1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

বড়দিন

২৫ ডিসেম্বর ২০১২

আজ ২৫শে ডিসেম্বর৷ খ্রিষ্টীয় ধর্মমতে, এই দিনেই বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেন যিশু খ্রিষ্ট৷ তাঁর জন্মোৎসবকে ঘিরেই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে সবচেয়ে বড় উৎসব ‘ক্রিসমাস’৷ তাই সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বড়দিনের উৎসব৷

ছবি: Reuters

বড়দিনের প্রথম প্রহরে জেরুসালেমের বেথলেহেমে অনুষ্ঠিত হলো গণপ্রার্থনা৷ সারা বিশ্ব থেকে যিশু খ্রিষ্টের হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হয়েছেন বেথলেহেমে৷ পুরনো জেরুসালেম থেকে ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা নিয়ে বেথলেহেমে হাজির হয়েছেন জেরুসালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক ফুয়াদ ত্বাল৷ এ বছর বড়দিনের উৎসবে যোগ দিতে সেখানে হাজির হন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়াদ এবং জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী নাসের সাউদ৷

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা পশ্চিম তীরে অবস্থিত নেটিভিটি গির্জায় বড়দিনের শুরুতে ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ভাষণে শান্তি এবং সমঝোতার আহ্বান জানালেন ফুয়াদ ত্বাল৷ তিনি বলেন, ‘‘এবারের বড়দিনের উৎসব হলো যিশু খ্রিষ্টের এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্মের উৎসব৷ তবে নতুন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় এখনও বেশ কিছু পথ বাকি এবং এজন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা জরুরি৷'' জর্ডানে জন্মগ্রহণকারী প্যাট্রিয়ার্ক ত্বাল বলেন, ‘‘এই পবিত্র স্থান থেকে আমি বিশ্বের রাজনীতিক এবং সৎ কর্ম সম্পাদনে আগ্রহী মানুষদের প্রতি আহ্বান জানাই শান্তি ও সমঝোতার নীতি অবলম্বনের, যা দুর্ভোগ ও সংকট পীড়িত মধ্যপ্রাচ্যের বুকে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের সহাবস্থান ঘটিয়েছে৷''

বেথলেহেমে চলছে বড়দিনের অনুষ্ঠানছবি: Reuters

গত নভেম্বর মাসে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা প্রদানের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে ত্বাল ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্মের কথা বলেন৷ এছাড়া গত মাসে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের মধ্যে ঘটে যাওয়া সহিংসতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘ঐ সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সকল আরব এবং ইহুদি পরিবারের জন্য আমাদের শুভ কামনা এবং বিশেষ প্রার্থনা রইল৷''

ত্বালের ধর্মীয় বক্তৃতার পরপরই শুরু হয় সমবেত কণ্ঠে ধর্মীয় সংগীত ও সুরের মূর্ছনা৷ গভীর ভক্তি আর শ্রদ্ধার সাথে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গির্জার ঘণ্টাধ্বনির তালে তালে সেই সুর-সংগীতে ডুবে যান হাজার হাজার ভক্ত৷

এদিকে, ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট বড়দিন উপলক্ষ্যে ভক্তদের উদ্দেশ্যে ঐতিহ্যবাহী ভাষণ দিয়েছেন সেইন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায়৷ সেখানে তিনি বলেন, ‘‘আমরা জীবিত ও মৃত সবার শান্তির জন্য প্রার্থনা করছি৷ ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মাঝে প্রভু এবং শান্তির উপস্থিতি বিরাজ করুক৷ এছাড়া লেবানন ও সিরিয়াসহ সংকটে থাকা দেশগুলোতে শান্তির সুবাতাস প্রবাহিত হোক৷'' তিনি বলেন, আধুনিক জীবন ব্যবস্থায় মানুষের জীবনে প্রভুর জন্য স্থান ও সময় না থাকায় মানুষের হৃদয়ে শিশু, দরিদ্র এবং বিদেশিদের জন্যও কোনো দরদ নেই৷ তাই তিনি ভক্তদের প্রতি প্রভু এবং মানবতার জন্য হৃদয়ে স্থান তৈরির আহ্বান জানান৷

বড়দিনের এই মহোৎসবে উভয় ধর্মগুরুর কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে শান্তি ও সমঝোতার বাণী৷ এই মন্ত্রের মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে ২০১২ সালের বড়দিনের উৎসব৷ পালিত হচ্ছে আজ বিশ্বের নানা প্রান্তে৷

এদিকে, বড়দিনের উৎসবের আনন্দ শোকে পরিণত হয়েছে ফিলিপাইনের কুইজন নগরীতে দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়৷ এতে অন্তত আট জন মারা গেছে৷ এছাড়া গৃহহীন হয়েছে প্রায় দেড় হাজার মানুষ৷ এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার উপকণ্ঠে একটি খালি জায়গায় গির্জা তৈরির উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় মুসলমানরা৷ সেখানে মঙ্গলবার প্রায় একশ' খ্রিষ্টান সমবেত হলে তাদের উপর পচা ডিম নিক্ষেপ করেছে স্থানীয় মুসলমানরা৷ পরে পুলিশের সহায়তায় খ্রিষ্টানরা সেখান থেকে সরে যায়৷ ফলে সহিংস ঘটনা এড়াতে সক্ষম হয়েছে তারা৷

এএইচ/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি, এপি)

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ