1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ভারতের সংসদে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে কার, কতটা সুবিধা-অসুবিধা?

১৬ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের সংসদে লোকসভার এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের বিল নিয়ে বিতর্ক৷ বলা হচ্ছে, এ বিল পাস হলে নির্বাচনি এলাকার সীমানায় ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে এবং তাতে দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিতে পারে৷

বিলের কপি পোড়াচ্ছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন
বিল অনুযায়ী, ৩৩% আসন নারীদের জন্য রাখতে গেলে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পরিবর্তন করতে হবে৷ সেই প্রক্রিয়ায় আসন বাড়ালে ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে প্রায় ৮৫০ হয়ে যেতে পারে৷ছবি: IANS

বিলটি পাস হলে ২০২৩ সালের একটি আইন দ্রুত কার্যকর হতে পারে৷ সেই আইনে সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩% আসন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে৷ ভারতের সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এখনো কম৷ এই বিল পাস হলে দেশটির রাজনীতিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সূচিত হবে বলে অনেকের ধারণা৷

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু আশঙ্কাও উঁকি দিচ্ছে রাজনীতির অঙ্গনে৷

৩৩% আসন নারীদের জন্য রাখতে গেলে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পরিবর্তন করতে হবে৷ সেই প্রক্রিয়ায় আসন বাড়ালে ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে প্রায় ৮৫০ হয়ে যেতে পারে৷ ভারতের বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পরিবর্তনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ দলগুলো মনে করে, এর ব্যাপক সুফল পাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)৷

আজ বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন৷ তিন দিনের এ অধিবেশনে বিলগুলো উত্থাপন এবং সেগুলো পাশের জন্য ভোটাভুটি হবে৷ বিল পাস হবে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে৷ নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)-র জন্য দৃশ্যত কাজটা খুব কঠিন, কারণ, সংসদে তাদের আসন আছে ২৯৩টি, কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য পেতে হবে ৩৬০টি ভোট৷

নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়লে লিঙ্গ-বৈষম্য কমবে

ভারতের মতো প্রতিবেশী নেপাল ও বাংলাদেশসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের আইনসভায় নারীদের জন্য কোটার ব্যবস্থা রয়েছে৷ ভারতের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ আগে থেকেই বাধ্যতামূলক৷ সেই হিসেবে যদিও অন্তত ৩৩% আসন নারীদের থাকার কথা, কিন্তু এখন পর্যন্ত সংসদের নিম্নকক্ষে মাত্র ১৪%-এর মতো নারীর প্রতিনিধিত্ব দেখা গেছে৷

তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রস্তাবিত বলটি পাস হলে শত শত ভারতীয় নারী আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে চাইবেন৷ এর ফলে নারীরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার মতো বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন৷

বিরোধী দলগুলো সমালোচনামুখর হলেও মোদির দল বিজেপি সেই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে৷ বুধবার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধী দলের উদ্বেগগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর' হিসেবে বর্ণনা করেন৷ছবি: ANI Photo/Ishant

নারী অধিকার কর্মী রঞ্জনা কুমারী মনে করেন, বিলটি ভারতের ‘‘গণতন্ত্রকে সত্যিকার অর্থে প্রতিনিধিত্বমূলক'' করবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে আরো বেশি নারী প্রার্থী দিতে বাধ্য করবে৷ তিনি বলেন, ‘‘দরজাটা সামান্য খোলা আছে৷ নারীরা এখন প্রবেশ করবে এবং ধীরে ধীরে ঘরটি পূর্ণ করবে৷''

ভারতের অনেক তরুণীর কাছে এই বিল এক ধরনের প্রতীকী তাৎপর্যও বহন করে৷ আইনের স্নাতক ২৩ বছর বয়সি প্রণিতা গুপ্তা বলেন, এটি ‘‘এমন আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলবে (যার ফলে মনে হবে যে) শুধু ব্যতিক্রম হিসেবে নয়, সাধারণ নিয়ম হিসেবেও আমরা রাজনীতিতে অংশ নিতে পারি এবং সংসদের অংশ হতে পারি৷''

নির্বাচনি সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে উদ্বেগ

বিল পাস হলে সংসদের আসন বাড়াতে হবে এবং তা করতে নির্বাচনি সীমানা পুনর্নিধারণ করতে হবে৷ নির্বাচনি সীমানা পুনর্নিধারণ করা হবে ২০১১ সালে হওয়া সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্য ব্যবহার করে৷ যদিও এই প্রক্রিয়া শুরু এবং শেষের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷

বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা, জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনি এলাকা নতুন করে নির্ধারণ করা হলে রাজনৈতিক ক্ষমতা ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর দিকে ঝুঁকে যেতে পারে৷ এর ফলে সংসদে দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব, আসনের ভাগ ও সামগ্রিক প্রভাব কমতে পারে বলেও মনে করে তারা৷ বিরোধী দলগুলো আরো মনে করে, এই বিল পাশ হলে মোদীর দলেরই সবচেয়ে বেশি লাভ, কারণ, উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে তাদের সমর্থনই বেশি৷

সংসদীয় আসন জনসংখ্যা অনুসারে বণ্টন করার কথা অবশ্য ভারতের সংবিধানেও বলা আছে৷ বলা আছে, প্রতিটি আদমশুমারির পর নিবার্চনি সীমানা পুনর্নিধারণ করতে হবে৷ তা সত্ত্বেও ১৯৭১ সালের আদমশুমারির পর আর নির্বাচনি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি৷

বিরোধী দলগুলো সমালোচনামুখর হলেও মোদির দল বিজেপি সেই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে৷ বুধবার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধী দলের উদ্বেগগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর' হিসেবে বর্ণনা করেন৷

কিন্তু সমালোচনা এবং প্রতিবাদ তবু চলছে৷ বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন প্রতিবাদস্বরূপ বিলটির একটি কপি পুড়িয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করেন৷ রাজ্যবাসীকেও একই কাজ করার আহ্বান জানান তিনি৷ দক্ষিণের রাজ্যগুলোর কয়েকজন নেতা কালো পোশাক পরে সংসদে উপস্থিত হন৷

বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, সংসদীয় আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণের এই প্রক্রিয়া ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে মোদীর দলের পক্ষে ব্যবহার করা হতে পারে৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেন, ‘‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা উচিত ব্যাপক আলোচনার পর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি স্বচ্ছ নীতি কাঠামোর উপর ভিত্তি করে৷''

এসিবি/ জেডএইচ (এপি)

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ