1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

মানবতাবিরোধী অপরাধ, ক্ষমা ও বিচার

30:20

This browser does not support the video element.

২৭ মার্চ ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগী কারা? ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের কি মীমাংসা হয়ে গেছে? ইতিহাস কী বলছে?

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ৫৫ বছর কেটে গেছে৷ কিন্তু এখনও দেশটির ইতিহাসের বয়ান নিয়েই শেষ হয়নি বিতর্ক৷ সরকার পরিবর্তন হলেই বদলে যায় ইতিহাসের নির্মাণ৷ কখনও জিয়াউর রহমান হারান খেতাব, কখনও শেখ মুজিবুর রহমান হারান পদবি৷

স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্কের যেমন মীমাংসা হয়নি, নানা দলের ও ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক চলমান৷ সরকার বদলের সঙ্গে বদলে যায় জাতীয় দিবস, রাষ্ট্রীয় ছুটি এমনকি বিভিন্ন স্থাপনার নামও৷

ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করার পর জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনই উসকে দিয়েছে ইতিহাস নিয়ে আরেক বিতর্ক৷ একদিকে সংসদের স্পিকার হিসাবে নির্বাচিত করা হয় বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে, অন্যদিকে তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় শোকপ্রস্তাবে৷

সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপারটি হচ্ছে, স্পিকারের ঘোষণা করা প্রাথমিক শোকপ্রস্তাবে নাম না থাকলেও বিএনপির পক্ষ থেকেই প্রথম এই নামগুলো প্রস্তাব করা হয়৷

এরপর জামায়াতে ইসলামী আরো কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করে, যাদের মধ্যে আরো কয়েকজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছেন৷

পরে আবার ফ্লোর নিয়ে চিফ হুইপ আরো কয়েকজনের নাম প্রস্তাব করেন, এবার সেই প্রস্তাবে ছিলেন মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান এবং সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার বীর উত্তমও৷

সংসদে এ নিয়ে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি না হলেও সংসদের বাইরে এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে কয়েকটি দল ও সংগঠন৷ সিপিবি এই শোকপ্রস্তাবকে ‘ধৃষ্টতা’ উল্লেখ করে বলেছে, দেশের মানুষ এটা কখনোই ভুলবে না৷ বাসদ এর নিন্দা জানিয়ে ‘শোকপ্রস্তাব থেকে যুদ্ধাপরাধীদের নাম প্রত্যাহার’ করার দাবি জানিয়েছে৷ উদীচী এই শোকপ্রস্তাবকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা’ বলে উল্লেখ করেছে৷

জামায়াতে ইসলামী অবশ্য শোকপ্রস্তাব নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়াকেই অমানবিক মনে করে৷

অধিবেশনের প্রথম দিনেই বক্তব্য রেখেছেন ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এবং ২০১৯ সালে আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম৷ ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর রিভিউ আবেদনে তাকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়৷ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পুনর্গঠিত আপিল বিভাগ বলেছে, আজহারুলের মৃত্যুদণ্ড ছিল ‘গ্রস মিসক্যারেজ অব জাস্টিস’৷

২০২৬ সালে রংপুর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম৷

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল নানা মহল থেকেই৷ মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এমনকি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাও বিচারকদের নিরপেক্ষতা, বিচারের নিরপেক্ষতা, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা এবং আসামি পক্ষকে যথেষ্ট সুযোগ না দেয়ার অভিযোগ করে এসেছে৷

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের পর তার প্রতিষ্ঠা করা আদালতেই এবার চলছে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার৷ তবে বাংলাদেশের অন্য নানা কিছুর মতো এখানেও সরকার বদলের সঙ্গে বদলে গেছেন বিচারক, এমনকি ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের পক্ষে যিনি ওকালতি করছিলেন, একই আদালতে ২০২৪ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে তিনি হয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী৷

একটি মামলায় হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন  কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত৷ যথারীতি এই বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা৷

কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজা কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপারে সংসদে শোকপ্রস্তাব আনার মাধ্যমে বিএনপি আসলে কী বার্তা দিতে চাচ্ছে?

২০ মে, ১৯৭১৷ খুলনার চুকনগর৷ যুদ্ধ থেকে বাঁচতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নানা এলাকা থেকে দলে দলে শরণার্থীরা এসে জড়ো হয়েছিলেন ভারতীয় সীমান্তবর্তী চুকনগরে৷ ভদ্রা নদীতে অপেক্ষমাণ সারিবদ্ধ নৌকায় ভারতে শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় নেয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন হাজার হাজার মানুষ৷

কিন্তু সকাল ১০টার দিকে হঠাৎই সেখানে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের বহনকারী জিপ৷

সেদিন পরিবারের আট জন সদস্যকে হারিয়েছিলেন কিশোর নিতাই গাইন৷ নিজে প্রাণে বেঁচেছেন একজনের বদান্যতায়৷

তখনকার কিশোর নিতাই ৫৫ বছর পর এখন বৃদ্ধ৷ এখনও পরিবার হারানোর শোক ভুলতে পারেননি তিনি৷

অনেকেই চুকনগর গণহত্যাকে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে হওয়া সবচেয়ে বড় একক হত্যাকাণ্ড হিসাবে বিবেচনা করেন৷ কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৯ মাসে সংগঠিত হত্যাকাণ্ড এখনও আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যার স্বীকৃতি পায়নি৷

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সহায়তার জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গঠন করা হয়েছিল নানা ধরনের বাহিনী৷ এর মধ্যে অন্যতম ছিল শান্তি কমিটি৷ শান্তি কমিটির কাজ কী ছিল? এই বিষয়ে ১৯৭১ সালের ১০ মে প্রকাশিত দৈনিক পাকিস্তানে বলা হয়েছে- কমিটি জনসাধারণের নিকট থেকে অভিযোগ শ্রবণ করে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেসামরিক ও সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের কাছে তা পেশ করে৷ পাশাপাশি এও বলা হয়েছে, কমিটি শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার এবং দুষ্কৃতিকারী ও রাষ্ট্রবিরোধীদের ধরার জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেছে৷

‘খুলনায় শান্তিকমিটির কর্মব্যস্ততা’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে খুলনা অঞ্চলে সেই শান্তি কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয় পরিষদের প্রাক্তন সদস্য মওলানা এ কে এম ইউসুফ৷ জাতীয় সংসদে আনা শোকপ্রস্তাবে রয়েছে এ কে এম ইউসুফের নামও৷

চুকনগরে ২০ মে ঘটে যাওয়া এত বড় হত্যাকাণ্ডের খবরও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পরদিন কোনো পত্রিকাতেই আসেনি৷ ২১ মে দৈনিক সংগ্রামের প্রথম পাতায় প্রকাশ পায় ‘প্রদেশের মুসলিম জনগণ ভারতের দালালদের বরদাশত করবে না’ শিরোনামে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক এবং শ্রম সম্পাদক মোহাম্মদ শফিকুল্লাহ এর বিবৃতি৷

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘‘অবশেষে পাকিস্তান বিরোধী দুষ্কৃতিকারী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী মহল কর্তৃক পরিচালিত সন্ত্রাস ও হাঙ্গামার রাজত্ব মরণ আঘাত লাভ করেছে৷’’

চুকনগরে হত্যাকাণ্ডের শিকারদের বড় একটি অংশই ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী৷ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জামায়াত নেতাদের অনেকেই পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরও ভারতের দালাল মনে করতেন৷

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা এবং পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন প্রধান আবুল আলা মওদুদী ১৯৭১ সালের জুন মাসে পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যার সকল তথ্যকে খণ্ডন করে মুসলিম বিশ্বের প্রতি একটি বিশাল বিবৃতি পাঠান৷ দৈনিক সংগ্রামে পুরো বিবৃতি প্রকাশ করা হয় ৭ জুন৷ ‘পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম জনগণ কখনও বিচ্ছিন্নতা চায়নি’ শিরোনামের এই খবরে মওদুদী বলেছিলেন, ‘‘বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাঙ্গালী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রচারণা চালাচ্ছে যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরপরাধ বাঙ্গালী মুসলমানের রক্তপাত ঘটাচ্ছে৷’’

বিশাল এই বিবৃতিতে তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়কে, এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বিদেশি হিন্দু-ইহুদিদের ষড়যন্ত্র, বলে আখ্যা দিয়েছেন৷ পয়লা মার্চ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে কোনো সাধারণ মুসলমান অংশ নেয়নি বলে দাবি করেন মওদুদী৷ তিনি বলেছেন, ‘‘প্রকৃতপক্ষে চরমপন্থিদের একটি বিশেষ অংশ এই বিচ্ছিন্নতা আন্দোলন শুরু করে এবং তারা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ক্ষেত্রে হিন্দু অধ্যাপকদের কাছ থেকে শিক্ষালাভ করে৷ অতএব তাদের ইসলামী আদর্শ সম্পর্কে কোনো শিক্ষা ছিল না৷’’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর সংগঠিত হয় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড৷ এই সব বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা যেমন ছিলেন, ছিলেন সাংবাদিক, শিল্পী, প্রকৌশলী, লেখক-সহ অনেকেই৷ ১৯ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে শিরোনাম ছিল- 125 Slain in Dacca Area Believed Elite of Bengal অর্থাৎ, ঢাকায় নিহত ১২৫, ধারণা করা হচ্ছে তারা বাংলার অভিজাত৷

রায়েরবাজার বধ্যভূমির ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে এখানে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- সকল ভুক্তভোগীর হাত পেছন দিকে বাঁধা ছিল এবং তাদের বেয়নেট দিয়ে, গলা টিপে অথবা গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল৷ আনুমানিক ৩০০ জন বাঙালি বুদ্ধিজীবীর মধ্যে তারাও ছিলেন, যাদের পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্য এবং স্থানীয়ভাবে নিয়োগকৃত সমর্থকেরা আটক করেছিল৷

পাকিস্তানিপন্থি অনিয়মিত বাহিনী রাজাকাররা ন্যায্য আত্মসমর্পণের শর্তের জন্য ভুক্তভোগীদের ‘জিম্মি’ হিসেবে আটকে রেখেছিল বলে মনে হয়৷ ধারণা করা হচ্ছে, দুই দিন আগে পাকিস্তানি কমান্ডারদের আত্মসমর্পণের ঠিক আগে তাদের হত্যা করা হয়েছিল৷
কিন্তু জামায়াতের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবি করা হয়, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা ছিল তাদের রাজনৈতিক অবস্থান৷ 

জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম, পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি- পিডিপিসহ বেশ কিছু দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ভূমিকা নিয়েছিল৷ তবে জামায়াত ছাড়া অন্য কোনো দলই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন আর প্রাসঙ্গিক ভূমিকায় নেই৷

জামায়াত বরাবরই দাবি করেছে, দলটির কোনো নেতাকর্মী কখনও কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না৷ এমনকি রাজাকার বাহিনী ও আল বদর, আল শামসেও তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না৷

নানা কড়াকড়ির মধ্যে গণমাধ্যমে বাংলাদেশে চলমান যুদ্ধের তথ্যও সঠিকভাবে প্রকাশ পাচ্ছিলো না৷ ২৫ মার্চ আক্রমণ শুরুর পর ঢাকায় অবস্থান করা বিদেশিদের বহিষ্কার করে পাকিস্তান৷ এরপর আট জন সাংবাদিককে দশ দিনের একটি সফরে পূর্ব পাকিস্তানে আনা হয় বিদ্রোহ দমনে পাকিস্তানি বাহিনীর সাফল্য তুলে ধরার জন্য৷ এই আট সাংবাদিকের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানি সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসও৷

সফর শেষে বাকি সাত পাকিস্তানি সাংবাদিক দেশে ফিরে গিয়ে বিদ্রোহ দমনের সাফল্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলেও অ্যান্থনি মাসকারেনহাস চলে যান লন্ডনে৷ সেখানে ব্রিটিশ পত্রিকা টাইমসে ১৩ জুন প্রকাশ করেন জেনোসাইড শিরোনামে তার বিখ্যাত প্রতিবেদন৷ দীর্ঘ এই প্রতিবেদনটিতে তিনি পাকিস্তানি বাহিনী পরিচালিত গণহত্যার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন৷

প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, পূর্ব-পাকিস্তানকে একটি উপনিবেশে পরিণত করার পরিকল্পনা চলছে৷ তিনি বলেছেন, পাকিস্তান সরকারের নীতি ছিল তিনটি-

১. বাঙালিরা ‘বিশ্বাসের অযোগ্য’ হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের পশ্চিম পাকিস্তানিদের দ্বারাই শাসিত হতে হবে৷

২. বাঙালিদের সঠিক ইসলামি প্রক্রিয়ায় পুনরায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে, যাতে বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা দূর হয় এবং দুই পাকিস্তানে শক্তিশালী ধর্মীয় বন্ধন সৃষ্টি হয়৷

৩. হিন্দুরা যখন মৃত্যু বা লড়াইয়ে নিশ্চিহ্ন হবে, তখন তাদের সম্পত্তি সুবিধাবঞ্চিত মধ্যবিত্ত মুসলিমদের মন জয়ে ব্যবহার করা হবে৷

এই নীতি চরম নির্লজ্জভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন মাসকারেনহাস৷

কিন্তু এর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক কী!

প্রতিবেদনের শেষের দিকে বলা হয়েছে- পূর্বে ঔপনিবেশিকতার কঠোর বাস্তবতা নির্লজ্জ লোকদেখানো আবরণে ঢাকা হচ্ছে৷ বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান তাদের কাজের জন্য পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন৷ ফলাফল ঠিক সন্তোষজনক হয়নি৷ এখন পর্যন্ত যে সমর্থন এসেছে, তা এসেছে ঢাকার বাঙালি আইনজীবী মৌলভী ফরিদ আহমদ, ফজলুল কাদের চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম আযমের মতো ব্যক্তিদের কাছ থেকে, যারা সবাই গত ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিলেন৷

১৯৭১ সালে গোলাম আযম ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের আমির৷ ১৯ জুন রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার সংবাদ সম্মেলন বেশ গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে দৈনিক সংগ্রাম৷ সেখানে দুষ্কৃতিকারীদের মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে দেশের আদর্শ ও সংহতিতে বিশ্বাসী লোকদের হাতে অস্ত্র সরবরাহের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি৷

১৭ সেপ্টেম্বর পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠন করা হয় গভর্নর এ এম মালেকের অধীনে৷ সেই মন্ত্রিসভায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন এ কে এম ইউসুফও৷ সেই একইদিনে আরেকটি সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক সংগ্রাম- ‘রেজাকার শিবিরে অধ্যাপক গোলাম আযম- সত্যিকার মুসলমানরাই পাকিস্তানের প্রকৃত সম্পদ’ শিরোনামে৷ সেখানে তিনি বলেছেন, আলেম ও ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ওপর ব্যাপক হারে হামলা না হলে তারা আত্মরক্ষা ও পাকিস্তানের হেফাজতের জন্য রেজাকার, মুজাহিদ ও পুলিশ বাহিনীতে ভর্তি হয়ে সশস্ত্র হবার প্রয়োজন বোধ করতেন না৷

পরদিন তার বক্তব্যের বাকি অংশ প্রকাশ করে সংগ্রাম৷ সেখানে বলা হয়েছে- অধ্যাপক গোলাম আযম শিক্ষা গ্রহণরত রেজাকারদের উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, রেজাকার বাহিনী কোনো দলের নয়, তারা পাকিস্তানে বিশ্বাসী সকল দলের সম্পদ৷

রেজাকারদের ভালো ভাবে ট্রেনিং নিয়ে যতশীঘ্র সম্ভব অভ্যন্তরীণ শত্রুদের দমন করার জন্য গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার আহ্বান জানান তিনি৷
ভালো ভাবে ট্রেনিং নেয়া রাজাকার, আল বদর ও আল শামস বাহিনী গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে কী করেছিল, তার সংবাদ তৎকালীন নানা পত্রিকাতে বেশ গুরুত্ব দিয়েই প্রকাশ পেয়েছে৷

১ ডিসেম্বর আবার প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন গোলাম আযম৷ সেখানেও তিনি মহান দেশ সেবায় নিয়োজিত রেজাকারদের সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানান৷ তিনি তথাকথিত মুক্তিবাহিনীকে শত্রুবাহিনী নামে অভিহিত করে বলেন, ‘‘রেজাকারদের পুলিশ ও অন্যান্যের মতো অস্ত্রশস্ত্র প্রেরণ করা হলে তারাই এই শত্রুবাহিনীর মোকাবেলা করতে সক্ষম৷’’

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭১ সালে ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছে বারবার৷ দলটির নেতারা বলেছেন, অন্তত তিন জন নেতা এজন্য ক্ষমা চেয়েছেন৷ ১৯৯৪ সালে গোলাম আযম, ২০১০ সালে দলটির তৎকালীন প্রধান মতিউর রহমান নিজামী এবং অতি সম্প্রতি দলটির বর্তমান আমির শফিকুর রহমান৷

কিন্তু এই ক্ষমা চাওয়া নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন৷ জামায়াতে ইসলামী কখনই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি৷ অনেকটা যদি হয়ে থাকে, তবে- এমন কৌশলই কি অবলম্বন করছে জামায়াত?

একদিকে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে দাবি করলেও অন্যদিকে ১৯৮১ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে তৎকালীন আমির গোলাম আযম বলেছিলেন- একাত্তরে আমরা ভুল করিনি৷

এই ইস্যুতে জামায়াতের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী? ডয়চে ভেলের প্রশ্ন ছিল, আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়ে বিষয়টির চিরস্থায়ী মীমাংসার কোনো পরিকল্পনা দলটির আছে কিনা৷

একটু ফ্যাক্টচেক করা যাক৷

শেখ মুজিবুর রহমান কোলাবরেটর অ্যাক্ট বা দালাল আইন বাতিল করেননি৷ বরং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হিসাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগীদের বিচারে ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার আদেশ জারি করেছিলেন তিনি৷ পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না৷

পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান৷ এর উদ্দেশ্য হিসাবে শেখ মুজিব বলেছিলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নস্যাৎ করার জন্য দখলদার বাহিনীর সহিত সহযোগিতার অভিযোগে আটক কিংবা দণ্ডিত সবাই এখন কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনায় দগ্ধ এবং নিঃসন্দেহে দেশ পুনর্গঠনের সকল সুযোগ গ্রহণে আগ্রহী৷

তাহাদের বিষয় সহানুভূতির সহিত বিবেচনা করিয়া এবং যাহাতে কেহ স্বাধীনতার সুফল ভোগ হইতে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখিয়া তাহার সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে তাহাদের অবিলম্বে মুক্তিদানের নির্দেশ দিয়াছেন৷

সেখানেও বলা হয়েছে, যে সকল ব্যক্তি ধর্ষণ, খুন, অগ্নিসংযোগ অথবা পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের দায়ে অভিযুক্ত অথবা দণ্ডপ্রাপ্ত, তাহারা ছাড়া বাংলাদেশ দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) ৭২ বলে অভিযুক্ত অথবা সাজাপ্রাপ্ত সকলকে অনতিবিলম্বে মুক্তিদান করা হইবে৷ 

উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলাদেশে তখনও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ছিল নিষিদ্ধ৷

আরেকবার ফ্যাক্টচেক করা যাক৷

১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইন বাতিলের আদেশ জারি করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবুসাদাত মোহাম্মদ সায়েম৷ এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত করা ব্যক্তিদেরও বিচারের প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায়৷

দুদিন পর ১৯৭৬ সালের ২ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাক এই ইস্যুতে অস্পষ্টতা নিয়ে ‘দালাল আইন বাতিল প্রসঙ্গে’ শিরোনামে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে৷ সেখানে বলা হয়- সত্যিকার অপরাধমূলক দুষ্কর্মের অভিযোগে যাহারা অভিযুক্ত, তাহাদের বিষয়ে এই দালাল আইন বাতিল অর্ডিন্যান্স কিভাবে প্রযোজ্য হইবে, তাহা আরও খোলাসা করিয়া বলিয়া দেওয়া উচিত ছিল৷ শোনা যাইতেছে, এইসব ক্রিমিন্যাল অফেন্সের বিচার অতঃপর দেশের প্রচলিত আইনেই হইবে৷ অতীতে আমরাও এই বক্তব্যই রাখিয়াছিলাম৷ এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রদান করা হইলে, উহার দ্বারা অনেক অবাঞ্চিত পরিস্থিতি এড়ান সম্ভব হইবে বলিয়া আমাদের বিশ্বাস৷

কিন্তু সেটা আর স্পষ্ট হয়নি৷ ফলে এখনও সেই অস্পষ্টতা রয়েই গেছে৷

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ছিল৷ ১৯৭৬ সালের মে মাসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সায়েম অধ্যাদেশ জারি করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন৷ এর মাধ্যমে বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতির পথ উন্মুক্ত হয়৷ কিন্তু জনমনে অসন্তোষ বিবেচনায় নিয়ে জামায়াত নিজ নামে রাজনীতি শুরু করে আরো পরে- ১৯৭৯ সালে৷

১৯৮১ সালে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জিয়াউর রহমানের দেয়া ভাষণ নিয়ে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছিল জামায়াতে ইসলামী৷ দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদ জিয়াকে উদ্ধৃত করেছে এভাবে- কতিপয় ব্যক্তি বিদেশী প্ররোচনায় আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব খর্ব করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রহিয়াছে৷ তাহারা কে, আমি জানি৷ তাহারা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে নাই, বরং তাহারা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করিয়াছিল৷

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করিয়া যেমন ঐ সময় তাহারা সফল হইতে পারে নাই, আজও তাহারা সফল হইতে পারিবে না৷ জনগণ তাহাদের ধ্বংস করিয়া দিবে৷ ... প্রয়োজন হইলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জনগণ আবার অস্ত্র হাতে তুলিয়া নিবে৷ আর এইবার জনগণকে নেতৃত্ব দিবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল৷

দুদিন পর ৩০ মার্চ এর প্রতিক্রিয়া জানায় জামায়াতে ইসলামী৷ দৈনিক বাংলা এই সংবাদের শিরোনাম করেছিল- স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা ভুল হয়নি: জামাত

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রস্তাবিত রাজাকার-আলবদর প্রতিরোধ সপ্তাহ পালন সম্পর্কে জামায়াতের নেতারা বলেছিলেন- এটা দেশকে বিভেদের দিকে ঠেলে দেয়ার চক্রান্ত৷

সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মওলানা আব্বাস আলী খান, নায়েবে আমির এ কে এম ইউসুফ এবং ঢাকা নগরী জামাতের আমির মতিউর রহমান নিজামী প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন৷ তাদের বক্তব্যের মধ্যে কয়েকটি ছিল এমন-

১. মুক্তিযুদ্ধারা কোনো দলের একার সম্পত্তি নয়৷ অন্যান্য দলেও যেমন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে, তেমনি জামাতে ইসলামীতেও বহু মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে৷
২. রাজনীতির বিচার হয় বর্তমানের প্রেক্ষাপটে, তাই দল বিশেষ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সোল এজেন্ট হতে পারে না৷
৩. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধাদের কাজ ফুরিয়ে গেছে৷ দশ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ টিকিয়ে রাখার কী দরকার?

বিএনপি সরকারকে স্বৈরাচার বলে অভিহিত করা হয় সংবাদ সম্মেলনে৷ সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, যে সরকারের আমলে প্রকাশ্যে রাজনীতি করার অধিকার পেয়েছেন, সে সরকারকেই স্বৈরাচারী বলা সঠিক কিনা৷ উত্তরে নেতারা বলেছিলেন, আমরা জুলুম মেনে নিতে পারি না৷ শাসকগোষ্ঠী তাদের স্বৈরশাসন পাকাপোক্ত করার পথে জামাতকে অন্তরায় বা চ্যালেঞ্জ মনে করেছে৷... ক্ষমতাসীনরা জামাতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করতে পেরে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা অংশকে জামাতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছে৷

জিয়ার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত নেতারা বলেন- স্বাধীনতার দশ বছর পর এই ধরনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে প্রেসিডেন্ট দায়িত্বহীন উক্তি করেছেন৷ দায়িত্বহীন কথা-বার্তা জাতিকে বিভেদের দিকে ঠেলে দেয়, এতে জাতির কোনো কল্যাণ হয় না৷

এরপর অবশ্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের অবস্থান দ্রুতই সুসংগঠিত হয়েছে৷ ১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াতের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলে আওয়ামী লীগ৷ অন্যদিকে ১৯৯৯ সালে জামায়াত ও বিএনপি আনুষ্ঠানিক জোট গঠন করে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং সরকারেও যায়৷ এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ৬৮টি আসনে জিতে সবচেয়ে বড় বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী৷ এবার তাদের নির্বাচনি জোটে ছিল কয়েকটি ইসলামী দল ও ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া আন্দোলনকারীদের গড়ে তোলা দল এনসিপি।

কিন্তু রাজনৈতিক শক্তি ক্রমশ বাড়তে থাকলেও জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী তকমা কি দূর হয়ে যাবে?

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ