1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে চীন

হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা৩০ মার্চ ২০১৬

পটুয়াখালির পায়রা এলকায় বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে৷ বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) এতে ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে খবর৷

বিদ্যুৎকেন্দ্র
ছবি: Anonymous/AP/dapd

বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড বা বিসিপিসিএল-এর সঙ্গে চীনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দ্য ফার্স্ট নর্থ-ইস্ট ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির (এনইপিসি) এই চুক্তি অনুযায়ী বুধবার থেকেই অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে৷

বিসিপিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুরশিদ উল আলম বলেছেন, ‘‘সমান অংশীদারত্বের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ঐ প্রকল্পের একটি চুক্তি সই হয়েছে৷'' সেই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎসহ মোট ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, এই প্রকল্পটি তারই অংশ৷

খুরশিদ উল আলম জানান, বিদ্যুৎ প্রকল্পের ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ আসবে চীনের বেশ কয়েকটি ব্যাংকের কাছ থেকে, ঋণ হিসেবে৷ বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হবে৷ আর কয়লা আমদানি করা হবে ইন্দোনেশিয়া, চীন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে৷

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

This browser does not support the audio element.

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের সমান অংশীদারত্বের (৫০:৫০) ওপর প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড' বা বিসিপিসিএল শীর্ষক একটি কোম্পানি গঠন করা হয়৷

খুরশিদ উল আলম বলেন, ‘‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীর পায়রায় প্রায় ৯৮৩ একর জমি বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে৷ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সেখানকার ১৩২টি জেলে পরিবারকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণসহ তাদের পুনর্বাসিত করা হচ্ছে, বিসিপিসিএল নির্মিত নতুন আবাসনে৷''

জানা গেছে, উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য থেকে ইউনিট প্রতি (এক কিলোওয়াট) শূন্য দশমিক তিন পয়সা রাখা হবে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) কার্যক্রমের আওতায় জনকল্যাণে ব্যয় করার জন্য৷

২০১৯ সাল নাগাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হবে বলে৷ জানা গেছে দুই ইউনিটবিশিষ্ট ঐ কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিট ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন৷ প্রথম ইউনিটটি ২০১৯ সালের এপ্রিলে উৎপাদনে যাবে এবং অন্য ইউনিটটি এর ছয় মাস পর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে বলে জানিয়েছেন খুরশিদ উল আলম৷

ভারতের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় রামপালে আরো একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে, যার বিরোধিতা করছেন পরিবেশবাদীরা৷ তবে পটুয়াখালির এই প্রকল্প নিয়ে তেমন কথা বলতে চান না তারা৷ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) প্রধান ড. আবদুল মতিন ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘‘এটা নিয়ে আমি এখন কথা বলতে চাই না৷ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কথা বলেই বিপদে আছি৷ তবে স্থানীয়ভবে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা আছে৷''

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং বন্দর রক্ষা আন্দোলনের নেতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পটুয়াখালীর এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হবে কিনা, তা আমরা এখনো নিশ্চিত নই৷ তবে প্রকল্পের কারণে স্থানীয়রা যে উচ্ছেদ হবেন, তা নিশ্চিত৷''

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১১ হাজার মেগাওয়াট এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ সাড়ে আট হাজার মেগাওয়াট৷ প্রতিবছর ১০ শতাংশ বৃদ্ধি অনুসারে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা দাঁড়াবে ২৪ হাজার মেগাওয়াটে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ