বাংলাদেশে জঙ্গিদের শক্তি এখন কেমন?
২৯ এপ্রিল ২০২৬
এরপর মঙ্গলবার এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে৷
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিট ডিবি ঢাকার দুটি স্থান থেকে চারজনকে গ্রেপ্তারের খবর প্রচার করা থেকে বিরত থেকেছে৷ মঙ্গলবার কামরাঙ্গীরচর ও কেরাণীগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়৷ এ সময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ড্রোন ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়৷
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) ও আবু বক্কর (২৫)৷ তারা নিষিদ্ধ সংগঠন ‘আকসা'র সক্রিয় সদস্য এবং বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও হামলার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে৷ তাদের সঙ্গে তেহেরিক-ই-তালিবান অব পাকিস্তানের (টিটিপি) যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে৷
এর আগে চট্টগ্রামের একটি ঘাঁটি থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এক ওয়ারেন্ট অফিসারের সন্ধান মেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) এক ডেরায়৷ ঐ ঘটনার পর সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরে উগ্রপন্থি নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়৷ পাকিস্তান সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত টিটিপির পক্ষে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ওই সদস্য কাজ করছেন৷
বাংলাদেশে টিটিপির উপস্থিতি নতুন নয়৷ ২০১৩ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে তিন টিটিপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ এমনকি গতবছর পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে অন্তত চার জন বাংলাদেশি টিটিপি যোদ্ধা হিসেবে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়৷
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা যা বলেছেন
মঙ্গলবার ঢাকায় কোস্টগার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দেশে জঙ্গি উত্থান বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘আমি আপনাদের প্রশ্নগুলো বুঝতে পেরেছি৷ কিন্তু আমি ওই শব্দকে রিকগনাইজ (স্বীকৃতি দেওয়া) করি না৷ আমাদের দেশে এ রকম কোনো তৎপরতা নেই৷ কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ (উগ্রপন্থি গোষ্ঠী) থাকে, পৃথিবীর সব দেশেই এ রকম অ্যাকটিভ (সক্রিয়) থাকে, র্যাডিক্যাল কিছু ফোর্স থাকে, ফান্ডামেন্টাল কিছু পলিটিক্যাল পার্টি থাকে, এগুলোতে আমরা ইউজড টু, এগুলো থাকে৷ কিন্তু সেই বিষয়ে আপনি যে শব্দ উচ্চারণ করলেন আমাদের দেশের বর্তমান কালচারে (সংস্কৃতি) সেটা এখন আর নেই৷ আগে সেই শব্দটা উচ্চারিত হতো ফ্যাসিবাদী আমলের সময়, তারা নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত৷ বর্তমানে বাংলাদেশে সেগুলোর এক্সিসট্যান্স (অস্তিত্ব) নেই৷''
একইদিন সচিবালয়ে দেশে জঙ্গি রয়েছে স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘‘সরকার এটাকে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে৷'' তিনি বলেন, ‘‘এটা ফ্যাক্ট, বাংলাদেশে জঙ্গি আছে৷ কিন্তু এখানে দুটো এক্সট্রিম (চরমপন্থা) আছে, আমি দুটো এক্সট্রিমের কথা বলি৷ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জঙ্গি সমস্যা যেই স্কেলে দেখানো হয়েছে, এটা তাদের ক্ষমতায় থাকার একটা ন্যারেটিভ হিসেবে তারা ব্যবহার করেছিলেন যে বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, জঙ্গিরা সব দখল করবে৷ আবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই আলাপ কেউ কেউ করার চেষ্টা করেছেন যে, বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই৷ এটাও আরেকটা এক্সট্রিম, এটাও ভুল কথা৷ বাংলাদেশে একটা পর্যায়ে মিলিট্যান্সি, জঙ্গিবাদ ছিল, আছে৷ সেটাকে আমরা আসলে কমব্যাট করতে চাই৷''
বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ কীসের আলামত?
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গায় বোমা তৈরির সময় একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে৷ এতে আল আমিন ও জিহাদ আলী নামে দুই তরুণ নিহত হন৷ আহত হন বজলুর রহমান, শুভ ও মিনহাজ আলী৷ এই ঘটনায় পুলিশ সাত জনকে গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে৷ পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে শরিফ উদ্দীনের ভাই আবুল কালামের বাড়িতে৷ তদন্তে উঠে এসেছে, দুলালের তত্ত্বাবধানে সেখানে বোমা তৈরির কাজ চলছিল৷ ঘটনার পর ওই দিন রাতে সদর থানার উপপরিদর্শক বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করেন এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন৷
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণে একতলা ভবনের পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে যায়৷ এতে নারী, শিশুসহ চারজন আহত হন৷ ঘটনাস্থলে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে৷ উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা নামে একতলা ভবনে এ বিস্ফোরণ ঘটে৷ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম তখন বলেছিলেন, ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, দাহ্য পদার্থ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে৷ এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাদের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আবদুল্লাহ (৭) আহত হন৷ এর মধ্যে আছিয়া ও তার দুই সন্তানকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়৷ কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান৷
ভবন মালিক পারভীন বেগম তখন বলেছিলেন, ‘‘তিন বছর ধরে আমার বাড়ি ভাড়া নিয়ে মুফতি হারুন মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন৷ হারুন তার শ্যালক আলামিন ও শ্যালকের স্ত্রী আছিয়াকে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব দেন৷ তিনি মাঝেমধ্যে মাদ্রাসায় আসতেন৷ আমি নিয়মিত খোঁজখবর নিতাম৷ কিন্তু মাদ্রাসার আড়ালে কী কার্যক্রম চলছিল, তা বুঝতে পারিনি৷ আজ এসে দেখি, ভবনের চারপাশ উড়ে গেছে৷ পুলিশ ভবনের ভেতর থেকে কেমিকেল, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে৷ আমি এগুলো দেখে বিস্মিত৷''
পুলিশের চিঠিতে যা বলা হয়েছে
বৃহস্পতিবার পুলিশ সদরদপ্তরের ডিআইজি (গোপনীয়) কামরুল আহসানের সই করা একটি চিঠি সব রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটে পাঠিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশে দেওয়া হয়েছে৷ চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে৷ এই চক্রটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন, জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগ ম্যুরালসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে৷ বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে চিঠিতে৷
চিঠিতে আরও বলা হয়, তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও গ্রহণ করে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যের ইঙ্গিত রয়েছে৷ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে৷
এই চিঠির পর গত সোমবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ৮টি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়৷
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জঙ্গি এখনও পলাতক
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী দেশে ১ হাজার ৬১১ জঙ্গির নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে৷ এই জঙ্গিদের বেশিরভাগ বিভিন্ন সময় জামিনে মুক্ত হয়েছে৷ তালিকা অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক হাজার ২৩১ জন জঙ্গি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে৷ আর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত জামিন পেয়েছে আরো ৩৮০ জন৷
এই ৩৮০ জনের মধ্যে সাতজন আনসার আল ইসলাম, চারজন এবিটি, ৬৮ জন জেএমবি, ছয়জন নব্য-জেএমবি, ছয়জন হিযবুত তাহরীর, চারজন ইমাম মাহমুদের কাফেলা, চারজন হুজি, ১৫ জন জেএএফএইচএস এবং ২৬৫ জন নাম-উল্লেখ না থাকা সংগঠনের সদস্য৷ এর মধ্যে ১১৪ জন জামিন পাওয়ার পর থেকে আর কখনো আদালতে হাজিরা দেননি৷ আবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় অভিযুক্ত অন্তত ৩৭০ জন জঙ্গি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি৷
দেশের ১৬টি কারাগারে গত বছরের জুন পর্যন্ত ১৬২ জন জঙ্গি বন্দি রয়েছেন৷ এর মধ্যে বিচারাধীন আছেন ৩২ জন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৯ জন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৪৬ জন ও অন্যান্য ২৫ জন৷ এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের মধ্যে ৭৯ জনকে এখনও ধরা যায়নি৷ এদের মধ্যে ৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত৷
বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান (সিটিটিসি) যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘‘আমরা তথ্য পেয়েছি, কাজ করছি৷''
বিশ্লেষকরা কী বলছেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে উগ্রবাদী প্রভাব তৈরি হলে তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে৷ তাই সম্ভাব্য যে-কোনো সশস্ত্র বা উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি৷ এখানে অবহেলা বা অস্বীকারের সংস্কৃতি ভুলে যেতে হবে৷''
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে দেশে জঙ্গিদের বড় ধরনের কোনো শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ নেই৷ কিন্তু তারপরও কেন জঙ্গি বিষয়টি সামনে এসেছে? এখন এটাকে সামনে এনে যদি কেউ আলোচনা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চায় সেটা হতে পারে৷ কিন্তু আগেও আমরা দেখেছি, জঙ্গিরা কোনো কার্যক্রমে গেলে আগে থেকে আলামত পাওয়া যায়৷ যেমন কুমিল্লার ৫২টি ছেলে একযোগে নিখোঁজ হলো৷ পরে তাদের নাথান বমের আস্তানায় পাওয়া গেলো৷ আবার কৃষকের সন্তান থেকে শুরু করে উচ্চ পদস্থদের সন্তানদেরও আমরা এদিকে ধাবিত হতে দেখেছি৷ তবে সবকিছু মিলিয়ে এখন হামলার মতো অবস্থা নেই৷''
আরেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘‘১৮-২০ কোটি মানুষের দেশে কোনো উগ্রবাদী নেই, যদি কেউ একথা বলেন, সেটা বিশ্বাসযোগ্য না৷ বিশ্বের কোনো দেশই এখন এই ধরনের উগ্রবাদীদের হাত থেকে মুক্ত না৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা এগুলো কতটুকু দমন করে রাখতে পারছি৷ সেই জায়গায় আমি বলবো, এখন পর্যন্ত এমন কোনো আলামত আমরা দেখছি না যে, তারা বড় ধরনের হামলা করতে পারে৷ আবার, নেই বলে যদি হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেন তাহলে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে তারা৷ সেই কারণে তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে৷ বিষয়টিকে বহেলা করা যাবে না৷''