1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ভারতীয় রেলের বেজায় দুর্দিন!

রাজীব চক্রবর্তী নতুন দিল্লি
৩১ জুলাই ২০১৭

দু-এক মাস পরেই চালু হবে বুলেট ট্রেন৷ এই পদক্ষেপ নেওয়ার আগে রেলের আসল ছবি তুলে ধরলেন ‌কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল৷ বললেন, ঐতিহ্যময় ভারতীয় রেলের খাবার নাকি মানুষের খাবার যোগ্যই নয়!‌ শুনে নড়েচড়ে বসেছে রেলমন্ত্রক৷

Indien Delhi Budget Eisenbahn
ছবি: Uni

ট্রেনে পরিবেশিত খাবার মানুষের খাওয়ার অযোগ্য!‌ অপরিশ্রুত জল দিয়ে দিব্বি চলছে রান্না৷ চলন্ত ট্রেনে রান্না করা খাবার ঢেকে রাখার কোনো ব্যবস্থাই নেই৷ খোলা আবর্জনার পাশে রাখা হয় খাবার৷ আবর্জনা পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার হয় না৷ রান্নাঘর জুড়ে পোকামাকড়, আরশোলা ও ইঁদুরের অবাধ ছোটাছুটি৷ সবমিলিয়ে চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর একটা পরিবেশ৷ রেলের খাদ্য পরিবেশন ব্যবস্থা নিয়ে এমন ভুরি ভুরি অভিযোগ কোনো বিরোধী দল বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নয়৷ রীতিমতো তদন্ত করার পর এইসব মারাত্মক তথ্য তুলে ধরেছে ‘‌কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল'‌ বা ‌ক্যাগ৷

‘রান্না করা খাবার রাখা হয় শৌচাগারের পাশে’

This browser does not support the audio element.

প্রায়শই দিল্লি কলকাতা যাতায়াত করেন সুস্মিতা সর্বাধিকারী৷ ক্যাগ রিপোর্টের খবর শুনে তিনি বললেন, ‘‘‌রেলের কথা বলতে গেলে একটা চূড়ান্ত অব্যবস্থার কথা বলতে হয়৷ আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, রান্না করা খাবার রাখা হয় শৌচাগারের পাশে৷ আমাকে একবার যে চিকেন দেওয়া হয়েছিল সেটা মানুষের খাবার অযোগ্য৷ এখন শুনছি, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় কম্বল দেওয়া হবে না৷ বিনিময়ে তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি করা হবে৷ দেশের সবচেয়ে বড় পঞ্চায়েত পার্লামেন্টে ক্যাগ যে রিপোর্ট পেশ করেছে তারপর রেলমন্ত্রী রেলের গতি বাড়ানোর আগে রেলের সাধারণ পরিষেবা গুলো ঠিক করার ওপর জোর দিন৷'‌'‌

সংসদে এই সম্পর্কিত বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করেছে ক্যাগ৷ ঐ রিপোর্টে বলা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণে উঠেও এসেছে যে, রেলে দূষিত খাবার ও পুনর্ব্যবহৃত খাদ্যদ্রব্য ব্যবহার করা হয়৷ যাত্রীদের থেকে যথেষ্ট দাম নেওয়া হলেও ব্যবহারের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়া জিনিসও ব্যবহার করা হচ্ছে৷ শুধুমাত্র রান্নায় ব্যবহৃত সামগ্রীই নয়, বোতলজাত দ্রব্যে অনিয়মের বিষয়ও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্টেশনে যে জলের বোতল বিক্রি করা হয়, তাও স্বীকৃত কোম্পানির নয়৷ অথচ তাই কিনতে বাধ্য হন যাত্রীরা৷

‘যাত্রী নিরাপত্তা নিয়েও ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে’

This browser does not support the audio element.

টেলিকম আধিকারিক দেবব্রত ব্যানার্জি বলছেন, ‘‌‘‌মনে রাখতে হবে ভারতীয় রেলওয়ে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন৷ প্যান্ট্রিকারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ছবি এর আগেও উঠে এসেছে৷ এখন ক্যাগ রিপোর্টে আরও একবার বাস্তব ছবিটা ধরা পড়েছে৷ ট্রেনে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের৷ কিন্তু ব্যবস্থা কি নেওয়া হয়?‌ আসলে রেলকর্মীদের মধ্যে দায়বদ্ধতা, ন্যায়বোধ এবং সততার অভাব এর প্রধান কারণ৷ শুধু খাবার নয়, যাত্রী নিরাপত্তা নিয়েও ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে৷''

এই রিপোর্ট তৈরির আগে রেল ও ক্যাগের আধিকারিকরা দেশের মোট ৭৪টি স্টেশন ও ৮০টি ট্রেনে যৌথ নজরদারি চালিয়েছে৷

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, রেলে খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করার সময় কোনো বিলও দেওয়া হয় না৷ নির্দিষ্ট কোনো দাম লেখা মেনু কার্ডও যাত্রীদের দেওয়া হয় না৷ ফলে খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া জলের বোতল বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে৷ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকায় রেলের খাবার খেয়ে যাত্রীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে৷ রেলমন্ত্রক সূত্রে খবর, ক্যাগ-এর রিপোর্ট আসার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে রেল৷

অন্যদিকে, ক্যাটারিং পদ্ধতি নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা নেই রেল কর্তৃপক্ষের৷ তারা ব্যস্ত রেলের গতি বাড়াতে৷ দিল্লি-মুম্বই এবং দিল্লি-কলকাতা রুটে গতিমান এক্সপ্রেসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটার করতে ভারতীয় রেল মন্ত্রক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাপল-‌এর সঙ্গে জোট বাঁধছে৷ এই খবর জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু৷ তিনি বলেন, ‘‌‘‌গতিমান এক্সপ্রেসের গতি বাড়াতে মন্ত্রকের ১৮,০০০ কোটি টাকার প্রস্তাব নীতি আয়োগ অনুমোদন করেছে৷ এই অনুমোদনের ফলে গতিমান এক্সপ্রেসের গতি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারে বাড়িয়ে নেওয়া যাবে৷'‌‌'‌

‘যাত্রীদের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হয় না?‌’

This browser does not support the audio element.

প্রায়শই দিল্লি-‌কলকাতা যাতায়ত করেন শ্রীমা ব্যানার্জি৷ তিনি যাত্রীদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন৷ তাঁর কথায়, ‘‌‘‌দুরন্ত, রাজধানী ট্রেনগুলোর ভাড়া বেশি৷ অথচ এই ট্রেনগুলোর খাবার অত্যন্ত নিম্নমানের৷ খাবারে আরশোলা, টিকটিকি পাওয়া যাচ্ছে৷ রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু টুইটারে সাড়া দেন৷ কিন্তু এই ধরনের অভিযোগে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি৷ অন্যদিকে, ট্রেন দেরি করলে যে খাবার দেওয়া হয়, তার মান এতটাই নিম্নমানের যে বলে বোঝানো যাবে না৷ এতে কি যাত্রীদের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হয় না?‌'‌'‌

রেল নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কি? মন্তব্য লিখুন নিচের ঘরে৷ 

ভারতে রেল নেটওয়ার্কের করুণ দশা

01:13

This browser does not support the video element.

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ