মানুষ কি প্রাকৃতিকভাবেই বহুগামী?

একরাতের জন্য সহবাস কিংবা পরকীয়া সব ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে৷ কিছু মানুষ একে মনোগামী বা একগামিতার ব্যর্থতা মনে করেন৷ আসলেই কি তাই? মানুষের বহুগামিতা কিংবা যৌন জীবনে অসততা নিয়ে বিজ্ঞান কী বলে? 

সেটা ছিল পড়ন্ত বিকেল, মদের নেশাটাও বাড়ছিল, মোটের উপর সঙ্গিনীও ছিল আকর্ষণীয়৷ ফলে হাসিঠাট্টা একপর্যায়ে চুমুতে রূপ নেয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে বিছানায়৷ ম্যাক্স মাঝেমাঝেই এভাবে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান৷ আর এটা কোনো সমস্যা হতো না, যদি না তিনি বিবাহিত হতেন৷ ম্যাক্স মনে করেন, তাঁর এই যৌনাকাঙ্খা স্বাভাবিক ব্যাপার৷ তবে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও এমনটা করা ঠিক নয়৷

যুগল এবং সেক্স থেরাপিস্ট গের্টরুড ভোল্ফ অবশ্য এ ব্যাপারে তাঁর অবস্থান এককথায় জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই একগামী নয়৷''

ভোল্ফের এক তৃতীয়াংশ ক্লায়েন্টই তাঁর কাছে আসেন প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে৷ একটি দম্পতি বা যুগলের যে কোনো একজন অন্য জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, এমন অভিযোগই বেশি৷ আর অনেক যুগলের কাছেই, যৌন জীবনে সৎ থাকা মানে একগামিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার৷ এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি প্রায়ই এমন মানুষের মুখোমুখি হই, যাঁরা বলেন যে তাঁরা কোনোদিনই প্রতারণা করবেন না৷ এবং তাঁদের সঙ্গী বা সঙ্গিনী যদি প্রতারণা করেন, তাহলে তাঁকে ক্ষমা করবেন না৷''

নিভৃত পল্লী
দক্ষিণ ডর্টমুন্ডের এক নিভৃত পল্লীতে এই সেক্স ডল ব্রথেল৷ নাম বরডল৷ গত বছর থেকে চালু হয়েছে জার্মানির প্রথম এই পুতুল পতিতালয়৷
বিশ্বে প্রথম নয়
জাপানেও রয়েছে সেক্স ডলের পতিতালয়৷ বার্লিনে আছে, সেক্স ডল এসকর্ট সার্ভিস৷ পুতুলগুলো সিলিকন দিয়ে তৈরি৷
ঘন্টায় ৮০ ইউরো
এই পতিতালয়ে ১২টি সিলিকন ডল আছে৷ এর মধ্যে একটি পুরুষ৷ আর একটি পুতুলের স্তন ও পুরুষাঙ্গ দু’টিই আছে৷ ঘন্টায় ৮০ ইউরো খরচ করে এমন একটি ঘরে আগ্রহীরা তাঁদের যৌনাকাঙ্খা মেটাতে পারেন৷
এভিলিন শোয়ার্ৎসের বোরডল
বোরডলের প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সি এভিলিন শোয়ার্ৎস৷ তিনি এখানে যখন একটি পতিতালয় প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তখন জার্মান ভাষাভাষী পতিতা জোগাড় করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল৷ পরে জাপানের একটি পতিতালয়ের মডেল দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন৷
চীন থেকে
চীন থেকে এসব পুতুল আনেন এভলিন শোয়ার্ৎস৷ একেকটিতে খরচ পড়ে এক থেকে দুই হাজার ইউরো৷ একেকটা পুতুল ৬ মাস পর্যন্ত সেবা দিতে পারে৷ এভলিনের একজন সহকারী আছেন, যিনি পুতুলগুলো পরিষ্কার করেন, যাতে কোনো রোগ না ছড়ায়৷
সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য?
প্রতিদিন ৫ থেকে ১২ জন খদ্দের আসেন বরডলে৷ শুধু এসব সিলিকন পুতুলই নয়, বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবটের কথাও ভাবা হচ্ছে যৌনকাজে ব্যবহারের জন্য৷ তবে রোবোটিক্সের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো এর সময় আসেনি৷

তিনি বলেন, ‘‘অনেক সময় দেখা যায়, তাঁদের অনেকে আবার আমার সামনে এসে বসেন, কেননা, তাঁরা আসলে যৌন জীবনে সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন৷''

অনেক মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, একগামিতার বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত৷ একটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিনা সেটা নিয়ে সন্দিহান তাঁরা৷ আর কারো কারো মতে, একগামিতা আসলে সেকেলে ব্যাপার, যা শীঘ্রই সমাজ থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে৷

ভোল্ফ মনে করেন, একগামিতা হচ্ছে পুরুষের আবিষ্কৃত এক ধারণা, যাকে সাংস্কৃতিক অর্জন বলা যেতে পারে৷ আর এটা এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারও৷

যৌনতার দুই ধরন

ভোল্ফ তাঁর বই ‘কন্সট্রাকশন অফ অ্যাডাল্ট'-এ মানুষের যৌনাকাঙ্খার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন৷ সেখানে তিনি দু'ধরনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন৷ একটি ধরন হচ্ছে, যেটি পুরোপুরি শারীরিক চাহিদা থেকে সৃষ্ট৷ এখানে ঘনিষ্ঠতার কোনো ব্যাপার নেই, বরং পুরোটাই শারীরিক চাহিদা৷ এই সম্পর্ক সাময়িক৷

ম্যাক্স এটা জানেন৷ জানেন রেবেকাও৷ বর্তমানে ৩০ বছর বয়সি এই নারী বয়স ২০ পেরুনোর পর নানাভাবে যৌনতার স্বাদ নিয়েছেন৷ কখনো সুইন্গার ক্লাব মানে তাৎক্ষণিক সঙ্গী বদলের ক্লাবে গিয়েছেন, কখনো এমন সব স্থানে সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন, যা স্বাভাবিকভাবে ভাবা যায় না৷ তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল যতটা সম্ভব আনন্দ, উত্তেজনা উপভোগ করা৷

আর দ্বিতীয় ধরনের সম্পর্ক হচ্ছে, যেখানে যৌনতার মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া ঘনিষ্ঠতা, যা মানসিকও হতে পারে৷ ভোল্ফের ভাষায় যাকে বলে, ‘‘সংস্কৃতির আদলে যৌনতা৷'' তাঁর মতে, এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একগামিতা বিশেষ ভূমিকা পালন করে, কেননা, দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ককে মজবুত করে তোলেন৷

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
যারা যৌনজীবনে সক্রিয়, তারা নাকি অসুস্থতাজনিত ছুটি কম নেন৷ হ্যাঁ, এমনটাই মনে করেন যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ইভোন কে. ফুলব্রাইট৷ তাঁর কথায়, নিয়মিত যৌনসঙ্গম করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে৷ পেনসেলভেনিয়ার উইল্কস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও দেখান যে, যেসব শিক্ষার্থী সপ্তাহে এক বা দু’দিন যৌনমিলনে লিপ্ত হন তাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা যারা এর চেয়ে কম ‘সেক্স’ করেন তাদের তুলনায় বেশি৷
যৌনকামনা বাড়ায়
নিয়মিত যৌনজীবন যৌনতার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে৷ বিশেষ করে নারীদের যোনিপথ পিচ্ছিল রাখতে, সেখানে রক্তচলাচল বাড়াতে এবং নমনীয়তা ঠিক রাখতে নিয়মিত যৌন জীবনের বিকল্প নেই, মনে করেন শিকাগোর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লওরেন স্ট্রাইচার৷
নারীর মূত্রাশয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
নারীর মূত্রাশয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে ‘পেলভিক ফ্লোর’ শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন৷ আর ভালো যৌনজীবন নারীর মূত্রাশয়ের মাংসপেশীকে সক্রিয় রাখে৷ বিশেষ করে ‘অরগ্যাসমের’ সময় ‘পেলভিক ফ্লোরের’ মাংসপেশী সংকুচিত হয়, যা একটি ভালো ব্যায়ামও বটে৷ জেনে রাখা ভালো, প্রায় ৩০ শতাংশ নারীর কোনো না কোনো সময় মূত্রাশয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে৷
রক্তচাপ কমায়
নিয়মিত যৌনজীবনের সঙ্গে রক্তচাপ কম থাকার একটি সম্পর্ক রয়েছে, মনে করেন গবেষক জোসেফ জে. পিনসন৷ তিনি জানান, গবেষণা বলছে যৌনমিলন (হস্তমৈথুন নয়) ‘সিস্টোলিক’ রক্তচাপ কমায়৷
এটাও ব্যায়াম
যৌনমিলন একটা ভালো ব্যায়াম, বলেন পিনসন৷ কেননা এতে প্রতি মিনিটে পাঁচটি ক্যালোরি খরচ হয়, যা টিভি দেখার চেয়ে চার ক্যালোরি বেশি৷ তিনি জানান, যৌনমিলনে দু’ধরনের সুবিধা মেলে৷ এটি আপনার হৃদ কম্পনে গতি আনে এবং একইসঙ্গে অনেকগুলো মাংসপেশীকে সক্রিয় করে৷
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়
সুস্থ যৌনজীবন আপনার হৃদপিণ্ডের জন্যও ভালো৷ হার্ট রেট ভালো রাখার পাশাপাশি এটি আপনার ‘এস্ট্রোজেন’ এবং ‘টেস্টোস্টেরনের’ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে৷ গবেষণা বলছে, যারা সপ্তাহে অন্তত দু’দিন যৌনমিলনে লিপ্ত হন তাদের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর শঙ্কা, যারা খুব কম ‘সেক্স’ করেন তাদের চেয়ে অর্ধেক কম৷
ব্যথা কমায়
ব্যথা কমাতে অ্যাসপিরিনের চেয়ে ‘অরগ্যাসম’ বেশি কার্যকর হতে পারে৷ নিউ জার্সি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেরি আর. কমিসারুক বলেন, ‘‘অরগ্যাসম ব্যথা বন্ধ করতে পারে৷ কেননা এতে যে হরমোন নিঃসৃত হয়, তা শরীরের ব্যথা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়৷’’
প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়
যেসব পুরুষের মাসে অন্তত ২১ বার ‘ইজেকুলেট’ হয় তাদের প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় কম, বলছে এক গবেষণা৷ তবে এই হিসেবে শুধু যৌনমিলন নয়, হস্তমৈথুনও অন্তর্ভুক্ত৷ তবে শুধু ‘সেক্স’ করলেই ক্যানসার মুক্ত থাকা যাবে কিনা, তা অবশ্য পুরোপুরি নিশ্চিত নয়৷ প্রোস্টেট ক্যানসারের পেছনে আরো অনেক কারণ থাকে৷
ঘুমে সহায়ক
যৌনমিলনের পর আপনি দ্রুত ঘুমাতে পারেন৷ কেননা ‘অরগ্যাসমের’ সময় যে হরমোন নিঃসৃত হয় তা দেহকে শিথিল করে এবং ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে আসে৷
মানসিক চাপ কমায়
আপনার সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে থাকলে আপনার মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমতে পারে৷ গবেষকরা মনে করেন, সুস্থ জীবনের জন্য ‘সেক্স’ এবং ঘনিষ্ঠতা অত্যন্ত জরুরি৷

যৌনতাকে সম্পর্কে রূপ দেয় ‘অক্সিটকিন'

ম্যাক্স সবসময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন৷ তিনি স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো নারীর সঙ্গে একবারের বেশি সহবাস করেন না, কেননা, তিনি সেসব সাময়িক সম্পর্কে কোনো ধরনের ঘনিষ্ঠতা চান না৷ ম্যাক্সের শরীর সম্ভবত কোনোভাবে বীর্যপাতের সময় অক্সিটকিন হরমোনের নিঃসরণ বন্ধ রাখতে পারে৷ এই হরমোন মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে৷ একজন মা যখন তাঁর সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান, তখন তাঁর শরীরে এই হরমোন ভাসতে থাকে৷ ফলে মা এবং সন্তানের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত গাঢ় হয়৷

এই হরমোনের উপস্থিতির কারণে সাময়িক যৌনসম্পর্কও ভিন্ন রূপ নিতে পারে৷ অর্থাৎ, কোনো একজন সঙ্গী বা সঙ্গিনী অপরজনের প্রতি ঘনিষ্ঠতা অনুভব করতে শুরু করতে পারেন৷ অনেক যুগল এই ঝুঁকি এড়াতে একগামী হন, অর্থাৎ, সম্পর্কের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ান না৷ রেবেকাও নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে এখন একগামী সম্পর্কে রয়েছেন৷ তবে তিনি তাঁর ছেলেবন্ধুকে মনে করেন একজন রক্ষণশীল মানুষ, যে যৌন জীবনটা রেবেকার মতো উপভোগ করতে পারে না বা চায় না৷

রেবেকা বলেন, ‘‘অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে না পারা নিয়ে আমার এখন কোনো আক্ষেপ নেই৷ তবে, আমি অতীতের সেই উত্তেজনা এখনো মাঝে মাঝে মিস করি৷''

রেবেকার আশা, তাঁর ছেলেবন্ধু একসময় আরো উদার হবেন এবং যৌনমিলনের ব্যাপারটি শুধু বেডরুমেই সীমাবদ্ধ রাখবেন না৷ রেবেকার জন্য সেটা অনেক উত্তেজনাকর ব্যাপার হবে বটে, কিন্তু যদি তাঁর ছেলেবন্ধু সেটা কখনো না করেন, তাহলে কী হবে?

গের্টরুড ভোল্ফের কাছে আরো এক ধরনের ক্লায়েন্ট আসেন, যাঁদের যৌনচাহিদা তাঁদের সঙ্গী বা সঙ্গিনী পূরণ করেন না৷ অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, দু'জনের চাহিদা ভিন্ন কিংবা একজনের চাহিদা অন্যজনের পছন্দ নয়৷ সেসব যুগলের ক্ষেত্রে সম্পর্কটা একসময় এমন এক পর্যায়ে চলে যায় যে, তাঁদের কেউ কেউ নিজের চাহিদা পূরণে অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান৷ এবং প্রতারণা তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক কিছু মনে হয় না৷

‘নিষিদ্ধ’ বিষয়
গত শতাব্দীর ষাটের দশকে যৌনতা সংক্রান্ত মনোবৃত্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে৷ জার্মানিতে ‘ব্রাভো’-র মতো টিনেজার ম্যাগাজিনগুলিতে খোলাখুলি সেক্স সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়৷ এর আগে ফিল্মেও যা ‘নিষিদ্ধ’ বিষয় ছিল, তাই নিয়েই তৈরি হয় ১৯৬৮ সালের হিট ছবি ‘সুয়র জাখে, শ্যাটসেন’ বা ‘পথে এসো, প্রেয়সী’৷ এখানে ছবির নায়ক-নায়িকা ভ্যার্নার এঙ্কে ও উশি গ্লাস; মাঝের মহিলাটি হলেন পরিচালিকা মাই স্পিল্স৷
মা যা ছিলেন
পঞ্চাশের দশকেও দুনিয়াটা ‘ঠিকঠাক’ ছিল – অন্তত নবীন পশ্চিম জার্মানির নীতি-নৈতিকতা যাদের দায়িত্বে, তাদের চোখে৷ নারীর স্থান ছিল গৃহে, সংসারে, পতিব্রতা স্ত্রী, স্নেহময়ী জননী, নিপুণা গৃহকর্ত্রী হিসেবে৷ কাজে যেতেন শুধু পুরুষরা৷ জনসমক্ষে সেক্স নিয়ে কথা বলা কিংবা রাস্তায় চুমু খাওয়া চলত না৷ ব্যক্তিগত জীবন ও নৈতিকতা ছিল গির্জা বা সরকারের তাঁবে৷
আদম ও হবার কাহিনি
১৯৫১ সালের জার্মান ছবি ‘দি জ্যুন্ডারিন’ বা ‘পাপিনী’ জার্মান ফিল্ম জগতে কেলেংকারির অবতারণা ঘটায়৷ রক্ষণশীল চ্যান্সেলর কনরাড আডেনাউয়ার-এর আমলে এ ধরনের ‘নোংরামি’ সেন্সর করা উচিত, এই ছিল অধিকাংশ মানুষের অভিমত৷ ‘পাপিনী’ ছবির যৌনোদ্দীপনামূলক দৃশ্যগুলো ছিল অতি সংক্ষিপ্ত, তা সত্ত্বেও ছবিটিকে কেন্দ্র করে নৈতিকতা ও প্রকাশ্য যৌনতা নিয়ে বিপুল তর্ক শুরু হয়ে যায়৷
নারীমুক্তি
শেরিং কোম্পানি যখন ১৯৬১ সালে প্রথম গর্ভনিরোধক ‘পিল’ বাজারে ছাড়তে শুরু করে, তখন জার্মানির গির্জায় গির্জায় ‘যুবসমাজের নৈতিক অধোপতন’ সম্পর্কে ভাষণ শোনা গেছে৷ পিল নেওয়ার ফলে মহিলাদের যৌন আসক্তির খবর বেরোয় পত্রপত্রিকায়৷ সব সত্ত্বেও, গর্ভনিরোধের নতুন উপায়গুলি মহিলাদের স্বনির্ধারণে সাহায্য করে৷
ছাত্র বিপ্লব, যৌন বিপ্লব
ষাটের দশকের শেষে জার্মানিতে যে ছাত্র বিপ্লব দেখা দেয়, তার সঙ্গে তথাকথিত ‘কাউন্টার কালচার’ বা বিকল্প সংস্কৃতিরও যোগ ছিল৷ সেই বিকল্প সংস্কৃতি – হিপি আমলের রূপরেখা অনুযায়ী – খোলা এবং স্বাধীন যৌনতায় বিশ্বাস করত, যার একটা প্রমাণ পাওয়া যায় ‘কমিউন ওয়ান’-এর মতো কুখ্যাত কলোনিতে স্ত্রী-পুরুষের একসঙ্গে বাস ও সহবাসে৷ যে কারণে রাইন্যার লাংহান্স এবং উশি ওবারমায়ার-এর মতো চরিত্র আজও অবিস্মৃত৷
যৌনশিক্ষা
৬৮-র ছাত্র বিপ্লব পশ্চিমে পরিবারজীবনের সংজ্ঞাই বদলে দেয়৷ তরুণ বাবা-মায়েরা নিজেদের ‘বাবা’ কি ‘মা’ বলে অভিহিত না করে, নাম ধরেই ডাকতে শুরু করেন৷ ১৯৬৯ সালে স্কুলের জীববিজ্ঞান ক্লাশে একটি যৌনশিক্ষার ‘মানচিত্র’ চালু করা হয়৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অর্থানুকুল্যে সৃষ্ট ‘হেলগা’ নামধারী একটি যৌনশিক্ষার ফিল্ম দেখতে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হতো৷
মেইল-অর্ডার যৌনতা
‘বেয়াটে উজে’ বললেই জার্মানির শতকরা ৯৮ ভাগ মানুষ আজও বোঝেন: মেইল-অর্ডার সেক্স-শপ৷ যদিও সে-ধরনের দোকানে বাস্তবিক ঢোকার মতো সাহস আজও সকলের নেই – লোকলজ্জা বলে একটা কথা আছে তো৷ বেয়াটে উজে-র বাণিজ্যিক সাফল্যের সূচনা ১৯৪৮ সালে, যখন তিনি মহিলাদের গর্ভনিরোধের পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করার জন্য একটি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেন৷ তার পরে আসে তাঁর মেইল-অর্ডার সেক্স-শপ৷
পশ্চিমের আগে পুব
সাবেক পূর্ব জার্মানির মানুষরা তাদের পশ্চিমের সতীর্থদের চেয়ে অনেক বেশি যৌন স্বাধীনতা ভোগ করেছেন৷ গোটা পূর্ব জার্মানি জুড়ে ছিল নিউডিস্ট ক্লাব৷ যৌনতার বিচারে পুবের মেয়েরা পশ্চিমের মেয়েদের চেয়ে বেশি ‘স্বাধীন’ ছিলেন, বাচ্চাদের সরকারি ডে-কেয়ারে জমা করে প্যান্ট-শার্ট পরে কাজে যেতেন৷ স্বাধীনতার অপরপীঠে ছিল রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা৷ যেমন এই সাইনটিতে পূর্ব জার্মানির মায়েদের ‘ধন্যবাদ’ জানানো হচ্ছে৷
‘বিকারগ্রস্ত সমাজ’
যে সব চিত্রপরিচালক সর্বপ্রথম সমকামিতা নিয়ে ছবি তৈরি করেন, রোজা ফন প্রাউনহাইম ছিলেন তাঁদের অন্যতম৷ ১৯৭১ সালে তিনি একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেন, যার বক্তব্য ছিল: সমকামী নিজে বিকারগ্রস্ত নয়, বিকারগ্রস্ত হল তার সমাজ৷ এভাবেই তিনি জার্মানির ‘গে’ এবং ‘লেসবিয়ান’ সম্প্রদায়ের জন্য সম্মান ও সমানাধিকার আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করে দেন৷
যুগ-যুগান্তের সংস্কার
জার্মানিতে সমকামিতা ছিল একটি বিতর্কিত বিষয়, রাজনীতিকরাও যা নিয়ে কথা বলতে ভয় পেতেন৷ আইনের যে সূত্র – ১৭৫ নং অনুচ্ছেদ – দু’টি পুরুষের মধ্যে যৌন সম্পর্ককে দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করেছিল, সেই অনুচ্ছেদটি ১৯৬৯ সালে কিছুটা নরম করার পর, ১৯৯৪ সালে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়৷ কিন্তু – বিশেষ করে খেলাধুলার জগতে – সমকামীদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাব আজও পুরোপুরি উধাও হয়নি৷
নারী না পুরুষ?
ট্র্যান্সভেস্টাইট আর্টিস্ট, ২০১৪ সালের ইউরোভিশন সং কনটেস্ট বিজয়ী কনচিটা ভুয়র্স্ট ওরফে টম নয়ভির্থ আজ একজন সেলিব্রিটি৷ দাড়ি-সম্বলিত, ইভনিং গাউন পরিহিতা কনচিটা ২০১৫ সালের ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতায় উপস্থাপিকা ছিলেন৷ তা-তে কারো কোনো আপত্তি দেখা যায়নি – আপাতদৃষ্টিতে৷...
ইতিহাস
জার্মানির ‘ড্র্যাগ কুইন’ তথা টিভি হোস্ট লিলো ভান্ডার্স এই প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন৷ ‘নির্লজ্জ? পরিবর্তনের মুখে যৌন নৈতিকতা’ প্রদর্শনীটি চলবে ২০১৬ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি অবধি, বন শহরের ‘হাউড ডেয়ার গেশিস্টে’ বা ইতিহাস ভবনে৷

ভোল্ফ মনে করেন, যৌনতা নিয়ে এমন কোনো একক সমাধান নেই, যা সব যুগলের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে৷ কিছু যুগল এই সমস্যার সমাধানে তাঁদের সম্পর্কটা উন্মুক্ত করে দেন, অর্থাৎ যৌন জীবনে একগামী থাকার ব্যাপারটি বাদ দিয়ে দেন৷ ক্যাথরিনা এবং তাঁর ছেলেবন্ধু ঠিক এই কাজটি করেছেন৷

এই যুগল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, নিজেদের সম্পর্কের বাইরে সাময়িক যৌন সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে তাঁরা একে অপরকে বাধা দেবেন না৷ ক্যাথরিন অবশ্য জানেন, এভাবে যে পরীক্ষা তাঁরা করেন, সেটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটা কোনো মজার ব্যাপার নয়৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে এই উন্মুক্ত সম্পর্কের অর্থ এই নয় যে, আমি যা খুশি তা-ই করতে পারবো৷''

যেহেতু তাঁদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর কোনো সীমান্ত নেই, তাই তাঁকে নিজের কৃতকর্মের জন্য দায় নিতে হয়৷ ফলে তিনি এমন কিছু করতে পারেন না, যা তাঁর নিজের এবং তাঁদের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে৷

অনেকক্ষেত্রে পরকীয়াও একটি সম্পর্ককে উন্মুক্ত করে দেয়৷ তবে সেক্ষেত্রে যে এভাবে প্রতারণা করছেন, তাঁর সঙ্গী বা সঙ্গিনী বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে চান না৷

‘‘পরকীয়া বা উন্মুক্ত সম্পর্ক যা-ই হোক না কেন, যুগলের মধ্যে সেটা সংকট তৈরি করতে পারে৷ আবার, এই সংকটের কারণে একটি সম্পর্ক বৃদ্ধিও পেতে পারে,'' বলেন ভোল্ফ৷

একগামিতাই একমাত্র ‘অর্থবহ সম্পর্কের ধারণা' নয়

এই সেক্স থেরাপিস্টের কথা হচ্ছে, ‘‘একগামিতাই যেমন সম্পর্কের একমাত্র অর্থবহ ধারণা নয়, আবার একগামিতার ধারণা ব্যর্থও হয়নি৷'' ফলে একটি যুগল কোন ধরনের সম্পর্ক গড়বেন, সেটা দিনের শেষে তাঁদেরই নির্ধারণ করতে হবে, অন্য কেউ সেটা ঠিক করে দিতে পারবে না৷

‘‘কেননা, যৌনতা অবশ্যই একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার,'' বলেন ভোল্ফ৷

ইউলিয়া ভার্জিন/এআই

প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনার কোনো মন্তব্য থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

সবই প্রাকৃতিক: বিশ্বের প্রথম ডিলডো
কাঁচা কলা হোক বা উটের শুকনো গোবর- প্রাচীন কালে গ্রিস ও মিশরের মানুষ এগুলোর ওপর পিচ্ছিল পর্দার্থের প্রলেপ দিয়ে যৌন খেলনা বানিয়ে নিত৷ এছাড়া আরও বিকল্প ছিল বাঁকানো পাথর, চামড়া বা কাঠের বস্তু৷ বিশ্বের প্রথম ‘ডিলডো’ কিন্তু জার্মানিতেই আবিষ্কার হয়েছিল, তাও আবার ২৮,০০০ বছর আগে৷ ২০ সেন্টিমিটার লম্বা এই পাথরটি কেবল যে ‘সেক্স টয়’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো তা-ই নয়, আগুন জ্বালানোর কাজেও ব্যবহৃত হতো৷
খুলে দাও
ডিলডো শব্দটি প্রথম এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘ডিলাটারে’ থেকে, ১৪০০ শতাব্দিতে৷ এর মানে হচ্ছে খুলে দাও৷ আর ইতালিতে দিলেত্তো মানে খোল৷ ইতালীয় রেনেঁসার একশ বছর পর চামড়া ও অলিভ অয়েল দিয়ে যৌন খেলনা তৈরি হতো৷ তবে ইতিহাস বলে শুনতে যতটা আনন্দদায়ক হওয়ার কথা খেলনাটি ততটা ছিল না৷
নারীর আকাঙ্ক্ষা?
দীর্ঘদিন ধরে সহবাস মানেই ছিল পুরুষের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানো৷ পুরুষ শাসিত সেসব সমাজে নারীদের ‘অরগাজম’ বা তাদের তৃপ্তি দেয়াটাকে অবহেলা করা হতো৷ যেসব নারীর যৌন চাহিদা বেশি থাকত, তাদের হিস্টিরিয়া রোগী মনে করত পুরুষরা৷ তাদের জন্য নানা ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল৷
নারীদের যৌন চাহিদার চিকিৎসা
নারীদের এ ধরনের ‘হিস্টিরিয়া’ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল৷ একটা নির্দিষ্ট বয়সে প্রায় সব নারীর মধ্যেই দেখা যাচ্ছিল৷ এর ফলে কখনো কখনো অনেকের জ্বরও হতো৷ এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তাররা এই টেবিলে যোনী ম্যাসাজের পরামর্শ দিতেন৷ কেননা, সেসময় হস্তমৈথুন ছিল নিষিদ্ধ৷
ডিলডো যখন ভাইব্রেটরে পরিণত হলো
ধনী নারীদের যে কোনো রোগের চিকিৎসা ছিল, কেননা, ডাক্তাররা অনেক অর্থ পেতেন৷ আর তাই তারা কাজে লেগে গেলেন কীভাবে তাদের যৌন হিস্টিরিয়ার চিকিৎসা করা যায়৷ ১৮৮০-র দশকে ভিক্টোরিয়ার আমলে ড. জোসেফ মরটিমার প্রথম ইলেকট্রো ম্যাকানিকেল ভাইব্রেটর আবিষ্কার করেন৷ এই যন্ত্রের ফলে ১০ মিনিটেই চরম উত্তেজনায় পৌঁছে যেতেন নারীরা৷
সুখী গৃহিনীরা
বিংশ শতাব্দিতে বিভিন্ন কোম্পানি ভাইব্রেটর বানানো শুরু করে৷ স্বাস্থ্য সেবা হিসেবে বিজ্ঞাপন ছাপা হতে লাগলো বিভিন্ন ম্যাগাজিনে৷ ডাক্তাররা এতে মোটেও খুশি হননি৷ অনেকের মনে হলো, অরগাজমের জন্য নারীদের বুঝি আর পুরুষ সঙ্গীর প্রয়োজন থাকবে না৷
তারিখ 22.07.2018