বাংলাদেশের বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় দিয়েছে আদালত৷ রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে৷ বেকসুর খালাস পেয়েছেন চার আসামি৷
বিজ্ঞাপন
বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান বুধবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম৷
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে৷ ওই ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়৷ দুই জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন৷
রায়ে আদালত বলেছে, মিন্নি যে তার স্বামীকে হত্যার ‘ষড়যন্ত্রে’ যুক্ত ছিলেন, প্রসিকিউশন তা ‘প্রমাণ করতে পেরেছে’৷
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আমার মেয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার৷ আমরা আপিল করব৷’’
মিন্নি: সাক্ষী থেকে আসামি, তারপর মৃত্যুদণ্ড
ঘটনার ১৫ মাসের মাথায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত৷ এই হত্যাকাণ্ডে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত কিনা তা নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন ছিল৷
ছবি: bdnews24.com
নৃশংস হত্যাকাণ্ড
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে৷ সেখানকার সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে তিনজনকে রামদা হাতে কোপাতে দেখা যায়৷ তাদের আশেপাশে ছিলেন আরো অনেকে৷ ভিডিওতে রিফাতের স্ত্রী বরগুনার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে দেখা যায় স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে৷
ছবি: bilderbox
সাক্ষী থেকে আসামি
এই মামলায় এক নাম্বার সাক্ষী ছিলেন মিন্নি৷ কিন্তু পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন শ্বশুর৷ তার ভিত্তিতে মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ সেদিন রাতেই তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়৷ তদন্তের পর মামলার অভিযোগপত্রে আসামির তালিকায় মিন্নির নাম যুক্ত করে পুলিশ৷
ছবি: bdnews24
ষড়যন্ত্রের প্রমাণ
রায়ে আদালত বলেছে, মিন্নিও যে তার স্বামীকে হত্যার ‘ষড়যন্ত্রে’ যুক্ত ছিলেন, প্রসিকিউশন তা ‘প্রমাণ করতে পেরেছে’৷ তবে রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর বলেন, ‘‘আমরা ন্যায়বিচার পাইনি৷ আমার মেয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার৷ আমরা আপিল করবো৷’’ মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেছেন, ‘‘আমরা বলেছিলাম, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে৷ আমরা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ৷’’
ছবি: bdnews24.com
কারাগারে মিন্নি
মিন্নি এতদিন জামিনে ছিলেন৷ তবে রায় ঘোষণার পরে দণ্ডিত বাকি আসামিদের সঙ্গে তাকেও প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে পাঠানো হয়৷ এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিফাতের বাবা৷ (প্রতীকী ছবি)
ছবি: Getty Images/AFP/M. Abed
আরো যারা
মামলার এক নম্বর আসামি রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী৷ মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাকিরা হলেন আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আঁকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ও মো. হাসান৷ আদালত বলেছে, হত্যাকাণ্ডে তাদের সহযোগিতার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে৷ এর আগে ২০১৯ সালের ২ জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন৷
ছবি: bdnews24.com
5 ছবি1 | 5
মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেছেন, ‘‘আমরা বলেছিলাম, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে৷ আমরা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ৷’’
অন্যদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল৷ তিনি বলেন, ‘‘মিন্নিসহ ছয় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে৷ আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট৷’’
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ভূবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, ‘‘সাক্ষ্য প্রমাণে আমরা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি বলেই আদালত ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন৷’’
এদিকে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন, রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আঁকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২) এবং মো. হাসান (১৯)৷ পাশাপাশি ছয় আসামির সবাইকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে৷
খালাস পেয়েছেন মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)৷
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছিল৷ তাদের মধ্যে ১০ জনের বিচার হয়েছে জজ আদালতে৷ অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বাকি ১৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার শিশু আদালতে আলাদাভাবে বিচার চলছে৷
এফএস/এসিবি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)
বিস্তারিত আসছে....
গতবছর ৩০ আগস্টের ছবিঘরটি দেখুন...
মোড় ঘোরানো সোশ্যাল মিডিয়া
গণমাধ্যম, এমনকি রাষ্টীয় নীতি, বিচারব্যবস্থাকেও অনেকভাবে দারুণভাবে প্রভাবিত করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম৷ অনেক ঘটনাকে যেমন ধামাচাপা পড়তে দেয়নি, আবার অনেক ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে বিচারের আগেই হয়রানি করার সংস্কৃতিও৷
ছবি: picture-alliance/dpa/S. Gollnow
নুসরাত হত্যা
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদেই পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল৷ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চারদিন পর তাঁর মৃত্যু হয়৷ অভিযোগের আঙ্গুল ওঠে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলা ও তার সহযোগীদের দিকে৷ এর আগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠলেও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে পার পেয়ে যান তিনি৷ তবে এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উত্তাল হলে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে৷
ছবি: picture-alliance/NurPhoto/m. Rashid
রিফাত হত্যাকাণ্ড ও মিন্নি
২০১৯ সালের ২৬শে জুন বরগুনায় রিফাত শরীফ নামে এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনেই কুপিয়ে হত্যা করে একদল লোক। ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ালে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত হামলাকারীদের একজন নয়ন বন্ড 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিন্নিকেও দায়ী করে আলোচনা ছড়ায়৷ পুলিশ মিন্নিকেও আটক করে৷ তাদের দাবি, মিন্নি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন৷
ছবি: bdnews24
শিশু রাজন হত্যা
একটি রিকশা ভ্যান চুরির অভিযোগ তুলে ২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে ১৩ বছর বয়সী রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মূল আসামি কামরুলের সহযোগী নূর মিয়া সেদিন রাজনকে পেটানোর দৃশ্য ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেন। ওই ঘটনায় সারা দেশে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ। এ মামলায় চার আসামির ফাঁসি ও পাঁচজনের কারাদণ্ডের রায় দেয় আদালত৷
হজ ও লতিফ সিদ্দিকী
২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর হজ, তাবলিগ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাংবাদিকদের সম্পর্কে তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর একটি বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়৷ নিজেকে হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী বলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া৷ এর ফলে তাকে মন্ত্রীত্ব তো খোয়াতে হয়েছেই, বহিষ্কার করা হয় আওয়ামী লীগ থেকেও৷
ছবি: DW
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
সম্প্রতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের প্রবাসীদের নিয়ে দেয়া একটি বক্তব্যের খণ্ডাংশ ফেসবুকে ভাইরাল হয়৷ প্রবাসীদের কষ্টের কথা গল্পচ্ছলে স্বভাবসুলভ মজার ঢং-এ বর্ণনা করলেও তাকে প্রচার করা হয় প্রবাসীবিদ্বেষী বলে৷ অবশ্য অধ্যাপক আবু সাঈদ বা তার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না আসায় ধীরে ধীরে তা স্তিমিত হয়ে পড়ে৷