1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

হাসিনার পক্ষে দেয়া চিঠি আদালত অবমাননার শামিল: চিফ প্রসিকিউটর

৩ এপ্রিল ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)কে লেখা লন্ডনের আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কিংসলি নাপলির একটি চিঠি বুধবার সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়৷

২০১৯ সালে গণভবনে শেখ হাসিনা
কিংসলি নাপলি শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো এক আইনি নোটিশে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়া ও রায়কে অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে দাবি করেছেছবি: DW

ঐ চিঠি আদালত অবমাননার শামিল বলে বৃহস্পতিবার ডয়চে ভেলেকে জানান আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম৷ তিনি বলেন, ‘‘ওই প্রতিষ্ঠানটি যা করেছে তা আদালত অবমাননা৷ আমরা কোনো চিঠি পাইনি৷ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা চিন্তা করতাম৷''

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘‘তাদের আদৌ শেখ হাসিনানিয়োগ করেছে কী না, বা অন্য কেউ নিয়োগ করেছে কী না, সেটা তো আমরা জানি না৷ আর আমাদের আইনে পলাতক আসামি আদালতে হাজির না হয়ে ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না৷ তিনি একজন পলাতক আসামি, তিনি ল' ফার্ম নিয়োগ করতে পারেন না৷''

চিঠির একটি কপি এই প্রতিবেদককে পাঠিয়েছেন সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘ঐ ল' ফার্মকে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নিযুক্ত করা হয়েছে কী না বা কারা নিযুক্ত করেছেন, এই ব্যাপারে কোনো তথ্য আমার কাছে নেই৷ আমার কাছে এইটুকু তথ্য আছে যে ওই চিঠিটা তারা লিখেছে৷''

চিঠির বিষয়ে জানতে ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে কিংসলি নাপলিকে মেইল করা হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি৷

চিঠিতে যা আছে

কিংসলি নাপলি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো এক আইনি নোটিশে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়া ও রায়কে অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে দাবি করেছে৷ তারা তাকে দেয়া মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি করেছে৷

প্রতিষ্ঠানটি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে বলেছে, শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার করে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে৷ এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি এবং তার ন্যায্যবিচার ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে৷

বিচারটি এমন এক শত্রুভাবাপন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বলে চিঠিতে বলা হয়৷ ২০২৫ সালে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে৷

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিদের দিয়ে বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে৷ এতে বিচারিক স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে৷ এমনকি একজন বিচারক আগেই দোষী সাব্যস্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে৷

প্রধান প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানকে পক্ষপাতমূলক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে৷ এছাড়া প্রসিকিউশন টিমে দুর্নীতির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে৷

শেখ হাসিনাকে অভিযোগ, প্রমাণ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি৷ এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন৷

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রিডম হাউস এবং ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷

আইনি প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারও প্রশ্নবিদ্ধ৷ এটি মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধ বিচারের জন্য গঠিত হলেও পরবর্তীতে ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, যা বেআইনি৷

তাদের কথা, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেয়া রায় বাতিল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পুনর্বিচার করতে হবে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে৷

তারা ১৪ দিনের মধ্যে চিঠির জবাব চেয়েছে৷

চিফ প্রসিকিউর যা বললেন

এই চিঠি নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম৷ এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ওই ধরনের কোনো চিঠি পাইনি৷ সাংবাদিকরা আমাদের দেখিয়েছে৷ তবে ওই চিঠি আদালত অবমাননার শামিল৷ আমরা যদি অফিশিয়ালি চিঠি পেতাম তাহলে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারতাম৷ একজন পলাতক আসামির পক্ষে তারা তো এধনের চিঠি দিতে পারে না৷ এছাড়া চিঠির ভিতরে যা বলা হয়েছে তা আদালত অবমাননাকর৷''

‘‘তাদের আদৌ শেখ হাসিনা নিয়োগ করেছে কী না, বা অন্য কেউ নিয়োগ করেছে কী না, সেটা তো আমরা জানি না৷ আর আমাদের আইনে পলাতক আসামি আদালতে হাজির না হয়ে ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না৷ তিনি একজন পলাতক আসামি, তিনি ল' ফার্ম নিয়োগ করতে পারেন না৷ এটা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকতে পারে৷ গণমাধ্যমে আলোচনায় রাখা বা ট্রাইব্যুনালের কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করার চেষ্টা- এই টার্গেটে এটা করা হয়ে থাকতে পারে,'' বলেন তিনি৷

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘মামলাটি এখন আপিল পর্যায়ে আছে৷ শেখ হাসিনা যদি নিজে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজির হয়ে আইনজীবী নিয়োগ করে আপিল করতে চান তাহলে তিনি তা পারবেন৷ কিন্তু পলাতক থেকে তা সম্ভব নয়৷''

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ছবি: Rubel Karmaker/ZUMA/picture alliance

অন্য আইনজীবীরা যা বলছেন

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘‘এই চিঠির কোনো ইমপ্যাক্ট নাই৷ জিরো ইমপ্যাক্ট৷ এটা হলো একটা ফিউডাল এক্সারসাইজ৷ ইউকের একটা ল' ফার্মের এভাবে বাইরে থেকে কোর্টকে ডিকটেট করা বা সমালোচনা করার কোনো এখতিয়ারই নাই৷ এটা যদি একটা হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন হতো তাহলে জাস্টিফিকেশন থাকত৷ তারা বলতে পারত এই ভুল ত্রুটি আছে৷ এই শর্টফলগুলো আছে, ফুলফিল করা দরকার৷ একটা চেম্বারের লইয়াররা কি যা খুশি পাঠাতে পারে? ধরে নিলাম একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে৷ তাহলে সেটা এখন কেন? এটার তো রায় হয়ে গেছে৷ এরপর তো আপিল বিভাগ আছে৷ যিনি কনভিক্টেড তার আইনজীবী তো সেখানে তুলে ধরতে পারবেন৷''

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘‘এটা আসলে একটা খবরদারি৷ পশ্চিমা ল' ফার্মগুলো মনে করে তারা চাইলেই যে-কোনো কথা বলতে পারে৷''

‘‘তার মানে আমি বলছিনা যে এই মামলায় কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি থাকতে পারে না৷ যেহেতু আমি এই মামলার আইনজীবীও না, প্রতিপক্ষেও ছিলাম না৷ ফলে স্পেসিফিক কোনো তথ্য আমার কাছে নাই৷ ওইটা নিয়ে আমি কথাও বলতে পারবো না৷ আমার কথা হচ্ছে এই ধরনের চিঠি, এই ধরনের বক্তব্যগুলো স্রেফ পাবলিসটি স্ট্যান্ট৷ এর কোনো আইনগত ভিত্তি নাই৷ আর পলাতকের কোনো আইনগত সুরক্ষা বলতে কিছু নাই৷ এখন তাকে আপিল করতে হলে আদালতে হাজির হতে হবে,'' বলেন তিনি৷

এই চিঠি আদালত অবমাননা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘ডেফিনিটলি৷ কেউ চাইলেই বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি তো চাইলেই একটা কমেন্ট করে বসতে পারবে না৷ ওনারা তো অফেন্ডেড ফিল করতে পারেন৷ এই এখতিয়ার তো ওনাদের আছে৷''

তবে সুপ্রিম কোর্টের আরেকজন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ মনে করেন, ‘‘আদালত অবমাননা হলো, আদালতের আদেশ কেউ যদি অমান্য করে৷ অথবা আদালত সম্পর্কে কেউ যদি কোনো মানহানিকর বক্তব্য দেয়৷ আমাদের সুপ্রিম কোর্টের জাজমেন্ট আছে, যে কোনো মামলার রায় নিয়ে যে-কোনো লিগ্যাল আর্গুমেন্ট করা যাবে, যখন মামলাটা পেন্ডিং থাকবে না৷ শেখ হাসিনার এই মামলার তো রায় হয়ে গেছে৷ এটা তো আর পেন্ডিং নাই৷ ওই আইনজীবীরা যে কথা বলছেন, তাতো আমরাও মিডিয়ায় আলোচনা করি৷ তাহলে কেন আদালত অবমাননা হবে? তাদের লেখার মধ্যে আমি তো আদালত অবমাননার কিছু দেখিনা৷''

‘‘এর কোনো আইনগত গুরুত্ব না থাকলেও এটা তো আলোচনায় আছে৷ এটা নিয়ে তো কথা হচ্ছে৷ কথা হবে,'' বলেন তিনি৷

মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘‘আদালতে কেউ মামলা লড়তে গেলে তাকে আইনজীবী নিয়োগ করতে ওকালতনামায় সই করতে হয়৷ উনি (শেখ হাসিনা) তো আর মামলা লড়তে আইনজীবী নিয়োগ করেননি৷ তিনি আইনগত পরামর্শ নিতে পারেন৷ মামলার যে রায় হয়েছে তা আইনজীবীদের দিয়ে বিশ্লেষণ করাতে পারেন৷ উনি কি বলেছেন ওনাকে ওই মামলার বিষয়ে নিয়োগ করা হয়েছে৷ সেটা তো করতেই পারেন৷ মামলা কনটেস্ট করতে তো আর নিয়োগ করা হয়নি৷''

‘‘তবে চিঠিটা সুনির্দিস্ট কাকে দেয়া হয়েছে তা স্পষ্ট নয়৷ ট্রাইবুন্যালকে পাঠানো হয়েছে৷ এখন সেটা কি বিচারককে, না প্রসিকিউটরকে৷ কে রিসিভ করবে? কেউই করবে না,'' বলেন তিনি৷

’চিঠি দেয়ার নামে আইওয়াশ করছে, শেখ হাসিনাকে কখনোই ফেরত দেবে না ভারত’

30:44

This browser does not support the video element.

চিঠিটা তারা লিখেছে: আরাফাত

অন্যদিকে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘‘ঐ ল' ফার্মটিকে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নিযুক্ত করা হয়েছে কী না বা কারা নিযুক্ত করেছেন এই ব্যাপারে কোনো তথ্য আমার কাছে নেই৷ আমার কাছে এইটুকু তথ্য আছে যে ওই চিঠিটা তারা লিখেছে৷''

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আইসিটিতে তাজুল সাহেবকে দিয়ে জামাতীকরণ করা হয়েছে৷ যুদ্ধাপরাধীরা প্রক্রিয়ার মধ্যে ঢুকে এটা পুনর্গঠন করল৷ এটা তো পলিটিক্যালি মোটিভেটেড৷ তিনি (শেখ হাসিনা) কার কাছে বিচার চাইবেন, কার কাছে আপিল করবেন, এটা রাজনৈতিকভাবেই দেখা হবে৷ এখানে তো বৈধ কিছুই হয়নি৷''

ওই ল' ফার্মের চিঠিতে শেখ হাসিনাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলা হয়েছে৷ আর আওয়ামী লীগ তাকে এখনো প্রধানমন্ত্রী মনে করে৷ এর ব্যাখ্যা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আসলে তারা তো ওই আইসিটি ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে কথা বলেছে৷ ভুল ত্রুটি তুলে ধরছে৷ ট্রাইবুন্যাল শেখ হাসিনাকে যেভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছে তারাও সেভাবে বলেছে৷''

আদলতে হাজির না হয়ে আইনজীবী নিয়োগ করা যায় না-এই প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, ‘‘তাহলে তারেক রহমানের (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) মামলায় কীভাবে আইনজীবী নিয়োগ করা হলো? তিনি তো তখন দেশে ছিলেন না৷''

এর জবাবে তারেক রহমানের সেই সময়ের আইনজীবী এবং আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘তারেক রহমান সাহেবের স্ত্রীও ওই মামলায় আসামি ছিলেন৷ তিনি হাজির হয়ে প্রতিকার চেয়েছেন৷ এবং তাতে পুরো মামলায়ই একই আদেশ হয়েছে৷ ফলে তারেক রহমানও অব্যাহতি পেয়েছেন৷ এখন শেখ হাসিনার মামলায় অন্য কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত যদি হাজির হয়ে প্রতিকার চান, আর আদালত যদি সবার ব্যাপারে একই আদেশ দেন, তার সুবিধা শেখ হাসিনা পাবেন৷''

এদিকে ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে লন্ডনের ল' ফার্ম কিংসলি নাপলিকে মেইলে পাঁচটি প্রশ্ন করা হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি৷ প্রশ্নগুলো হলো: ১. তাদের সরাসরি শেখ হাসিনা বা তার হয়ে কেউ নিয়োগ দিয়েছে কী না? ২. এ সংক্রান্ত কোনো ডকুমেন্ট তাদের আছে কী না? ৩. বাংলাদেশের আইনে পলাতক অবস্থায় আইনজীবী নিয়োগ দেয়া যায় না, তাহলে তারা কীভাবে নিয়োগ পেল? ৪. তারা কি বাংলাদেশে এসে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে চান? ৫. আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর তাদের চিঠিকে আদালত অবমাননা বলেছেন৷ তারা বিষয়টি কীভাবে দেখে?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়৷ পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলা হয়৷ ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়৷ ওইদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল৷ শেখ হাসিনাকে পলাতক দেখিয়ে আদালত বিচার কাজ শেষ করে৷ তার পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলো৷ ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বরে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১৷ রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়৷ আর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল৷ তিনি রাজসাক্ষী হওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পান৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ