1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

পৃথিবীতে মিঠা পানি কি ফুরিয়ে আসছে?

২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

পৃথিবীতে পানি পর্যাপ্ত বলেই আমরা জানি৷ কিন্তু ব্যাপক কৃষিকাজ, মাত্রাধিক পানি খরচ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের সবুজ গ্রহটিতে পানির আকাল দেখা দিতে পারে, বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা৷

Indien Dürre ausgetrockneter Wasserreservoir in Gujarat
ছবি: Getty Images/AFP/S. Panthaky

ভূপৃষ্ঠের তিন ভাগের দু'ভাগই সাগরের পানিতে ঢাকা, তা সে কম করেও এক বিলিয়ন ট্রিলিয়ন লিটার পানি৷ এমন গ্রহতে পানির আকাল হয় কী করে?

পৃথিবীর পানির অধিকাংশ কিন্তু মিঠা পানি নয়, নোনা জল৷ বলতে কি, সমগ্র পানির মাত্র আড়াই শতাংশ মিঠা পানি; সেই মিঠা পানির দুই-তৃতীয়াংশ আবার বরফ হয়ে জমে আছে সুমেরু, কুমেরু আর বিশ্বের নানা হিমবাহে৷ যেটুকু তরল মিঠা পানি বাকি থাকে, তাই দিয়ে মানুষের পান থেকে শুরু করে রান্নাবান্না, ক্ষেতে সেচ দেওয়া থেকে শুরু করে গৃহপালিত পশুদের তৃষ্ণা মেটানো, সমস্ত কাজ চালাতে হয়৷

পৃথিবীর পানির অধিকাংশ কিন্তু মিঠা পানি নয়, নোনা জল

সুবিধার দিকে এটাও বলতে হয় যে, পানি একটি নবায়নযোগ্য সম্পদ যা চক্রাকারে পরিবর্তিত হয় এবং আমাদের পৃথিবী গ্রহে মোট পানির পরিমাণ চিরকাল মোটামুটি একই থাকবে – অর্থাৎ ফুরিয়ে যাবে না৷ এখন প্রশ্ন হল, সব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি থাকবে কিনা৷

জলাভাব

নেদারল্যান্ডসের টোয়েন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী ভবিষ্যতে মোট ৪০০ কোটি মানুষ বছরে অন্তত একটি মাসের জন্য তীব্র জলাভাবের সম্মুখীন হতে পারেন৷ বিশ্বের কোনো কোনো অঞ্চলে ইতিমধ্যেই খরা ও ব্যাপক জলাভাব দেখা দিয়েছে, যেমন হর্ন অফ আফ্রিকা, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ বছরের পর বছর খরার শিকার হয়ে ক্ষুধা ও ব্যাধিতে পীড়িত হচ্ছেন৷ ওদিকে পাকিস্তান ২০২৫ সালের মধ্যেই পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে, বলে জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে৷

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিস্থিতি আরো করুন হবে৷ জলবায়ু পরিবর্তন সারা বিশ্বের আবহাওয়া ওমেঘ-বৃষ্টির নকশা বদলে দিচ্ছে, যার ফলে কোনো কোনো এলাকায় খরা ও অপরাপর এলাকায় অতিবৃষ্টি ও বন্যার অবতারণা ঘটছে৷ উচ্চ তাপমাত্রার ফলেও জলাশয়ের পানি উপে গিয়ে জলাভাব সৃষ্টি হতে পারে৷ আবার পানি সম্পদের ভুল ব্যবস্থাপনাও জলাভাবের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে৷ মাত্রাধিক নিষ্কাশনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চতা হ্রাস পেয়েছে; অপরদিকে নদী ও হ্রদ ইত্যাদি হয় শুকিয়ে আসছে, নয়ত দূষণের ফলে তাদের পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠছে৷

কৃষি

যে সব ক্ষেত্রে পানির ব্যবহার সর্বাধিক, তাদের মধ্যে প্রথমেই আসে কৃষিকাজ৷ বিশ্বের যাবতীয় মিঠা পানির প্রায় ৭০ শতাংশ খরচ হয় সেচে ও গৃহপালিত পশুদের পানি দিতে৷ আধুনিক কৃষিতে একদিকে যেমন পানির ব্যবহার কমানো সম্ভব হয়েছে, অপরদিকে কৃষিকাজের তীব্রতা ও ফলন বাড়ার দরুণ কোনো কোনো এলাকায় পানির চাহিদা স্থানীয় পানির সরবরাহকে ছাড়িয়ে গেছে – যেমন গোটা ইউরোপের টমেটো উৎপাদনের এক-চতুর্থাংশ আসে স্পেনের টমেটো চাষের এলাকাগুলিতে; কাজেই এখানে জলাভাব হওয়াটাই স্বাভাবিক৷

দূষণের ফলে তাদের পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠছেছবি: DW/M. Krishnan

পানির চাহিদা বাড়ছে

পানি ব্যবস্থাপনা যতই আধুনিক ও সুকৌশলী হোক না কেন, পানির চাহিদা যেভাবে বেড়ে চলেছে, তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা সেই ব্যবস্থাপনার নেই৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংগঠনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রান্নাবাটি ও ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিটি মানুষের দিনে ২০ লিটার বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন – স্নান অথবা কাপড় কাচাকে এর মধ্যে ধরা হয়নি৷ শিল্পোন্নত দেশগুলিতে পানির ব্যবহার এর চাইতে অনেক বেশি: জার্মানিতে একজন নাগরিক দিনে গড়ে ১৪০ লিটার পানি খরচ করে থাকেন, তার মধ্যে ৩০ লিটার যায় টয়লেট ফ্লাশ করতে৷

আমাদের ‘ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট' কার্বন ফুটপ্রিন্টকেও হারিয়ে দিতে পারে: এক কেতলি কফি তৈরি করতে সব মিলিয়ে পানি খরচ হয় ৮৪০ লিটার, একজোড়া জিন্স তৈরি করতে লাগে ৮,০০০ লিটার পানি৷

কাটারিনা ভেকার/এসি

বন্ধু, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আপনি কি কিছু করছেন? লিখুন নীচের ঘরে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ