1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

মমতা কি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন?

গৌতম হোড় দিল্লি
১০ জুন ২০২৬

দ্রুত দল ভাঙছে। কলকাতা, জেলা, দিল্লি সর্বত্র। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন?

ধর্মতলায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মমতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি দলকে আবার সংগঠিত করতে পারবেন?ছবি: Subrata Goswami/DW

তৃণমূল ফাঁকা করে লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছাড়ছেন। রাজ্যসভায় সুখেন্দু শেখর রায়ের পর বুধবার তৃণমূল ছাড়লেন সুস্মিতা দেব। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনকে লেখা ইস্তফাপত্রে সুস্মিতা বলেছেন, তিনি অবিলম্বে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। 

সুস্মিতার বুধবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে দেখাও করেছেন। তারপর তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে সব কথা বলা সম্ভব নয়। কিন্তু তিনি দুই নৌকায় পা দিুয়ে থাকতে চান না। একজায়গায় থাকবেন, অন্য দলের হয়ে কাজ করবেন, সেটা হয় না। এভাবেই তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন সুস্মিতা। 

এর আগে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদরা স্পিকারকে চিঠি লিখে এনডিএ ব্লকে আলাদা বসার জায়গা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন বলে জানিয়েছেন। সেই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সংখ্যাও প্রতিদিনই বাড়ছে। বিক্ষুব্ধ সাংসদদের দাবি, সেই সংখ্যা ইতিমধ্যে ২২ হয়ে গেছে। তৃণমূলের লোকসভা সাংসদের সংখ্যা ২৮। 

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে থাকার সময়ই তার দলের লোকসভা ও রাজ্যসভা সাংসদরা দল ছাড়ছেন। মমতা মঙ্গলবার কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কিন্তু এখনো এই ভাঙন ঠেকাতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে এই অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কতটা?

মমতা পারবেন? 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ''মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোটা অত্যন্ত কঠিন, সম্ভাবনা খুবই কম। পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি করার মতো স্পেস তিনি পাবেন না। বামেরা তো এতদিন পরেও পায়নি।'' 

কেন এই স্পেস মমতা পাবেন না তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তিনি বূলেছেন, ''এখন তৃণমূল মানে হয়ে গেছে দাদাগিরি, তোলাবাজি, বিশৃঙ্খলা। এই অবস্থায় রাস্তায় মানুষকে জড়ো করা খুবই কঠিন।'' 

প্রবীণ সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র এই বিষয়ে বিশ্বনাথের সঙ্গে অনেকাংশে একমত। ডিডাব্লিউকে তিনি বলেছেন, ''রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কোনো শব্দ নেই। তবে এটা ঠিক যে, বর্তমান অবস্থা থেকে মমতার পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো খুবই কঠিন। তিনি সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু দুটো ভোটই হারিয়েছেন।'' 

শুভাশিস মনে করেন, ''মমতাকে সম্ভবত আবার কংগ্রেসে ফিরে যেতে হতে পারে। কংগ্রেসে গেলে তার ঘুরে দাঁড়ানোর তাও কিছুটা সম্ভাবনা রয়েছে।'' 

ডিডাব্লিউকে প্রবীণ সাংবাদিক জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলেছেন, ''বলা হয়, মমতা যখন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেন, তখন তিনি অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু এবার মনে রাখতে হবে, তার সেই বয়স নেই। সেই পরিস্থিতি নেই। তৃণমূল নেত্রীকে বিভিন্নভাবে চাপে রাখবে বিজেপি সরকার। তাছাড়া গত ১৫ বছরের শাসনে যা হয়েছে, সেটাও মানুষের মনে আছে। 

জয়ন্ত মনে করেন, এবার মমতার লড়াই অত্যন্ত কঠিন। এখন তিনি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে গেছেন। অতীতে তিনি কখনো এই জোটে ছিলেন, কখনো দূরত্ব তৈরি করেছিলেন। এখন তিনি জোটে থাকুন বা কংগ্রেসে যান, তার ঘুরে দাঁড়ানোটা কার্যত অসম্ভব।'' 

বিশ্বনাথের মতে, ''পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আরো একটা সমস্যা হলো, বিধানসভা বিরোধীশূন্য হয়ে যাওয়া। তৃণমূল ভেঙে যারা যাচ্ছেন তারা তো কার্যত সরকারের পক্ষেই থাকবেন। সংসদীয় গণতন্ত্র তখনই ঠিকভাবে কাজ করে, যখন বিরোধীরা শক্তিশালী থাকে। এটাও মাথায় রাখতে হবে।''

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ