অ্যামেরিকার কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ রাশিয়ায় গেছিলেন মার্ক ফগেলের মুক্তি নিয়ে রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, স্টিভের সফর সফল হয়েছে। বহু আলোচনার পর রাশিয়া মার্ককে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে।
২০২১ সালে রাশিয়ার বিমানবন্দরে বন্দি হয়েছিলেন মার্ক ফগেল। পেনসিলভেনিয়ার এই নাগরিকের কাছে গাঁজা পাওয়া গেছিল বলে অভিযোগ। যদিও মার্ক এবং তার পরিবারের দাবি ছিল, মার্কের কাছে যে গাঁজা পাওয়া গেছে তা চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনে লেখা ছিল। কিন্তু রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ তা মানতে চায়নি। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকে রাশিয়ার জেলে বন্দি ছিলেন মার্ক।
অ্যামেরিকার বড় শত্রু কারা?
ইরানের সঙ্গে অনেকটা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে অ্যামেরিকার৷ আর চীনের সঙ্গে চলছে বাণিজ্য যুদ্ধ৷ মার্কিনিদের বিবেচনায় তাঁদের শত্রুদের চিনে নিন ছবিঘরে৷
ছবি: Imago/UPI//Imago/Russian Look
উত্তর কোরিয়া
জরিপের মাধ্যমে অ্যামেরিকার শত্রুদের তালিকা প্রকাশ করে থাকে গ্যালাপ৷ প্রতিষ্ঠানের ২০১৮ সালের জরিপে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের মতো এবারও অ্যামেরিকার শত্রু তালিকার শীর্ষ দেশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার নাম আছে৷ ২০১৬ সালে ১৬ ভাগ মানুষ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিকে হুমকি হিসাবে বিবেচনায় নিয়েছিলেন৷ ২০১৮ সালে এসে হুমকি বিশ্বাসকারীদের সংখ্যা ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে৷
ছবি: picture-alliance/dpa
রাশিয়া
অ্যামেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার শত্রুতার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের৷ এর মধ্যে উত্থান-পতনও দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে৷ ২০১৬ সালে ১৫ শতাংশ অ্যামেরিকান বলেছেন, রাশিয়া তাঁদের সবচেয়ে বড় শত্রু৷ ২০১৮ সালে গিয়ে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ শতাংশে৷
চীনের সঙ্গে অ্যামেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিকেও৷ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অর্থনৈতিক পরাশক্তি হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে চীন৷ দুই দেশের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত উভয়ের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে৷ ২০১৬ সালে অ্যামেরিকার ১২ শতাংশ মানুষের বিবেচনায় চীন ছিল দেশটির সবচেয়ে বড় শত্রু৷ তবে, ২০১৮ সালে দেশটিকে বড় শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ১১ শতাংশ অ্যামেরিকান৷
ছবি: picture-alliance/dpa
ইরান
২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অ্যামেরিকানদের কাছে তাঁদের শত্রু তালিকায় শীর্ষে ছিল ইরান৷ পরের কয়েক বছর পরিস্থিতি ভালো হয় কিছুটা৷ তবে, ২০১৫ সালে ইরানকে নিজেদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ৯ শতাংশ অ্যামেরিকান৷ ২০১৮ সালে এমন চিন্তার মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ শতাংশে৷
ছবি: Imago/UPI//Imago/Russian Look
সিরিয়া
গ্যালাপের পাশাপাশি অ্যামেরিকার শত্রুদের তালিকা প্রকাশ করে থাকে ক্যানাডাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন গ্লোবালাইজেশন বা সিআরজি৷ তাদের বিবেচনায় ইরান, রাশিয়া ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে সিরিয়ায় ক্ষমতাসীনদের সখ্যের কারণে সিরিয়ার সঙ্গে অ্যামেরিকার বিরোধ হয়েছে৷ আবার অ্যামেরিকা-ইসরায়েল মৈত্রীর ক্ষেত্রে বিপরীত অবস্থানে আছে সিরিয়া৷ ভূ-রাজনৈতিক কারণে সিরিয়ার উপর আধিপত্য রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র৷
ছবি: picture-alliance/dpa/K. Elfiqi
ভেনেজুয়েলা
সিআরজি বলছে, ভেনেজুয়েলার তেলের মজুদ ও সামাজিক-রাজনৈতিক কারণে অ্যামেরিকার সঙ্গে তাঁদের বিরোধ দীর্ঘদিনের৷ যদিও বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলা, তবুও সেই বিরোধ কমেনি মোটেও৷ দেশটির ক্ষমতাসীন মাদুরো সরকারকে হটাতে তৎপর অ্যামেরিকা৷ সম্প্রতি অ্যামেরিকার সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে দক্ষিণ অ্যামেরিকার দেশটি৷
ছবি: picture-alliance/dpa/P. Miraflores
6 ছবি1 | 6
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, ''প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, স্টিভ উইটকফের ঐকান্তিক চেষ্টায় এই কাজ সফল হয়েছে। রাশিয়া সদর্থক সংকেত দিয়েছে। এবার ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রেও রাশিয়া একইরকম সদর্থক অবস্থান নেবে বলে আমরা আশাবাদী।''
উইকফের সঙ্গেই দেশে ফিরছেন ফগেল। তারা রাশিয়ার বিমানবন্দর থেকে বিমানেও উঠে পড়েছে। বুধবারই তাকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে।
খবর শোনার পরেই উৎসব শুরু করেছে ফগেলের পরিবার। তারা মার্কিন প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তাদের বক্তব্য, ''গত কয়েকবছর কার্যত অন্ধকারের মধ্যে কেটেছে। এতদিনে আমরা একটু আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। প্রশাসনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।''
২০২১ সালের অগাস্ট মাসে মস্কোর একটি বিমানবন্দরে ফগেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার কাছ থেকে ১৭ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছিল। ২০২২ সালের জুন মাসে ফগেলকে দোষী সাব্যস্ত করে রাশিয়ার আদালত। মাদক রাখার অপরাধে তাকে ১৪ বছর কারাবাসের শাস্তি শোনানো হয়।
তখন থেকেই অ্যামেরিকা তাকে মুক্ত করার চেষ্টা করছে। অবশেষে তা সফল হলো। তবে এর বদলে অ্যামেরিকা রাশিয়ার কোনো নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।