মহাকাশে বৈদ্যুতিক শক্তির ব্যবহারকে আরো উন্নত করতে কাজ করছেন ইন্দোনেশিয়ার এক নারী গবেষক৷ রেডিও-আইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটরকে আরো দক্ষ করে গড়ে তুলতে জার্মানির কোলনের একটি গবেষণাকেন্দ্রে দিনরাত পরিশ্রম করছেন তিনি৷
ছবি: picture-alliance/dpa/Indian Space Research Organization
বিজ্ঞাপন
মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে তথ্য পাঠাতে বৈদ্যুতিক শক্তি কেমন করে পায় আর্থ স্টেশনগুলো? এর জন্য রেডিও-আইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর বা আরটিজি হলো অন্যতম মাধ্যম৷ কোলন শহরে আকাশ ও মহাকাশ ভ্রমণ সংক্রান্ত এই গবেষণা কেন্দ্রে সারাবিশ্বের বিজ্ঞানীরা তেমনই একটি থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর তৈরি করতে একত্রিত হয়েছেন৷
ইন্দোনেশিয়ার হাসবুনা কামিলা তাদের একজন৷ তিন বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এই দলটিতে কাজ করছেন, যারা কিনা জেনারেটরটিকে আরো কেমন করে দক্ষ করে গড়ে তোলা যায় সে চেষ্টা করছেন৷
কামিলা বলেন, ‘‘আমার গবেষণার উদ্দেশ্য হলো থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটরে পি-টাইপ উপাদান অপটিমাইজ করা৷ এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ পি-টাইপের দক্ষতা উপাদানগুলোর গঠনের ওপর নির্ভর করে৷’’
তিনি যোগ করেন, ‘‘পি-টাইপ উপাদানটিকে থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটরের জন্য অপটিমাইজ করা হলো তা যেন মডিউল হিসেবে ব্যবহার করা যায়৷ তবে আমি পুরো জেনারেটরটি তৈরির ক্ষেত্রে খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ নিয়ে কাজ করি, যা হয়তো ভবিষ্যতে মহাকাশযান বা গাড়িতে ব্যবহার করা যাবে৷’’
মহাকাশের যে গবেষণায় নারীরাই এগিয়ে
04:32
This browser does not support the video element.
তবে গবেষক দলটির প্রধান ইয়োহানেস দ্য বোরের মতে, কামিলার কাজের পরিধি কম হলেও অনেক বেশি কার্যকরী৷ কামিলার গবেষণার ফলে তাপবর্জ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা বিদ্যুতের দক্ষ জ্বালানির উৎস হবে৷
‘‘মিলা যে কাজটি করছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ এই যে ছোট ছোট পা, ছোট স্তম্ভগুলো দেখছেন, এগুলোর অর্ধেক এন-টাইপ ও অর্ধেক পি-টাইপ উপাদান দিয়ে তৈরি,’’ বলেন বোর৷
বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই মিলা কাজের প্রেরণা পান৷ তার মতে, বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব রাখতে পারেন৷
জটিল এই গবেষণায় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বিজ্ঞানীরা একসাথে হয়েছেন৷ তাদের মেধা এর ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলবে বৈকি৷ যেটি বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয় তা হল, এখানে নারী গবেষকদের সংখ্যা বেশি৷
জার্মানিতে পিএইচডি গবেষণা করার আগে কামিলা ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন৷ ইন্দোনেশিয়ায় ফিরে তিনি তার অ্যাকাডেমিক গবেষণা চালিয়ে যেতে চান৷
টংগি টেওডোরা সিরেগার/জেডএ
সারাহ আমিরি: আমিরাতের মঙ্গল অভিযানের নেত্রী
১২ বছর বয়সে সারাহ আমিরি এমন এক স্বপ্ন দেখেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো নারীর জন্য যা ছিল বাস্তবতাবর্জিত৷অবশেষে তার ‘নেতৃত্বেই’ আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মঙ্গল অভিযান শুরু করেছে আরব আমিরাত৷
ছবি: picture-alliance/Pacific Press/L. Radin
মঙ্গলের পথে ‘আশা’
প্রথম আরব দেশ হিসেবে মঙ্গলগ্রহের দিকে যাত্রা শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত৷ ‘আল আমাল’, অর্থাৎ আশা নামের স্বয়ংক্রিয় মহাকাশযান নিয়ে জাপানের তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে রওনা হয়েছে জাপানি রকেট৷
ছবি: AFP/Mitsubishi Heavy Industries
‘নেত্রী’ সারাহ আমিরি
তিন বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত বিজ্ঞানিদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়া হয় তাকে৷তারপর বিশ্বের প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মন্ত্রীও করা হয় সারাহ আমিরিকে৷ হোপ বা আশা নামের প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার এবং বিজ্ঞানী দলের প্রধানও তিনি৷
ছবি: picture-alliance/Pacific Press/L. Radin
কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার থেকে....
কর্মজীবন শুরু হয়েছিল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে৷ পরে আমিরাতের ইন্সটিটিউশন ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান সারাহ আমিরি৷১২ বছর বয়সে এমন স্বপ্নই দেখেছিলেন তিনি৷
ছবি: picture-alliance/Pacific Press/L. Radin
স্বপ্নের উৎস
১২ বছর বয়সে মহাকাশ নিয়ে স্বপ্ন দেখার বিষয়টি ২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন সারাহ আমিরি, ‘‘ ১২ বছর বয়সে অ্যান্ড্রোমেডা ছায়াপথের একটা ছবি দেখি আমি৷তারপর থেকে মহাকাশ সম্পর্কে জানার এবং মহাকাশ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ বাড়তে থাকে৷’’
ছবি: picture-alliance/AP Photo/K. Jebreili
ভাবনায় নারী ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মক্ষেত্রের ২৮ ভাগ নারী৷তবে মঙ্গল মিশনের শতকরা ৩৪ এবং বিজ্ঞানীদের দলের ৮০ ভাগই নারী৷ভবিষ্যতে সব ক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ আরো বাড়াতে চান সারাহ আমিরি৷তবে বিজ্ঞানকে অবশ্য এত ছোট গণ্ডিতে বেঁধে রাখতে রাজি নন, ‘‘আমার কাছে বিজ্ঞান হচ্ছে জোটবদ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক উপায়৷এটা সীমাহীন, সীমানাহীন বিষয়৷’’