চিড়িয়াখানা সংলগ্ন বা অন্যান্য অ্যাকোয়েরিয়ামে গেলে পানির নীচের জগত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়৷ ফ্রান্সের এক শহরে এক জলাধারে এক কোটি লিটার পানির মধ্যে বিস্ময়কর এক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে৷
ছবি: picture-alliance/dpa/Horst Pfeiffer
বিজ্ঞাপন
ফ্রান্সের জাতীয় সামুদ্রিক কেন্দ্রের মূল আকর্ষণ হলো ইউরোপের সবচেয়ে বড় অ্যাকোয়ারিয়াম৷ সেটির বিশাল জলাধারে প্রায় এক কোটি লিটার পানি রয়েছে৷ বিশ্বের সবচেয়ে বড় রে প্রজাতির মান্টা রে এই জলাধারের তারকা৷ সমুদ্রের তীরে অ্যাকোয়ারিয়াম ভবনের স্থাপত্যও এই প্রাণীর আদলে সৃষ্টি করা হয়েছে৷
ফ্রান্সের উত্তরে ইংলিশ চ্যানেলের তীরে ছোট্ট শহর বুলোন-স্যুর-ম্যার৷ সেখানেই প্রায় ১,৬০০ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণীর দেখা পাওয়া যায়৷ আক্ষরিক অর্থেই সেই জগতে ডুব দেওয়া যায়৷ অ্যাকোয়ারিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা স্টেফান এনার-এর মাথায় এমন আইডিয়া এসেছিল৷ তিনি বলেন, ‘‘মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন৷ এই জলাধার সমুদ্রের সৌন্দর্য ও সেই জগতের ভঙ্গুর প্রকৃতি তুলে ধরছে৷ এমন অসাধারণ স্থাপনা পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করে দিচ্ছে৷''
পানির নীচের জীবজগতের বৈচিত্র্য সেখানে দেখা যায়৷ এটি শুধু অ্যাকোয়ারিয়ামই নয়, একাধারে শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্রও বটে৷ সেখানে মোট ৬০,০০০ প্রাণী দেখা যায়, কয়েকটিকে এমনকি ছোঁয়াও যায়৷ বিশাল এই জলাধারের ইকোসিস্টেম প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বদিকে কলম্বিয়া উপকূলের মতো৷ সেখানেই মান্টা রে বিচরণ করে৷
এখানে অবশ্য সেই প্রাণীকে হাতে করে খাইয়ে দিতে হয়৷ যেমন একটি প্রাণীকে তিন কিলোগ্রাম চিংড়ির মিশ্রণ খাওয়ানো হচ্ছে৷ অ্যাকোয়েরিয়ামের কর্মী বলেন, ‘‘এই প্রাণীর সাঁতার কাটা দেখতে দারুণ লাগে৷ এমনিতে খুব শান্তিপূর্ণ হলেও এটি খুবই শক্তিশালী৷ এখানে এমন সুন্দর এক প্রাণীকে রাখার সুযোগ আমরা পেয়েছি৷''
মান্টা প্রজাতির প্রাণী আট মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে৷ এই প্রাণীটির বয়স কম হলেও এরই মধ্যে সেটি দুই মিটার দীর্ঘ হয়ে উঠেছে৷ অ্যাকোয়েরিয়ামের কর্মীরা এমন প্রাণীর খুব কাছে যেতে পারেন৷ পানিতে ডুব দিলে তাঁরা এই প্রাণীর অবস্থা ভালো করে পরীক্ষা করতে পারেন৷
বিচারকদের জন্য ভীষণ কষ্টকর ছিল কাজটি৷ কিন্তু এরপরও সেরা হিসেবে তারা বেছে নিয়েছেন অসাধারণ একটি স্থিরচিত্রকে৷ এখানে থাকছে সেরা ছবিগুলোর কয়েকটি৷
ছবি: Michael Nichols/Wildlife Photographer of the Year 2014
বরফ এবং পাখি
১৫ থেকে ১৭ বছর ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে এই ছবিটি৷ ছবিটি তুলতে সুইডিশ ফটোগ্রাফারকে বরফের মধ্যে গর্ত খুঁড়ে পাখিটির জন্য খাবার রাখতে হয়েছিল৷ আর তার ফলেই অসাধারণ এই ছবিটির জন্ম৷
ছবি: Edwin Sahlin/Wildlife Photographer of the Year 2014
প্রাকৃতিক বিশেষ ‘এফেক্ট’
চিলির আগ্নেয়গিরির অসাধারণ এই ছবিটি তুলেছেন ফ্রান্সিস্কো নেগ্রোনি৷ বিশ্বের পরিবেশ ত্যাটাগরিতে এটি পুরস্কার জিতে নিয়েছেন৷
ছবি: Francisco Negroni/Wildlife Photographer of the Year 2014
ইয়াং ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার
বাংলাদেশ হলে এই আলোকে বলা হতো ‘কনে দেখা আলো’৷ সেই আলোতে উত্তর পূর্ব স্পেনে কাকড়া বিছার এই ছবিটি তুলেছেন কার্লোস পেরেজ নাভাল৷ পাঁচ বছর বয়স থেকে ছবি তোলা শুরু করেন তিনি৷ এ বছর পেয়েছেন ইয়াং ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ারের পুরস্কার৷
ছবি: Carlos Perez Naval/Wildlife Photographer of the Year 2014
হাঙরের ছবি
মেক্সিকোর এই হাঙরের ছবিটি তুলেছেন রডরিগো ফ্রিস্কিওনে৷ ওয়ার্ল্ড ইন আওয়ার হ্যান্ডস ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে এটি৷
ছবি: Rodrigo Friscione Wyssmann/Wildlife Photographer of the Year 2014
স্কুইডের ডিস্কো
মাত্র তিন সেন্টিমিটার লম্বা এই স্কুইডটির ছবিটি তুলেছেন ফরাসি আলোকচিত্রী ফাবিয়েন মিশেনেট৷
ছবি: Fabien Michenet/Wildlife Photographer of the Year 2014
হামিং বার্ড
এই ছবিটি থেকেই আপনি মোটামুটি একটি ধারণা নিতে পারবেন কত অসাধারণ ছবি এবারের প্রতিযোগিতায় এসেছিল৷ ছবিটি দুটি হামিং বার্ডের৷ এই ছবিটি বার্ডস ক্যাটাগরিতে সেরা ছবির পুরস্কার জিতেছে৷
ছবি: Jan van der Greef/Wildlife Photographer of the Year 2014
বাদুড়
জার্মান একটি বাংকারে বাদুড়ের এই ছবিটি তুলেছেন লুকাস বোজিকি৷ ম্যামালস ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে এটি৷
ছবি: Łukasz Bożycki/Wildlife Photographer of the Year 2014
রোম্যান্টিক
ব্যাঙদের রোম্যান্টিক এই ছবিটি একই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে৷
ছবি: Anton Lilja/Wildlife Photographer of the Year 2014
অসাধারণ ‘স্ন্যাপশট’
ফটোগ্রাফারের ভাগ্য ভালো এটি কোনো বিষধর সাপ নয়৷ মার্ক মন্টেস অসাধারণ এই ছবিটি তুলেছেন স্পেনে৷ ক্যাটাগরি ১১ থেকে ১৪ বছর৷
ছবি: Marc Montes/Wildlife Photographer of the Year 2014
ইগুয়ানা
এই ইগুয়ানাটাকে দেখে মনে হচ্ছে কিছুটা দ্বিধা রয়েছে তার মধ্যে৷ কোস্টারিকায় এই ছবিটি তুলে পুরস্কার জিতেছেন উইল জেনকিনস৷
ছবি: Will Jenkins/Wildlife Photographer of the Year 2014
সেরাদের সেরা
তানজানিয়ার জাতীয় পার্কের এই ছবিটিতে সিংহদের দেখা যাচ্ছে৷ এই ছবিটি দেখে মনে হতে পারে অনেক বছর আগে তোলা, যেখানে আশেপাশে কোনো মানুষের চিহ্ন নেই৷ ছবিটি তোলার জন্য ছয় মাস এই সিংহদের পর্যবেক্ষণ করেছেন ফটোগ্রাফার মাইকেল নিকল্স৷ আর তাই ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার ২০১৪ জিতেছেন তিনি৷
ছবি: Michael Nichols/Wildlife Photographer of the Year 2014
11 ছবি1 | 11
এই জলাধার পরিষ্কার রাখাও বড় কাজ৷ সেইসঙ্গে দর্শকদের মনোরঞ্জনও করতে হয়৷ অ্যাকোয়ারিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা স্টেফান এনার মনে করেন, ‘‘প্রত্যেক দর্শকের কাছে বিশাল মান্টা রে আসছে৷ এমন অভিজ্ঞতার জন্য ডুবুরিদের প্রায় সারা জীবন ধরে অপেক্ষা করতে হয়৷ প্রত্যেক দর্শকেরই এমন দুর্লভ অভিজ্ঞতা ঘটে৷ প্রতিদিন এত মানুষ এমন জাদুময় পরিবেশের স্বাদ পাচ্ছে৷''
ডিডাব্লিউ রিপোর্টার হিসেবে হেন্ড্রিক ভেলিং এই অভিজ্ঞতার ফলে অভিভূত৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো এই বিশাল জলাধার৷ কখনো ভাবি নি, পানির নীচের জীবজগত সম্পর্কে এত সুন্দর ধারণা পাবো৷ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আমি এই অসাধারণ দৃশ্য দেখতে পারি৷''
ইউরোপের সবচেয়ে বড় অ্যাকোয়েরিয়াম যেন স্বপ্নের এক জগত৷