বাংলাদেশে নিষিদ্ধঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের অন্তত ৩১১ সদস্য এখন পলাতক৷ এক বিশেষ প্রতিবেদনে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)-কে উদ্ধৃত করে এসব তথ্য জানিয়েছে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার প্রথম আলো৷
পলাতকদের মধ্যে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-র ১৮৫ জন, আনসার আল ইসলামের ৮৩ জন, হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজি-বি)-র ১৬ জন, নব্য জেএমবির ১৬ জন, ‘আল্লাহর দল’-এর ৯ জন, জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ১ জন এবং ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’র ১ জন রয়েছেন৷ এর বাইরে নিষিদ্ধ আরেক সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের ৫৯ জন বিভিন্ন মামলায় পলাতক রয়েছেন বলে এটিইউর তথ্যে এসেছে৷ছবি: DW
বিজ্ঞাপন
নজরুল ইসলামের করা প্রতিবেদনে বলা হয়, পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা এসব ব্যক্তি উগ্রবাদী তৎপরতাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলার আসামি৷ এর বাইরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন গাজীপুরের কাশিমপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান উগ্রবাদী তৎপরতাসংশ্লিষ্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৯ জন কারাবন্দি৷ পলাতক এসব উগ্রপন্থির অবস্থান ও তৎপরতা নিয়ে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্বেগের কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে৷
পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) গত এপ্রিল পর্যন্ত হালনাগাদ করা তথ্য থেকে পলাতক উগ্রপন্থিদের তথ্য পাওয়া যায়৷ পলাতকদের মধ্যে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-র ১৮৫ জন, আনসার আল ইসলামের ৮৩ জন, হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজি-বি)-র ১৬ জন, নব্য জেএমবির ১৬ জন, ‘আল্লাহর দল'-এর ৯ জন, জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ১ জন এবং ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা'র ১ জন রয়েছেন৷ এর বাইরে নিষিদ্ধ আরেক সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের ৫৯ জন বিভিন্ন মামলায় পলাতক রয়েছেন বলে এটিইউর তথ্যে এসেছে৷
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, জেল পলাতক, জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে থাকা এবং মামলার আসামি হিসেবে পলাতক দুর্ধর্ষ উগ্রপন্থিরা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি৷ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া অধিকাংশ আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি৷ এই বাস্তবতায় পলাতক উগ্রপন্থিদের ওপর নজরদারি জরুরি৷ সুযোগ পেলে তারা সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন৷
পলাতক উগ্রপন্থিদের দিক থেকে কোনো হুমকি রয়েছে কি না— জানতে চাইলে গত ৪ এপ্রিল এটিইউর প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম কোনো মন্তব্য করেননি৷ তবে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই৷ দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ উগ্রবাদ পছন্দ করেন না৷''
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় কাশিমপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটে৷ ওই দিন দুর্বৃত্তরা কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে তৃতীয় তলার গুদামে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ এ সময় উগ্রবাদী তৎপরতাসংশ্লিষ্ট মামলায় কারাবন্দি ৯ জনসহ মোট ২০২ বন্দি পালিয়ে যান৷
এটিইউ সূত্র জানায়, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সারা দেশে বিভিন্ন মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রপন্থি সংগঠনগুলোর ২ হাজার ১৪৩ সদস্য গ্রেপ্তার হন৷ ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন ১ হাজার ৬১১ জন৷ তাদের মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন ৩৮০ জন৷ এখন কারাগারে আছেন ১৬২ জন৷
ঘটনাটি কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়, আলোড়ন উঠেছিল দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে৷
ছবি: bdnews24.com
গুলশানে হামলা
বিশ্ব মানচিত্রে পরস্পরের সঙ্গে লাগোয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন বাংলাদেশ অর্ধ শতাব্দী পূর্বে স্বাধীন হয়েছে ধর্ম নিরপেক্ষতার চেতনায়৷ দেড় দশক ধরে নানা জায়গায় মুসলিম জঙ্গিবাদ ছড়ালেও খানিকটা যেন নিরাপদেই ছিল দেশটি৷ রাজনৈতিক সহিংসতা ছিল৷ তার অনেকগুলোতে জঙ্গিদের ব্যবহারের কথাও তদন্তে উঠে আসে৷ তবে ঘোষণা দিয়ে বড় ধরণের হামলা আর হয়নি৷ এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়েছে গোটা দেশ৷
ছবি: bdnews24.com
যেভাবে শুরু
তখন ছিল রমজান৷ ঘটনার দিন ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে একদল অস্ত্রধারী গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট ঢুকে পড়ে৷ স্প্যানিশ ওই রেস্টুরেন্টটির নাম হোলি আর্টিজান৷ ঢোকার সময়ই তারা বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করে৷
ছবি: bdnews24.com
জিম্মি দশা
অস্ত্রধারীরা রেস্টুরেন্টে ঢোকার পর সেখানে জিম্মি সংকট শুরু হয়৷ বাইরে চলে নানা গুজব৷ হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন রেস্টুরেন্টকর্মী বের হয়ে আসতে সক্ষম হন৷ বাংলাদেশে এর আগে ১৯৭৭ সালে ঢাকায় আরেকটি জিম্মি সংকট ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছিল৷ তখন মুম্বাই থেকে টোকিওগামী একটি জাপানি বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে বিমানটি ঢাকায় নামিয়েছিল দেশটির বামপন্থি বিদ্রোহী দল ‘ইউনাইটেড রেড আর্মি’৷
ছবি: picture-alliance/abaca
কোথায়
অবস্থানগত কারণেও এই ঘটনা আলোচনায় ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে৷ কারণ, রেস্তোরাঁটি ঢাকার গুলশান এলাকায়৷ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস রয়েছে এই এলাকায়৷ কয়েকটি দূতাবাস তো রেস্টুরেন্টের একেবারেই কাছে৷
ছবি: picture-alliance/Pacific Press Agency/M. Hasan
টার্গেট বিদেশি, টার্গেট হোলি আর্টিজান
ঢাকার অভিজাত এই এলাকার রেস্টুরেন্টটিতে পোষা প্রাণী নিয়ে প্রবেশ করা যেতো৷ এর ভেতরে উন্মুক্ত লন ছিল, সেখানে বাচ্চারা খেলাধুলা করতে পারতো৷ ওই এলাকায় থাকা বিদেশিদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিল রেস্টুরেন্টটি৷ বিদেশিদের টার্গেট করতেই এই রেস্টুরেন্টকে বেছে নেয়া হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন৷
ছবি: bdnews24.com
প্রাণহানি পুলিশেরও
জিম্মি সংকট শুরুর পর ঘটনা সামলাতে এগিয়ে যায় পুলিশ বাহিনী৷ কিন্তু প্রথম দিকেই জঙ্গিদের হামলায় বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম প্রাণ হারান৷ এতে আতঙ্ক আরো বাড়ে৷
ছবি: bdnews24.com
ডাক পড়ে সেনাবাহিনীর
পুলিশ হতাহত হওয়ার পর অভিযান নিয়ে নতুন করে চিন্তা শুরু হয়৷ এক পর্যায়ে জঙ্গিদের কবল থেকে ওই রেস্টুরেন্টটি মুক্ত করার অভিযান রাতে কার্যত স্থগিত হয়ে যায়৷ শেষ পর্যন্ত ডাক পড়ে সেনাবাহিনীর৷ সাঁজোয়া যান নিয়ে সেনা সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন৷
ছবি: bdnews24.com
আইএস সংশ্লিষ্টতা
রাতে জিম্মি দশা চলাকালে তথাকথিত ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আইএস হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর আসতে থাকে৷ তবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তা অস্বীকার করে৷
ছবি: Reuters/A.Konstantinidis
কিভাবে ঘটনার শেষ
ঘটনার অবসান হয় প্রায় ১২ ঘণ্টা পর সেনা অভিযানে৷ অবশ্য তার আগেই জঙ্গিরা সেখানে থাকা ২০ জনকে খুন করে৷ মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারির জিম্মি সংকটের অবসান ঘটে৷ জীবিত উদ্ধার করা হয় এক জাপানি ও দুই শ্রীলঙ্কানসহ মোট ১৩ জনকে৷
ছবি: bdnews24.com
আলোচিত সেই বাড়ি
ঘটনার পর রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায় গুলশানের সেই বাড়ি৷ যে রেস্টুরেন্টে হামলা হয়েছিল, তার মালিক ঘটনার পর বাড়িটি ফিরিয়ে নেন৷
ছবি: bdnews24.com
নতুন ঠিকানায় হোলি আর্টিজান
গত বছরের ১ জুলাই রাতে যখন হামলা হয়, তখন হোলি আর্টিজান ছিল গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর বাড়িতে৷ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জানুয়ারিতে এসে গুলশান এভিনিউর র্যাংগস আর্কেডের দ্বিতীয় তলায় নতুন করে চালু হয় রেস্টুরেন্টি৷
ছবি: bdnews24.com
জঙ্গিবাদ ও বিচার
এই ঘটনার পর আইএস দায় স্বীকার করলেও বাংলাদেশ সরকার এর জন্য স্থানীয় জঙ্গি সংগঠন জেএমবির পুনর্গঠিত একটি শাখাকে দায়ী মনে করে৷ ঘুরে ফিরে এর সঙ্গে জড়িত হিসাবে একই ব্যক্তিদের নাম আসতে থাকে৷ সরকার তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে৷ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আগাম পদক্ষেপে তাদের বহু ঘাঁটি ও অবস্থানস্থল ধ্বং হয়ে গেছে৷ সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, এই ঘটনার তদন্ত শেষ করতে ৫ ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে৷
ছবি: picture-alliance/AP Photo
12 ছবি1 | 12
লিশের বিশেষায়িত ইউনিট অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট এটিইউর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের দেশের ১৬ কারাগারে উগ্রপন্থি বিভিন্ন সংগঠনের ৫৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, ৪৬ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং ২৫ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আছেন৷ এ ছাড়া কারাবন্দি আরো ৩২ জনের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর বিচার চলছে৷
পুলিশ সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রথম আলো জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন আলোচিত উগ্রপন্থি নেতাও রয়েছেন৷ গত বছরের ২০ অক্টোবর জামিনে মুক্ত হন জসীম উদ্দিন রাহমানী৷ আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তার নামে আরো দুটি মামলা বিচারাধীন৷ এর একটি চলছে ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে, অন্যটি সাইবার ট্রাইব্যুনালে৷ মামলায় পুলিশ তাকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে৷ মুক্তি পাওয়ার পর বিভিন্ন বক্তৃতায় দাবি করেছেন, তিনি এই সংগঠনের নেতা নন৷
নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন জেএমবির প্রধান মাওলানা সাইদুর রহমান গত ২১ মার্চ কাশিমপুর-২ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন৷ এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মহিলা মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ যাকে মূল ব্যক্তি মনে করছে, সেই শেখ আল আমিন ও তার কয়েক সহযোগী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে বের হন৷ কেরানীগঞ্জের ঘটনার পর তাঁরা আবার গ্রেপ্তার হয়েছেন৷
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় পলাতক ও জামিনে মুক্ত উগ্রপন্থিদের ওপর নজরদারি শিথিল করার সুযোগ নেই৷ বিশেষ করে কারাগার থেকে পালানো, জামিনে বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়া এবং মামলার আসামি হয়ে পলাতক থাকা ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ৷
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশে উগ্রবাদী তৎপরতা ঘিরে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল৷ সেই সময় ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, শিক্ষক ও বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা ঘটে৷ ২০১৬ সালে রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়৷ এর আগে ২০০৫ সালে ৬৩ জেলায় একযোগে ৫০০ বোমা ফাটায় জেএমবি৷
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় পলাতক ও জামিনে মুক্ত উগ্রপন্থিদের ওপর নজরদারি শিথিল করার সুযোগ নেই৷ বিশেষ করে কারাগার থেকে পালানো, জামিনে বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়া এবং মামলার আসামি হয়ে পলাতক থাকা ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ৷
২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় পাঁচ জঙ্গিসহ ২৯ জন নিহত হয়৷ হামলায় জড়িত থাকার দায়ে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে৷
ছবি: bdnews24.com
হামলা শুরু
২০১৬ সালের ১ জুলাই শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে ঢাকার গুলশান দুই-এর ৭৯ নম্বর সড়কের পাঁচ নম্বর বাড়ির হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা হয়৷
ছবি: bdnews24.com
হামলাকারী
সরাসরি হামলায় অংশ নেন পাঁচজন৷ তারা হলেন: রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশ৷ শনিবার সকালে সেনা কমান্ডো অভিযানে তারা সবাই নিহত হন৷ ছবিতে হামলাকারী নিবরাস ইসলামকে দেখা যাচ্ছে৷
ছবি: Reuters/Courtesy SITE Intel Group
নিহত
মোট ২৯ জন প্রাণ হারান৷ এর মধ্যে পাঁচ জঙ্গিসহ এক রেস্তোরাঁ কর্মী ও একজন শেফ কমান্ডো অভিযানে নিহত হন৷ বাকি ২২ জনের মধ্যে অভিযান চালাতে গিয়ে প্রাণ হারান দুই পুলিশ৷ তাঁরা হলেন গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানীর ওসি মো. সালাহউদ্দিন খান৷ বাকি ২০ জনের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি, নয়জন ইটালীয়, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতীয়৷ নিহত বাংলাদেশিরা হলেন ইশরাত আকন্দ, ফারাজ আইয়াজ হোসেন ও অবিন্তা কবীর৷
ছবি: Reuters/A. Abidi
কমান্ডো অভিযান
২ জুলাই শনিবার সকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা অভিযান চালান৷ এতে পাঁচ জঙ্গিসহ সাতজন নিহত হন৷ অভিযান শেষে নারী-শিশুসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়৷
ছবি: picture-alliance/AP Photo
মামলা দায়ের
২০১৬ সালের ২ জুলাই সন্ত্রাস দমন আইনে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন গুলশান থানার এসআই রিপন কুমার দাস৷
ছবি: Reuters/M. Hossain Opu
চার্জশিট
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আটজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়৷ তদন্তে হামলায় ২১ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়৷ এর মধ্যে ১৩ জন কমান্ডো অভিযান ও পরবর্তীতে জঙ্গিবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে নিহত হন৷ সে কারণে ওই ১৩ জনকে বাদ দিয়ে আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়৷
ছবি: picture-alliance/abaca
যাদের আসামি করা হয়নি
জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হাসনাত রেজাউল করিম ও তাহমিদ হাসিব খানকে (ছবি) গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে আসামি করা হয়নি৷
ছবি: Getty Images/AFP/R. Asad
জঙ্গিবিরোধী অভিযান
বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত আটজন হলেন: তামিম চৌধুরী, সরোয়ার জাহান ওরফে আব্দুর রহমান, তানভীর কাদেরী ওরফে জামসেদ, নুরুল ইসলাম মারজান, বাশারুজ্জামান চকোলেট, মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ও রায়হান কবির ওরফে তারেক৷
ছবি: DW/ISPR
বিচারকাজ শুরু
চাজশিট দেয়ার প্রায় চার মাস পর ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করে৷ আদালত ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে ২৭ নভেম্বর রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন৷
ছবি: Getty Images/M. H. Opu
রায়
বিচার শুরুর এক বছরের মাথায় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর আট আসামির মধ্যে সাত জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত৷ তারা হলেন জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলামুল ইসলাম ওরফে রাশেদ ওরফে র্যাশ, আব্দুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাকিবুল হাসান রিগান, মামুনুর রশিদ রিপন ও শরীফুল ইসলাম খালিদ৷ মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দেয়া হয়েছে৷
ছবি: bdnews24.com
স্বীকারোক্তি
ছয় আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন৷ মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মামুনুর রশিদ রিপন ও শরীফুল ইসলাম খালিদ জবানবন্দি দেননি৷