হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ভারতে তিরিশের কোটার পুরুষদের মধ্যে মানসিক চাপই হৃদরোগের অন্যতম কারণ৷ তার সঙ্গে আছে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীর চর্চার অভাব৷ মহানগরীগুলির ৮২ শতাংশ মানুষ হৃদরোগের শিকার হয় এই মানসিক চাপে৷
ছবি: DW/S. Waheed
বিজ্ঞাপন
প্রচলিত ধারণা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীর চর্চার অভাবই হৃদরোগের জন্য বহুলাংশে দায়ী৷ আইসিআইসিআই লম্বার্ডের এক সমীক্ষা কিন্তু বলছে, হৃদরোগের অন্যতম কারণ মানসিক চাপ৷ ঘরে-বাইরে, কাজে-কর্মে এবং প্রতিকূল পারিপার্শ্বিকতার দরুণ যে মানসিক চাপ এবং টেনশন তৈরি হয়, সেটাই হার্ট অ্যাটাকের বড় কারণ৷ এর জন্য আজকের প্রচণ্ড কর্মব্যস্ত জীবনে তরুণ প্রজন্মকে হৃদরোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বেশি৷ তাঁদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা বাড়ছে৷ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই এই অভিমত৷ সমীক্ষায় আরও বলা হয়, দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, কলকাতা, ব্যাঙ্গালোরের মতো মহানগরীগুলিতে ৮২ শতাংশের মধ্যে হৃদরোগের আশংকা বা ঝুঁকি বেশি৷ সাধারণ ধারণা, ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সিদের মধ্যে হৃদরোগের প্রবণতা বেশি৷ কিন্তু ৬৮ শতাংশ কার্ডিওলজিস্ট মনে করেন, হৃদরোগের কোনো বয়স নেই, যে-কোন বয়সেই তা হতে পারে৷ অনেকে মনে করেন, সাধারণত মোটাদেরই বেশি হার্টের রোগ হয়৷ কিন্তু তা নয়৷ ৭৪ শতাংশ ডাক্তারের অভিমত, মোটা বা রোগা যে-কোনো মানুষেরই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে৷ হাই কোলেস্টরেল এবং বেশি তেল-ঘি জাতীয় খাবার-দাবার হৃদরোগের কারণ হলেও ডাক্তারদের মতে, পুরুষদের চরম ক্লান্তি এবং মহিলাদের বুকে ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ৷
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ চিনুন, জীবন বাঁচান
জার্মানির হার্ট ফাউন্ডেশনের হিসেব অনুযায়ী প্রতি বছর আনুমানিক তিন লক্ষ মানুষ হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় জার্মানিতে৷ কিছু নিয়ম মেনে চললে হার্ট অ্যাটাক থেকে দূরে থাকা যায়, সেরকম কিছু টিপস থাকছে ছবিঘরে৷
ছবি: Fotolia/Kzenon
হার্টের অসুখ মানেই মৃত্যু নয়!
সারা বিশ্বে হার্ট অ্যাটাকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়৷ তবে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু অবধারিত নয়৷ জার্মানির হামবুর্গ শহরের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. টোমাস স্টাইন বলেন, ‘‘একটু সচেতন হলেই হার্ট অ্যাটাককে দূরে রাখা সম্ভব৷ অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাক কিন্তু কখনো কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে হয় না৷’’
ছবি: Fotolia/Robert Kneschke
পেশাগত চাপ নয়
‘‘আজকের এই প্রতিযোগিতার যুগে যেসব মানুষ নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে, অর্থাৎ পেশাগত কারণে চাপের ভেতর থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি৷ তাই কর্মক্ষেত্রে সুস্থ পরিবেশ রক্ষা করতে দ্বন্দ্ব বা সংঘাত এড়িয়ে চলতে হবে’’, বলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ স্টাইন৷
ছবি: Fotolia/Pfluegl
হার্ট অ্যাটাক কি জানিয়ে আসে?
অনেকের ক্ষেত্রেই হার্ট অ্যাটাক একেবারে হঠাৎ করেই হয়৷ অর্থাৎ আগে থেকে কিছুই বোঝা যায় না বা বোঝার উপায়ও থাকে না৷ কারো কারো ক্ষেত্রে অবশ্য দেখা যায় যে, আগেরদিন বা কয়েক ঘণ্টা আগেই শারীরিক কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ যেমন বুকে ব্যথা হচ্ছে, আবার কারো বা মনে হয় দম বা নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে৷
ছবি: picture-alliance/dpa
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো কী?
এক নাগাড়ে পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে বুকের খাঁচা এবং পেটের ওপরের দিকটায় ব্যথা হয় এবং বমি হয়৷ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ টোমাস বলেন, ‘‘হার্ট অ্যাটাকে মারা যাবার সময় অনেক রোগীকেই বলতে শুনেছি, ‘আর সহ্য করতে পারছি না, বুকে প্রচণ্ড কষ্ট, ব্যথা আর অসম্ভব জ্বালা হচ্ছে’৷’’
ছবি: Max Tactic - Fotolia.com
হার্ট অ্যাটাকের কারণ বা ঝুঁকিগুলো কী?
অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, মদ্যপান, স্ট্রেস বা মানসিক চাপ, কম হাঁটা-চলা, ডায়বেটিস ইত্যাদি৷ তাছাড়াও বংশগত কারণেও হৃদরোগ বা স্ট্রোক হতে পারে৷
ছবি: picture-alliance / Sven Simon
কিভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিগুলো থেকে সাবধান থাকলেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব৷ এ জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া, অর্থাৎ অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার, মাংস থেকে দূরে থাকা৷ ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করা উচিত৷ জীবনযাত্রার মান অনেকক্ষেত্রেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে সক্ষম৷
ছবি: lunamarina/Fotolia.com
হার্ট অ্যাটাক মানেই মৃত্যু নয়!
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা গেলে রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তার দেখানো উচিত৷ সময়মতো সঠিক চিকিৎসা হলে রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব৷
ছবি: picture-alliance/dpa
স্ট্রেস এড়িয়ে চলুন
পেশাগত দায়িত্ব, পরিবার, সন্তান এবং অন্যান্য সব কিছু মিলিয়ে আজকের যান্ত্রিক জীবনে ‘স্ট্রেস’ বা মানসিক চাপ যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে৷ স্ট্রেস হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে বড় ভূমিকা পালন করে৷ তাই স্ট্রেস থেকে বেরিয়ে আসতে হাঁটাহাঁটি, খেলাধুলা, নাচ, গান, বাগান করা বা অন্য কোনো সখকে বেছে নিন, সপ্তাহে অন্তত দু’দিন৷
ছবি: Fotolia/Kzenon
8 ছবি1 | 8
‘‘ইদানিং আমি বহু তরুণ রোগী পাচ্ছি যাঁদের হৃদরোগ মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেছে, যেগুলি এক সময়ে বয়স্কদের মধ্যেই দেখা যেত'', বলেন নারায়নী হৃদয়ালয়ের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট দেবি শেঠি৷ তিনি বললেন, যাঁদের বয়স তিরিশের কোঠায়, তাঁদের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সব থেকে ভালো থাকার কথা৷ কিন্তু তা হয়ে যাচ্ছে ঠিক বিপরীত৷'' গুরগাঁও মেডিসিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ নরেশ ত্রিহানের মতে, কোনো ব্যক্তির বয়স ক্যালেন্ডারের হিসেবে হয় না৷ সেটা হয় তাঁর জীবনযাত্রার ওপর৷ পজেটিভ লাইফস্টাইলের ওপর৷ তরুণদের মধ্যে শরীর চর্চার অভ্যাস কম৷ হাঁটাচলা কম৷ সামান্য দূরত্বেও গাড়ি দরকার৷ বেশি চর্বি জাতীয় খাবার-দাবার, ধুমপান, অ্যালকোহলে আসক্তি ইত্যাদি তাঁদের জন্য টাইম বোমা৷''
তবে সব হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এ বিষয়ে একমত যে, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হৃদরোগ ঠেকানোর অন্যতম উপায়৷ মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি৷ মোটকথা, ৬৪ শতাংশ কার্ডিওলজিস্টের মতে, স্ট্রেস বা মানসিক চাপ বা মানসিক ধকল কার্ডিওভ্যাসকুলার রোগের প্রধান কারণ৷ দ্বিতীয়ত, যে-কোনো বয়সে, মোটা বা রোগা যে-কোনো লোকেরই হৃদরোগ হতে পারে৷ তৃতীয়ত, উচ্চ কোলেস্টরেলযুক্ত খাবার দাবার হৃদরোগ ঠেকাতে বর্জনীয়৷ চতুর্থত, ৮৪ শতাংশ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের অভিমত, ভারতের মহানগরীগুলিতে হৃদরোগের হার সবথেকে বেশি৷ ভারতের শিল্প ও বণিক সংঘ মনে করে, ৪৩ শতাংশ কর্পোরেট কর্মী মানসিক অবসাদে ভোগে আর তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বেশি টেনশনে ভোগে মহিলারাই৷
‘এখন ছোটবেলা থেকেই টিভিতে মগ্ন বাচ্চারা, খেলাধুলার আকর্ষণ কমে গেছে’
This browser does not support the audio element.
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে, অর্থাৎ তিরিশের আশপাশে যাঁদের বয়স, তাঁদের মধ্যে ইদানিং দেখা যাচ্ছে, হৃদরোগের হার ক্রমশই বাড়ছে৷ এর কারণ কী ? হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দেবব্রত রায় ডয়চে ভেলেকে এই প্রসঙ্গে বললেন, এর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, লাইফ স্টাইল. কারণ, ছোট থেকেই বাচ্চারা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে৷ বাড়ছে ফাস্ট ফুড খাওয়া৷ এরজন্য মোটা হচ্ছে৷ ওজন বাড়ছে কিশোর বয়স থেকেই৷ অল্প অল্প করে রক্তে বাড়ছে শর্করা, বাড়ছে কোলেস্টরেল৷ এর ফলে ধমনির দেওয়ালে কিছু কিছু খারাপ চর্বি জমা হয়৷ এবার রক্তস্রোতে যদি একটা ঘূর্ণন তৈরি হয়, তখন সেটা ফেটে গেলে তৈরি হয় জমাট বাঁধা একটা রক্তের ঢেলা৷সেটা থেকেই হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা৷ তখন ২৫-৩০ বছর বয়সেই হয় হার্ট অ্যাটাক৷ মানসিক চাপ অবশ্যই একটা বড় ফ্যাক্টর সন্দেহ নেই৷
দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে, একেবারে কম বয়সিদের মধ্যে খাদ্যাভ্যাসে এসেছে এক বিরাট পরিবর্তন৷ দেখা যায়, বাচ্চারা টিফিনে রুটি-তরকারির বদলে নিয়ে যাচ্ছে ফাস্ট ফুড৷ যেমন, পেস্ট্রি, প্যাটিস, রোল এবং পিৎসা৷ অনেক অভিভাবক মনে করেন, এটাই বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং মুখরোচক৷ অন্যান্য খাবারের চেয়ে স্বাস্থ্যকর৷ এর পেছনে মানসিকতারও একটা দিক আছে৷ যেমন, ম্যাকডোনাল্ডসে খেলে নিজেকে যেন হাই লাইফস্টাইলের মধ্যে ফেলা যায়৷ বছর দশেক আগে ভারতে ফাস্টফুড শিল্পের বহর ছিল ৬৬ হাজার কোটি টাকা৷ সেটা এখন আরও বেড়েছে৷
উচ্চ রক্তচাপের কারণ ও প্রতিকার
উচ্চ রক্তচাপ নানা অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়৷ উচ্চ রক্তচাপ যদি কারো বেশিদিন থাকে, তাহলে তাঁর হৃদরোগ এবং ধমনির ঝুঁকি বেড়ে যায়৷ সমস্যা দেখা দেয় মস্তিস্ক, কিডনি এবং চোখেও৷
ছবি: picture-alliance/dpa
উচ্চ রক্তচাপ বিপজ্জনক
‘উচ্চ রক্তচাপ খুবই বিপজ্জনক’ – বিশেষ করে যেহেতু মানুষ তা টের পায়না, বলেন জার্মানির স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানী বারমার-এর প্রধান ড.উরসুলা মার্শাল৷ অনেকে জানেই না যে তাঁদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে৷ একমাত্র ৩৫ বছরের বেশি বয়সিদের সাধারণত স্বাস্থ্য চেকআপের সময়ই তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধরা পড়ে৷
ছবি: picture alliance / dpa
উচ্চ রক্তচাপ নানা অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়
উচ্চ রক্তচাপ যদি কারো বেশিদিন থাকে, তাহলে তাঁর হৃদরোগ এবং ধমনির ঝুঁকি বেড়ে যায়৷ সমস্যা দেখা দেয় মস্তিস্ক, কিডনি এবং চোখেও৷ উচ্চ রক্তচাপের সাধারণত বয়স বাড়া এবং মানুষের শরীরের ওজন বাড়ার সাথেও রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক৷ ২০১০ সালে সারা বিশ্বে নয় মিলিয়নেরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের কারণে মারা গেছে৷
উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার কারণ অনেক
উচ্চ রক্তচাপের ঠিক আসল কারণ কী – তা সেভাবে প্রমাণ হয়নি৷ তবে অতিরিক্ত ওজন, স্ট্রেস, বেশি মাত্রায় মদ্য পান, ধূমপান, ডায়েবেটিস-২ যাঁদের রয়েছে এবং বয়স – এসবই এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে৷ তাছাড়া জেনেটিক কারণও রয়েছে৷ অর্থাৎ মা-বাবার ‘হাই প্রেশার’ থাকলে সন্তানদেরও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷
ছবি: PeJo - Fotolia.com
নিয়মিত চেকআপ
বেশিরভাগ মানুষই বুঝতে পারেন না যে তাঁদের কখন উচ্চ রক্তচাপ হয়৷ কারণ রক্তচাপ বেড়ে গেলে শরীরের তেমন কোনো সমস্যা বোধ হয় না৷ আর সে কারণেই তা সহজে বোঝা যায়না৷ ড.মার্শালের পরামর্শ, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করার মাধ্যমেই শুধুমাত্র তা বোঝা বা জানা সম্ভব৷ তাই নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত৷ প্রয়োজনে ঘরে বসে নিজেও প্রেশার মাপা যেতে পারে, তবে ভালোভাবে মাপার যন্ত্রের ব্যবহার শিখে নিয়ে৷
ছবি: Fotolia/Jürgen Fälchle
মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া
উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা যেহেতু বুঝতে পারেন না কখন রক্তের চাপ বাড়ে বা কমে, তাই তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাতেই অভ্যস্ত৷ এর কারণে অনেক অঘটনও ঘটে থাকে৷ হঠাৎ করে রক্তের চাপ বেশি বা কম হওয়ায় হয়ত রাস্তায় মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারেন কেউ কেউ৷
ছবি: Fotolia/Robert Kneschke
উচ্চ রক্তচাপ ও চিকিৎসা
এর জন্য ওষুধ তো রয়েছেই, তবে ডাক্তাররা প্রথমেই বলে থাকেন ওজন কামানোর কথা৷ স্ট্রেস এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত হাঁটাচলা ও ব্যায়াম করার কথা৷
ছবি: Fotolia/Markus W. Lambrecht
উচ্চ রক্তচাপ ও নারী
যাঁদের ওজন বেশি ছিল এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণে ওষুধ খেতেন, তাঁদের অনেকের ওজন কমানোর পরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ রক্তচাপও কমে গেছে – এমন প্রমাণ প্রায়ই পাওয়া যায়৷ জার্মানিতে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন ৩৫ মিলিয়ন মানুষ৷ তবে রোগীর সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় মেয়েদের কিছুটা কম৷
ছবি: WHO/C. Black
উচ্চ রক্তচাপ ও খাওয়া দাওয়া
অনেক সময় দেখা যায় খাওয়া দাওয়ার খানিকটা পরবর্তন করলেই উচ্চ রক্তচাপ কমতে শুরু করে৷ একটা কথা মনে হয় আজ আর কারো অজানা নয় যে, প্রায় সব অসুখের মূলেই রয়েছে অতিরিক্ত ওজন৷ শরীরের জন্য যা প্রয়োজন সেসব খাবার বুঝে শুনে খেলেই ওজন কামানো সম্ভব৷
ছবি: Fotolia
কম লবণের ব্যবহার
খাবারে লবণের পরিমাণও কমানো উচিত, কারণ অতিরিক্ত লবণ হাই প্রেশারের জন্য ক্ষতিকর৷ আর উচ্চ রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের জন্য বড় ঝুঁকি৷
ছবি: Christian Thiele
উত্তেজনা এড়িয়ে চলা
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের যে কোনো ধরণের উত্তেজনা এড়িয়ে খুশি থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা৷
ছবি: picture-alliance/dpa
10 ছবি1 | 10
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দেবব্রত রায় ডয়চে ভেলেকে আরও বললেন, আগে বাচ্চাদের মধ্যে খেলাধুলার একটা বড় ভূমিকা ছিল৷ একান্নবর্তী পরিবারে সব বাচ্চা মেতে থাকতো খেলাধুলায়৷ এখন পরমাণু পরিবার৷ বাচ্চারা খেলার সঙ্গী পায়না ঠিকমতো৷ আগে টিভির দাপট ছিল না৷ এখন ঘরে ঘরে টিভি৷ এখন ছোটবেলা থেকেই টিভিতে মগ্ন বাচ্চারা৷ খেলাধুলার আকর্ষণ কমে গেছে৷ শুধু তাই নয়, কার্টুন নেটওয়ার্কে খালি ফাস্টফুডের বিজ্ঞাপন৷ মালেশিয়ার মতো দেশেও টিভিতে ফাস্টফুডের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ৷ আমাদের দেশে নয়৷ অবশ্য বিদেশেও ফাস্টফুড আছে৷ কিন্তু সেখানকার ফাস্টফুডে সুগার বা সল্ট নেহাতই কম থাকে৷ কাজেই অত ক্ষতিকারক নয়৷ কম্পিউটার, বিশেষ করে সোস্যাল মিডিয়ার প্রতি প্রচন্ড আসক্তি৷ সর্বক্ষণ মেতে থাকতে চায়৷ এতে শারীরিক ও মানসিক দুইদিক থেকেই ক্ষতি হয় তরুণ প্রজন্মের, যার পরিণাম হৃদরোগ৷ এমনটাই বললেন কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ রায়৷