1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

‘সংখ্যালঘুরা শঙ্কায়, ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে’

২৯ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ভোট দিয়ে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে চায়, তবে কোনোভাবেই জীবন-জীবিকা-সম্পদ ও সম্ভ্রম নিয়ে তাদের শঙ্কা ও উদ্বেগ কাটছে না।

২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রূপলাল দাস ও  তার ভাতিজি জামাই প্রদীপ লালকে বাড়িতে ফেরার পথে বুড়ির হাটে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ছবিতে নিহতদের স্বজনদের আহাজারি৷ (প্রতীকী ফাইল ফটো)
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বলেছে, নির্বাচনের আর মাত্র ১৪ দিন বাকি। এখনো গত বছরের মতো চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। এর মধ্যে হত্যার ঘটনা ১১টি।ছবি: Sarkar Mohammad

 আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ
সংগঠনটি আরো বলছে, এই শঙ্কা ও উদ্বেগ ভোট প্রদানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

‘চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে’ সামনে রেখে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমনটি জানায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ৷
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হওয়ার দায় নিতে হবে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে। এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃঢ় ভূমিকা কামনা করা হয় লিখিত বক্তব্যে৷
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বলেছে, নির্বাচনের আর মাত্র ১৪ দিন বাকি। এখনো গত বছরের মতো চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। এর মধ্যে হত্যার ঘটনা ১১টি।
পরিষদ আরো বলেছে, সারা দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী প্রতিনিয়ত ভীতি এবং আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীরা নিজ অবস্থানে থেকে স্বাভাবিকভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এ অবস্থায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে।
এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের নামে যুক্ত হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট। এখানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পক্ষে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সরাসরি প্রচার চালাচ্ছে। এটিকে দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক এবং নিতান্তই পক্ষপাতদুষ্ট বলছে ঐক্য পরিষদ।
তারা মনে করে, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের সংবিধান আজ চ্যালেঞ্জের মুখে৷ এটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমঅধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এবং তার নিজ পছন্দ অনুযায়ী ভোট প্রদান একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করে পরিষদ।
এ অবস্থায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি জানায়। এগুলো হলো:
প্রথমত, ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। প্রার্থী হওয়ার কারণে যেন কোনো রকম বাধার সম্মুখীন না হতে হয়। নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণে সমান সুযোগ যেন পায়, তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনি প্রচারে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হোক। যদি কোনো প্রার্থী বা কোনো দল নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করে তবে তার শাস্তির বিধান রাখতে হবে।
তৃতীয়ত, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু ও নৃগোষ্ঠীর নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ভোটদানের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী নিয়োগের মাধ্যমে তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হোক।
চতুর্থত, নির্বাচনের পূর্বাপর সময়কালে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ, আনসার ইত্যাদি মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবির নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা হোক। নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য একটি ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করতে হবে।
পঞ্চমত, নির্বাচন কমিশনের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় গৃহীত যাবতীয় পদক্ষেপের বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে সম্যকভাবে অবহিত করতে হবে।
ষষ্ঠত, নির্বাচনি প্রচারকাজে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ যেকোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।
সপ্তমত, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, বিবৃতি, গুজব প্রচার বা এ ধরনের যাবতীয় প্রচার বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় অপরাধ গণ্য করতে হবে।
এসিবি/এসএস (প্রথম আলো) 

বিক্ষোভের আবহে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনে নিরাপত্তা জোরদার

02:57

This browser does not support the video element.

দীপু চন্দ্র দাস হত্যায় বিচার চান স্থানীয়রা

02:51

This browser does not support the video element.

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ