1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লাখ ভোটার বাদ, প্রচুর সংখ্যালঘু, এবার কী হবে?

৮ এপ্রিল ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাদ পড়া বিবেচনাধীন ভোটারদের সংখ্যা প্রকাশ করলো নির্বাচন কমিশন। সংখ্যালঘুদের ভোট যেখানে নির্ণায়ক, সেখানেই বাদ পড়েছেন বেশি ভোটার।

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদরদপ্তরের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কয়েকজন মানুষ।
বাদ পড়া ভোটারের তালিকা প্রকাশ করলো নির্বাচন কমিশন। ছবি: Adnan Abidi/REUTERS

বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়ায় একের পর এক সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হলেও কোন জেলা থেকে কত নাম বাদ পড়ল, সেটা এতদিন স্পষ্ট হচ্ছিল না। যেহেতু কমিশন এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি। অবশেষে সেই তথ্য সামনে এনেছে তারা।

বাদ পড়া ভোটার

প্রাথমিক খসড়া ও অ্যাডজুডিকেশনের দুটি পর্যায়েকে যোগ করলে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৯১ লক্ষের কাছাকাছি নাম। ডিসেম্বরে যে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়, সেখানে প্রথমে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ পড়ে। 

তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির জেরে বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন। কমিশনের হিসেব, এদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার। বিবেচনাধীন ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ভোটারের। অর্থাৎ এই দফায় বাদ পড়েছে ৪৫ শতাংশ ভোটারের নাম। 

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ গিয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে। এখানে বাদ পড়েছে চার লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম। এই সংখ্যা বিবেচনাধীন ভোটারের ৪৩ শতাংশ। এই জেলায় ২২টি বিধানসভা আসন রয়েছে।

উত্তর ২৪ পরগনায় তিন লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জন বাদ পড়েছেন। এটা বিবেচনাধীন ভোটারের ৫৫ শতাংশের বেশি। ৩৩টি আসন রয়েছে এই জেলায়।

দুই লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৭৫ জনের নাম বাদ গিয়েছে মালদহে। বিবেচনাধীন ভোটারের প্রায় ২৯ শতাংশ। ১২টি আসন রয়েছে মালদহে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিবেচনাধীন ভোটারের ৪৩ শতাংশ বাদ পড়েছেন। এই সংখ্যাটা ২২ হাজার ৯২৯। এই জেলায় ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে।

এসআইআরে নাম বাদ পড়া নিয়ে সোচ্চার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। ছবি: Prabhakar/DW

পূর্ব বর্ধমানে ২ লক্ষ ৯ হাজার ৮০৫, নদিয়ায় ২ লক্ষ ৮ হাজার ৬২৬, উত্তর দিনাজপুরে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯৭২, হাওড়ায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার ১৫১, হুগলিতে ১ লক্ষ ২০ হাজার  জনের নাম বাদ পড়েছে। কোচবিহারে ১ লক্ষ ২০ হাজার ৭২৫ জন ভোটারের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

বিধানসভার হিসেব

জেলায় জেলায় কত নাম বাদ গেল, তার হিসাব পাওয়া গেলেও প্রতিটি বিধানসভায় এই সংখ্যা কত, সেটা কমিশন জানায়নি। 

গবেষক সংস্থা সবর ইনস্টিটিউট এ নিয়ে কয়েকটি কেন্দ্রে সমীক্ষা চালিয়েছে। তাদের সমীক্ষায় উঠে এসেছে, মূলত সংখ্যালঘু ও মহিলা ভোটারদের নাম বেশি বাদ গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা অনুযায়ী যে নাম বাদ পড়েছে, তার ৯৫ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু। বীরভূমের সিতাইয়ে যত নাম বাদ পড়েছে তার প্রায় ৮৮ শতাংশ সংখ্যালঘু। 

সবর ইনস্টিটিউট-এর গবেষক সাবির আহমেদ ডিডাব্লিউকে বলেন, "নন্দীগ্রামে যে ৯৫ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে, এর মধ্যে বিস্ময়ের কিছু নেই। আপনি যে কোনো বিধানসভার হিসাব করলেই দেখবেন, মুসলমানদের নাম বেশি বাদ গিয়েছে। ভবানীপুর ও সিতাইয়ের ক্ষেত্রেও আমরা এটা দেখেছি। যে দলকে সংখ্যালঘুরা গত কয়েকটা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ও যারা পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে চাইছে, এই দুই শিবিরের ফলাফলের ফারাক দেখা দিতে পারে।"

কার লাভ কার ক্ষতি

নতুন ভোটার তালিকায় কোন রাজনৈতিক দলের বেশি ক্ষতি হতে পারে, এটা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মইদুল ইসলাম ডিডাব্লিউকে বলেন, "মুসলিম ভোট বাদ গেলে তো তৃণমূলের একটা সমস্যা হবে। শেষ বড় নির্বাচন, মানে লোকসভা ভোটে তৃণমূল ১৯২টা কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল। এর মধ্যে যে সব কেন্দ্রে মার্জিন কম, মানে সেখানে নিশ্চিতভাবে একটা প্রভাব তো পড়বে। মানে যে সব কেন্দ্রে ধরুন ৫০০০-এর ভোটের কম ব্যবধান ছিল, সেখানে মুসলিম ভোট বাদ পড়েছে। এসব জায়গায় বাদ পড়াটা ফ্যাক্টর হবে।"

তবে এর বিপরীত দিকটাও আছে। মইদুল বলেন, "মতুয়া প্রধান এলাকায় তাদের ভোট এবং শহরাঞ্চলের কিছু অবাঙালি ভোট বাদ পড়ার ফলে বিজেপির অসুবিধা হবে। ওই জায়গায় বিজেপির সমস্যা হবে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার যে অবাঙালি ভোট এনুমারেশন পর্যায়ে অনেকটা বাদ গিয়েছে। মতুয়া বেল্ট বিশেষ করে নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনায় মতুয়া ভোট অনেক বাদ পড়েছে। এখানে আবার বিজেপি অসুবিধায় পড়বে। পরিবারের একজনের ভোট বাদ পড়লেও সেটা বিজেপির বিরুদ্ধে যাবে। ফলে অ্যারিথমেটিক যেমন একটা আছে, কেমিস্ট্রিও আছে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ডিডাব্লিউকে বলেন, "এখনো পারফেক্টলি বোঝা যাচ্ছে না যে, কত শতাংশ মুসলমান বাদ গিয়েছে কোন কোন আসনে। যেমন মুর্শিদাবাদ বা মালদায় যে সংখ্যক সংখ্যালঘু বাদ যাক, সেখানে বিজেপির আশা নেই। যেখানে ৭০ শতাংশই সংখ্যালঘু, সেখানে যত সংখ্যায় ভোটারের নাম কাটা যাক, সেখানে হিন্দু ভোট কনসোলিডেট করে বিজেপি অনেক আসনে জিতবে, সেটা বলা যায় না।"

তার মতে, "যে জায়গাতে মার্জিনালি বিজেপি হেরে গিয়েছে, সেখানে অবশ্যই বিজেপির সুবিধা হবে। ১৫টা এমন কেন্দ্র আছে যেখানে বিজেপি এক থেকে পাঁচ হাজারের মধ্যে ভোটে হেরেছে। এই আসনগুলোতে নিশ্চিতভাবে সংখ্যালঘু বা মহিলা ভোট বাদ গেলে বিজেপির সুবিধা হবেন।"

চলতি পরিস্থিতিতে তার অনুমান, "আসন সংখ্যা বিজেপির বাড়বে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। কিন্তু সেটা নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতার দিকে নিয়ে যেতে পারবে কি না বা তার থেকে কতটা কম থাকবে, সেটা কিন্তু এখনো বলার সময় আসেনি। এটা নিয়ে কোনো বিশ্বাসযোগ্য সার্ভেও আমি পাইনি। সুতরাং আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।"
ট্রাইবুনালে কী হবে

ট্রাইবুনাল ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। সেখানে নথি জমা দেয়ার জন্য জেলায় জেলায় পড়ছে। এই ভোটাররা এবার ভোট দিতে পারবেন কি না, সেটা পরিষ্কার নয়। সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার পরের শুনানিতে বিষয়টা স্পষ্ট হবে। 

রবীন্দ্রনাথ বলেন, "২৩ এপ্রিল যে ১৫২টা কেন্দ্রে ভোট নেয়া হবে, তার জন্য ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। আইন অনুযায়ী ভোটার লিস্টে আর নাম যুক্ত হওয়ার কথা নয়। তা সত্ত্বেও ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট এটা খতিয়ে দেখবে।  সুতরাং সেদিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। দ্বিতীয় দফার যে ভোট ২৯ এপ্রিল হবে, তার জন্য ভোটার তালিকা সাতদিনের মধ্যে ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে কী হতে পারে, তার আভাস পাওয়া যাবে পরের শুনানিতে।"

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ