লিবিয়া সীমান্তে পাঁচ হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করছে: ব্লগার মাহমুদুল হাসান
৯ মার্চ ২০১১
লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের দেখার জন্য অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন সেখানকার সীমান্ত এলাকাতে৷ এর মধ্যে কেবল সাংবাদিকরা নন, ব্লগাররাও রয়েছেন৷ তেমনি একজন বাংলাদেশি ব্লগার মাহমুদুল হাসান৷ তিনি এখন অবস্থান করছেন লিবিয়া-মিশর সীমান্তের সাল্লু এলাকায়৷ তার সঙ্গে কথা বলেছেন সহকর্মী রিয়াজুল ইসলাম৷
লিবিয়ার অস্থির পরিস্থিতির শিকার হয়েছে বাংলাদেশের হাজার হাজার শ্রমিক৷ তারা এখন লিবিয়ার সীমান্ত এলাকাতে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন৷ সেখানকার পরিস্থিতি জানতে কথা বলেছিলাম সেখানে অবস্থানরত ব্লগার মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে৷ তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবস্থা৷ জবাবে তিনি জানান, এখনও সেখানে পাঁচ হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করছে৷ তারা গত আট থেকে দশটা দিন যেভাবে কাটিয়েছেন সেটা খুবই কঠিন পরিস্থিতি৷ এমনকি তাদের অবস্থা যারা দেখতে আসবেন তাদের জন্য এটা দেখা অত্যন্ত কঠিন৷ তাদের খাবার দাবারের অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হয়েছে, তবে সেটাও পর্যাপ্ত নয়৷ এখানকার বাংলাদেশিরা অবস্থান করছে পাহাড়ের ওপর৷ এখানে প্রচণ্ড বাতাস এবং ঠাণ্ডা, তার মধ্যেই তারা কোনভাবে খোলা জায়গায় রাত কাটাচ্ছেন৷ এছাড়া ঠাণ্ডা ঠেকাতে তেমন কম্বলও তাদের সঙ্গে নেই৷
চিকিৎসার ব্যাপারে মাহমুদুল হাসান জানান যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কিছুটা ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তবে অনেকে ঠাণ্ডার মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছেন৷ এবং সেরকম কিছু হয়ে গেলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন৷ এছাড়া শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, মঙ্গলবার ৫১৪ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ গত কয়েকদিনে কয়েকটি ফ্লাইটে প্রায় ১২০০ শ্রমিক ফেরত গিয়েছে৷ তবে সামনের দিনগুলোতে আর কতজনকে ফেরত পাঠানো হবে সেই ব্যাপারে লিবিয়ায় অবস্থানরত দূতাবাসের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি৷ কারণ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংগঠনও এখন পর্যন্ত পরবর্তী ফ্লাইটের ব্যাপারে কোন কিছু নিশ্চিত করতে পারেনি৷
বাংলাদেশের বাইরে ঘানা, সুদান, নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কিছু দেশের শ্রমিকরা রয়েছে বলে জানান মাহমুদুল হাসান৷ এছাড়া নিরাপত্তার ব্যাপারে তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না বলে জানান এই তরুণ ব্লগার৷
প্রতিবেদন: রিয়াজুল ইসলাম
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন