২০ মে যাবৎ ফালুজা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন মানুষজন, কিন্তু ‘দায়েশ' বা আইএস এখনও কারফিউ জারি করে চলেছে, এছাড়া চারদিকে স্নাইপার, বলে প্রকাশ৷ কিছু নারী ও শিশু এভাবে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর৷
ইরাক অথবা সিরিয়ার অন্য যে কোনো শহরের চেয়ে বেশিদিন আইএস-এর হাতে রয়েছে রাজধানী বাগদাদের মাত্র ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সুন্নি অধ্যুষিত শহর ফালুজা৷ ২০১৪ সালের গোড়ায় আইএস ফালুজা দখল করে৷ গত বছর থেকেই ইরাকি সেনাবাহিনী শহরটিকে ঘিরে রেখেছে; মাঝেমধ্যে গোলাবর্ষণ করছে ও শহরটি পুনর্দখল করার চেষ্টা চলেছে৷
এবার দৃশ্যত ইরাক সরকার ফালুজাকে মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর৷ তাই ‘ব্রেক টেররিজম' নাম দিয়ে এই ‘গ্রাউন্ড অপারেশন' শুরু করা হয়েছে৷ গত রবি বার ইরাকি সৈন্যদের ফালুজার উপকণ্ঠ থেকে ‘সেলফি' তুলতে ও পাঠাতে দেখা যায়৷
সোমবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ফালুজা অভিযান শুরু হওয়ার কথা ঘোষণা করেন৷
মঙ্গলবারও ইরাকি সেনাবাহিনী গোলাবর্ষণ অব্যাহত রাখে৷
মঙ্গলবারই কুর্দি-আরব সেনাবাহিনী সিরিয়ার রাকা প্রদেশে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে একটি বড় আকারের অভিযান শুরু করে৷ ‘সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস' এদিন রাকা সিটি-র বিরুদ্ধে তাদের এ পর্যন্ত বৃহত্তম অভিযানের কথা ঘোষণা করেছে৷ এসডিএফ-এর এই যোদ্ধারা নাকি আংশিকভাবে মার্কিন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও মার্কিন অস্ত্রসজ্জিত৷ এছাড়া মার্কিন জঙ্গি বিমান অভিযানে এয়ার সাপোর্ট দেবে বলেও প্রকাশ৷
অপরদিকে ফালুজা অভিযানে ইরাকি সেনাবাহিনী ছাড়াও হাশেদ আল-শাবি নামধারী একটি আধা সামরিক সংগঠনের যোদ্ধারা বিশেষভাবে সক্রিয়৷ এই সংগঠনে তেহরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির প্রাধান্যই বেশি৷ কাজেই একদিকে সুন্নি আইএস, অন্যদিকে শিয়া ও কুর্দি – এভাবেই দু'টি পৃথক রণাঙ্গণে গুরুতর চাপের মুখে পড়েছে ইসলামিক স্টেট৷
এসি/এসিবি (রয়টার্স, এপি, এএফপি)
পেট্রোলিয়াম বিক্রি থেকে শুরু করে ব্যাংক ডাকাতি, অধিকৃত এলাকায় কর চাপানো এবং প্রাচীন সামগ্রী বিক্রি করে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট প্রায় ২০০ কোটি ডলার একত্র করেছে৷ তাতে তাদের আরও ২ বছর চলে যাবার কথা৷
ছবি: picture alliance/abacaবেআইনি ভাবে পেট্রোলিয়াম বিক্রি আইএস-এর আয়ের প্রধান উৎস৷ সিরিয়া ও ইরাকে বেশ কিছু বড় তৈলকূপ আপাতত তাদের দখলে৷ মূলত তুরস্কের মধ্য দিয়েই তারা চোরাচালানের কাজ চালিয়ে থাকে৷ মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, কালোবাজারে তেল বিক্রি করে আইএস-এর মাসে প্রায় ৪ কোটি ডলার আয় হয়৷
ছবি: Getty Images/J. Mooreসিরিয়া ও ইরাকে কোনো এলাকা দখলের পর আইএস সবার আগে ব্যাংকগুলি কবজা করে ফেলে৷ মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, এভাবে তারা ৫০ থেকে ১০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছে৷ শুধু মোসুল শহর দখল করেই তারা নাকি ৬২ কোটি ডলার লুট করেছিল৷ বছরে প্রায় ৫০,০০০ জিহাদি কর্মীর বেতন দিতে এই অর্থ যথেষ্ট৷
ছবি: Getty Images/S. Plattআইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকার প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষকে ৫ থেকে ১৩ শতাংশ আয়কর দিতে হয়৷ জার্মান সরকারের সূত্র অনুযায়ী, আইএস অ-মুসলিমদের কাছ থেকে জিজিয়া করও আদায় করে৷ তাছাড়া চাঁদাবাজিও তাদের আয়ের আরেকটি উৎস৷
ছবি: DW/Andreas Stahl‘জিহাদিরা’ আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ ধ্বংস করতে অভ্যস্ত৷ তবে বেশি দামি অ্যান্টিক সম্পদ সযত্নে সরিয়ে ফেলে কালোবাজারে বিক্রি করে তারা৷ প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছ থেকেও অমূল্য সম্পদ কেড়ে নিয়ে বিক্রি করতে পিছপা হয় না এই গোষ্ঠী৷ তবে বিক্রিমূল্যের সঠিক অঙ্ক জানা নেই৷
ছবি: Getty Images/AFP/J. Eidমানুষজনকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় আইএস-এর দু-মুখী চাল৷ একদিকে এটা আয়ের একটা উৎস, অন্যদিকে এর মাধ্যমে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রচারণার কাজও হয়ে যায়৷ কিছু ‘মূল্যবান’ জিম্মির শিরশ্ছেদ করে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে প্রচারণার ক্ষেত্রে বিপুল সাফল্য পায় আইএস৷
ছবি: picture-alliance/AP Photoআইএস-এর প্রতি সহানুভূতিপ্রবণ মানুষ গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে রয়েছে৷ তারা এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তহবিলে আর্থিক অবদান রাখে৷ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সূত্র অনুযায়ী সৌদি আরবে ২০১০ সাল থেকে ৮৬০ জন ব্যক্তিকে সন্ত্রাসের কাজে আর্থিক সাহায্য দেবার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে৷ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ সেখানে ১০০ জনের শাস্তি হয়েছে৷
ছবি: picture alliance/J. Greve