বালিশ যুদ্ধ ঘরের দোরগোড়া পেরিয়ে এখন প্রতিযোগিতামূলক খেলার দরবারে পৌঁছেছে৷ টেলিভিশনে দেখানোও হবে এই প্রতিযোগিতা৷
ফ্লোরিডায় গত অক্টোবরে পেশাদারি বালিশ যুদ্ধের একটি ম্যাচের মুহূর্তছবি: Owen Phillips/Professional Pillow Fight Championship/REUTERS
বিজ্ঞাপন
২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিশ্বের প্রথম বালিশ যুদ্ধের চ্যাম্পিয়নশিপ৷ শুধু তাই নয়, পিএফসি বা পিল ফাইট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলি দেখা যাবে টেলিভিশনেও৷
শৈশব-কৈশোরের এই প্রিয় খেলাকে পেশাদার খেলার মর্যাদা দেবার স্বপ্ন দেখেছিলেন স্টিভ উইলিয়ামস৷ উইলিয়ামসের ভাবনায় চালু হতে চলা এই চ্যাম্পিয়নশিপে বালিশ যুদ্ধের কেরামতির সাথে মেশানো হবে বিভিন্ন মার্শাল আর্টসের কায়দা৷
পিএফসি'র প্রধান উইলিয়ামস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘এই প্রতিযোগিতা কিন্তু তেমন নয় যে আপনি হাসতে হাসতে বালিশের লড়াইয়ে নামবেন আর চারদিকে পাখির পালক উড়বে৷ এটা খুবই সিরিয়াস একটা খেলা৷ বিশেষ কায়দায় তৈরি করা বালিশ নিয়ে লড়ার বিশেষ কৌশলের লড়াই৷’’
প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছেন অ্যামেরিকার বক্সিং ও মার্শাল আর্টসের খেলোয়াড়রাছবি: Owen Phillips/Professional Pillow Fight Championship/REUTERS
জানুয়ারি মাসের আসন্ন প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছেন যেসব নারী ও পুরুষ, তারা সকলেই অ্যামেরিকার বক্সিং ও মার্শাল আর্টসের জগতের পোড় খাওয়া খেলোয়াড়৷
কিন্তু এই খেলায় কারো আঘাত পাওয়ার সুযোগ নেই, নিশ্চিত করেন স্টিভ উইলিয়ামস৷
তিনি আরো যোগ করেন, ‘‘খেলোয়াড়রা কেউ চোট পেতে চায় না কিন্তু দর্শকরা চায় জোরদার লড়াই হোক, প্রয়োজনে রক্তপাতও৷ মূলত দর্শকরা একটা ভালো লড়াই দেখতে চায়৷ শুধু মারামারি কারো ভালো লাগে না৷’’
এই খেলা আরো বেশি করে জনগণকে আকর্ষণ করবে কারণ সবাই এই খেলা শৈশবে নিজেদের ভাইবোন অথবা বন্ধুদের সাথে খেলেছে, জানান উইলিয়ামস৷ তিনি বলেন, ‘‘ধরে নিন এটা মূলধারার খেলাধুলার চেয়ে একটু বাইরে৷ কিন্তু তাতে মূলধারার দর্শককেও টানা যাবে৷ ঠিক যেভাবে দেশের লোকগানের সাথে আজকাল অন্যান্য র্যাপ গান মিশিয়ে গাইলেও জনগণের তা ভালো লাগে৷ ঠিক সেরকমই৷’’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খেলার জন্য পরিচিত বিশেষ টেলিভিশন চ্যানেল এফআইটিই-তে দেখা যাবে এই বালিশ যুদ্ধের চ্যাম্পিয়নশিপ৷
এসএস/এসিবি (রয়টার্স)
কাদায় দৌড় প্রতিযোগিতা, বুট নিক্ষেপ, ক্রেজি ক্রসিং – জার্মানিতে এ সব মজার খেলার আয়োজন গ্রীষ্মকালে প্রায়ই হয়ে থাকে৷ আসলে পুরো ব্যাপারটাই আনন্দের এবং মজার৷ আর এ বছরের গ্রীষ্মেও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷
ছবি: picture-alliance/AP Photo
কাদায় দৌড়
লোয়ার স্যাক্সনির পূর্ব ফ্রিসল্যান্ডে প্রতি বছর কাদার মধ্যে স্লেজ গাড়ি চালানোর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ হয়৷ আর চারটি দেশের ২৪টি দল এতে অংশ নেয়৷ বলা বাহুল্য, পূর্ব ফ্রিসল্যান্ডে এই বিশ্বকাপ ব্যাপক জনপ্রিয়৷
ছবি: picture-alliance/dpa
কাঠের গুঁড়ি ছোড়া
গত কয়েক শতাব্দী ধরে স্কটল্যান্ডে এই প্রতিযোগিতা চলে আসছে, যা বর্তমানে জার্মানিতেও ব্যাপক জনপ্রিয়৷ লোয়ার স্যাক্সনির গ্রোসগল্টার্নে চতুর্থবারের মতো এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়৷ ৩৫ থেকে ৬০ কেজি ওজনের ‘লগ’ বা কাঠের গুঁড়িটি যে যত দূরে ছুড়তে পারে – তা নিয়েই প্রতিযোগিতা৷ তবে এর নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নেই৷
ছবি: picture-alliance/dpa
গরু ধরা
ফরাসি এবং ডাচরা ইউরোপের সেরা রাখাল বা কাউ বয় হিসেবে পরিচিত৷ কুহফাঙ্গেনের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে গরু ধরার প্রতিযোগিতায় তাই তারাই বিজয়ী হয়৷ এবারের প্রতিযোগিতায় ইটালি, জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়া থেকে অন্তত ১০০ ঘোড়সওয়ার অংশ নিয়েছিলেন৷
ছবি: picture-alliance/dpa
গামবুট ছোড়া
১২০ বছর আগে ফিনিশ নাবিকরা এই প্রতিযোগিতা শুরু করে৷ যে যত দূরে বুট ছুড়তে পারবে সেই বিজয়ী৷ জার্মানিতে ২০০৭ সালে গামবুট ছোড়ার বিশ্বকাপ প্রথম শুরু হয়৷
ছবি: picture-alliance/dpa
ক্রেজি ক্রসিং
‘ক্রেজি ক্রসিং’ প্রতিযোগিতা হয় হানোফার শহরে৷ ১২টি দল এতে অংশ নেয়৷ লক্ষ্য হলো প্রতিটি দল নিজেদের বানানো নৌকা নিয়ে ৩০০ মিটার দূরে দূরে থাকা বাধাগুলো অতিক্রম করবে৷ সব প্রতিযোগীদের পোশাক হবে দেখার মতো৷
ছবি: picture-alliance/dpa
রং দৌড়
জার্মানিতে দ্বিতীয়বারের মতো এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ৫ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়৷ ৫৫০০ জন অ্যাথলিট মিউনিখে এই প্রতিযোগিতা এবং এর সাথে জড়িত নানা বর্ণিল অনুষ্ঠানে অংশ নেন৷ ভারতের হোলি উৎসব থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই প্রতিযোগিতার চল শুরু হয়েছে৷ প্রতিযোগীদের পোশাকে নানা রং লাগানো থাকে৷
ছবি: picture-alliance/dpa
কাঠ কাটার প্রতিযোগিতা
এ বছর জার্মানির বাভেরিয়া রাজ্যে অবস্থিত মিউনিখ শহরে এই চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়েছিল৷ প্রতিযোগীদের ২.৮০ মিটার লম্বা গাছের গুড়ি ফাঁড়তে দেয়া হয়৷
ছবি: picture-alliance/dpa
কঠিন কাদা দৌড়
কাদার মধ্যে বিভিন্ন বাধা পেড়োনো দৌড়ের জন্য আপনি কি প্রস্তুত? ব্রান্ডেবুর্গের এই আয়োজনে এটাই কিন্তু ছিল প্রতিযোগিতার মূল বিষয়৷ এই প্রতিযোগিতায় কাদার মধ্যে ১৮ কিলোমিটার পথ দৌড়াতে হয় বিভিন্ন বাধা পেড়িয়ে৷
ছবি: picture-alliance/dpa
কাদাতেই মজা
কাদার মধ্যে মজা যেমন রয়েছে, তেমনি সেই মজার শেষে আপনাকে আর কেউ একজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি বলতে পারবে না৷ অর্থাৎ, আপনার পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো শরীর ঢেকে যাবে কাদায়৷