‘বাণিজ্যিক' নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সাফল্যের জন্য যা করণীয়
৮ মে ২০২৬
কার্বন নিঃসরণ ও বিদ্যুৎ খরচ কমাতে বাংলাদেশের কারখানাগুলো রুফটপ সোলারের দিকে ঝুঁকছে৷ তবে ছাদের সীমিত জায়গায় উৎপন্ন সৌরবিদ্যুৎ মোট চাহিদার সামান্য অংশই পূরণ করতে পারে৷
পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, একটি মাঝারি আকারের কারখানা রুফটপ সোলারের মাধ্যমেই তার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পূরণ করতে পারে৷ তবে কারখানার বাইরে উৎপাদিত বিদ্যুতে মোট চাহিদার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ বা তার বেশি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব৷ছবি: DW/M. Mostafigur Rahman
বিজ্ঞাপন
তাই দূরবর্তী প্ল্যান্ট থেকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেনার মতো বিকল্প খুঁজছে তারা৷
গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সাল থেকে বাংলাদেশে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে বড় গ্রাহকদের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে৷ ফলে বাণিজ্যকভাবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় গ্রিডে৷ ব্যবহারকারীরা গ্রিড ও বিতরণ সংস্থাকে অর্থ পরিশোধ করেন৷
বাংলাদেশ মাত্র গত বছর থেকে শুরু করলেও ভারত দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের অনুমতি দিয়ে আসছে৷ তবে ভারতের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান প্রতিযোগিতামূলক দ্বিপাক্ষিক বাজার তৈরির দিকে এগোচ্ছে৷
এদিকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক কমিশন তাদের নিজস্ব উন্মুক্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মূল খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে৷ গ্রিড ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের প্রদেয় চার্জের বিষয়টিও রয়েছে সেখানে৷
জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলেছেন, উন্মুক্ত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে খানিকটা উন্মুক্ত গ্রিড চার্জ এবং অতিরিক্ত সারচার্জের ওপর৷ এটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং কৃষকদের স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তারা৷
গ্রিড চার্জ এবং নিয়ম-কানুন চূড়ান্ত হয়ে গেলে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে এমন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের মতো কর্পোরেট ক্রেতারা প্রত্যন্ত সৌর বা বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরাসরি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রয় করবে৷
বায়ুবিদ্যুতের ভবিষ্যৎ কী?
বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যম হিসাবে বায়ু ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে৷ উইন্ড টারবাইনগুলোও বড়, লম্বা এবং আরো কর্মক্ষম হয়ে উঠছে। বিশ্বের বিদ্যুতের প্রায় সাত শতাংশ এখন বায়ু শক্তি থেকে আসে।
ছবি: Jan Oelker
অতীত ও বর্তমান
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শক্তি হিসাবে বায়ুর ব্যবহার হয়ে আসছে৷ জল সেচ, শস্য মাড়াই, কাঠ কাটা এবং পালতোলা জাহাজ, এমন নানা কাজে বায়ুর ব্যবহার দীর্ঘদিনের৷ ইউরোপে ঊনবিংশ শতকেই কয়েক হাজার টারবাইন ছিল৷ ডাচরা প্রধানত এগুলো জলাভূমি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহার করতো৷ তবে এখন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ক্লিন এনার্জি হিসাবে বায়ুর ব্যবহার দিন দিন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে৷
ছবি: picture-alliance/ImageBroker/J. Tack
কয়লাকে হারিয়ে দিচ্ছে বায়ু
বায়ু টারবাইন থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ বেশ সস্তা৷ এখন কয়লা বা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে এর কয়েকগুণ বেশি খরচ পড়ে৷ উপযুক্ত পরিবেশে টারবাইন স্থাপন করলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ খরচ আরো কমে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা কেবল তিন ইউরো সেন্ট বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০ টাকায় নেমে আসতে পারে৷
ছবি: picture alliance / Zoonar
২০ গুণ বেশি বিদ্যুৎ
উত্তর জার্মানির ভিলহেল্মশাভেনের কাছে স্থাপিত একটি বড় বায়ু টারবাইন ছয় হাজার কিলোওয়াট শক্তি উৎপাদন করে এবং সেখানকার ১০ হাজার মানুষের গৃহস্থালীর বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করে৷ ২৫ বছর আগের পুরাতন মডেলগুলো কেবল ৫০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারতো৷ আধুনিক টারবাইনগুলি এখন আকাশে ১৮০ মিটার পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে। টারবাইনের ডানা যত লম্বা হয়, তত বেশি বাতাস কাজে লাগানো সম্ভব হয়৷
ছবি: Ulrich Wirrwar/Siemens AG
সমুদ্রেও টারবাইন
সমুদ্রে বায়ুপ্রবাহ সবসময়ই বেশ শক্তিশালী৷ বিশ্বের বায়ুবিদ্যুতের প্রায় পাঁচ শতাংশ নেদারল্যান্ডসের সমুদ্রে স্থাপিত টারবাইন থেকে আসে৷ এমন টারবাইন ১০ হাজার কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে৷ ২০২৫ সাল থেকে এই উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ হাজার কিলোওয়াটে পৌঁছে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে৷ এই বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব৷
ছবি: Siemens Gamesa
সবার আগে চীন
বিশ্বে যত বায়ু টারবাইন স্থাপন করা হয়েছে, তার অর্ধেকই চীনে অবস্থিত৷ কেবল ২০২০ সালেই দেশটি নতুন কিছু টারবাইন স্থাপন করেছে, যেগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২ গিগাওয়াট৷ এটি প্রায় ৫০টি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমান৷ তবে দেশের মোট চাহিদার হিসাবে বায়ুবিদ্যুতের সম্প্রসারণে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ডেনমার্ক ও জার্মানি৷ ডেনমার্কের চাহিদার অর্ধেকের কাছাকাছি আসে বায়ুবিদ্যুৎ থেকে, জার্মানির আসে ২৫ শতাংশ৷
বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৩ লাখ মানুষ বায়ু শিল্পে কাজ করেন৷ এর মধ্য়ে চীনে সাড়ে পাঁচ লাখ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ১০ হাজার, জার্মানিতে ৯০ হাজার, ভারতে ৪৫ হাজার এবং ব্রাজিলে ৪০ হাজার মানুষ কাজ করেন৷ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের চেয়ে বায়ু টারবাইন স্থাপন ও পরিচালনা ব্যয়বহুল৷ তবে এ খাতের সম্প্রসারণ আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে চলেছে৷
ছবি: Paul Langrock/Siemens AG
স্থানীয়রাও লাভবান হতে চান
ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে, বায়ু টারবাইন স্থাপনের প্রকল্প প্রায়ই স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তবে নাগরিকদেরও স্থানীয় প্রকল্পে যুক্ত করা গেলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছে স্টারকেনবুর্গে অনেক বাসিন্দা বায়ুশক্তির সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা নতুন টারবাইনে বিনিয়োগ করছেন এবং বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে লাভও করছেন৷
ছবি: Energiegenossenschaft Starkenburg eG
আবার ফিরছে পালতোলা নৌযান
একসময় পালতোলা জাহাজেই বিশ্বজুড়ে মালামাল ও যাত্রী পরিবহণ করা হতো৷ ধীরে ধীরে সেই স্থান দখল করে ডিজেল ইঞ্জিন৷ কিন্তু এখন আবারও পালতোলা নৌযান ফেরত আসছে আধুনিক রূপে৷ বাতাসের শক্তিকে আরো বেশি কাজে লাগিয়ে শক্তির ব্যবহার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে৷ ভবিষ্যতে সবুজ হাইড্রোজেনও জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হতে পারে৷
ছবি: Skysails
ভাসমান বায়ু টারবাইন
বায়ুশক্তি কাজে লাগানোর জন্য সমুদ্রে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। কিন্তু অনেক জায়গায় টারবাইন স্থাপনের জন্য সমুদ্র বেশ গভীর। ভাসমান টারবাইন এক্ষেত্রে একটি বিকল্প হতে পারে৷ দীর্ঘ শেকল দিয়ে ভাসমান বয়াকে সমুদ্রতলে স্থির রাখা হয়৷ ভাসমান বায়ু টারবাইন এরইমধ্য়ে ইউরোপ এবং জাপানে স্থাপন করা হয়েছে৷ এগুলো ঝড়ের সময়ও বেশ স্থিতিশীল থাকে।
ছবি: vestas.com
বাড়ির জন্য বায়ুশক্তি
লন্ডনের ১৪৭ মিটার উঁচু আকাশচুম্বী ভবন স্ট্রাটা এসই-ওয়ান এমন বায়ু টারবাইনের একটি নজরকাড়া উদাহরণ৷ কিন্তু ছাদে এমন স্থাপনা সাধারণত লাভজনক হয় না, কারণ শহরগুলোতে বাতাসের প্রবাহ সাধারণত খুব দুর্বল হয়। তবে ছাদে ফটোভোলটাইক সিস্টেম এক্ষেত্রে দারুণ বিকল্প হতে পারে৷
ছবি: picture-alliance/Global Warming Images/A. Cooper
সবচেয়ে পরিবেশ বান্ধব
বায়ু টারবাইন তৈরি করতে যে শক্তি ব্যয় হয়, তিন থেকে ১১ মাসের মধ্যে সেই শক্তি টারবাইনগুলো উৎপন্ন করতে পারে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোন কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপাদন হয় না৷ অন্যান্য অনেক শক্তির তুলনায়, বায়ুশক্তি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বেশি ভূমিকা রাখে। জার্মানির ফেডারেল এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির মতে, বায়ুবিদ্যুতের পরিবেশগত ব্য়য় কয়লা-চালিত বিদ্যুতের তুলনায় ৭০ গুণ কম।
ছবি: picture-alliance/dpa/J. Tack
বায়ুশক্তি কোথায় সম্ভব?
বায়ু এবং সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র মিলে বিশ্বের শক্তির চাহিদা মেটাতে পারে। বিদ্যুৎ টারবাইনগুলোর বিদ্যুৎ উপাদনের জন্য ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার বা বেশি গতির বায়ুপ্রবাহ প্রয়োজন হয়৷ যেসব অঞ্চলে প্রচুর সূর্যের আলো রয়েছে সেখানে ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে সস্তা উৎস হতে পারে। বিষুবরেখার উত্তর ও দক্ষিণে কাছাকাছি অঞ্চলে বায়ু এবং সৌরশক্তির মিশ্র ব্যবহার সম্ভব। বায়ুশক্তির ক্ষেত্রে শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ প্রয়োজন৷
ছবি: www.vestas.com
12 ছবি1 | 12
পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, একটি মাঝারি আকারের কারখানা রুফটপ সোলারের মাধ্যমেই তার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পূরণ করতে পারে৷ তবে কারখানার বাইরে উৎপাদিত বিদ্যুতে মোট চাহিদার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ বা তার বেশি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব৷
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে কোম্পানিগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি সার্টিফিকেট বা আরইসি কিনতে পারে৷ তবে পোশাক সরবরাহকারীদের অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এই সার্টিফিকেট পর্যাপ্ত সরবরাহ করার মতো আরইসি বাজারের অভাব রয়েছে৷
পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপের সাসটেইনেবিলিটি ম্যানেজার মাশুক মুজিব বলেন, ‘‘বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আমাদের সরাসরি বিদ্যুৎ ক্রয় করার সুযোগ করে দেবে৷ এর ফলে বাজার থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সনদ কেনার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে৷''
মূল বিবেচ্য চার্জ বা মাশুল
যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালাইসিস-এর জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বার্ষিক বিনিয়োগ ২৫ কোটি ডলারেরও কম, যা কিনা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক নগণ্য৷
তিনি মনে করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে৷
তবে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি কিলোওয়াট (প্রতি ঘণ্টায়) নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দাম ৯ মার্কিন সেন্ট হতে পারে৷ উন্মুক্ত উৎস থেকে পাওয়া বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াটে আরো ২ মার্কিন সেন্ট ধার্য করা হতে পারে৷ ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালাইসিস-এর জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম মনে করেন, এ ধরনের মাশুল শিল্প-গ্রাহকদের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে৷ শিল্পখাতে এর প্রতিক্রিয়া খারাপ হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি৷
সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই বলছেন, এই মাশুল নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত৷
বাংলাদেশের টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসআইডিএ)-এর সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম বলেন, ‘‘প্রতিটি পক্ষেরই রয়েছে নিজস্ব চাহিদা৷ গ্রাহকদের প্রয়োজন সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ৷ প্রকল্প উন্নয়নকারীদের প্রয়োজন এমন প্রকল্প, যা ব্যাংকের ঋণ পাওয়ার উপযুক্ত এবং যার আয়ের প্রবাহ নিশ্চিত ও পূর্বানুমানযোগ্য৷ অন্যদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ও গ্রিড পরিচালনাকারীদের প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থাটির সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ এবং তাদের সেবার খরচ পুনরুদ্ধার করা৷''
প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের দেশের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের মিশ্র শিক্ষা হতে পারে৷
পাকিস্তানের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইন্সটিটিউট -এর গবেষক খালিদ ওয়ালিদ জানান, পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য ধার্য করা মাশুলের কারণে শিল্পখাতের নিজস্ব স্থাপনার বাইরে থেকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে৷ তিনি বলেন, ‘‘পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তার কাজ করতে পারে৷''
সৌরশক্তির বিস্তার: মিনিগ্রিড থেকে সোলার সিটি
সৌরশক্তি এখন বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা জ্বালানি উৎস৷ বিভিন্ন উপায়ে তাই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন কমিউনিটি, এমনকি বড় শহরগুলোও সূর্য থেকে শক্তি উৎপাদন করছে৷
ছবি: ME SOLshare Ltd.
সূর্য থেকে পানীয় জল
ইথিওপিয়ার রিমা গ্রামে পানির ট্যাংক ভর্তি করতে সোলার পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে৷ বিশুদ্ধ খাবার পানির কুয়াটি গ্রাম থেকে বেশ দূরে৷ সোলার পাম্প ব্যবহার করে সেই কুয়া থেকে গ্রাম অবধি পাইপের মাধ্যমে পানি আনা হয়৷ আগে ডিজেল পাম্প ব্যবহার করে এই কাজটি করা হতো৷ কিন্তু তখন প্রায়শই পাম্পটি নষ্ট হতো, কিংবা জ্বালানির অভাবে চালানো যেতো না৷ ২০১৬ সালে সোলার পাম্প চালুর পর থেকে আর কোনো ঝামেলা হচ্ছে না৷
ছবি: Stiftung Solarenergie
পাওয়ার গ্রিড ছাড়াই মোবাইল চার্জ করার ব্যবস্থা
পূর্ব আফ্রিকার অধিকাংশ প্রত্যন্ত অঞ্চল বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বা পাওয়ার গ্রিড-এর বাইরে৷ সেখানে মোবাইল চার্জ দিতে সোলার কিয়স্ক ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে৷ কেনিয়ার অলকিরামেশন গ্রামের এই সোলার কিয়স্কে সামান্য টাকার বিনিময়ে মোবাইল চার্জ দেয়া যায়৷
ছবি: Solarkiosk GmbH
কৃষকদের জন্য বিদ্যুৎ
নিকারাগুয়ার উত্তরের গ্রাম মিরাফ্লোরের বাসিন্দারা মুলত কফি চাষ এবং চিরাচরিত কৃষি কাজ করেন৷ ২০১৩ সাল অবধি এই গ্রামে কোনো বিদ্যুৎ ছিল না৷ এরপর সেখানে সোলার প্যানেল বসানো শুরু হয়৷ বর্তমানে গ্রামটির ছয়শ’র বেশি পরিবার সৌরশক্তি ব্যবহার করছে৷
ছবি: Stefan Jankowiak
পয়সা বাঁচাচ্ছে সৌরশক্তি
জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলের ফ্রাইবুর্গ শহরের এই হাউজিং প্রকল্পে চাহিদার চেয়ে বেশি সৌরশক্তি উৎপাদিত হচ্ছে৷ বিশ বছর আগে তৈরি এই ভবনগুলো এখন শহর উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে৷ আধুনিক এসব ভবনে পুরনো ভবনের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ কম হয়৷ ফলে পরিবেশরক্ষার পাশাপাশি বাসিন্দাদের পয়সাও সাশ্রয় হচ্ছে৷
ছবি: picture-alliance/dpa/R. Haid
মাইক্রো-গ্রিডের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ
সোলশেয়ার নামে একটি স্টার্টআপ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাইক্রোগ্রিডের মাধ্যমে সস্তা এবং বিশুদ্ধ বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে৷ যেসব বাড়িতে সোলার প্যানেল রয়েছে, তারা তাদের প্রতিবেশি যাদের এখনো প্যানেল নেই তাদের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ শেয়ার করছে৷ এই ব্যবস্থায় সৌরশক্তি ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে অন্যদের বিদ্যুৎ দিচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি আয়ের এক উৎসও৷ দেশটিতে ডিজেলের বিকল্প হয়ে উঠছে সৌরশক্তি৷
ছবি: ME SOLshare Ltd.
কোভিড মোকাবিলায় সৌরশক্তি
হাইতির তাবার-এ অবস্থিত এই হাসপাতালটির জ্বালানির উৎস ছাদে বসানো সোলার প্যানেল৷ ৭১০ কিলোওয়াটের এই প্যানেলটি দেশটিতে বসানো এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্যানেল৷ করোনা রোগীদের এই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়৷ এখনকার সব চিকিৎসা সরঞ্জাম সৌরবিদ্যুতে চলে৷ আর এই ব্যবস্থা ব্যবহার করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বছরে পঞ্চাশ হাজার ইউরোর মতো সাশ্রয় হচ্ছে, কেননা, তাদের আর ডিজেল কিনতে হচ্ছে না৷
ছবি: Biohaus-Stiftung.org
পুরো গ্রামের জন্য মিনিগ্রিড
কেনিয়ার তালেক গ্রামে দেড় হাজারের মতো বাসিন্দা রয়েছেন৷ গ্রামটি ২০১৫ সাল থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে৷ তালেক-এর এক কোণায় একটি ৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার ফিল্ড তৈরি করা হয়েছে৷ সেটির মাধ্যমে তিনশ’ মানুষের জন্য বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়৷
ছবি: Imago Images/photothek/T. Imo
সৌরশক্তি ছাড়া পানি মিলবে না
মিশরের মরুভূমিতে পানি পাওয়া দুর্লভ ব্যাপার৷ আর এ কারণেই ইল-ওয়াহাট ইল-বাহারিয়া ওয়াসিস-এ এই সোলার প্ল্যান্টটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য খুবই প্রয়োজন৷ এই প্ল্যান্টটি দিয়ে ওয়াটার পাম্প চালু করা হয়, যেটি ছাড়া কৃষি কাজ অসম্ভব৷ মরুভূমির অন্য সব স্থানের মতো এখানেও অবশ্য সোলার প্যানেলটির উপর দিয়ে নিয়মিত বালু সরাতে হয়৷
ছবি: Joerg Boethling/imago images
২০২৫ সালের মধ্যে ‘ক্লাইমেট নিউট্রাল’
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন ২০২৫ সালের মধ্যে ‘ক্লাইমেট নিউট্রাল’ হতে চায়৷ আর এ কারণেই শহরটিতে পুর্নব্যবহারের উপযোগী জ্বালানির ব্যবহার ক্রমশ বাড়ানো হচ্ছে৷
ছবি: picture alliance / Zoonar
আইডিয়া আদানপ্রদান
জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের শহর সারবেক-এর বাসিন্দার সংখ্যা ৭,২০০৷ শহরটিতে সৌর, বায়ু এবং বায়োমাস ব্যবস্থায় প্রয়োজনের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়৷ ছোট কমিউনিটির জন্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উৎপাদনের এক মডেলে পরিণত হয়েছে শহরটি৷ ছবিতে মার্কিন একদল প্রতিনিধিকে দেখা যাচ্ছে যারা শহরটির এই মডেল সম্পর্কে জানতে এসেছেন৷
ছবি: Gemeinde Saerbeck/Ulrich Gunka
10 ছবি1 | 10
খালিদ ওয়ালিদ আরো জানান, পাকিস্তান সরকার বর্তমানে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১২.৫৫ পাকিস্তানি রুপি (০.০৪৫ মার্কিন ডলার) হারে একটি মাশুল ধার্য করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে৷ কিন্তু শিল্পখাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই মাশুল প্রতি কিলোওয়াটে ৫.৮৫ রুপি (০.০৪৫ মার্কিন ডলার)-এর কাছাকাছি হওয়া বেশি যুক্তিসঙ্গত৷
পাকিস্তানের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা যখন জাতীয় গ্রিড থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছেন, তখন সরকার তাদের হারানো রাজস্ব পুষিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে পুরনো রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও যুক্ত করছে বলেও জানান তিনি৷
অন্যদিকে ভারত দীর্ঘমেয়াদী ওপেন-অ্যাক্সেস, অর্থাৎ উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারের চুক্তির পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদী বিদ্যুৎ বাণিজ্যের মাধ্যমে দূরের কোনো স্থান থেকে বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থাও গড়ে তুলেছে৷
উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার ব্যবস্থার আওতায় বিদ্যুৎ কেনে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রিড চার্জেরবাইরেও অতিরিক্ত মাশুল পরিশোধ করতে হয়৷ এই অর্থে অনেক পরিবার ও কৃষকদের দেওয়া ভর্তুকির খরচ মেটানো হয়৷
ডাব্লিউআরআই ইন্ডিয়ার জ্বালানি বিষয়ক ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর দীপক কৃষ্ণন বলেন, ‘‘ওপেন-অ্যাক্সেস গ্রাহক, যারা সাধারণত বড় কর্পোরেট ক্রেতা এবং যাদের পক্ষে এই খরচ বহন করা সম্ভব, তারা কাছ থেকে এই মাশুল আদায় না করা হলে তা দরিদ্র গ্রাহকদের জন্য খুব ভারী বোঝা হয়ে যাবে৷''
কার্বনমুক্ত বিশ্ব পেতে যা করতে হবে
২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা শূন্যতে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছেন গবেষকরা৷ কিন্তু কীভাবে সম্ভব এটি?
ছবি: Getty Images/AFP/T. Samson
শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি
২০৫০ সালের মধ্যে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই, বলছেন ফিনল্যান্ডের লাপ্পেনরানটা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা৷ আর এটি করতে হবে সব দেশেই৷ তাঁরা বলছেন, তেল, গ্যাসের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার শুরু করতে পারলে অন্তত শতকরা দুই ভাগ অর্থও সাশ্রয় হবে৷
ছবি: Getty Images/AFP/E. Becerra
প্রয়োজন সূর্যালোক ও বাতাস
কার্বনমুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে হলে গতানুগতিক শক্তির উৎস অর্থাৎ তেল, গ্যাস ও কয়লার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে৷ এক্ষেত্রে সূর্যের আলো ও বাতাস হবে বিকল্প উৎস, বলছেন গবেষকরা৷
ছবি: Imago/blickwinkel/F.Herrmann
সৌরশক্তিই প্রধান উৎস
কীভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যেতে হবে তার একটি হিসেবও দিয়েছেন গবেষকরা৷ তাঁরা জানান, শতকরা ৭০ ভাগ সৌরশক্তি, আঠারো ভাগ বাতাসচালিত শক্তি, শতকরা পাঁচ ভাগ বায়োমাস ও শতকরা তিন ভাগ হাইড্রোপাওয়ার উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে৷
ছবি: AP
প্রয়োজন লাগসই প্রযুক্তির
এ উৎসগুলো থেকে জ্বালানি উৎপাদন করতে হলে প্রয়োজন লাগসই প্রযুক্তির৷ ইসরায়েলের উদাহরণ দিয়ে গবেষকরা বলেন, দেশটি সোলার সেল ও ব্যাটারি দিয়ে নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করছে৷
ছবি: picture-alliance/dpa/I. Salas
বাড়বে কর্মসংস্থানও
গবেষকদের অনুমান ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা হবে নয় দশমিক সাত মিলিয়ন৷ প্রস্তাবিত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হবে আধুনিক প্রযুক্তির৷ আর এখানেই তৈরি হবে প্রচুর কর্মসংস্থান, বলছেন গবেষকরা৷
ছবি: Getty Images/AFP/M. Bernetti
কী করা যেতে পারে
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন গবেষকরা৷ এর মধ্যে রয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদক ও এর ব্যবহারকারীদের অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্রদান, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের উপর প্রদেয় অথনৈতিক প্রণোদনা বন্ধ করা এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর করারোপ করা৷
ছবি: Reuters/M. Giraldo
6 ছবি1 | 6
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবশ্যই একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মাশুল নির্ধারণের মাধ্যমে পরস্পরবিরোধী স্বার্থগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং সেই সঙ্গে বিদ্যুতের বাজার ব্যবস্থাও ধ্বংস না হয়৷
ভারতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘জেএমকে রিসার্চ'-এর পরামর্শক প্রভাকর শর্মা বলেন, ওপেন-অ্যাক্সেস মাশুলগুলো নির্দিষ্ট কোনো সময়ের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল হওয়া উচিত, যাতে বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারেন৷
প্রভাকর শর্মা মনে করেন, ‘‘সরকার শিল্প-গ্রাহকদের জন্য সৌর ও বায়ুশক্তি-ভিত্তিক ওপেন-অ্যাক্সেস বাজারকে উৎসাহিত করতে চাইলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এই মাশুল মওকুফ করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে৷''
আইইএফএ-র শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে ওপেন-অ্যাক্সেস পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তিগুলো শিল্পখাতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হতে পারে৷ তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ও নীতি-নির্ধারকরা চাইলে এখনই উচ্চহারে মাশুল আরোপ করা থেকে বিরত থেকে তিন বছর পর বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো প্রকৃতপক্ষে কোনো রাজস্ব হারাচ্ছে কি না সে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন৷
বাংলাদেশের টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসআইডিএ)-এর সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম বলেন, বাংলাদেশের শেষ পর্যন্ত এনার্জি এক্সচেঞ্জ-এর মতো কিছু বাজারভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন হবে, যার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকারীরা তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিকল্প ক্রেতা, বিশেষ করে কোনো কর্পোরেট ক্রেতা বিদ্যুৎ কিনবে না, তখন তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবে৷