1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

উচ্চশিক্ষিতরাই বেশি বেকার

হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা২৩ মে ২০১৬

বাংলাদেশে প্রতিবছর ২২ লাখ কর্মক্ষম লোক চাকরি বা কাজের বাজারে প্রবেশ করেন৷ কিন্তু কাজ পান মাত্র সাত লাখ মানুষ৷ অর্থাৎ দুই তৃতীয়াংশ কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ পান না৷ সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাই বেশি৷

Symbolbild Wirtschaft Spionage
ছবি: Colourbox

ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছরই উচ্চশিক্ষা নিয়ে শ্রমবাজারে আসা চাকরি প্রার্থীদের প্রায় অর্ধেক বেকার থাকছেন অথবা তাঁদের চাহিদামত কাজ পাচ্ছেন না৷

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে বাংলাদেশের শতকরা ৪৭ ভাগ স্নাতকই বেকার৷ যেখানে ভারতে ৩৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ২৮ শতাংশ, নেপালে ২০ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেকার রয়েছেন৷

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তরসহ উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেছেন কম-বেশি সাড়ে তিন লাখ৷ তাঁদের মধ্যে ৯২ হাজার ৭৪৭ জন স্নাতক পাস, এক লাখ ২৮ হাজার ৪৮১ জন স্নাতক সম্মান এবং ২১ হাজার ৩৮০ জন কারিগরি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন৷ এছাড়া এক লাখ ১৯ হাজার ৮৯৪ জন স্নাতোকত্তর ডিগ্রি, দুই হাজার ৩৮৫ জন স্নাতোকত্তর কারিগরি এবং এক হাজার ৭৬৩ জন এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন৷ অন্যদিকে ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট অর্জন করেন দুই হাজার ৩৩৫ জন৷

‘‘শিক্ষিতরা চাহিদামত চাকরি পাচ্ছেন না’’

This browser does not support the audio element.

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে শ্রমশক্তির পরিমাণ পাঁচ কোটি ৬৭ লাখ৷ আর আইএলও-এর তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি৷ বেকারত্বের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে দু-এক বছরের মধ্যে সালে মোট বেকারের সংখ্যা ছয় কোটিতে দাঁড়াবে৷ বেকারত্ব বাড়ছে এমন ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান ১২তম৷

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বেকারত্বের হার প্রায় পাঁচ ভাগ৷ তবে এই হার নারী ও তরুণদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি৷ তরুণীদের বেকারত্বের হার ৯.৫ ভাগ৷ বিশ্বব্যাংকের এই হিসাব বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে নেয়া৷ তাই বিশ্বব্যাংক মনে করে বেকারত্বের প্রকৃত হার ১৪.২ শতাংশ হবে৷

বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষিতদের চাকরির বাজারের অবস্থাটা ব্যাখ্যা করেন চাকরি ভিত্তিক ওয়েবসাইট বিডিজবসডটকম-এর প্রধান নিবাহী ফাহিম মাশরুর৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এক্সিকিউটিভ লেভেলের চাকরির খবর প্রকাশ করি, যা স্নাতক এবং স্নাতোকত্তর পাশ যাঁরা করেন তাঁদের জন্য৷ বাংলাদেশের প্রায় ১৫ হাজার প্রতিষ্ঠান আমাদের সাইটে ‘জব অফার' করে থাকে৷ বছরে গড়ে ৪০ হাজার চাতরির ‘অফার' দেয়া হয়৷ কিন্তু চাকরি প্রার্থী বছরে প্রায় ২০ লাখ৷''

ফাহিম জানান, ‘‘এখানে যাঁরা চাকরি খোঁজেন তাঁরা যে সবাই বেকার, তা নন৷ কেউ কেউ পুরনো চাকরি ছেড়ে নতুন চাকরিতেও যেতে চান৷ তবে বড় অংশই হলো বেকার বা নতুন চাকরিতে ঢুকতে চান এমন মানুষ৷''

তাঁর কথায়, ‘‘শিক্ষিতদের অনেকেই তাঁদের চাহিদামত চাকরি পাচ্ছেন না৷ আবার নিয়োগকারীও সব সময় তাঁদের চাহিদামত দক্ষ শ্রমশক্তি পান না৷ এটা একটা সমস্যা৷''

‘‘বাংলাদেশে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি বিরাজ করছে’’

This browser does not support the audio element.

ওদিকে বাংলাদেশে এখনো কৃষিখাতেই সবচেয়ে বেশি লোক কাজ করেন৷ এখনো বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪৮ ভাত কৃষি খাতে, ৩৭ ভাগ সেবা খাতে এবং শিল্পখাতে ১৫ ভাগ৷

বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে ভোগ্যপণ্য উৎপাদন, বিপণন, আর্থিক সেবা খাত, শিক্ষা প্রশাসন কৃষি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পর্যটনশিল্প, আবাসন, স্বাস্থ্য, তথ্য-প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে৷ কাজের সুযোগ বেড়েছে টেলিযোগাযোগ, পোশাকশিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও৷

এছাড়া বাংলাদেশের ওষুধশিল্প কর্মসংস্থানের বড় একটি খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে৷ সরকারি চাকরির বাইরে প্রতিবছর এখন প্রায় ৭০ হাজার চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়৷

বাংলাদেশে আরো কয়েকটি খাত কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তারা চাহিদামত দক্ষ জনশক্তি পাচ্ছে না৷ এর মধ্যে রয়েছে কৃষিজাত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ, পর্যটন ও হালকা কারিগরি নির্মাণ শিল্প৷

বাংলাদেশের পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা কয়েক হাজার, যাঁরা মোটা অঙ্কের বেতন পান৷ মার্চেন্ডাইজার, প্যাটার্ন মাস্টার ও ডায়িংয়ে অনেক বিদেশি কাজ করেন৷

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ আমরা কৃষ্টি থেকে শিল্পের দিকে যাচ্ছি৷ আর আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়৷ বাংলাদেশে প্রকিবছর যেসব উচ্চশিক্ষিত শ্রমশক্তি বের হচ্ছে, তাদের শিক্ষার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই৷ ফলে তাঁরা বেকার থাকছেন৷''

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে এখন দরকার ডিজাইনার, বিশেষ করে ফ্যাশান ডিজাইনার৷ কিন্তু আমরা ভুরি ভুরি এমবিএ ডিগ্রিধারী তৈরি করছি, যাঁদের কাজ নেই৷ অন্যদিকে ফ্যাশান ডিজাইনার আনছি বিদেশ থেকে৷ পোশাক খাতেই আমরা বছরে বিদেশিদের বেতন দিয়ে থাকি অন্তত পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার৷''

ড. নাজনীন বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা আরো বাড়বে৷'' তাই তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের বড় তিনটি খাত পোশাক, চামড়া এবং ওষুধশিল্প৷ কিন্তু এ খাতের মূল পদগুলো বিদেশিদের দখলে৷ আর তার কারণ, আমাদের দক্ষ জনশক্তি নেই৷''

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ