয়েছে৷

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের জের ধরে মালদা জেলার একমাত্র স্থলবন্দর মহদীপুরেও আন্তর্জাতিক ব্যবসাতেও পড়েছে ভাটা।

এই পরিস্থিতিতে মালদা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে গত নভেম্বর থেকেই ভিসা প্রদান বন্ধ রেখেছে। আমাদের কাছে ব্যবসার চেয়ে দেশের সুরক্ষা আগে। সেই নিরাপত্তাজনিত কারণেই পশ্চিমবঙ্গ তথা কেন্দ্রীয় সরকার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আমরাও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক লাভকে বিসর্জন দিয়ে সেই নিয়মই অনুসরণ করছি৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার অভাব বোধ হওয়ায় আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। তাছাড়া ভিসা বন্ধ থাকায় বর্তমানে বাইরে থেকে পর্যটক আসার সুযোগও নেই৷''

কোচবিহারের হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি ভূষণ সিং ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘মূলত ফেডারেশন অব হোটেল অ্যাসোসিয়েশন নর্থ বেঙ্গল জোনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোচবিহারের হোটেলগুলোতে বাংলাদেশিদের জায়গা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, মালদা এবং আলিপুরদুয়ারের হোটেল অ্যাসোসিয়েশনগুলো আগেই এই পথে হেঁটেছে। ফেডারেশন অব হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশ অনুযায়ী কোচবিহারের হোটেল মালিকরাও এখন সেই একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷''

আলিপুরদুয়ার টাউন হোটেল ওয়েলফেয়ার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিষ্ণু ভৌমিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘ওপার বাংলার পরিস্থিতির উপর নজর রয়েছে৷ আমরা বৈঠকে বসব৷ এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷''

পর্যটনখাতে প্রভাব

শিলিগুড়ি সাধারণত বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভারতে আসারএকটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট৷ একই সঙ্গে এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার৷ বাংলাদেশ থেকে পর্যটকেরা সাধারণত পাহাড়ে (দার্জিলিং বা গ্যাংটক) অথবা অসম ও সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোতে যাওয়ার জন্য শিলিগুড়িকেই প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহার করেন৷

শিলিগুড়ির দুটি ভৌগোলিক সীমান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ ফুলবাড়ি সীমান্ত এই শহর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত৷ চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্তটি কোচবিহার জেলায় অবস্থিত৷ বাংলাদেশ থেকে এই পথ দিয়ে পাহাড়ে বা ডুয়ার্সে যেতে হলেও পর্যটকদের শিলিগুড়ির ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়৷

পর্যটন, চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে হাজার হাজার মানুষ উত্তরবঙ্গ হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যান৷ ২০২৩ সালে যেখানে ২১ লাখ দুই হাজার বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন৷ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালে সংখ্যাটি কমে ১৭ লাখ ৫০ হাজারে দাঁড়িয়েছে৷ এই সংখ্যা আরো কমার আশঙ্কা রয়েছে৷

হোটেল মালিকদের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ বাংলাদেশি পর্যটকেরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন৷ কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, ‘‘বাইরের মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষতি তো অবশ্যই হচ্ছে৷‘‘

শীতের ভরা মরশুম। এ সময়ে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে থাকে৷  এতে পর্যটনখাত কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সাধারণত পর্যটনের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে খুব একটা মানুষ আসেন না৷ এই করিডোর দিয়ে মূলত চিকিৎসার জন্য এবং পড়াশোনার প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা আসেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা সাময়িকভাবে মেডিকেল এবং স্টুডেন্ট ভিসায় আসা ব্যক্তিদের পরিষেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি। কেন্দ্রীয় সরকার আগে থেকেই ভিসা বন্ধ রাখায় আমরাও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

ভূষণ সিং বলেন, ‘‘এটি ভারত-বাংলাদেশ সংঘাতের বিষয় নয়, বরং একান্তই আমাদের সংগঠনের সিদ্ধান্ত৷ কোচবিহারের হোটেলগুলোতে সাধারণত বাংলাদেশি পর্যটক খুব একটা আসেন না, হয়তো মাসে বা ছয় মাসে দু-একজন আসেন। যেহেতু বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা অত্যন্ত কম, তাই এই সিদ্ধান্তের ফলে হোটেল ব্যবসায় বড় কোনো ক্ষতি হবে না।"

বিক্ষোভের আবহে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনে নিরাপত্তা জোরদার

02:57

This browser does not support the video element.

পর্যটন ব্যবসায়ীরা চিন্তিত

হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্রাট সান্যাল ডিডাব্লিউকে বলেন, "এখন বাংলাদেশিদের জন্য টুরিস্ট ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে না, যার ফলে পর্যটক হিসেবে তাদের উপস্থিতি এখন নেই বললেই চলে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে যারা আসছেন, তারা মূলত মেডিকেল ভিসা অথবা স্টাডি ভিসার মাধ্যমে আসছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন হোটেল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক বাংলাদেশি পর্যটকদের রুম না দেওয়ার যে সিদ্ধান্তের কথা শোনা যাচ্ছে, সেটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিজস্ব বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের বা রাজ্য সরকারের সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ নেই। তবে আমার মনে হয়, বিষয়টি যেহেতু দুটি রাষ্ট্রের সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত, তাই এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট নোটিফিকেশন বা নির্দেশিকা আসা প্রয়োজন। সরকার যদি লিখিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়, তবে সেটি অনুসরণ করা সবার জন্যই সহজ হয়৷''

তিনি বলেন, "ব্যবসায়িক দিক থেকে বলতে গেলে, বাংলাদেশি পর্যটক না আসায় আমাদের পর্যটন শিল্পে তেমন কোনো বড় প্রভাব পড়েনি। ২০২৪ সাল থেকেই এই সংখ্যাটি পড়তির দিকে ছিল, তবুও বর্তমানে ভারতের পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটকে পরিপূর্ণ বা 'সোল্ড আউট' অবস্থায় রয়েছে। দিনশেষে ব্যবসার চেয়ে আমাদের দেশের আত্মমর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"

আবেগ ও রাজনীতি

বাংলাদেশের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতিক্রিয়া কিছুটা স্বতঃস্ফূর্ত বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য ডিডাব্লিউকে বলেন, "বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং সেখানে যা হচ্ছে তা কোনোভাবেই সুস্থ বিষয় নয়। সেখানকার পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটা সেদেশের সরকার বলতে পারবে। ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রক (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। আর যা শিলিগুড়ি বা মালদা শহরে হয়েছে, আমার মনে হয় সেটা একটা ক্ষোভের স্বতস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ। "

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যেভাবে সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে মুক্তমনারা আক্রান্ত হচ্ছেন, জেমসের মতো সঙ্গীতশিল্পী আক্রান্ত হচ্ছেন, ছায়ানট আক্রান্ত হচ্ছে, তাতে এপারের বাঙালিও প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হচ্ছে। এই প্রতিক্রিয়া আমরা উত্তরবঙ্গে দেখতে পাচ্ছি। আমার মনে হয় এটা একটা স্বতস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাপারে যা সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপ নেওয়ার, তা কেন্দ্রীয় সরকারকেই নিতে হবে৷''

কিন্তু সবটাই নিখাদ স্বতঃস্ফূর্ততার প্রকাশ বলে মনে করেন না অনেক বিশ্লেষকেরা৷

মানবাধিকার কর্মী, অধ্যাপক আম্বিকেশ মহাপাত্র ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ শুধু ভৌগোলিক প্রতিবেশী নয়, ঐতিহাসিকভাবে আমরা একই অবিভাজ্য ভূখণ্ডের অংশ ছিলাম। আমাদের ভাষা এক, সংস্কৃতিও এক। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে এই দুই বাংলার নিবিড় সম্পর্ককে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।"

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে যে অস্থিরতা এবং মৌলবাদী শক্তির উত্থান আমরা দেখছি, তা পশ্চিমবঙ্গের বিভাজনকামী দলগুলোর জন্য 'অক্সিজেন' হিসেবে কাজ করছে। ওপার বাংলার অস্থিরতাকে পুঁজি করে এপার বাংলায় রাজনৈতিক ফায়দা তোলার এক অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ থেকে আসা সাধারণ মানুষ, যারা এখানে চিকিৎসা বা পর্যটনের প্রয়োজনে আসেন, তাদের হোটেলে জায়গা না দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমার সন্দেহ হয়, এর পেছনেও কোনো না কোনো রাজনৈতিক মদদ রয়েছে।"

আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সেই প্রসঙ্গ টেনে আম্বিকেশ বলেন, ‘‘এই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। ক্ষমতা দখলের মরিয়া চেষ্টায় যে কৌশল নেওয়া হচ্ছে, তা কেবল বিপজ্জনকই নয়, বরং চরমভাবে মানবাধিকার বিরোধী। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করে ভোটের রাজনীতি করা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত৷''

ভারত-বাংলাদেশ: বিভাজনের রাজনীতি ও জনগণের সম্পর্ক

27:03

This browser does not support the video element.

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ