পিঁপড়া চোরাচালানের অপরাধে কেনিয়ায় ধৃত চার
১৬ এপ্রিল ২০২৫
পিঁপড়া চোরাচালানের অপরাধে দুই বেলজিয়ান তরুণ-সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে কেনিয়া কর্তৃপক্ষ। বন্যপ্রাণী ডাকাতির দায় মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয় তাদেরকে।
হাতি, গণ্ডার বা প্যাঙ্গোলিনের মতো বড় প্রাণীর দেহাংশ পাচার কেনিয়ায় সাধারণ ঘটনা। এই চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে বহুদিন থেকেই লড়াই করছে দেশের প্রশাসন। তবে তাদের বন্যপ্রাণী দপ্তর, কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস এই ঘটনাটি প্রসঙ্গে জানিয়েছে, 'বন্যপ্রাণী চোরাচালানের ক্ষেত্রে একটা পরিবর্তন দেখা গেছে। বড় স্তন্যপায়ী প্রাণীর পরিবর্তে এখন ছোট কিন্তু পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এমন প্রাণী পাচার হচ্ছে।'
এই ঘটনা সম্পর্কে যা জানা গেছে
দুই জন ১৯ বছর বয়সী বেলজিয়ান যুবকের কাছ থেকে পাঁচ এপ্রিল দুই হাজার ২৪৪ টি সিরিঞ্জ আর টেস্ট টিউবে তুলো দিয়ে রাখা পাঁচ হাজারটি পিঁপড়া উদ্ধার করা হয়েছে। জায়েন্ট আফ্রিকান হারভেস্টার অ্যান্ট নামের এই পিঁপড়া গুরুত্বপূর্ণ মেসর সেফালোটেস প্রজাতিভুক্ত।
কেনিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই পিঁপড়ার মূল্য প্রায় সাত হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার। তাদের পাচার করা হচ্ছিল বিশেষভাবে তৈরি টেস্ট টিউবে যার মধ্যে পিঁপড়াগুলি দুই মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকবে অথচ বিমানবন্দরের সুরক্ষাদ্বারে আটকাবে না।
এক্স হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতিতে বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, "যাত্রা পথে বাঁচিয়ে রাখার জন্য পিঁপড়েগুলিকে তুলো দিয়ে রাখা হয়ছিল। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে এটি পূর্বপরিকল্পিত চোরাচালানের অংশ।"
তারা আরো জানিয়েছে, ট্যুরিস্ট ভিসায় দেশে ঢুকে ধৃতরা ইউরোপ এবং এশিয়ার পোষ্য বাজারে এই চড়া দামে এই পিঁপড়া বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিল। পোষ্য দুনিয়ায় এখন পোকামাকড়ের চাহিদা বাড়ছে।
অন্য দুই ধৃতদের মধ্যে একজন ভিয়েতনামের এবং আরেজকন কেনিয়ার বাসিন্দা। তাদের থেকে ৪০০টি পিঁপড়া উদ্ধার হয়েছে।
মামলা এখন আদালতে
সোমবার আদালতে চারজনই তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে কেনিয়ার বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, একজন ধৃত বেলজিয়ান যুবক জানায়, "আমরা এখানে বেআইনি কাজ করতে আসিনি। নিজেদের নির্বুদ্ধিতায় ঘটনাচক্রে এই কাজ করেছি।" তারা বলেছে, , তারা মজা করে পিঁপড়ে ধরেছিল। এই কাজ যে বেআইনি তা তারা জানত না বলেও দাবি করে তারা। তারা জানায়, আদালত যেন তাদের প্রতি কঠোর মনোভাব না দেখায় সেই কারণে অপরাধ স্বীকার করে তারা।
আদালত ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করা হয়েছে। ধৃতরা ততদিন পুলিশের হেফাজতে থাকবে।
এসসি/জিএইচ(এপি, এএফপি, রয়টার্স)