র্যাব হত্যা মামলার প্রধান আসামির হুমকি...
২৩ জানুয়ারি ২০২৬
এক ভিডিওতে মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিনকে বলতে শোনা যায়, জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের নামে ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করতে দেওয়া হবে না। কাউকে ধরতে হলে অভিযানের আগে আসামির নাম-ঠিকানা জানাতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘‘এসব ক্রাইমের ফান্দে পাড়া দিয়া কেউ যদি কোনো ঝামেলা করে, এতে কিন্তু বড় ধরনের পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে।’’
প্রায় ২৯ মিনিটের ভিডিওতে ইয়াসিন দাবি করেন, তিনি সন্ত্রাসী নন। জঙ্গল সলিমপুরের জায়গা তাদের ক্রয় করা সম্পত্তি, দাবি করে ইয়াসিন বলেন, সেখান (জঙ্গল সলিমপুর) থেকে তাদের কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না। এর আগে সাবেক এক জেলা প্রশাসক জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ করতে গিয়ে নিজেই এখন উধাও হয়ে গেছেন। ভিডিওতে একাধিকবার জনবিস্ফোরণের হুঁশিয়ারি দিয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘...অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যদি এই এলাকায় হয়, এতে কিন্তু জনবিস্ফোরণ ঘটবে। এই জনবিস্ফোরণের দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।’’ এসময় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কৃত) রোকন উদ্দিনকে জঙ্গল সলিমপুরে অস্থিরতার জন্য দায়ী করে গত সোমবার র্যাব সদস্যরা কেন অভিযান পরিচালনা করেছেন, তা তদন্ত করে দেখার দাবিও জানান তিনি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি ) বিকেল চারটার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। বুধবার রাতে এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করে র্যাব। এতে প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। মামলায় ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরো ২০০ জনকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, র্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে তাদের ওপর সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় র্যাবের আটক করা এক আসামিকে। চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেনস ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ড উপজেলায় হলেও নগরের কাছেই এই এলাকা। এলাকাটির পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা।
ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটি সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। পরের দিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছিলেন দুই সাংবাদিক।
পুলিশ ও জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয়রা জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি সন্ত্রাসীপক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন।
ইয়াসিনের হুমকির ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘ইয়াসিন তাঁর আলীনগরের কার্যালয়ে বসে এই বক্তব্য দিয়েছেন। ইয়াসিনকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’’
এসিবি/ এসএস (প্রথম আলো)